বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক:মুহিদ
.
.
.
.
(গল্প সম্পূর্ণ কাল্পনিক। কারো জীবনের সাথে মিলে গেলে লেখক দায়ী নয়)
.
লেখা তার পেশা নয়, নেশা। মাঝে মাঝে গল্প লিখে তা বিভিন্ন পেজে প্রকাশিত হয়। যার জন্য তার কিছু ফ্যান ও রয়েছে। যারা তাকে কমেন্ট বক্স ও ইনবক্সে বিভিন্নভাবে অনুপ্রেরণা দেয়। প্রতিদিন অনেক বার্তা আসে এবং সে সবার বার্তার উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করে।
ছেলেটার নাম ধ্রুব। এক মধ্যবিত্ত হিন্দু পরিবারের ছেলে। দেখতে তেমন স্মার্ট না, কালো। আচরণ হালকা পাগলা টাইপের। তার এলোমেলো লেখাগুলো কিভাবে পাঠকদের মন জয় করে নেয় বুঝতেই পারে না।
একদিন এক মেসেজ আসে
- হ্যালো। কেমন আছেন?
- ভালো। আপনি?
- ভালো। আপনার আজকের গল্প খুবই সুন্দর হয়েছে।
- ধন্যবাদ।
- আপনি কি করেন ?
- ছাত্র। অবসর সময় টিউশনি করি।
- কিসে পড়েন?
- ১২
- আপনার বাসা কোথায়?
- সিলেট।
- আপনি এরকম কেন ?
- কিরকম?
- আমি একা একা প্রশ্ন করে যাচ্ছি। আপনার কি আমার সম্পর্কে জানার ইচ্ছা নাই?
- নিশ্চই আছে
- তাহলে প্রশ্ন করুন
- হুম। আপনার নাম কি? কিসে পড়ো? বাসা কোথায়?
- এতো প্রশ্ন একসাথে করলে কোনটার উত্তর দিবো?
- হুম। একটা একটা করে বলেন।
- আচ্ছা। আমি জিনিয়া। ক্লাস ১১ এ পড়ি। ১২ এ পড়তাম যদি না একবছর ডিপ্লোমা পড়ার জন্য গ্যাপ যেতো। আর বাসা কুড়িগ্রাম।
- হুম। কথা বলে ভালো লাগলো।
বলেই সে উত্তরের অপেক্ষা না করেই অফলাইনে চলে গেলো। মেয়েদের সাথে সে ফ্রী হয়ে কথা বলতে পারে না। কিছুক্ষণ পর অনলাইনে এসে দেখতে পায় মেয়েটি নক করছে।
- আপনি এরকম কেন? কথা না বলেই চলে যান?
- বলো
- আপনি দেখতে খুবই কিউট..!!
- মানে?
- আপনি দেখতে খুবই কিউট..!!
- মজা করার সময় আমার কাছে নাই। কিছু বলার থাকলে বলেন।
- আপনি দেখতে খুবই কিউট এটা আপনাকে স্বিকার করতে হবে।
- দুঃখিত। আমি মিথ্যা কথা বলি না।
- আমি সত্যি বলছি আপনি খুবই কিউট।
- আচ্ছা। বিষয়টা বাদ দেন অন্য কিছু বলার থাকলে বলেন?
- আপনাকে কি তুমি বলতে পারি?
- অবশ্যই
- ধন্যবাদ।
- স্বাগত
বলেই ছেলেটা অফলাইনে চলে গেল। অন্যদিকে মেয়েটি একের পর এক মেসেজ দিতে থাকে। আর উত্তরের অপেক্ষায় থাকে।
এভাবে অল্প অল্প কথার মাধ্যমে জিনিয়ার সাথে তার বন্ধুত্ব হয়। এক সময় বন্ধুত্ব এতটা গভীর হয় যে কেউ কারো সাথে কথা না বলে থাকতে পারেনা।
একদিন মেয়েটা কথার মধ্যে ছেলেকে বলে -
- তোমার কি আমাকে দেখতে ইচ্ছা করেনা?
- করে
- কিন্তু একবারও একটা ছবি চাইলে না?
- যদি রাগ করো? তাই চাইনি।
- ধুর। রাগ কেন করব? (মেয়েটি ছবি দেয় ) ছবি পেয়েছ?
- হুম পেয়েছি।
- আমি দেখতে খুবই পচা!
- কে বলেছে? খুবই কিউট
- মিথ্যা বলছো
- আমি মিথ্যা বলি না
- আচ্ছা তোমার নাম্বার দিতে পারবো?
- পারবো। কিন্তু কল দিয়ে বিরক্ত করা যাবে না।
- বিরক্ত করবো না। তবে মাঝে মাঝে মেসেজ দিবো
এরকম প্রতিদিন অল্প অল্প কথায় দুজন দুজনের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পরে। মেয়েটি সারাদিন ফোনে মেসেজ দেয় - "miss you", "প্লিজ fb তে আসো " এরকম।
একসময় ছেলেটি মেয়ের কাছে ফ্রী হয়ে যায়। একদিন মেয়েটি প্রশ্ন করে -
- তোমার GF আছে?
- না।
- ভালো।
- তোমার GF আছে ?
- পাগল নাকি? মেয়েদের GF থাকে?
- কেন থাকেনা। সবার সাথে।
- মানে?
- Grand Father (GF) নাই
- ওওও.. আছেন
- BF আছে?
- নাই তবে একজনকে ভালোবাসি
- কাকে? নাম বলা যাবে?
- না বলাই ভালো। কারণ সম্পর্ক সম্ভব নয়। আমি মুসলিম সে হিন্দু। সমাজ মেনে নিবে না।
- মানলাম সমাজ মেনে নিবেনা। তবে একমাত্র বিয়ের মাধ্যমে কি ভালোবাসা পূর্নতা পায়?
- বিয়ে না হলে ভালোবেসে কি লাভ?
- ভুল ধারণা। আমার মতে প্রিয় মানুষকে খুশি রাখার মাধ্যমেই ভালবাসা পুর্নতা পায়।
- হুম।
- তুমি রাধা - কৃষ্ণের কাহিনী জানো?
- না। বলো?
- রাধা সম্পর্কে কৃষ্ণের মামি। তারা জানতেন তাদের প্রেম কোনোদিন বিয়ে পর্যন্ত যাবে না। অনেকেই তাদেরকে খারাপ ভাবে। কিন্তু তারা সঠিক ছিলেন। কারন তারা প্রিয় মানুষকে খুশি রাখার চেষ্টা করেছেন। সেটা বিয়ে না করেও সম্ভব।
- হুম বুঝলাম। জানতে চাও কাকে ভালোবাসি?
- বলো
.
(চলবে)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now