বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন-৯

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন" মেরি শেলি অনুবাদ: সুনীলকুমার গঙ্গোপাধ্যায় ------------------------------ নয় ☆☆☆পৈশাচিক প্ৰতিহিংসা☆☆☆ দানবের কথায় তাঁর যেমন ভয়ও হল, মানসিক অশান্তিও তত বেড়ে গেল। এইরকম মানসিক অবস্থায় বেড়িয়ে ফিরতেও ভালো লাগে না। তাই ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন আবার জেনেভায় ফিরে এলেন। এলিজাবেথ তাকে সাস্তুনা দেবার চেষ্টা করে, কিন্তু মনে তার শান্তি নেই। কিছুই ভালো লাগছে না তাঁর। শুধু থেকে-থেকে মনে হয়। সেই দানবের কথা। সে আবার দেখা করবে বলেছে। ওই দানবটিৱ হাত থেকে পরিত্রাণের কী উপায় থাকতে পারে তিনি বুঝে উঠতে পারেন না। একদিন সন্ধ্যার পর এলিজাবেথের সঙ্গে বেড়িয়ে ফিরছেন তিনি, মনে হল পিছন পিছন কে যেন আসছে! চমকে পিছন ফিরলেন, দূর অন্ধকারে একটা কালো বিদ্যুৎ যেন চকিতে মিলিয়ে গেল। তাঁর ভয় হল। এই বীভৎস দানবটির অস্তিত্ত্বের কথা তিনি এলিজাবেথের কাছে গোপন রাখতে চাইলেন। তাই তাড়াতাড়ি বাড়ির দিকে পা চালালেন। এইভাবে তার দিন কাটে। বুঝতে পারেন সেই দৈত্যটি তাঁর কাছেই ঘুরছে, কিন্তু তাঁর সঙ্গে কেউ থাকার জন্য সামনে আসছে না। একদিন তিনি একা একা ক্লেরভালের বাড়ি থেকে ফিরছেন, এমন সময় পিছন থেকে কে যেন তার হাত চেপে ধরল। এরকমই তিনি আশা করছিলেন, তবু চমকে উঠলেন। যা ভেবেছিলেন। তাই; বললেন—আবার কী চাই তোর? দৈত্যটি বলল—বলেছিলাম আবার আসব, তাই এসেছি। আজ আমার সব কথা শুনতে হবে। একটা গাছে ঠেস দিয়ে দাঁড়ালেন তিনি। দৈত্যটি বলল—হে আমার প্রভু, আমি একজন সঙ্গী চাই, আমি চাই ভালোবাসা। আমি জানি কোনো মানুষই আমার সঙ্গে মিশবে না। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছে, আমার মতো আর একটি কদাকার কুৎসিত দানব সৃষ্টি করো—সে আমার সঙ্গী হবে। সে আমাকে ঘৃণা করবে না। আমরা পরস্পরকে ভালোবাসব। এই দুৰ্বহ জীবনে তবেই পাব শান্তি। তিনি প্রশ্ন করলেন—তোকে বিশ্বাস কী? যদি দলে ভারী হয়ে তোরা আরো বেশি অত্যাচার করিস? দৈত্যটি বলল—কেন অবিশ্বাস করছ প্ৰভু? বলেছি তো আমি হত্যা করেছি সঙ্গী পাইনি বলে—ভালোবাসা পাইনি বলে। যদি সঙ্গী পাই, তবে তোমাদের এই লোকালয় ত্যাগ করে আমরা অনেক দূরে চলে যাব।