বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন"
মেরি শেলি
অনুবাদ: সুনীলকুমার গঙ্গোপাধ্যায়
----------------------------
ছয়
☆☆☆দানবের অপকীর্তি☆☆☆
লেকের পাশ দিয়ে রাস্তাটা সোজা চলে গেছে ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনের দেশ জেনেভায়। দূর থেকে তিনি দেখলেন তুষার শৃঙ্গ মারা। তার সৌন্দর্যে তাঁর পূর্বস্মৃতি আবার জেগে৷ উঠল, তিনি কেঁদে ফেললেন। বললেন—আমার সোনার দেশ, আমার সোনার পাহাড়, তোমাদের প্রবাসী ছেলে আজ ঘরে ফিরে আসছে। তোমাদের মুখে প্রশাস্তির ছবি—তা কি আমাকে সান্তুনা দিতে, না। আমার গভীর দুঃখে ব্যঙ্গ করতে?
যতই জেনেভার দিকে এগোতে লাগলেন, ততই এক বিমর্ষ বিষণ্নতা আর অনিশ্চিত ভয়ে তার মন ভরে উঠল। নিঃশব্দ চরণে কখন চারদিকে রাত নেমে এসেছে, অন্ধকার পাহাড়ে কুয়াশার আস্তরণ। সমস্ত পৃথিবী যেন এক বিরাট নির্মম বিভীষিকার ছবি।
যখন জেনেভায় এসে ডক্টর ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন পৌছুলেন, তখন নগরীর দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। সকাল না হলে আর জেনেভায় প্ৰবেশ করা যাবে না। বাধ্য হয়ে তাকে নগরীর থেকে কিছুদূরে সেকেরন গ্রামে সেই রাতের জন্য থাকতে হল। সমস্ত আকাশ কালো, একটি তারার চোখও দেখা যাচ্ছে না। তিনি মনে মনে এক নিদারুণ অস্বস্তি বোধ করতে লাগলেন। এরই কাছে তার ছোটভাই উইলিয়ম নিহত হয়েছে। যেই এই কথা মনে হল, তক্ষুনি তিনি উঠে দাঁড়ালেন। তাঁর প্রিয়তম ভাইয়ের মৃত্যুস্থান একবার দেখার জন্য চঞ্চল হয়ে উঠলেন।
পথে বেরিয়ে পড়লেন তিনি। আকাশে তখন ঘনঘটা, বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, সেই আলোর প্রতিফলনে মঁ ব্লাঁর তুষার শৃঙ্গ আলোকিত হয় উঠে কত রকমের সুন্দর ছবি ঐকে যাচ্ছে। গাছপালা কাঁপিয়ে ঝোড়ো বাতাস ছুটে আসছে; তিনি একটি ছোট টিলার উপর উঠে দাঁড়ালেন।
বৃষ্টি শুরু হল। তিনি হাঁটতে লাগলেন। কাছেই ভীষণ শব্দ করে বজ্রপাত হল, তার প্রতিধ্বনি দূরের মরা আল্পস থেকে ফিরে এল। বিদ্যুতের ছলকানিতে তাঁর চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছে, সামনের জেনেভা লেক মনে হল এক অগ্নিকুণ্ড। তারপর নিরস্তু অন্ধকার।
বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে তিনি সেই সুন্দর অথচ ভয়ঙ্কর ঝড়ের তাণ্ডবলীলা দেখতে লাগলেন। হঠাৎ তার মনে হল যেন কাছেরই এক ঝোপের ভিতর থেকে এক কালো মূর্তি আত্মপ্রকাশ কলল। তিনি একদৃষ্টি তাকিয়ে রইলেন। বিদ্যুতের আলোর ঝলকে সেই মূর্তি স্পষ্ট হয়ে উঠল। তার দানবীয় বিকলাঙ্গ চেহারা দেখে তিনি বুঝতে পারলেন যে, এই সেই শয়তান, সেই নিষ্ঠুর দৈত্য—যাকে তিনি