বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কিছুটা ভূত দেখার মতো দেখে চমকে গেছে রাকিব । দরজায় সামনে ব্রিফকেসের উপর বসে আছে শ্রাবনী । ফ্লোরে বসে মায়ের হাঁটুতে মাথা পেতে ঘুমিয়ে আছে মেয়ে অনু ।
.
এটা কি করে সম্ভব ! যার হাতে পায়ে ধরেও বাবার বাড়ি থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেনি রাকিব আর সেই শ্রাবনী কিনা নিজ ইচ্ছায় স্বামীর বাসায় হাজির ? দোষটা অবশ্য রাকিবেরই ছিল ঝগড়ার এক পর্যায়ে রাকিব শ্রাবনী গায়ে হাত দিয়েছিল, এর জন্য অবশ্য ক্ষমা চেয়েছে কিন্তু কাজ হয়নি, মেয়ে এবং তোলপিতলপা সহ বাবার বাড়ি চলে গিয়েছিল শ্রাবনী । একবার নয়, দুই দুইবার গিয়েও শ্রাবনীকে ফিরিয়ে আনা যায়নি । তার এক কথা, যে স্বামী স্ত্রীর গায়ে হাত দিতে পারে অন্তত তার সাথে সংসার করা যায় না ।
.
- কি হলো দরজা খুলছ না কেন ? আর মোবাইলের উপর ঠাডা পরেছে নাকি । মোবাইল বন্ধ কেন ? সেই কখন থেকে ফোন দিচ্ছি, কোন এন্সার নাই ।
.
- না মানে মোবাইলের চার্জ শেষ, বন্ধ হয়ে গেছে ।
.
- তোমার চার্জ শেষ হয় নাই ?
.
- না আমি ঠিক আছি ।
.
- কোথায় ঠিক আছ ? শোনলাম তোমার নাকি প্রচণ্ড জ্বর, তো অফিসে গিয়েছিলে কেন ?
.
- অফিসে জরুরী কাজ ছিল তাই যেতে বাধ্য হয়েছি ।
.
- অফিস তো ঠিক মতই করছ এদিকে যে তার চিন্তায় অরেক জন অস্থির হয়ে আছে সে দিকে তার খেয়াল আছে ।
.
শেষ কথাটায় সামান্য অভিমান ছিল, সূক্ষ্ম ভাবে খেয়াল না করলে হয়তো বুঝা মুশকিল কিন্তু রাকিব কিছুটা বুঝতে পেরেছে । মুখে যাই বলুক তার প্রতি যে শ্রাবনীর অফুরন্ত ভালোবাসা হৃদয়ে সঞ্চিত তা রাকিব ভালো ভাবেই জানে । এই কয় দিন বাবার বাড়িতে থেকে তাকে কিছুটা টাইট দিল এছাড়া আর কিছুই না ।
.
অনুর ঘুম ভেঙে গেছে, বাবাকে দেখে আহ্লাদি কন্ঠে বাবাকে জড়িয়ে ধরে বলছে ।
.
- বাবা,,, এই কয়দিন নানুর বাসায় যাওনি কেন ? আমার বুঝি কষ্ট হয় না ।
.
- শরীর ভালো ছিল না মা, এখন তো তুমি এসেই পরেছ ।
.
- বাবা কি হয়েছে তোমার ?
.
- কিছুনা মা, সামান্য জ্বর ভালো হয়ে যাবে ।
,,,
অনেকদিনের অতৃপ্ত দেহ স্বামীর সোহাগ চাইবে এটাই স্বাভাবিক । মাঝ রাতে স্বামীর গায়ে হাত দিতেই চমকে উঠেছে শ্রাবনী । নিজের আকাঙ্ক্ষা কে জলাঞ্জলি দিয়ে ব্যাধি ব্যস্ত হয়ে পরেছে শ্রাবনী ।
.
- কি ব্যাপার তোমার গায়ে তো প্রচণ্ড জ্বর, সন্ধ্যায় ওষুধ খাওনি ?
.
- নাপা খেয়েছিলাম
.
- নাপা ! আরে নাপাতে কি এই সব জ্বর যায় নাকি । তোমাকে নিয়ে পারা গেল না । সব সময় নিজের প্রতি অযত্ন অবহেলা । ডাক্তার দেখালে কি হতো ।
.
ডাক্তারের কথা বলতেই রাকিব কিছুটা বিমর্ষ । ডাক্তার দেখানোর মতো পরিস্থিতি বর্তমান তার নেই । যদি সংসারে স্বচ্ছলতাই থাকতো তবে কিসের এতো ঝগড়া বিবাদ ।
.
