বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ফেসবুকে প্রেম অতঃপর চোখেরজল

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X খুশি........ নামটা যেমন খুশি মেয়েটা ও তেমন খুশি থাকে সারাটা দিন।বাবা মায়ের আদরের একমাত্র মেয়ে। বাবা মা সারা দিনই মেয়েকে নিয়ে ভাবে মেয়ে বর হয়ে কি করবে,কেমন ছেলে লাগবে মেয়ের জন্য এই সব চিন্তা করতে তাদের দিন কাটে। বাবার ইচ্ছা মেয়ে আর্মি অফিসার হবে তার মত।আর মায়ের ইচ্ছা মেয়ে মেয়ে ডাক্তার হবে।এই নিয়ে প্রায় ঝগড়া হয়। তাই দেখে খুশি হেসে বলে আমি কিন্তু পাগলী হব।সাথে সাথে তার বাবা মা মেয়ে কে জড়িয়ে ধরে যে না তাদের মেয়ে পাগলী হবে কেন। -খুশি ইন্টারে পরে,বাবা আর্মি অফিসার তাই ক্যান্টেলমেন্টে কলেজে পরে। -আর্মি দের আন্ডারে কলেজ হওয়ায় তেমন কোন কিছু করার সুজুগ থাকত না। তাই সবাই যে যার মত থাকত। পড়াশুনা আর পড়াশুনা করতে করতে খুশি বোরিং হয়ে গেছে। হঠাত একদিন কলেজ প্রোগ্রামে তার এক বান্ধবী মোবাইল নিয়ে আসে অনেক দামি একটা ফোন। তখন সে দেখতে পায় তার বন্ধু ফোনের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে হাসছে। আর হাত দিয়ে কি যেন করছে। সে কাছে গিয়ে দেখল সে নীল সাদার একটা পেজে কি জেন লেখছে আর হাসছে।তখন খুশি জানতে চাইল কি এইটা। তার বান্ধবী বলল এই হল ফেসবুক। খুশি আগে এই নাম শুনছে কিন্তু আজকেই সামনাসামনি দেখল। তার খুব ইচ্ছা করছিল এমন যদি সেও করতে পারত তার অনেক ফ্রেন্ড হবে কথা হবে অনেক ভাল কাটবে দিন।কিন্তু তার এই ভেবে মন খারাপ হয়ে গেল তার তো ফোন নাই। ভাবল বাসায় সে ফোনের কথা বলবে কিন্তু সামনে তার পরিক্ষা ফোন তো কিনে দিবে না। কি করবে ভেবে পাচ্ছে না। -হাটাত তার মনে হল সামনে তার জন্মদিন,তো জন্মদিনে আব্বুর কাছে সে ফোন চাইবে। অবশেষে তার জন্মদিনের আগের দিন তার বাবা জানতে চাইল কি চায় সে তার কাছে,সে অনেক ভয় নিয়ে বলল বাবা আমার একটা ফোন চাই। বাবা চুপ করে থেকে বলল না এখন না পরিক্ষা শেষ হোক তার পর নিও। খুশি না আমার এখন দিলে দেও না হলে মার কিছু লাগবে না।বলেই সে কাঁদতে লাগল।তার বাবা রাগ করে চলে গেল। আজকে তার জন্মদিন সবাই দাঁড়িয়ে আছে কেক কাটতে তার বাবা কেক কাটার পর তার হাতে একটা বক্স তুলে দিয়ে বলল এই নাও তোমার জন্মদিনের উপহার। সে বক্স খুলে দেখল তার বান্ধবী এর চাইতে ভাল ফোন। সে বাবার গলা জড়িয়ে ধরল অনেক খুশি হল সে। রাতেই সব ফ্রেন্ড দের ফোন দিয়ে বলল তার ফোনের কথা। সেই বান্ধবী এর কাছ থেকে ফেসবুক খোলার উপায় জেনে নিল। ফোন নাম্বার দিয়ে খোলার কারনে আর সমস্যা হল না।রাত ১২:৩০ আজকে খুশি অনেক খুশি। সে আজকে ফেসবুক চালাচ্ছে। প্রথম প্রথম বুঝতে একটু কষ্ট হচ্ছে তবুও ও পারছে।এই ভাবে তার ১সপ্তাহে তার কিছু ফ্রেন্ড হল।সবার সাথে তার মোটা মুটি কথা হত। হটাত একদিন তার ফেসবুকে ১টা ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট কাইফ নামে। সে চিন্তা করল এক্সেট করবে কিনা আবার ভাবল করি না কি করব না।আসলে তার আইডিতে সবাই পরিচিত। অনেক ভেবে এক্সেপ্ট করল। সাথে সাথে প্রোফাইল টা ঘুরে আসল। ছেলেটার অনেক গুলি পিক ছিল। ছেলেটা দেখতে ও তেমন ছিল অনেক কিউট। পরের দিন___________ ওহ খুশির আইডি নাম ছিল সানায়া_________ কাইফ প্রথমে হায় দিল, কাইফঃ hai...... সানায়াঃভাবছে রিপ্লাই দিবে কিনা,এসএমএস টা সিন করে রেখে দিল। ৫মিনিট পর আবার___________ কাইফঃki ans diben na?jodi na den bole din unfriend kore dubo. সানায়াঃ ji bolun এই ভাবে তাদের আস্তে আস্তে কথা হত। প্রতিদিন প্রায় ২জনে ২জনের সব কথা শেয়ার করত। আস্তে আস্তে ভাল বন্ধু হয়ে গেল। সব জানতে লাগল একে অপরের সব কিছু। একদিন কথায় কথায় সানায়া বলল কাইফ আমি না মনে হয় কাউকে লাভ করি কিন্তু বলতে পারছি না কিন্তু অনেক ভালবাসি তাকে। কাইফ বলল তো বলে দেও।