জীবন দান করেছেন। এই শয়তান, এখানে কী করছে? তবে কি—তবে কি এই শয়তানই তার ভাইকে হত্যা করেছে? একথা মনে করতেই তার দেহের সমস্ত রক্ত হিম হয়ে এল। তিনি একটি গাছে হেলান দিয়ে দাঁড়ালেন। সেই মূর্তিটি মুহুর্তের মধ্যে তাকে অতিক্রম করে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। কোনো মানুষ ফুলের মতো সুন্দর ছেলেকে হত্যা করতে পারে না। নিশ্চয়ই এই শয়তানই হত্যাকারী! একবার মনে হল যে তার পিছু তিনি ধাওয়া করেন, কিন্তু সেই দৈত্য র্ম সালেভের খাড়া চূড়া ডিঙিয়ে কোথায় অদৃশ্য হয়ে গেল।
সারারাত তিনি এক অস্বস্তিকর মানসিক যন্ত্রণায় কাটালেন। বাইরের দুৰ্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় তাঁর মানসিক অস্থিরতা যেন আরো বেড়ে গেল। একটির পর একটি কলুষ বিভীষিকাময় দৃশ্যের ভিতর দিয়ে তাঁর কল্পনা ছুটে চলল। তাঁর শুধু মনে হতে লাগল সেই অমানুষিক অপার্থিব জীবের কথা—যাকে তিনি বিজ্ঞানের আশ্চর্য আবিষ্কার রূপে সৃষ্টি করেছিলেন, যাকে তিনি জীবন ও শক্তি দিয়েছিলেন এবং যাকে তিনি মনুষ্যসমাজে বিচরণ করতে ছেড়ে দিয়েছেন, যার একটির পর একটি নৃশংস কুকীর্তিতে নিজের ওপর ঘূণা ছাড়া আর তাঁর কিছুই মনে আসে না।
এইভাবে যন্ত্রণাময় এক সুদীর্ঘ রাত কেটে গেল। জেনেভা নগরীর দরজা খোলামাত্র তিনি ছুটে বাড়িতে এলেন। প্রথমেই দেখা হল এলিজাবেথের সঙ্গে। তাকে দেখে এলিজাবেথ কেঁদে ফেলল। বলল—ভিক্টর, তুমি এলে, কিন্তু আর কিছুদিন আগে এলে না কেন? কত দুঃখের মধ্যে তুমি এলে। ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন জিজ্ঞাসা করলেন-বাবা কেমন আছেন? ভালোই আছেন—এলিজাবেথ উত্তর দিল—হত্যাকারী ধরা পড়ার পর থেকেই—
ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন চিৎকার করে উঠলেন-হত্যাকারী ধরা পড়েছে? অসম্ভব! কে তাকে ধরতে পারবে? কার এত ক্ষমতা আছে? এর চেয়ে বরং ঝড়ের চেয়ে জোরে ছোেটা সম্ভব! আমিও তাকে দেখেছি, কাল রাত পর্যন্ত সে মুক্ত ছিল।
এলিজাবেথ তার মুখের দিকে তাকিয়ে আস্তে আস্তে বলল-তুমি কী বলছি, আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। হত্যাকারীর সন্ধান পাওয়ার পর আমরাও একেবারে আশ্চর্য হয়ে গিয়েছিলাম। প্ৰথমে কেউই বিশ্বাস করতে পারেনি, তার বিরুদ্ধে সমস্ত রকম প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও আমাদের বাড়ির কেউ এখনো বিশ্বাস করে না। কে বিশ্বাস করতে পারে যে আমাদের এতদিনকার পরিচারিকা জাষ্টিন—যে উইলিয়াম আর আর্নেস্টকে ছেলের মতো মানুষ করেছে—সে-ই উইলিয়মকে হত্যা করবেঃ এতবড় ঘূণ্য পাপ করবে!
—জাস্টিন! অসম্ভব। তাকেই কি হত্যাকারী বলে ধরা হয়েছে?
