বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মেয়েটার চোখের সাদা অংশ -
দুধের মতো সাদা ছিলো,
আর চোখের মণি ছিলো ধুসর ঝাপসা নীল রঙের।
ওর চোখ এতই স্বচ্ছ-চোখের ভেতরের নর্ম গুলোও দেখা যাচ্ছিলো।
চোখের পাপড়ি গুলো হালকা বাদামি রঙের,তার ওপর কালো রঙের আই লাইনার লাগিয়েছে।
কেমন হবে দেখতে কল্পনা করা যায়?
হ্যাঁ,এমন চোখই ছিলো মেয়েটার।
অদ্ভুত রঙের এই চোখ দেখলে- এই চোখেই গলে যাবে সব পুরুষ।
ভয়ংকর এই সুন্দর চোখ ছেড়ে -সেখান থেকে একা ফিরে আসতে পারিনি।
অনেক যত্নে ওর চোখ গুলো তুলেছিলাম,একটুও ব্যাথা দেইনি। ও তো ঘুমিয়েছিলো।
আমি শুধু আমার দুই আঙুল দিয়ে ওর চোখে-
ছু*ড়ির এক কোণা ঢুকিয়ে আস্তে আস্তে তুলে নিয়েছিলাম।
যদিও ওর গাল কে*টে ফেলেছিলাম,চোখ তুলতে গিয়ে। মায়া লেগেছিলো,ওর গাল কে*টে ফেলেছি বলে।
পুতুল বানাতে প্রথমে চোখের আকৃতি প্রয়োজন,আজই শুরু করছি, তাই আমার বানানো পুতুলেও প্রথম চোখ দিয়েই শুরু করতে হবে।।
পুতুলটার নাম রেখেছি- "Fila " এটা ফারসি শব্দ,অর্থ প্রেমিকা অথবা পুতুল।
টয় বক্স ফ্রেম- এটা দিয়েই পুতুলের বডি ফ্রেম করা হয়। আর শেষে -আকৃতি আর্টিস্ট নিজের মতো বানায়। তবে চোখ বসানোর জন্যে মাথার খুলি দরকার ছিলো। হ্যাঁ সেটাও ব্যবস্থা করা আছে।
বলা হয়ে থাকে- সেই রমনীর সৌন্দর্য ততবেশি সময় ধরে চেহারায় থাকে,যার কপালের ভাঁজ সবচেয়ে আকর্ষণীয়।-
মানে করোটি বা খুলির সুন্দর শেইপ-
কানের,চুলের ভাঁজের,আর চোখের ব্রো এর মানানসই ভারসাম্য তৈরি করে।
ভাগ্যিস খুঁজে খুঁজে এমন মেয়েও আমি পেয়েছিলাম,
সেদিন পরিচিত একজনের মেয়ের বিয়েতে গিয়েছি।
ড্রিং*ক্স হাতে নিয়ে বিয়ের কনের সাথে কথা বলছিলাম।।
কি অদ্ভুত মায়া চেহারায়।
মেয়েটার কানের ওপরের অংশ খুব বেশি চাপা নয়, নাক আর কানের দুরুত্বের পুরু মানানসই ।
ঠোটের নিচের অংশটাও মানে চি'ন বেশি লম্বা সুচালো নয় আবার ছোটও গোলাকৃতিও না।
"Jaw line" মানে গালের শেইপ বেশি বড় নয়। কপাল একদম সমতল আয়তকার ভুমির মতো।
মেয়েটাকে দেখেই আমি হেসে ফেললাম।।
ইচ্ছে থাকলেই মানুষ যেন সব কিছুই যোগাড় করতে পারে।
বেশ কিছুক্ষণ মেয়েটার সাথে কথা বলার পর বুঝতে পারলাম,মেয়েটা বিয়ে বাড়ি থেকে পালাবে।
সম্ভবত ওর প্রেমিক অপেক্ষা করছে।
তালে -তাল মিলালাম আর সুরে -সুর।
অভয় দিয়ে বললাম,"আমি তোমাকে সাহায্য করবো।"
বিয়ের এখনো প্রায় অনেক সময় বাকি,প্রস্তুতি চলেছে।
আমি গাড়ি নিয়ে বাইরে অপেক্ষা করলাম,মেয়েটা দৌড়ে আসতেই মনে হচ্ছিলো,আমি যেন আমার তৈরি করা ফিলা'র দৌড় দেখছি।
মন ছুয়ে গেছে।
মেয়েটা দৌড়ে আমার গাড়িয়ে ঢুকে পড়লো,-
"গাড়িয়ে চালিয়ে সোজা ওয়াশিংটন যাও,ওখানে আমার......।"
শেষ! মেয়েটা বাকি কথা বলার আগেই অজ্ঞান হয়ে গেলো। গাড়িতে গ্যাস স্প্রে করা ছিলো।
এরপর গাড়ির গ্লাস খুলে দিলাম,আমি,মাস্ক খুলে
অজানা অনুভূতির শ্বাস টেনে টেনে ফুসফুসে ঢুকালাম।
গাড়ি চালিয়ে সোজা ল্যাবে।
মেয়েটা না প্রেমিকের কাছে গেলো, না বিয়ে হলো।
থাকুক,আমার কাছেই থাকুক।
আমি তো আর মেয়েটাকে কম যত্নে রাখবো না!
ওর জায়গা থাকবে,সবার উচুতে।
আমার ফিলার জন্যে এটাই পারফেক্ট খুলি।
"ওইতো গ্লাসের বক্সে খুলিটা রাখা আছে,কেমিক্যালে চুবিয়ে রাখা খুলিটা দেখতে একদম নুসনুসে।
যেন তরতাজা খুলিটা মাত্র কারোর শরীর থেকে খ*সিয়ে আনলাম।
টয় বক্সে খুলিটা রাখলাম,তারপর সেই উন্মাদ হয়ে যাওয়া চোখ গুলো বসিয়ে দিলাম।
মাংসহীন তরতাজা খুলির মধ্যে তাজা চোখ আমার দিকে তাকিয়ে আছে-যেন কতো রাগ, কতো আপত্তি আমার ওপর কিন্তু এই চোখে রাগ নয়-ভালোবাসা দেখতে চাই।
ওর চোখে তাকাতেই আমি গভীরে যাচ্ছি,গভীরে যাচ্ছি।।
"না না-কল্পনার গভীরে না,চোখের গভীরে।"
ধুসর রঙের মারবেল যেন বসিয়ে রেখেছি।
চোখের পাপড়ি গুলো লাগাতে লাগলাম,চোখের ভেতরের অংশ প্রয়োজনীয় কোষ দিয়ে ভরাট করছি।
এরপর পুরো খুলিতে কোষ বা মাংসের প্রলেপ লাগাচ্ছি,প্রথমে খুলির পেছন দিকে থেকে লাগাতে হবে।
কোষ গুলো টিপে টিপে যত্নে লাগাচ্ছি। কপাল থেকে চোখ পর্যন্ত আসলাম,হঠাৎ খেয়াল হলো -
একি এটা কিভাবে সম্ভব-চোখ থেকে রক্ত বের হচ্ছে কিভাবে-
অসম্ভব গতিতে রক্ত বের হচ্ছে-
আমি ভয় পেয়ে গেলাম।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now