—আর আসব না এখানে মানুষের ঘৃণা কুড়োতে। তিনি বললেন—তোকে সৃষ্টি করেই আমি জগতের সবচেয়ে বেশি অপকার করেছি। আর আমার পাপ বাড়াতে পারি না। আমি আর কিছু করতে পারব না। দৈত্যটি বলল—এই তোমার শেষ কথা! বেশ, তবে তোমাকেও শান্তিতে থাকতে দেব না। আগে তোমার সমস্ত আত্মীয়, তারপর একে একে আর্নেস্ট, তোমার বাবা, এলিজাবেথ, বন্ধু ক্লেরভাল—সকলকে হত্যা করব। তুমি দেখবে এক—একদিন কেমন করে এক—একজন তোমার চোখের সামনে থেকে সরে যাচ্ছে। তখন তুমি খুব শান্তিতে থাকবে। নিঃসঙ্গ জীবন যখন তোমাকে পাগল করে তুলবে, যখন তোমার জীবন আমার জীবনের মতো দুর্বিষহ হয়ে উঠবে, তখন বুঝবে নিঃসঙ্গ জীবনে কত আনন্দ, তখন তুমি আমাকে ভালোবাসবে। আমার সঙ্গী হবে। বড় ভয় হল তাঁর। নিজের প্রাণের ভয়ে নয়—তাঁর আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধবের জীবন-সংশয়ে ভীত হয়ে তিনি আর একটি জীব সৃষ্টি করতে সম্মত হলেন। বললেন-বেশ, আমি এটি তৈরি করে দেব। কিন্তু তোর প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে তোর সঙ্গী পেলেই তোরা লোকালয় ছেড়ে দূরদেশে চলে যাবি। আর কোনোদিন এদেশে ফিরে আসবি না। আর নরহত্যাও করতে পারবি না। দৈত্যটি বলল—তাই হবে প্ৰভু! তিনি বললেন—বেশ! তবে কালই আমি আবার ল্যাবরেটরিতে ফিরে যাব। বাড়িতে গিয়ে ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন জানালেন যে পরদিনই তাকে ফিরতে হবে। ল্যাবরেটরিতে বিশেষ কাজে। মাত্র কয়েকদিন—তারপর ফিরে এসে তিনি এলিজাবেথকে বিবাহ করবেন। তারপর আবার সেই আগের মতো পাহাড়প্রমাণ অস্থি সংগ্ৰহ, আর জোড়াতালি দিয়ে মনুষ্যকৃতি গড়া। কিন্তু এবার আর আগেকার মতো উৎসাহ নেই। সব সময়ে মনে ভয় হয়; ভয় কেন—তিনি স্থিরই জানেন এবারেও যাকে তিনি সৃষ্টি করবেন, সে মানুষ হবে না। সে হবে ঠিক আগেকার মতোই এক অতি কুৎসিত ও কদাকার দানব। বেশ জানেন তাঁর ওপর লক্ষ রেখেছে সেই দৈত্যটা। ঘরে-বাইরে সর্বত্রই তার অস্তিত্ব তিনি অনুভব করেন। মাঝে মাঝে শার্সিতে তার ছায়া দেখতে পান, আর তাঁর সমস্ত অঙ্গ বিকল হয়ে আসে। শুধু প্ৰাণের ভয়েই তার আদেশ পালন করছেন তিনি। তাঁরই সৃষ্টির ক্রীড়নক আজ তিনি! ভাগ্যের এতদূর পরিহাস! মাঝে মাঝে ভাবেন, এ কী সর্বনাশ করতে চলেছেন তিনি। একটি দানবকে নিয়েই এত অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে, আর একটি হলে তো সমস্ত পৃথিবী ছারখার হয়ে যাবে। না-আর তিনি এ-কাজ করতে পারবেন না। আবার মাঝে মাঝে মনে পড়ে সমস্ত আত্মীয়স্বজন, বাবা, আর্নেস্ট, ক্লেরভাল আর এলিজাবেথের মুখ। দৈত্যটি শাসিয়ে গেছে যে, তার সঙ্গী না করে দিলে আর কারুর নিস্তার নেই। একদিকে এত আত্মীয়, প্রিয়জন—আর একদিকে আর এক দানব সৃষ্টি। দেখেন, যতই নতুন দৈত্যটির রূপ-সৃষ্টি