—হ্যাঁ। বিশ্বাস হয় না, তবু তার বিরুদ্ধে এত প্ৰমাণ! তাছাড়া উইলিয়মের মৃত্যুর পর থেকে তার হাবভাবও কেমন যেন অদ্ভুত। আজই তার বিচার হবে, তখনই সব কথা পরিষ্কার হবে।
এলিজাবেথ জানাল যে উইলিয়মের মৃত্যুর পর জাস্টিন বেশ কয়দিন অসুস্থ হয়ে বিছানায় শুয়ে থাকে। সেই সময় বাড়ির এক চাকর তার জামাকাপড় খুঁজতে খুঁজতে উইলিয়মের মৃত্যুর দিন সে যে-জামা পরেছিল, তার পকেট থেকে তোমার মা’র মীনে-করা পায়। সে বাড়ির কাউকে না জানিয়ে সোজা পুলিশকে গিয়ে খবর দেয়। পুলিশ তাকে হত্যাকারী বলে সন্দেহ করে ধরে নিয়ে গেছে।
আশ্চর্য এই কাহিনী। ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন বললেন—এলিজা! তোমরা সকলে ভুল করছি। জাস্টিন নির্দোষ, আমি জানি কে হত্যাকারী!
এমন সময় ধীরে ধীরে ডক্টর ফ্র্যাঙ্কেনস্টানের বাবা ঘরে প্রবেশ করলেন। তাকে দেখে এলিজাবেথ বলে উঠল—শুনেছেন, ভিক্টর জানে যে কে হত্যাকারী!
ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনের বাবা আস্তে আস্তে উত্তর দিলেন—আমাদেরও দুৰ্ভাগ্য যে আমরাও তাকে জানি।
এলিজাবেথ বলল—ভিক্টর বলছে জাস্টিন নয়, জাষ্টিন নির্দোষ।
উত্তর এল—তাই যেন হয়, জাস্টিন যেন নির্দোষ প্রমাণিত হয়।
ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনের মন কিছুটা স্থির হল। জাস্টিনের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ কোনো প্রমাণ দাখিল করা সম্ভব নয় বলে সে খালাস পেয়ে যাবে। তার হত্যাকারীর কাহিনী এত অবাস্তব এবং এত অবিশ্বাস্য যে সকলকে সে কাহিনী বলাও যাবে না, কেউ বিশ্বাসও করবে না।
এগারোটায় জাস্টিনের বিচার হবে। সপরিবারে ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইন আদালতে উপস্থিত হলেন। বিচারের এই প্রহসনের সমস্তক্ষণ তিনি নরকযন্ত্রণা অনুভব করতে লাগলেন। তাঁর কৌতুহল ও বেআইনি কাজের ফলে যে শিশু নিহত হয়েছে, চিরকালের জন্য সেই হত্যার ঘৃণ্য অপবাদ মাথায় নিয়ে জাস্টিন জীবিত থাকবে কি? অথচ এই সমস্ত অপকর্মের জন্য দায়ী একমাত্র তিনি। হাজার বার তিনি সকলের সামনে এই হত্যার দায়িত্ব নিতে প্ৰস্তুত। সমস্ত অপরাধ তিনি স্বীকার করতে পারলে খুশিই হবেন—কিন্তু হত্যাকাণ্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার সময় তিনি এতদূরে ছিলেন যে কেউ তাঁর কথা বিশ্বাস করবে না, পাগলের প্রলাপ বলে তাঁর কথা উড়িয়ে দেবে।
