বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
লেখক:মুহিদ হাসান
.
.
.
.
১ম পর্বের পর
.
.
.
- বললে রাগ করবে
- আমি কেন রাগ করব ?
- আগে বলো রাগ করবে না
- আচ্ছা। করবো না। বলো ?
- তোমাকে
- কি ?
- বলেছিলে রাগ করবে না
- এটা কিভাবে সম্ভব?
- তুমিই তো বলেছিলে সম্ভব
- আচ্ছা।
- একটা কথা বলি। আমি হয়তো বেশিদিন বাচবো না।
- কেন?
- আমার ব্রেন টিউমার
শুনতেই ছেলেটি পানিতে পড়ে গেল। পুকুরের পাড়ে হেটে হেটে মেয়েটার সাথে চ্যাট করছিলো।
,
পানিতে পরে ফোন নষ্ট হয়ে যায়। শেষে রাতে ফোন আবার চালু হয়। ফোন অন করতেই শুরু হয় মেসেজ আসা সবটাই এক নাম্বার থেকে। ফেসবুকে লগ ইন করার সাথে একসাথে অনেক মেসেজ আসে। মেয়েটি সারাদিন ছেলেটিকে মেসেজ দিয়েছিল যা এতক্ষন জমা ছিলো।
,
এভাবে কয়েকদিন যায়। মেয়েটা সারাদিন মেসেজ দেয় কিন্তু ছেলে সব সময় রিপ্লাই দেয় না। মেয়েটি ফোন করলে সে রিসিভ করে না। অন্যদিকে মেয়ে নিরবে চোখের জল ফেলে। কিন্তু ছেলের মনে অনুসূচনা হয়। সে একটা মেয়েকে ঠকাচ্ছে।
,
একদিন রাতে সে মেয়েটিকে বিভিন্ন ভাবে বুঝানোর চেষ্টা করে যে সম্পর্ক সম্ভব নয়। কিন্তু মেয়ে কোনো ভাবেই মানতে রাজি নয়।
একসময় ছেলে বলে -
- আমি অন্য একটা মেয়েকে ভালোবাসি।
- কি ? তুমি তো বলেছিলে তোমার কারো সাথে সম্পর্ক নেই ?
- সেটা এমনি বলেছিলাম।
- আমি যখন বলেছিলাম তোমায় ভালোবাসি তখন কেন বললে না ?
- ভাবছিলাম তুমি ইয়ার্কি করছো।
- আমার ভালবাসা তোমার কাছে ইয়ার্কি ?
- আমি কি বলেছি তোমায় ভালোবাসি ?
- না। তবে ছিলো তোমার নিরব সম্মতি।
মেয়েটি কাদতেঁ শুরু করলো অন্যদিকে ছেলে ফোন বন্ধ করে রেখে দিলো। মেয়ে অনেক বার কল দেওয়ার চেষ্টা করেছে কিন্তু কিছুতেই পারলো না।
,
পরের দিন মেয়ে ছেলেকে একটা মেসেজ ও দিলো না। ছেলে অবাক। যে মেয়ে তাকে পাগলের মতো ভালোবাসত সে এতো তারাতারি ভুলে যাবে সে কল্পনাও করতে পারেনি। কিন্তু সে সারাদিন মেয়েকে মিস করে। কিন্তু কেন? তা সে জানে না। সারাদিন গেলো সে সারাক্ষণ মেয়েটার কথা ভাবে। কিন্তু মেসেজ বা কল দেয় না। অন্যদিকে মেয়েও কল দেয় না। সে চিন্তা করতে করতে ঘুমিয়ে পড়লো।
,
রাত ২ টায় ছেলের ঘুম ভেঙে গেল। মনে হচ্ছে তার জীবন থেকে কিছু একটা হারিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কি হারাচ্ছে তা বুঝতে পারে না। মেয়েটির কথা খুব মনে পড়ছে। মেয়েকে কল দিলো কিন্তু মেয়ে রিসিভ করল না। একটানা ১৫ টা কল দেওয়ার পরও যখন কল রিসিভ করলো না ছেলে খুবই কষ্ট পেল। আর সারারাত ঘুমাতে পারলো না।
,
সকাল হতেই আবার মেয়ের মেসেজ আর কল দেওয়া শুরু একদম আগের মতোই । ছেলে অবাক হলো আর জিজ্ঞেস করলো -
- তুমি বলেছিলে আমায় ভালোবাস। তবে গতকাল একটাও কল বা মেসেজ দিলে না?
- আমি জানতাম তুমি আমাকে মিস করবে।
- কে বলেছে মিস করি?
- মিস না করলে রাত দুই টায় এতো কল দিতে না।
- না এমনি দিয়েছিলাম। মিস করিনি।
- মিথ্যে বলছো। মিস করেছ।
- না করিনি
- করেছ
- হুম। মিস করেছি তবে ভালোবাসি না। আর তুমিও ভালোবাস না। যদি বাসতে নিশ্চই কল বা মেসেজ দিতে।
- কিভাবে দিবো? অভিমান করে একসাথে তিনটি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ফেলেছি। তাই সারাদিন ঘুমিয়ে ছিলাম।
- কি! যদি তোমার কিছু হতো?
- কিছু হবেনা। আর হলেই তোমার কি?
- আমার কিছু না?
- সত্যি করে বলো তুমি কি অন্য কাউকে ভালোবাস?
- না
- তবে কেন বলেছিলে ? আমাকে কাঁদিয়ে অনেক আনন্দ পাও।
- আচ্ছা এসব বাদ দাও।
এইভাবে নিজের অজান্তেই ছেলেটি মেয়ের প্রেমে পরে যায়। সারাদিন মেসেজ আদানপ্রদান ফোনে কথা বলার মাধ্যমে এগিয়ে যায় তাদের সম্পর্ক। তবে নিয়ম করে রোজ একবার জগড়া হয় ! মান - অভিমান, জগড়া ছাড়া কি ভালবাসা পূর্নতা পায় ?
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now