অগ্রসর হচ্ছে ততই সেই দৈত্যটির চোখমুখ ঝলমল করছে, সারা দেহে যেন আনন্দ উথলে পড়ছে। তবে কি দৈত্যটি বিশ্বাসঘাতকতা করবে? একটি সঙ্গী পেলে এতদিনের সমস্ত ঘৃণার প্রতিহিংসা নেবে। মানুষের ওপর? কাজে বাধা পড়ে। আর কাজ করতে তাঁর মন বসে না। তিনি কী করবেন তা ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না। তারপর হঠাৎ মনে হল দানবের কথার কোনো দাম নেই। জগতের যে সর্বনাশ তিনি করেছেন তা-ই পূর্ণ করতে পারবেন না কোনোদিন—মিছে আর কেন ধ্বংস ডেকে আনা? মাথা ঝিমঝিম করতে থাকে। আর তিনি ভাবতে পারেন না। একদৃষ্টি তাকিয়ে রইলেন সেই আধা-গড়া মনুষ্যমূর্তিটির দিকে, তারপর তাকে আঘাতের পর আঘাতে ভেঙে টুকরো-টুকরো করে ফেললেন। শব্দ শুনে দৌড়ে এল দৈত্যটি। বিহ্বল দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সেই ভাঙা অস্থিপঞ্জরের দিকে! চোখের কােণে কয়েক ফোটা জল টলটল করে উঠল। করুণ আর্তনাদে ভেঙে পড়ে বলল—ভেঙে ফেললে! তবে তুমি কি আমাকে একটি সঙ্গী তৈরি করে দেবে না! তিনি চিৎকার করে উঠলেন—না, না দেব না। তোকে সৃষ্টি করেই আমি জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ কুড়িয়েছি, আর নয়। এবার দূর হ! চোখদুটো তার জ্বলে উঠল। বলল—দূর হব? বেশ দূরই হব! এতদিনেও যে তোমার শিক্ষণ হয়নি তা বেশ বুঝতে পারছি। ধ্বংসের কথা বলছিলে, অভিশাপের কথা বলছিলো? এতদিন তো তুমি ধ্বংস কাকে বলে দেখতে পাওনি। এইবারে তাই দেখবে। দেখব সুখী হও কিনা। যাবার আগে বলে যাচ্ছি যে কাল থেকে মানুষের কান্নায় সারা পৃথিবী ভরে উঠবে। আর তার জন্য একমাত্র দায়ী তুমি! হে ভগবান, তুমি—তুমি— কিছুদূর চলে গেল সে। সেখান থেকে চিৎকার করে বলল—আমাকে নিঃসঙ্গ করে তুমি সুখে ঘর বাঁধবে? বেশ! তোমার বিয়ের রাতে আবার আমার দেখা পাবে। প্রস্তুত থেকো, প্ৰভু, সেই রাতের জন্য প্রস্তুত থেকো। অত্যন্ত অসুস্থ দেহ মন নিয়ে তিনি বাড়ি ফিরে এলেন। সকলে সশঙ্ক হয়ে উঠল। এ কী হয়েছে তার চেহারার কারো সঙ্গে আলাপ করতেও তার ভালো লাগে না। কিন্তু দিন কেটে যায়। আর প্রতিদিনই বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনের ভৌতিক মৃত্যুকাহিনীর খবর পান। সশস্ত্ৰ পুলিশবাহিনী খুঁজে বেড়াচ্ছে আসামিদের। তিনিই শুধু জানেন এই হত্যাকারী কে। অথচ তাদের এ সম্বন্ধে কিছু বলতে পারেন না; কারণ কেউ বিশ্বাস করবে না। তিনি আর স্থির থাকতে পারলেন না। প্রতিদিন বন্দুক হাতে বের হন সেই দানবটির সন্ধানে। এতদিন যা পারেননি এবার তা-ই করবেন। দেখা পেলেই আর কথা নয়...