বিচার আরম্ভ হল। জাস্টিনের মুখ ভীতিহীন; সে নির্বাক হয়ে বসে আছে। শত চক্ষুর উৎসুক দৃষ্টিতেও সে বিচলিত নয়।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বিবৃত করলেন সরকারি উকিল। উইলিয়মের হত্যাকাণ্ডের দিন সারারাত জাষ্টিন বাড়িতে ছিল না। ভোরের দিকে তাকে একজন দেখতে পায় হত্যাস্থানের কাছাকাছিই। সেখানে সে কী করছে জিজ্ঞাসা করায় ঠিকমতো উত্তর দিতে পারেনি। বাড়িতে ফেরার পর সকলে যখন তাকে জিজ্ঞাসা করল যে সে সারারাত কোথায় ছিল, তখন সে উত্তর দিয়েছিল যে সে উইলিয়মকে খুঁজছিল। উইলিয়মের মৃতদেহ তাকে দেখানোমাত্র সে কান্নায় ভেঙে পড়েছিল এবং কয়দিন বিছানায় শুয়ে ছিল। তারপর সরকারি উকিল মীনে-করা একটি সোনার লকেট বের করে বললেন– এই সেই লকেট যেটি মৃত্যুর পূর্বে শিশুটির গলায় ছিল এবং মৃত্যুর পর এই মেয়েটির জামার পকেট থেকে পাওয়া যায়। একথা শোনামাত্ৰ আদালতের মধ্যে ধিক্কার-ধ্বনি শোনা গেল। জাস্টিনকে তার উত্তর দিতে বলা হল। জাস্টিন বলতে লাগল-ভগবান জানেন যে আমি নির্দোষ। যে উইলিয়মকে আমি নিজের ছেলের মতো প্ৰতিপালন করেছি, তার একটি ছোট লকেটের লোভে আমি তাকে হত্যা করব-একথা সকলে বিশ্বাস করলেও ভগবান বিশ্বাস করবেন না।
একটু থেমে সে বলে যেতে লাগল যে হত্যাকাণ্ডের রাত্রে সে এলিজাবেথের অনুমতি নিয়েই জেনেভার কাছাকাছি সেনে গ্রামে তার মাসির বাড়িতে গেছিল। রাত ন’টার সময় ফেরার পথে একজন লোকের কাছে সে প্রথম সংবাদ পায় যে উইলিয়ামকে পাওয়া যাচ্ছে না। উৎকণ্ঠায়, উদ্বেগে সে অনেকক্ষণ ধরে চারদিক খোঁজ করে। যখন খেয়াল হল, তখন জেনেভা নগরীর দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। কাছাকাছি একটা পোড়ো ঘরে সে আশ্রয় নেয় এবং সারারাত সেখানেই থাকে। মনে হয়, সে কিছুক্ষণের জন্য ঘুমিয়ে পড়েছিল। কারুর পায়ের শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়, কিন্তু কাউকে সে দেখতে পায়নি। সকাল হলে সে বাড়ি ফিরে আসে। কেউ যদি তাকে হত্যাকাণ্ডের স্থানে দেখে থাকে, হয়তো সে যখন উইলিয়মকে খুঁজছিল তখন দেখেছে। যদি সে হত্যাকাণ্ডের স্থানে গিয়ে থাকে তবে সে নিজের অজান্তেই গেছে। লকেটের সম্বন্ধে তার কোনো ধারণা নেই।
তারপর উঠল এলিজাবেথ। সে বলল-আমি নিহত শিশু উইলিয়মের পরিবারে শিশুবয়স থেকে আছি। উইলিয়মের বাবা-মাকে নিজের বাপ-মায়ের মতো দেখেছি এবং তাদের কাছ থেকেও সেই ব্যবহার পেয়ে এসেছি। আমি জাষ্টিনকে অনেকদিন ধরে জানি, একই বাড়িতে আমরা প্রায় সাত বছর একত্রে বাস করেছি। তার মতো ভদ্র, অমায়িক ও স্নেহবৎসলা আমি খুব কম দেখেছি। মিসেস ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনের অসুখের সময় সে অত্যন্ত যত্ন এবং দায়িত্বের সঙ্গে তাঁর সেবা করেছে। এই পরিবারের প্রত্যেকেই তাকে অত্যন্ত শ্ৰদ্ধা করেন এবং ভালোবাসেন। যে শিশুর হত্যার অপরাধে জাষ্টিন অভিযুক্ত হয়েছে তাকে সে নিজের ছেলের মতো এতদিন দেখেছে। তার বিরুদ্ধে সমস্ত প্রমাণ সত্ত্বেও আমি তার সম্পূর্ণ নির্দোষিতায় বিশ্বাস করি। এই জঘন্য পাপকাজ করার মতো কোনো প্রবৃত্তি তার হতে পারে না, কোনো লোভের বশবর্তী হয়ে সে এ-কাজ করতে পারে না। সে যদি চাইত তবে আমি সামান্য ওই লকেট কেন, আরো অনেক দামি জিনিস তাকে আনন্দে দিতাম—এতখানি আমি তাকে শ্ৰদ্ধার সঙ্গে দেখি।