শ্রাবনী কিছুই জানে না, মিথ্যা অপবাদ নিয়ে গত তিন মাস ধরে চাকরি হারিয়েছে রাকিব । সংসার তো আর কাগজের উপর চলে না তাই বাধ্য হয়ে অটো চালাতে হচ্ছে তাকে । সামান্য এই আয় দিয়ে সংসার চালাবে, নাকি নিজের চিকিত্সা করাবে ।
,,,
শ্রাবনীর কাছে জমানো কিছু টাকা ছিল তাই দিয়ে রাকিবের চিকিত্সা চলছে কিন্তু সংসার চলছে না মোটেই । স্বাভাবিক জ্বর হলে কথা ছিল, রাকিবের হয়েছে চিকুনগুনিয়া যা সাত আট দিনের আগে ভালো হওয়ার কথা না ।
.
জ্বরে রাকিবের চেহারাটা কেমন যে শুকিয়ে গেছে । সেই শুকনো চেহারা পানে তাকিয়ে শ্রাবনীর কেন যেন খুব মায়া হচ্ছে । মানুষটা তাকে অনেক ভালোবাসে ঠিকই কিন্তু মাঝে মাঝে নিজেকে ধরে রাখতে পারেনা অযথাই তার সাথে ঝগড়া বিবাদে লিপ্ত হয় । এই যে মানুষটা ঘুমিয়ে আছে, কি নিষ্পাপ চেহারা, কে বলবে মানুষটার ভেতরে এতো জেদ ।
.
রাকিবের মোবাইলের রিংটোন শ্রাবনীর চিন্তায় ছেদ ফেলেছে ।
.
অসময়ে কে আবার ফোন করলো ?
.
- হ্যালো কে বলছেন ?
.
- জি রাকিব সাহেব আছেন ?
.
- আমি তার স্ত্রী শ্রাবনী বলছি
.
- রাকিব সাহেব কোথায় ?
.
- উনি একটু অসুস্থ, তাই ঘুমিয়ে আছেন ।
.
- আমি ওনার অফিসের এম ডি বলছি । উনি একটু সুস্থ হলে অফিসে জয়েন করতে বলবেন । ওনার বিরুদ্ধে আনিত সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি ওনি আবার অফিসে নতুন করে জয়েন করবে । এছাড়া তার বেতন বৃদ্ধি সহ প্রমোশনের ব্যবস্থাও করেছি আমরা ।
.
খবরটা শোনার পর বাক রুদ্ধ শ্রাবনী । এতো কিছু হয়ে গেছে কিছুই জানতে পারেনি সে । তাহলে এতদিন সংসার চালালো কিভাবে অনুর বাবা । আর চাকরিটা বা হারালো কিভাবে ?
.
প্রশ্ন গুলো মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে । প্রশ্নের উত্তর জানা যে তার জন্য খুব বেশি প্রয়োজন কিন্তু রাকিবের কোন সাড়া শব্দ নেই । দেহটা কেমন যেন নিস্তেজ হয়ে গেছে । কিছুক্ষণ আগেও শরীরটা গরম ছিল এখন একেবারেই ঠাণ্ডা । কয়েকবার ডাকার পরেও যখন রাকিব উঠছে না তখন ভয়ে আতঙ্কে গলা শুকিয়ে গেছে শ্রাবনীর ।
.
না রাকিবের কিছু হয়নি ওষুধের সাথে ঘুমের ওষুধ ছিল তাই গভীর ঘুমে ঘুমিয়ে ছিল রাকিব কিন্তু ঘুম ভাঙ্গতেই শ্রাবনীর আতঙ্কিত চেহারা আর হঠাৎ করে শ্রাবনীকে বুকের মাঝে আবিষ্কার হাজার প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে রাকিবের মনে ।
.
- তোমার বস ফোন করেছিল তোমাকে আবার অফিসে জয়েন করতে বলেছে । তোমার নাকি প্রমোশনও হয়েছে ।
.
- সত্যি ,,,,,, !
.
- হ্যাঁ সত্যি, কিন্তু তুমি চাকরি হারিয়েছ, আমাকে বলনি কেন ?
.
- তুমি চিন্তিত হবে তাই
.
- তাহলে এই কয়দিন সংসার চালালে কিভাবে ?
.
- থাক না কিছু প্রশ্নের উত্তর অজানা । সব প্রশ্নের উত্তর জানতে নেই ।
.
না, শেষ প্রশ্নের উত্তর জানা হয় না । তবুও রাকিবের বুকের উপর মাথা রেখে নিজেকে খুব সুখী মনে হয় শ্রাবনীর । কিন্তু এমন অনেক রাকিব আছে যারা বিপদের দিনে নিজের সংসারটাকে খুব কষ্টে টেনে নিয়ে যায় কিন্তু শ্রাবনীরা জানতেও পারে না কিভাবে কি প্রক্রিয়ায় সংসারটা এগিয়ে যাচ্ছে ।
.
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now