বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

ফানুষ

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ফানুষ ______ কফির কাপে চুমুকটা শেষ করেই ফাহাদ বল্লো, অর্পি বি প্রাকটিকেল | লাইফে অনেক কিছুই চাইলেই সম্ভব না|আর আমি ফ্যামিলির বড় ছেলে চাইলেই ফ্যামিলির বাইরে যেয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবো না| --- তাহলে আমি কি করবো? বলেই নিচে কফির কাপের দিকে চুপ হয়ে চেয়ে ছিলাম|আমি জানি এই প্রশ্নের তেমন কোন পজিটিভ উত্তর আসবে না|তবুও মানতে কেন জানি কস্ট হলো| উত্তরে ফাহাদ আমার হাতটা এক হাত দিয়ে ধরে আস্বস্তের ভাষায় বল্লো , আমরা ভাল বন্ধু হয়ে থাকবো সব সময়|খুব ভাল বন্ধু .... যেখানে যে অবস্থায় থাকি না কেন আমাদের মাঝে শেয়ারিং , কেয়ারিং সব থাকবে| হাতটা ওর ছাড়িয়ে দিয়ে ব্যাগের মধ্য দিয়ে একটা টিস্যু পেপার খুজতে লাগলাম|পেয়ে ও গেলাম,এবার টিস্যু পেপার দিয়ে চোখের কোনের অবাঞ্চিত জল লুকানোর চেস্টা করলাম|আমার খুব ঘৃনা হচ্ছিলো নিজের উপর|তাই চাইনি আমার চোখের জল ফাহাদ দেখে ফেলুক|চোখের জল দেখা মানেই দূর্বলতা প্রকাশ পাওয়া|এখন এই মূহুর্তে এটা অযাচিত| কি অবাক কান্ড যার চোখের ভাষা পড়তে পড়তে আমার সকাল থেকে রাত হতো তার চোখের দিকে তাকাতেই আমার আজ খারাপ লাগছে|নিজেকে নর্দমার কীট মনে হচ্ছে| নাহ আর পারছিলাম না বসে থাকতে|ফাহাদকে কিছু না বলেই আমি উঠে দাড়ালাম |ও জানতে চাইলো __কই যাবো? --- বাসায় ____ আমি পৌঁছে দিয়ে আসি? --প্রয়োজন নেই,একাই যেতে পারবো | বলেই কফি শপটা থেকে বেরিয়ে গেলাম |কিছু দূর যাবার পরেই দেখি ফাহাদ খুব দ্রুত আমার দিকে আসছে|আমি ওকে এখন পুরো পুরিই ইগনোর করতে চাই|কিন্তু ও কেন বার বার আমার দিকে আসছে !!অসহ্য লাগছে|পাশে হেটে যেতে যেতেই বল্লো ,___ অর্পি শোন প্লিজ|একবার শোন| দুম করে দাড়িয়ে পড়লাম|তারপর ওর চোখের দিকে তাকিয়ে বল্লাম --- কি? কি বলবা?ছেড়ে যাবার আগে আরো কয়েক বার বিছানায় নিতে চাও?বলো .. ____ সরি, আমি তেমন কিছু মিন করিনি| --- ফাহাদ লিভ মি এলোন | বলেই হাটা শুরু করলাম|হাতের টিস্যু পেপারটা ভিঁজে চুপচুপে হয়ে গেছে|এবার চোখের পানি আমি ওড়না দিয়ে মোছা শুরু করলাম |ওই ভাবে হাটতে হাটতে কত টা পথ চলে এসেছি মনে নেই|পেছনে ফেলে এসেছি আমার চার বছরের রিলেশন|আমার স্বপ্ন ,আমার ভালবাসা আমার অস্তিত্ব আমার সব কিছু সব .... বাসায় ফিরে নিজেকে মানিয়ে