বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ফ্যান ফিকশন কনসেপ্টটা কিছুটা নতুন । এই ধারার
সাহিত্যে কোন জনপ্রিয় চরিত্রকে নিয়ে মূল
লেখক ব্যতীত উৎসাহী পাঠকরা গল্প লিখে
ফেলেন । উদাহরন স্বরূপ বলা যায় -জেমস বন্ড
চরিত্র নিয়ে গল্প লিখেছেন ইয়ান ফ্লেমিং । তিনি
২৯ টা জেমস বন্ড উপন্যাস লিখেছেন । তার
মৃত্যুর পরে তার অনেক ভক্তই জেমস বন্ড কে
নিয়ে উপন্যাস লিখে চলেছে । এগুলোকে
ফ্যান ফিকশন বলা যেতে পারে ।পাশ্চাত্যে ফ্যান
ফিকশন কনসেপট্টা খুব ই জনপ্তিয় হয়েছে প্রায়
১০ বছর আগে থেকে । যে কে রাওলিং যখন
ঘোষনা দিলেন , তিনি আর হ্যারি পটারের গল্প
লখবেন না , তখন থেকেই অনেক পাঠক হ্যারি
পটারের গল্প লেখা শুরু করলেন । এখানে এমনি মিসির আলীকে নিয়ে লেখা কিছু গল্প দিচ্ছি ৷ অাজ থাকছে, মিসির আলি'র বইমেলা ৷
মিসির আলি'র বইমেলা
সাধারনত মিসির আলি সাহেবের বাসায় আমিই নিজে
থেকে যাই আড্ডা দিতে । তিনি নিজে থেকে
কখনো আমাকে ডাকেন না । তার নিজস্ব জগতে
আডডা দেওয়ার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ন
হল একা একা বসে বই পড়া । সেই আনন্দ তিনি মিস
করতে চান না খুব সহজে ।
আজ নিজ থেকেই তিনি ফোন দিলেন আমাকে ।
ঘটনা কি ?
-আকাশ ভাই, আপনার বিকাশ একাউন্ট আছে ?
-হ্যা আছে । কেন ?
-ভেবেছিলাম বিকালে বইমেলায় যাব বই কিনতে ।
ক্যাশ টাকা দিয়ে বই না কিনে যদি বিকাশ ব্যালান্স দিয়ে
বই কিনি তাহলে নাকি ১০% ক্যাশ ব্যাক দেয় । আপনার
বিকাশ একাউন্ট ইউজ করা যাবে ?টাকা যা লাভ হবে
সেটা না হয় ২ জন আধাআধি ভাগ করে নিলাম ।
আমি হেসে ফেললাম । মিসির আলি’র ভেতরে
একটা শিশু বাস করে ।সেই শিশু মাঝে মাঝে কিছু
অদ্ভূত কাজ করে থাকে । বিকাশ একাউন্ট দিয়ে
১০% টাকা হয়তো বাচবে, সেই টাকা দিয়ে মিসির
আলি হয়তো আরো কয়েকটা বই কিনে
ফেলতে পারবে ,তবে সেটা মূল কারন নয় । কিছু
টাকা বাচানোর (বা কিছু টাকা মেরে দেওয়ার মধ্যে)
মধ্যে যে শিশুতোষ আনন্দ লুকিয়ে আছে ,
মিসির আলি সেই আনন্দ মিস করতে চান না । আমি
ভালমতই বুঝতে পারি তাকে । বিকালে আসব বলে
ফোন রেখে দিলাম
----------------------------------
বুঝলেন , বইমেলায় ঘোরার কিছু নিয়ম আছে ।
এক নাম্বার নিয়ম , আপনাকে ঠিক করে নিতে হবে
আপনি বই কিনতে আসবেন নাকি আড্ডা দিতে
আসবেন । দুইটার সময় কিন্তু সম্পূর্ন আলাদা ।