অব্যৰ্থ সন্ধানে দানবটিকে ভূপাতিত করবেন। সে নিশ্চয়ই তার ওপর লক্ষ রাখে। কারণ তিনি যেদিন যেদিকে দানবটির খোঁজে বের হন, ঠিক তার বিপরীত দিকে সেদিন হত্যাকাণ্ড চলে। এলিজাবেথকে ডেকে নিয়ে তিনি বললেন—আমি জানি কে এই হত্যা করছে। এলিজাবেথের মুখ ভয়ে পাংশু হয়ে গেল। জিজ্ঞাসা করল—কে? সেকথা আপাতত গোপন থাক। তবে সে মানুষ নয়।—বললেন ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন। এলিজাবেথ সন্দিগ্ধ কণ্ঠে বলল—তুমি অসুস্থ। তোমার বিশ্রাম প্রয়োজন। এদিকে বিবাহের দিন ঘনিয়ে আসে; তবু তিনি নিশ্চিন্ত হতে পারলেন না। এখন অবশ্য আর হত্যাকাহিনী শোনা যাচ্ছে না। তবে কি সে এই দেশ ছেড়ে চলে গেছে? সে কি সত্যিই বুঝেছে যে প্রতিহিংসা দিয়ে শান্তি আসে না? বিবাহের দিন হঠাৎ তার মনে হল—আজই তো তার দর্শন দেবার কথা। তিনি রিভলভার নিয়ে প্ৰস্তুত হয়ে রইলেন। ক্লেরভালের সঙ্গে তাঁর গল্প করতে ভালো লাগছিল না। মাঝে মাঝে চমকিয়ে ওঠেন। ক্লেরভাল জিজ্ঞাসা করেন—তোমার কী হয়েছে বলো তো? কিছুই হয়নি—উত্তর করেন তিনি। বিবাহ নির্বিঘ্নে শেষ হল। শেষ হল সমস্ত মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান। বিদায় জানিয়ে অতিথিরা চলে গেলেন একে একে ৷ এলিজাবেথ চলে গেল তার নিজের ঘরে। ক্লেরভালের সঙ্গে নিচে দাঁড়িয়ে গল্প করতে লাগলেন তিনি। হঠাৎ তীক্ষ্ণ নারীকন্ঠের আর্তনাদ তাঁর কানে ভেসে এর। পরমুহূর্তে কয়েকজন ছুটে আসার শব্দ, কতগুলো আর্তনাদ—এই বিশৃঙ্খলা! একমুহূর্তের জন্য তিনি বোধহয় জ্ঞান সিঁড়ির ওপরে পড়ে আছে তাঁর বাবার মৃতদেহ। গলাটি কে যেন মুচড়িয়ে ভেঙে দিয়ে গেছে। এলিজাবেথের ঘরে গিয়ে দেখেন এলিজাবেথের সুন্দর ফুলের মতো দেহ অসাড় হয়ে মাটিতে লুটোচ্ছে। আর দাঁড়াতে পারলেন না, ঐ দৃশ্য দেখতেও ইচ্ছা করে না। টলতে টলতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। আর্নেষ্টের ঘরে গিয়ে দেখলেন ঠিক সেই অবস্থা। আর্নেস্টের প্রাণহীন দেহ পড়ে আছে তার বিছানায়। সেখানেই বসে পড়লেন তিনি। জানলার পাশ থেকে একটি অত্যন্ত পরিচিত কণ্ঠ শোনা গেল।—তোমার সঙ্গীও এখন আর কেউ রইল না। এবারে তুমি বুঝবে নিঃসঙ্গ জীবন কেমন আনন্দের! প্ৰভু, এবার তুমি আর আমি একা! উঠতে চেষ্টা করলেন তিনি, কিন্তু পারলেন না। তাঁর জ্ঞানহীন দেহ সেখানেই লুটিয়ে পড়ল। (শেষ পর্ব আজকেই দেওয়া হবে) ----------------------------- ।। একাকী কন্যা ।।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন-৯

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now