এলিজাবেথের এই অকপট ও মর্মগ্রাহী আবেদনে সমস্ত আদালতের মধ্যে অক্ষুট গুঞ্জন শোনা গেল; কিন্তু জনসাধারণের মধ্যে এই আলোড়ন শুধু এলিজাবেথের সুন্দর জবানিতে জাস্টিনের অপরাধ মার্জনার আবেদনের জন্য—
জাস্টিনের ওপর তাদের এতটুকু সহানুভূতি হল না। বরং ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনের মহানুভবতার প্রতিদানে এই জঘন্য অকৃতজ্ঞতায় সকলের মন তার ওপর বেশি বিরূপ হয়ে উঠল।
এলিজাবেথের কথা শুনতে শুনতে জাষ্টিন কেঁদে ফেলেছিল, কিন্তু সে একটি কথাও বলেনি। বিচারের সবটুকু সময় ধরে ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনের মনের মধ্যে যে তোলপাড় হচ্ছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। জাস্টিন যে সম্পূর্ণ নির্দোষ সে-সম্বন্ধে তাঁর এতটুকু দ্বিধা ছিল না। তিনি একথা জানতেন। তবে কি সেই দৈত্য তার ভাইকে হত্যা করে পৈশাচিক উন্মত্ততায় এই নির্দোষ পরিচারিকার জামার পকেটে সেই লকেটটা রেখে গেছিল?
ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনের চোখের সামনে সমস্ত পৃথিবী দুলে উঠল, তারপর দ্রুতগতিতে ঘুরতে লাগল। একটা অগ্নিবলয় সমস্ত পৃথিবীকে গ্রাস করতে করতে আসছে। হঠাৎ একটা বিস্ফোরণ, তারপর অন্ধকার... অন্ধকার, আর সেই কালিমার মধ্য থেকে একটি পৈশাচিক মূর্তি ধীরে ধীরে এগিয়ে আসতে লাগল।
সারা আদালতে তুমুল চাঞ্চল্য। জাস্টিন অপরাধ স্বীকার করেছে, বিচারক তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।
জাস্টিনকে প্রহরীরা নিয়ে যাচ্ছে। এলিজাবেথ ছুটে গেল, বল—-জাস্টিন, তুমি এ কী করলে? আমার শেষ সান্ত্ৰনাটুকুও তুমি কেড়ে নিলে? তুমি-তুমি উইলিয়মকে হত্যা করেছে?
জাস্টিন তার দিকে তাকিয়ে আস্তে আস্তে বলল—এলিজা, তুমি কি আমাকে এত নীচ মনে করো? তুমি কি সত্যই মনে করতে পারো যে আমি উইলিয়মকে হত্যা করেছি? কিন্তু কী করব?
মুক্তি পেলেও সকলের কাছে আমি ঘৃণ্য হয়ে থাকব, কেউ বিশ্বাস করবে না যে আমি নির্দোষ। আর তা ছাড়া উইলিয়ামকে আমি নিজের ছেলের মতো মানুষ করেছি। তাকে ছেড়ে আমি কী করে থাকব? তার চেয়ে এই ভালো, স্বর্গে উইলিয়মের সঙ্গে আমার দেখা হবে এবং আমরা দুজনে একসঙ্গে থাকতে পারব।
(পরবর্তী পর্ব সন্ধ্যায়)
------------------
।। একাকী কন্যা ।।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now