বইমেলা শুরু হয় বিকাল ৩ টায় । শেষ হয় রাত ৮ টায় ,
অফিসিয়ালি । ছুটির দিন গুলোতে সকালেও খোলে
।আপনি যদি আড্ডা দিতেই আসতে চান ,তাহলে
আপনাকে ভিড় ওয়ালা দিন গুলোতে আসতে হবে
। আর যদি বই কিনতে আসতে চান , তখন ফাকা
দিনগুলোতে আসতে হবে ।
আমাকে যখন বন্ধু-বান্ধব বা পরিচিতদের সাথে সময়
দিতে যদি মেলায় আসতে হয় তাহলে যখন তখন
যে কোন দিন আসতেই হয় । আমি যে ব্যাপারটা
একেবারে অপছন্দ করি এমনও না । মেলায় যত
ধরনের লিফলেট পাই, সব ই দুহাত পেতে নিয়ে
জড়ো করি । অনেক ইনফর্মেশন পাই এই সব
লিফলেট থেকে ।
ছুটির দিন গুলো সাধারনত এভয়েড করার চেষ্টা করি
। শুক্র,শনিবার,পয়লা ফাল্গুন,১৪ই ফেব্রুয়ারি বা ২১
ফেব্রুয়ারি অনেক বেশি ভিড় হয় । এই
জেনারেশনের ছেলেরা কেউই বই কিনতে
আসে না । আসে মেয়ে দেখতে । এরা এসে
শুধু শুধু ভিড়টা বাড়ায় ।
আমি নিজের জন্য বই মেলায় আসি একবার কিংবা
দুইবার । অবশ্যই একুশে ফেব্রুয়ারির পরে ,মেলার
একেবারে শেষের দিকে । এর মাঝে খোজ
খবর নিতে থাকি মেলায় কোন কোন বই এল ।
লিস্ট বানাতে থাকি । সেই লিস্ট ধরে ধরে বই
কিনে নিয়ে চলে যাই ।
আমি বললাম দেখি আপনার এই বছরের বই এর লিস্ট
।
সত্যি সত্যিই মিসির আলি পকেট থেকে হাত বাড়িয়ে
লম্বা একটা লিস্ট বের করলেন । আমি হাতে নিয়ে
দেখলাম বিশাল লিস্ট
১. ভঙ্গুর পৃথিবী থেকে নক্ষত্রের পানে,
ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী, প্রথমা প্রকাশনী
২. বস্তুর গভীরে, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ,
জিরো টু ইনফিনিটি
৩. পরমাণুর গহীন নিসর্গে, ইমতিয়াজ আহমেদ,
ছায়াবীথি প্রকাশনী
৪. শূন্য থেকে মহাবিশ্ব, অভিজিৎ রায় ও মিজান
রহমান, শুদ্ধস্বর
৫. তারা জেগে রয়, জাহাঙ্গীর সুর, অন্বেষা
প্রকাশন
৬. মহাকাশের মাঝে, জাহাঙ্গীর সুর, অন্বেষা/
তাম্রলিপি
৭. বিবর্তনের পথে ইতিহাসের বাঁকে, আসিফ,
তাম্রলিপি প্রকাশন
৮. পৃথিবীর মহাজাগতিক ভাষা, আসিফ, তাম্রলিপি
প্রকাশন
৯. মৌল বন্ধন ও পর্যায় ধর্ম, (সলিড স্টেট সিরিজ-
৩), ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী, শুদ্ধস্বর
১০. অর্ধ-পরিবাহীর জগৎ, (সলিড স্টেট সিরিজ-
৪), ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী, শুদ্ধস্বর
১১. সংখ্যার সাতকাহন, অভীক রায়, অন্যরকম
১২ ম্যাথোস্কোপ- অভীক রায়, অনুপম
