বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বিন্দু এইবার এস,এস,সি পরিক্ষা দিল। কয়দিন আগেই তার পরিক্ষা শেষ করল। হাতে এখন অফুরুন্ত সময় ভেবে পাচ্ছে না কি করবে এই সময় এ।
"
"
"
___ ক্লাস এইটে বৃত্তি পাওয়ায় সবাই শিওর ছিল বিন্দু এইবার ও এস,এস,সি তে সে ভাল রেজাল্ট করবে।
বিন্দুর ফ্যামিলিতে বিন্দুর ছিল ১ভাই আর বাবা-মা। চার জনের খুব সুখের সংসার ছিল। বড় ভাই এইবার অনার্স ৩য় বর্ষে পরে। ভাইকে যেমন ভয় পেত আবার ভাই ভালোবাসত তাকে অনেক বেশি।
"
"
"
____ বিন্দুর খুব খারাপ লাগছিল কয়দিন ধরে,এখন আর স্কুল নাই,ঠিক মত ফ্রেন্ড দের সাথে কথা হয় না। একদম বোরিং লাগে সারা দিন ঘরে একলা একলা দিন কাটাতে হয়।
কি করবে ভাবতে ভাবতে ভাইয়ার রুমে গিয়ে দেখল তার আগের একটা ফোন আছে ভাবল আজকে ভাইয়া আসলে ভাইয়ার কাছ থেকে চেয়ে নিবে। ভাইয়া স্যামসাং গ্রান্ড টা কিনার পর এই সিম্পনি ফোন টা আর ইউস করে না হয়ত।
মনে মনে ভাবছে বিন্দু আর খুশি হচ্ছে।
"
"
" মাঝে মাঝে গেম আর বান্ধবী দের সাথে কথা তো বলতে পারবে। বিকালে ভাইয়া বাসায় আসল, ভাইয়ার কাছে গিয়ে ফোনটা চাইল............
"
"
"
বিন্দু :- ভাইয়া তোর এই ফোনটা আমায় দিবি? তোর তো নতুন ফোন আছে এইটা তো লাগে না।
"
"
শিশির :- তুই এত ছোট মানুষ ফোন দিয়ে কি করবি? (বিন্দুর ভাই এর নাম শিশির)
"
"
বিন্দু :- দে ভাইয়া, ইত্যাদি ইত্যাদি.......
"
"
"
অনেক বুঝিয়ে কান্না কাটি করে ফোন পাইল। নিজের জমানো টাকা দিয়ে একটা সিম কিনে নিল। তার প্রিয় বান্ধবী রিমি কে ফোন দিয়ে বলল সে ফোন নিছে।
রিমি বলল তবে এখন ফেসবুক চালু কর। আমার ফেসবুক আছে। তুই ও কর।
"
"
"
বিন্দু :- আমি তো চালু করতে পারি না, তুই কালকে আমাদের বাসায় আয় একটু খুলে দিবি।
"
"
"
রিমি :- আচ্ছা আমি কালকে এসে খুলে দিব আইডি।
"
"
"
"_________ পরের দিন সকাল বেলা রিমি আসল বিন্দুদের বাসায়।
"
"
"
দুই বান্দবি মিলে আইডি খুলতে লাগল।কি নাম দিবে ভাবতে ভাবতে ঠিক করল "নীল প্রাজাপতি" দিবে। সেই মত আইডি নীল প্রজাপতি দিল।
ফেসবুক খুলল কিন্তু রিয়েল কিছু দিল না,কেননা রিমি বলছে রিয়েল দিলে পোলারা জালায়,আর ঝামেলা হবে,তোর ভাইয়া জানলে।
তাই সব একদম চেঞ্জ করে অন্য পরিচয়ে ফেসবুকে খুলল ফেক নামের আইডি।
