বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এডমিশন কোচিংয়ে ক্লাসে নেয়ার সময় আমি স্টুডেন্টদের জিজ্ঞেস করি, তোমরা কে কে "থ্রি ইডিয়টস" মুভিটা দেখেছো?
প্রত্যেকেই হাত তোলে। অনেকে তো আবার অতি উৎসাহে বেঞ্চ থেকে দাঁড়িয়ে যায়।
আমি মনে মনে হাসি। থ্রি ইডিয়টস এদের সবার প্রিয় মুভি।
আমি আবার বলি, এই মুভিতে আমির খানের ক্যারেক্টারটা ভালো লেগেছে কার কার? এবারো কেউ বাকি থাকে না। সবাই হাত তোলে।
"আচ্ছা, থ্রি ইডিয়টস মুভিতে দেখা যায়, আমির খান সারাদিন আড্ডা দিয়ে বেড়ায়, দুষ্টামি করে, ফাজলামি করে । কারিনার শাথে টাংকি মারে । লেখাপড়া কিচ্ছুটি করে না। এক্সামের দিন সকালে কারিনা তাকে জোর করে এক্সাম দিতে পাঠায়। মনে হয় যেন এক্সামের ব্যাপারে সে মোটেও সিরিয়াস না।
কিন্তু এক্সামের রেজাল্ট দিলে দেখা যে সে-ই ফার্স্ট হয়েছে।
এটা কি কিভাবে সম্ভব ?"
স্টুডেন্টরা চিন্তায় পড়ে যায়। কিছু বলতে পারে না। দু'একজন মাথা নাড়ায়, সম্ভব না।
আমি তাদের বলি, দেখো আমির খানের কলেজের টিচাররা মুখস্থবিদ্যা এপ্রেশিয়েট করে। কলেজের প্রশ্ন তো টিচাররাই করে। তাহলে এমন অনেক প্রশ্নই থাকবে যেগুলা মুখস্থ ছাড়া এন্সার দেয়া যাবে না। কিন্তু ফার্স্ট হতে হলে তো সবচে বেশি পারতে হবে। তাহলে র্যাঞ্চো কিছু না পড়ে, টৈ, টৈ করে ঘুরে বেরিয়ে ফার্স্ট কিভাবে হয়?
ওরা তাকিয়ে থাকে। কিছু বলে না।
আসলে বেশিরভাগ মানুষই থ্রি ইডিয়টস এর আমির খানের মত হতে চায়। লেখাপড়া করতে চায় না, পরিশ্রম করতে চায় না।
কিন্তু ঠিকই ভালো রেজাল্ট করতে চায়। ভালো সাবজেক্ট এ চান্স পেতে চায়।
কিন্তু বাস্তব জীবনটা তো সিনেমার মত না।
এখানে যে যতই ট্যালেন্টেড হোক না কেন, পরিশ্রম ছাড়া কেউ বেশি দূর যেতে পারে না।
স্বপ্ন দেখাটা খুব সহজ এখানে। কিন্তু সেই স্বপ্নকে বাস্তবে পাওয়াটা কঠিন।
যে ছেলেটা এক্সামে ফার্স্ট হয়। সবচে বেশি মার্কস পায়। সবাই তার সাফল্য টুকু দেখে।
তার কঠোর পরিশ্রম, রাতের পর রাত জেগে থাকা অথবা নিজেকে বন্দী করে লেখাপড়া করাটা সবাই দেখতে পায় না ।
সবাই তার মত হতে চায়। কিন্তু তার মত লেগে থাকার মানসিকতা সবার থাকে না ।
স্টুডেন্টসদেরকে আমি হিমুর কথা জিজ্ঞেস করি।
হিমু পড়ে নাই, এমন কেউ নাই।
এরা সবাই হিমুতে মুগ্ধ।
হিমু সারাদিন খালি পায়ে হাটে। উল্টাপাল্টা কাজ করে। তার জীবন যেন উদ্দেশ্যহীন। তার জন্য আবার মেয়েরা পাগল হয়ে থাকে ।
আমার স্টুডেন্টরা হিমু হতে চায়।
হিমু তাদের বড়ই আকর্ষণ করে।
আমি তাদের বলি, হিমুর স্রষ্টা হুমায়ুন আহমেদ কিন্তু হিমুর মত ছিলেন না। হিমুর মত ম্যাট্রিকে তিনি টেনেটুনে পাস করেন নাই। ম্যাট্রিক ইন্টারে যথেষ্ট ভালো রেজাল্ট করেছেন। স্কলারশিপ পেয়ে দেশের বাইরে থেকে পিএইচডি নিয়ে এসেছেন।
দিনরাত পরিশ্রম করে বই লিখেছেন। অসাধারণ সব মুভি বানিয়েছেন।
অবশ্যই তিনি এক্সট্রা অর্ডিনারি ট্যালেন্টেড ছিলেন। কিন্তু সেই সাথে পরিশ্রমীও ছিলেন। তার ট্যালেন্ট পুরোটা কাজে লাগাতে পেরেছেন।
সাফল্য এমনি এমনি তার কাছে আসে নাই।
হ্যা, তোমরা হিমু হতে পারো। খালি পায়ে, হলুদ পাঞ্জাবি গায়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে পারো।
তবে সেটা একদিনের জন্য। বড়জোর এক সপ্তাহের জন্য।
তারপর তোমাকে আবার বাস্তবে ফিরে আসতে হবে। বাস্তবের নিয়ম মেনে পরিশ্রম করতে হবে, লেখাপড়া করতে হবে। অথবা তুমি অন্য যে দিকেই সাফল্য পেতে চাও সে দিকে শ্রম দিতে হবে আরাম আয়েশে জীবন কাটিয়ে কিছু অর্জন করা যায় না।
আর ভেবো না হিমুর মত রাস্তায় রাস্তায় ঘুরলে, খামখেয়ালি আচরণ করলে তুমি হিমুর মত অলৌকিক ক্ষমতা পেয়ে যাবে । অথবা মেয়েরা তোমার প্রতি রূপার মতন মুগ্ধ হয়ে থাকবে ।
বাস্তব আর ফ্যান্টাসির পার্থক্য করতে শেখো।
ফ্যান্টাসি সবারই থাকে। কিন্তু যারা বাস্তব থেকে ফ্যান্টাসি আলাদা করতে পারে তারাই বুদ্ধিমান। সফল তারাই হয়।
পৃথিবীতে যে সব কবি, লেখক, আর্টিস্টরা অসম্ভব সুন্দর কল্পনা করে গেছেন, তারা তাদের কল্পনাকে কবিতা, উপন্যাস অথবা পেইন্টিংয়ে ফুটিয়ে তুলতে যথেষ্ট পরিশ্রম করেছেন। চেষ্টা করেছেন, অধ্যবসায় করেছেন।
তুমি জানো না তোমার মধ্যে কতটুকু মেধা আছে । কিন্তু তুমি চেষ্টা করতে পারো। অধ্যবসায়ের মাধ্যমে মেধাকে শাণিত করতে পারো।
ফ্যান্টাসির জগতে পড়ে থেকে লাভ নেই। যদি পারো তো ফ্যান্টাসিকে বাস্তব রূপ দাও। হোক সেটা গান, কবিতা, গল্প, পেইন্টিং বা নতুন কোন আবিষ্কার। অথবা বাস্তব জীবনে কাজে, লেখাপড়ায় মন দাও।
মনে রেখো ভালো কিছু করতে গেলে, বড় কিছু অর্জন করতে গেলে পরিশ্রম তোমাকে করতেই হবে । এর কোন বিকল্প নেই।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now