১৩. মস্তিষ্ক, ঘুম ও স্বপ্ন, আরাফাত রহমান, প্রকৃতি-
পরিচয়
১৪. বীজগণিতের সূত্রাবলী ও প্রয়োগ,
মোস্তাকিম আলী, বিজ্ঞান একাডেমী
১৫. রসায়নের সূত্রাবলী ও প্রয়োগ, নিশাত
ইয়াসমিন হক সূচি ও জাহাঙ্গীর সুর, বিজ্ঞান
একাডেমী
১৬. বাংলার তরু লতা গুল্ম, আব্দুল গাফফার রনি,
বিশ্বসাহিত্য ভবন
১৭. শুঁয়াপোকা থেকে প্রজাপতি, আবদুল গাফফার
রনি, বিশ্বসাহিত্য
১৮.জটিল গনিত কুটিল সমাধান, সৌমেন সাহা, অনুপম
১৯. নক্ষত্রের ঝড়,লেখক: দীপেন ভট্টাচার্য,
প্রকাশক: প্রথমা
২০. স্ট্রিং থিওরি,লেখক: হিমাংশু কর (বিজ্ঞান),প্রকা
শক: তাম্রলিপি
২১. পরমাণুর গহীন নিসর্গ, মূল: আইজ্যাক আসিমভ
(অনুবাদ: ইমতিয়াজ আহমেদ , ছায়াবীথি
২২. গল্পে গল্পে শূন্যের ইতিহাস, পারভেজ
রাকসান্দ কামাল ,শুদ্ধস্বর
২৩ লীলাবতী,সৌমেন সাহা, অনুপম
২৪ অর্ক ও সূর্যমামা , প্রদীপ দেব, মীরা
প্রকাশনী
২৫ কাল্পনিক ও জটিল সংখ্যার ভুবনে,সাইফুল ইসলাম
ফরহাদ,অনুপম
আমি বিস্মিত গলায় বললাম, করেছেন কি ? বাসায়
বসেই এই লিস্ট বানিয়ে ফেলেছেন ?
-হ্যা ,কেন ? নিউজপেপার বা ইন্টারনেট থেকে
সব ইনফর্মেশনই তো পাওয়া যায় । তবে ১০০%
নাও হতে পারে । লিস্টিতে আরো কিছু নাম
আসতে পারে ।
-আপনি একা এত্তগুলো বই কিনবেন ? সারাবছর
ধরেও কি পড়ে শেষ করতে পারবেন ?
-এত্তগুলো কই দেখলেন ? বিশাল এই বই
মেলায় বিজ্ঞান বিষয়ে বই বের হয়েছে মাত্র
এই কয়েকটা । অথচ ভূত নিয়ে বই দেখতে
পাবেন আপনি হাজার হাজার । এমন কোন স্টল
পাবেন না যেখানে গোটা দশেক ভূতের বই
নেই । বাংলাদেশের শিশুরা কি শিখবে ? তাদের
বিজ্ঞান শেখার স্কোপ কোথায় ? প্রকাশকেরা
বিজ্ঞানের বই পাবলিশ করতে ভয় পায় । তারা মনে
করে বিজ্ঞানের বইতে লোকসান করতে হবে
তাদের । অথচ অবৈজ্ঞানিক ভূত পেত্নীর বই গুল
দেদারসে বিক্রি হয় । এই বইমেলায় শুধুমাত্র
ধর্মীয় বই বিক্রি করার মত প্রকাশনা আছে ১০ টার
মত ।এই প্রকাশনী গুলো শুধুমাত্র ধর্মীয় বই ই
বের করে । অন্য কোন কিছু না । কিন্তু শুধুমাত্র
বিজ্ঞানের বই প্রকাশ করার মত কোন প্রতিষ্ঠান
নেই । সিস্টেক পাবলিকেশন্স নামে একটা
প্রকাশনী অবশ্য এসেছে গত কয়েক বছরে,
কিন্তু তাদের বই গুলোকে সরাসরি বিজ্ঞানের বই
বলা যাবে না । মেইনলি তারা কম্পিউটারের বিভিন্ন
সফটওয়ারের ইউজার ম্যানুয়াল বাংলায় বের করেছে
।সেই গুলাই বিক্রি করে । তবে এদের ব্যবসা ভাল
।কোলকাতায় বাংলাদেশ বইমেলায় এদের বই এর