নিতে কস্ট হচ্ছিলো |আয়নার সামনে দাড়ালাম খুটিয়ে খুটিয়ে নিজের গলা,গাল দেখতে লাগলাম |যেখানে যেখানে ফাহাদ ভালবাসা নামের স্পর্শ রেখে গেছে|হ্যা চুমু|ভালবাসা আজকাল জমেই না চুমু ছাড়া|ঘুটিয়ে ঘুটিয়ে নিজের শরিরের সব দেখতে লাগলাম|আর মনে করার চেস্টা করলাম কোথায় কোথায় ফাহাদের স্পর্শ রয়েছে| সহ্য হচ্ছে না আর|একবার ভাবলাম একটা সার্জারি ব্লেড দিয়ে সব স্পর্শ করা জায়গা গুলোর চামড়া তুলে ফেলি|পারলাম না ... ছি: কত দূর্বল মানষিকতা আমার | বাথরুমে ঢুকলাম গরম পানি নিয়ে|সমস্ত শরির ঘষে ঘষে পরিস্কার করছি তবুও কেন যেন ফাহাদের স্পর্শ আমি মুঁছে ফেলতে পারছি না|মাঝে মাঝে ভালবাসা কত অসহায় হয়ে পড়ে|একসময়ের ভাল লাগা গুলো অন্য এক সময় যন্ত্রনা দায়ক হয়ে পড়ে| রাত তখন একটা|ফোনটা হাতে নিয়ে ফাহাদের নাম্বারে ডায়াল করতে গিয়েও থেমে গেলাম|একটা বার আমাকে কল দিয়ে খোঁজ নেবার প্রয়োজন মনে করলো না|হাসি পাচ্ছে খুব ,না আনন্দে নয় কস্টে| অথচ একসময় আমরা একসাথে স্বপ্ন দেখতাম|ছোট্ট একটা সংসারের|আজ এক মূহুর্তে সব মিথ্যা হয়ে গেলো| ফাহাদ স্রেফ জানিয়ে দিয়েছে,ও আমাকে বিয়ে করতে পারবে না|কেন!কেন তবে আমার ভালবাসাকে নিয়ে আমোদে মেতেছে!! কত বোকা আমি .... ! নাহ ঘুম আসছে না,মেনে নিতে পারছি না সব কিছু| অপমান লাগছে নিজের কাছে|নিজের নারীত্ব নিয়ে দু:খ হচ্ছে|কি করে পারলাম আমি এমন আবেগে ঢুবে যেতে| নিজেকে আর মানিয়ে নিতে পারবো না কারো সাথেই| উঠে দাড়ালাম,রুম থেকে বের হয়ে কিচেনে গেলাম|চাকুটা নিয়ে রুমের দারজা লক করলাম|ডান হাত দিয়ে বাম হাতের কব্জিতে একটা টান দিলাম|প্রথমে তেমন লাগেনি তাই জীদ বেড়ে গেলো|এবার খুব জোড়ে হাতের মধ্যে চাকু বসিয়ে আবার টান দিলাম|কস্টে বুক ফেটে যাচ্ছিলো|ভয় না পেয়ে এবার খুব দ্রুত ডান হাতের কব্জিতে ও চাকু দিয়ে টান দিলাম|রক্তে রুম এর ফ্লোর ভেষে যাচ্ছে|খুব কস্ট হচ্ছে,আমি বাঁচতে চাই না|আরো কিছু করতে হবে এই ভেবে পায়ের গোড়ালিতে বসালাম চাকু|চাপা একটা চিৎকার দিলাম ,,,, মা ,,, ফ্লোরে আমি ভাসছি ,চারপাশে রক্ত|খুব ইচ্ছা করছে মায়ের বুকের মধ্যে লুকিয়ে থাকি|মাকে জোড়ে ডাকার চেস্টা করছি ,,,, মা ,, মা কস্ট হচ্ছে ভীষন ,মা কেন শুনছে না! ---- ছন্নছাড়া অর্পিতা |


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ঘুড়ি ও ফানুষ
→ ফানুষ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now