"
"
"
"________ বিন্দু খুব ভাল করে শিখে নিল রিমির কাছ থেকে ফেসবুকের কায়দাকানুন। ইউস করতে লাগল, সমস্যা হলে রিমিকে ফোন দিত এইটা কি করে হবে ওইটা কি করে হবে ইত্যাদি।
১সপ্তাহ এর মাঝে তার খিছু ফ্রেন্ড হল।
বিন্দু মাঝে মাঝে কবিতা পোষ্ট করত।ভাল সারা পেতে লাগল।খুব ভালই যাচ্ছিল তার দিন গুলি।এখন আর একদম বোরিং লাগে না।
"
"
"
"_______ একদিন তার আইডিতে নীল কষ্ট নামে রিকু আসল। প্রোফাইল ঘুরে তেমন কোন ইনফো চোখে পরল না। তবুও নাম টা ভাল লাগল তাই এক্সেপ্ট করল।
"
"
"
" নীল কষ্ট থেকে প্রথম এসএমএস, ""ধন্যবাদ কি করেন""।
বিন্দু উত্তর দিল জি ভাল আপনি।
এমনি করে প্রতিদিন তাদের অল্প অল্প থেকে অনেক বেশি চ্যাট হতে লাগল।
"
"
"
"______ এমন করে তারা খুব কাছে চলে আসে।কিন্তু তখন ও কেউ কারো নাম জানে না। কিন্তু বিন্দু তার পরিচয় দিছে সে ইন্টার পড়ে।
আর নীল কষ্ট পরিচয় দিছে সে অনার্স এ পরে।
তাদের পরিচয় প্রায় ১মাস এর মাঝে দুইজন দুইজনের খুব আপন হয়ে গেছে।
কেউ কাউকে কথা শেয়ার না করে থাকতে পারে না।
বন্ধুত্ব টা খুব আপন করে নিয়ে নীল প্রথমে বিন্দু কে প্রোপস করে। কিন্তু বিন্দু বলে না তাকে সময় দিতে হবে। সে অনেক ভেবে তার বান্ধবী এর সাথে কথা বলে,নীল এর সাথে প্রেম এর পথে পা বাড়ায়।
কিন্তু বিন্ধু তাকে বলত তারা দেখা করবে অনেক পরে। আর তাদের নাম কেউ কারো টা জানতে চাইবে না এমন কি ফোন নাম্বার ও না।
"
"
"
"______ যেই বিন্দু এক সময় খুব একলা থাকত সেই বিন্ধুর ঘরের ফোনের আলো এখন সারা রাত জ্বলে।
কেউ দেখে না সে রাত জেগে কি করছে।
নীল কে বিন্দু অনেক বেশি ভালবেসে ফেলেছে। কিন্তু বলতে পারে না। বুঝতে দেয় না নীল কে।
কিন্তু নীল ঠিক বুজে ফেলে বিন্দুর দুর্বলতা।
আস্তে আস্তে নীল এর চাহিদা টা বাড়তে লাগল, এক সময় ফেসবুকে সে বিন্দুর সাথে খারাপ চ্যাট করতে চাইল (খারাপ= s.....x)
কিন্তু বিন্দু রাজি না। নীল বলল তুমি কি চাও এত ভালোবাসি তোমাকে আর তুমি কি এই টুকু পারবে না।
এক সময় তাদের মাঝে ঝগড়া হয়।
নীল তাদের কথা বলা অফ করে দেয়।
"
"
"
"_______ এদিকে বিন্দু খুব মিস করছে নীল কে। কথা না বলে যার সাথে দিন কাটত না এখন খুব মিস করে তাকে।
২দিন পর.............