আর না পারলে আমাকে বল আমি বলে দিচ্ছি। তখন সানায়া/খুশি বলল আচ্ছা তোমার নাম্বার টা দেও আমি বলছি। কাইফ সাত পাচ না ভেবে নাম্বার দিল। খুশি তার ফোন থেকে ফোন দিল। হ্যালো কে কাইফ। হুম তুমি খুশি? বুজলে কি করে? এখন তো তুমি ফোন দিবা। তাই। বল কাকে ভালবাস?কাইফ জানতে চাইল। এইত বলছি কিন্তু আগে বল হেল্প করবে।আর রাগ করবে না। খুশি বলল। ওকে বাবা করব না বল। খুশিঃ আমি তোমাকে ভালবাসি কাইফ। আই লাভ ইউ, ডু ইউ লাভ মি? কাইফ কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না। সে বলল খুশি প্লিজ আমার থেকে দূরে থেক। ব্যাই। এই বলেই ফোন কেটে দিল। খুশি সাথে সাথে আবার ফোন দিল। কিন্তু ওই পাস থেকে এক মহিলা বলছে এই মুহুরতে সংযোগ দেওয়া সম্বভ না। সে কাঁদতে লাগল। এই ভাবে সে প্রতিটা মিনিটে ট্রাই করছিল। কিন্তু ওই একি সম্বভ না। ২দিন পর কাইফের ফোন খোলা পেল। সাথে সাথেই কল দিল খুশি,রিং হচ্ছে ওপাশ থেকে কাইফ হ্যালো কে বলছেন কি আমায় চিনতে পারছ না :খুশি হুম কি বল বলবে। :কাইফ কাইফ তুমি আমার সাথে এমন করছ কেন আমি তো ভালবাসি তোমাকে।প্লিজ আমাকে ফিরিয়ে দিও না। : খুশি আমি খারাপ প্লিজ তুমি অনেক ভাল মেয়ে প্লিজ আমাকে ভুলে যাও।আমি চাইনা তোমার লাইফটা নষ্ট হোক। :কাইফ। খুশিঃ তুমি এমন করে বলছ কেন কাইফ। আমি অনেক খারাপ।এই বলে ফোন টা কেটে দিল। ২দিন পর কাইফ কে ফেসবুকে পেল খুশি। কাইফ প্লিজ আমার উত্তর দেও আমি কি তোমার ভালবাসার যোগ্য না। আসলে তেমন কিছু না খুশি। আসলে আমার আরো অনেক মেয়ের সাথে রিলেশন আছে। আর তুমি জানলে অবাক হবে আমি ২০টার উপরে প্রেম করি।ফেসবুক ফোন আর কলেজে। প্লিজ ভুলে যাও।আমার তোমাকে ভাল মেয়ে মনে হল ভাল ফ্রেন্ড মনে করে বললাম। খুশি কাঁদছে আর বলছে প্লিজ আমাকে ১টা সুজগ দাও। কাইফ বলে না তুমি চাইলে আমরা ভাল বন্ধু হয়ে থাকতে পারি। খুশি ভাবে সে কাইফকে হারাতে পারবে না তাই সে ভাল বন্ধু হয়। কিন্তু এতে করে কষ্ট টা আরো বেড়ে যায়। কাইফ তাকে শুধু বন্ধু ভাবে তাই তেমন টাইম দিত না।কিন্তু খুশি তাকে ভালবাসে তাই সে অনেক ভালবাসা চায় কিন্তু পায়না। আস্তে আস্তে খুশির দিন গুলি অনেক কস্টে কাটতে লাগল। মাঝে মাঝে যখন কাইফ তাকে টাইম দিত তখন তার সাথে ভাল করে কথা বলত তার কাছে পৃথিবী তার কাছে জান্নাত। এমনি করে ভাল আর খারাপ মিলে তার দিন কাটছে এখন ও জানে না কাইফ তাকে ভালবাসবে কিনা। কিন্তু এই মিথ্যা ভালবাসার মাজে যে কত কষ্ট শুধু তারাই জানে যারা নিজের ভালবাসা কে ছাড়তে না পেরে অন্যকে ভালবাসে যেনেও তাকে মন থেকে ভালবাসে। যখন নিজের মনে হয় এখন একটু কথা বলব তখন তার বয় ফ্রেন্ড হয়ত অন্য কোন মেয়ের সাথে বিজি। অনেক কষ্ট সহ্য করে তবু ও তাকে ভালবাসে আগের মত যদি সে তার ভালবাসা বুজে ফিরে আসে কোন দিন। এই আশায় পথ চেয়ে পাগলের মত ভালবেসে যাচ্ছে খুশি,শত আবহেলা কে তুচ্ছ করে। যদি কাইফ তাকে ভালবাসে সে সব করতে পারবে তার জন্য শুধু তাকে একটু একলাকে এবং বেশি ভালবাসলেই চলবে। __________________________ দোয়া করি আপু তুই তোর ভালবাসার মানুষ টিকে যেন পাস। আমি যেই গল্প টা লিখলাম আমার ফেসবুকের একটা আপুর কথায় লিখছি। তার জীবনের গল্প। হয়ত তার মনে এর চাইতে কষ্ট কিন্তু আমার মন থেকে সব ফিল করে লেখা সম্ভব না।যত টুকু পারলাম লিখে দিলাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ফেসবুকে প্রেম অতঃপর চোখেরজল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now