চাহিদাই সবচেয়ে বেশি থাকে । কোলকাতার
লোকেরা এই সব বই এখনো বাংলায় বের
করতে পারেনি ।আমাদের বইমেলায় যদি রেগুলার
বেসিসে মাত্র এই কয়টা করে বিজ্ঞানের বই
বের হতে থাকে তাহলে বাংলাদেশের উন্নয়ন
হবে কিভাবে ? উন্নয়নের প্রথম শর্ত শিক্ষা ।
সেই শিক্ষা তো আমাদের বাচ্চারা পাচ্ছে না । না
স্কুলে , না লাইব্রেরিতে । আমরা তাদেরকে
সেই পরিবেশ দিচ্ছি না ।
মেলায় ঢুকে মিসির আলি প্রথমে তথ্যকেন্দ্র
থেকে প্রকাশনিগুলোর নাম মিলিয়ে মিলিয়ে
স্টলগুলোর নাম্বার লিখে নিলেন তার লিস্টে ।
তারপর ম্যাপ দেখে দেখে কোন দিক দিয়ে শুরু
করবেন সেটাও ঠিক করে ফেললেন । এই বিশাল
লিস্ট শেষ করতে যত সময় লাগবে , সুন্দর
প্লানের কারনে তার চেয়ে সময় লাগল অনেক
কম ।
এক ফাকে মিসির আলিকে জিজ্ঞেস করলাম ,
আপই প্রতিবছর এত বই কেনেন । আপনার বাড়িতে
তো বই এর বিশাল স্তুপ হয়ে যাওয়ার কথা । হয় না
কেন ?
-পরিচিত জন বন্ধুবান্ধব্রা বই নেয় । নিয়ে আর
ফেরত দেয় না । আর বই ধার নিয়ে ফেরত না
দেওয়াটাই হচ্ছে নিয়ম । আপনি মার্ক টোয়েনের
গল্পটা শোনেননি ? দাড়ান বলছি । এই পাশে চলুন ।
এখানে কত গুলো বেঞ্চ আছে দেখছি ।
সুন্দর বসার সিস্টেম করেছে দেখছি । চলুন বসা
যাক ।
বই মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের পূর্ব
প্রান্তে পাবলিক টয়লেট । সেই টয়লেটের
সামনে বেশ কিছুটা ফাকা জায়গায় বাশ দিয়ে অনেক
গুলো বেঞ্চ তৈরি করে রেখেছে
আয়োজকরা । বসার বেশ সুন্দর ব্যবস্থা ।আমরা
গিয়ে বসলাম সেখানে । মিসির আলি তার গল্প শুরু
করলেন ।
-শোনেন । মার্ক টোয়েনের বাড়িতে প্রচুর
বই ছিল । বই গুলো এলোমেলোভাবে পড়ে
থাকত সারা বাড়ি জুড়ে । কোন বুক শেলফ বা কিছুই
ছিল না তার বাড়িতে । মেঝের ওপরেই একের
পর এক বই গুলো সাজিয়ে রাখা হত । সাজাতে
সাজাতে কখনো কখনো সেই স্তম্ভ ঠেকত
গিয়ে ছাদে ।
মার্ক টোয়েনের এক বন্ধু তার দুরবস্থা দেখে
তাকে বল, বই গুলো এভাবে ফেলে রাখলে
তো নষ্ট হয়ে যাবে । কয়েকটা বুক শেলফ
আন না কেন ?
মার্ক টোয়েন উত্তর দিল , বুক শেলফ কিভাবে
আনব ? বই গুলো যেভাবে ধার নেওয়ার কথা
বলে বন্ধুদের কাছ থেকে একেবারেই নিয়ে
এসেছি ,বুক শেলফ তো আর সেভাবে আনা যায়
না .
(সমাপ্ত)
[পরবর্তী গল্প:- ভাষা দেয়া হবে আগামী কাল]
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now