বিন্দু এসএমএস দিল নীল কে, তুমি যা বলবে আমি করব কিন্তু ছবি চাইবে না।
নীল এসএমএস এ উত্তর দেয় হুম চাইব না।
"
"
"
"________ এমনি করে তাদের খারাপ চ্যাট শুরু হয়। আস্তে আস্তে নীল এর চাইতে বিন্দু নিজে থেকেই বেশি শুনতে চাইত। সারা দিন মন চাইত এমন কথা হোক নীল তার সাথে।
এক সময় তারা দুইজন এত বেশি আসক্ত হয়ে পরে,এই বাজে অভ্যাস টার উপর যে নিজেদের পজিশন এর কথা বুলে গেছে।
একদিন নীল তার ছবি চাইল শুধু,তার শরীর এর ছবি।
কিন্তু বিন্দু দিবে না বলে বলে নীল এর অনুরোধে ফেস ছাড়া পিক দিল।
ঠিক নিজের গলা অব্দি।
নীল খুব খুশি দেখে কিন্তু সে নিজেও জানে না সামনে তার জন্য কি অপেক্ষ্যা করছে।
"
"
"
"_______ একদিন বিন্দু নিজেই নীলের ছবি চাইল। নীল ভাবল তার ছবি দিবে।
বিন্দু ভাবছে কালকে তার রেসাল্ট দিবে আর এখন নীল কে দেখবে এত খুশি সে রাখবে কই।
নীল প্রথমে তার একটা ছবি দিল যাতে তার মুখ দেখা যায়নি।পরে আবার ছবি দিল কিন্তু বিন্দু ছবি টা ওপেন করে নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছে না।
"
"
"
সে কাকে দেখছে?
কার সাথে সে এত দিন এই সব নোংরামি করছে?
কাকে সে ভালবাসছে?
সে ভাল করে দেখল না তার ভুল হচ্ছে না, এই ছবি আর কারো না,এইটা তার বড় ভাই শিশির এর ছবি।
তবে কি সে এত দিন............... বিন্দু আর ভাবতে পারছে না..................
"
"
"
"
নিজের কাছে নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছিল। সাথে সাথে ফেসবুক ডিএক্টিব করে দিল। আর নিজের মন কে হাজার বুঝিয়েও বুঝাইতে পারছে না সে কি করেছে।
তার ভাই এর সামনে সে কি করে দাঁড়াবে নিজের আপন ভাই কে নিজের শরীর,ভাবছে আর নিজের চোখ দিয়ে শুধু অশ্রু ঝরছে।
কিছু করার নাই অনেক দেরি করে ফেলছে।
তার আর বাঁচতে মন চাইছে না।
বিন্দু একবার ভাবতে পারত এইসব করার আগে।
নিজেই নিজের হাতে একটা চিঠি লিখল নীল কস্টের জন্য................
"
"
"
"""ভাইয়া আমি বেঁচে থাকলে জীবনে শান্তি পাব না।
কোন দিন তোমার সামনে দাড়াতে পারব না এই মুখ নিয়ে।
তাই আমি এই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাচ্ছি,যাবার আগে
শুধু বলে যাচ্ছি প্লিজ ফেক নাম দিয়ে ফেক আইডি ব্যবহার করিস ন।
প্লিজ কাউকে পরিচয় লুকিয়ে এসএমএস দিয়ে কথা বলিস না।
"
"
"
"
"
ইতি_______________নীল প্রজাপতি।"""
"
"
"
"
এই টা লিখে বিন্দু নিজের ওরনা দিয়ে নিজে আত্যহত্যা করল।
সকালে যখন তার কোন শব্দ না পেয়ে তার ভাই,বাবা মা দেখল তার রুমে গিয়ে ওই অবস্তায় তখন সবাই শুধু অশ্রু জলে ভাসছে, কিন্তু তার ভাই এর হাতে চিঠিটা পরল। শিশির চিঠিটা পড়ছে আর একবার তার বাবা মার দিকে তাকাচ্ছে আর একবার তার বোনের মৃত দেহ টার দিকে।
কি করে সে বলবে এর জন্য সে নিজে দ্বায়ী।
ভাবতে পারছে না শিশির এর মাথা গুরাচ্ছে, শিশির এর আর কিছু মনে নাই এর পর থেকে সে তাদের এলাকার ফোন পাগল নামে পরিচিত,কেননা সে এর পর পাগল হয়ে যায়।আর রাস্তায় কারো হাতে ফোন দেখলে ছিনিয়ে এনে ভেঙে ফেলে।তার জন্য সে প্রায় মাইর খায়। কিন্তু তার শাস্তি কি তাতে হবে?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now