বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

-এতো দেরি করলেন কেন ?

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X -এতো দেরি করলেন কেন ? আমি এখনও ঠিক মত বসতেও পারি নাই আর এই মেয়ে এমন কঠিন কন্ঠে প্রশ্নটা করলো যে আমি কিছুক্ষন কি বলবো ঠিক বুঝতেই পারলাম না ! মনে মনে ভাবলাম এখনও বিয়ে হয় নাই তাই গলার স্বর এতো কঠিন হয়ে গেছে । আর বিয়ে করলে কি অবস্থা হবে কে জানে ? অবশ্য বিয়ের পরে প্রত্যেকটা ছেলের অবস্থাই খারাপ হয় । কারো কম আর কারো বেশি ! আমার অবস্থা মনে হচ্ছে বেশ খারাপের দিকে যাবে যদি এই মেয়ের সাথে বিয়ে হয় ! তানজিনা আবার বলল -আপনার আসার কথা ঠিক চার টার সময় আর এখন বাজে পাঁচটা ! এক ঘন্টা লেট ? আমি তানজিনার প্রশ্নের জবার না দিয়ে ওর চেহারার দিকে কিছুটা হাসি হাসি মুখ নিয়ে তাকিয়ে রইলাম । এমন একটা ভাব যেন ও খুব একটা মজার প্রশ্ন করেছে । এদিকে তানজিনার চেহারা কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে । না জানি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায় ! আমার হঠাৎই কেন জানি মনে হল তানজিনা আগে থেকেই কোন কারনে রেগে ছিল । আমার দেরি করে আসাতে সে আরও বেশি রেগে গেছে । এতোক্ষন রাগ ঝাড়ার জন্য অন্য কোন মানুষ পায় নি । আমাকে পেয়ে এমন মনে হয় কিছুটা রাগ ঝাড়বে ! যাই কোন আমি বেশি পাত্তা দিলাম না । তানজিনার রাগ কে আরেকটু বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য ওকে বলল -আসলে তোমার স্বামীর জন্য তুমি ঠিক কতটুকু অপেক্ষা করতে পারো তাই পরীক্ষা করছিলাম । কিন্তু মনে হচ্ছে খুব বেশিক্ষন অপেক্ষা করতে প্রস্তুত নও ! এমন করলে তো হবে না ! আরও অপেক্ষা করতে শিখতে হবে । শুনো নাই সবুরে মেওয়া ফলে ! তানজিনা আমার কথা শুনে যেন আরও রেগে গেল । চোখ দিয়ে পারলে আমাকে ভস্ম করে করে দেয় ! আমি হাসি মুখে তাকিয়ে থাকি ! মেয়েটির নাম তানজিা আহমেদ । বাবার পরিচিত কারো মেয়ে মনে হয় । আমি ঠিক মত চিনিও না । বলা নেই কওয়া নেই বাবা গত পরশু দিন বললেন যে তিনি আমার বিয়ে দিটে চান ওমুক মেয়ের সাথে । আমি যেন তার সাথে দেখা করি । দুজনার পছন্দ হলে কথা বার্তা আগে বারানো হবে ! যাই হোক বাবার বাধ্য ছেলের মত মেয়ে দেখতে চলে এলাম আজকে । যদিও একটু লেট করে ! তবে দেরিটা আমি ইচ্ছে করেই করেছি ! কারন যতদুর খোজ খবর নিয়ে জেনেছি যে মেয়েটা বেশ যোগ্যতা সম্পন্ন । কোন দিন পরীক্ষায় সেকন্ড হয় নি নাকি । তার উপর এমবিএ করে কোন কোম্পানীতে চাকরী করছে । এই মেয়ের আমার বিয়ের করার কোন কারন নেই । তার উপর মেয়েটা দেখতে যথেষ্ঠ সুন্দরী বললে এই সৌন্দর্য্য কে খাটো করা হবে ! আমি প্রথম বার দেখে তো খানিকটা ধাক্কার মত খেয়েছিলাম ! বারবার মনে হয়েছিল এই মেয়ে এতো সুন্দরী কেন ! যাই হোক আমার মোটামুটি ধারনা যে এই মেয়ে আমাকে কোন ভাবেই বিয়ে করবে না ! আর যখন বিয়ে করবেই না তখন এই মেয়ের সাথে একটু মজা করাই যায় ! তানজিনা কঠিন গলায় বলল -আপনার ধরনা কেমন করে হল যে আপনার সাথে আমার বিয়ে হচ্ছে ? আমি অবাক হওয়ার ভান করে বললাম -ওমা হচ্ছে না ! -জি না ! বাবা-মার ইচ্ছে মত আমরা কেবল দেখা করতে এসেছি ! -আরে সমস্যা নেই । বাবা মার ইচ্ছে মত যখন আমরা দেখা করতে এসেছি তখন তাদের ইচ্ছে মত নিশ্চই বিয়েটাও হয়ে যাবে ! -আমার তা মনে হয় না ! -আরে তাই নাকি ? জানেন আমার মায়েরও তাই মনে হয় ! দেখেছো তো তোমার আর আমার মায়ের মতের কত মিল ! যদি তুমি আমার বউ হও তাহলে পুত্র বধু আর শ্বাশুড়ির ভিতর কোন দিন ঝগড়াই হবে না ! তানজিনা আমার দিকে এমন ভাবে তাকিয়ে রইলো যেন আমি সদ্য পাবনা থেকে পালিয়ে এসেছি ! আমি ওর দিকে তাকিয়ে হাসি মুখে তাকিয়ে রইালাম ! আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলাম ঠিক তখনই ওর ফোন বেজে উঠলো ! ফোনে কিছুক্ষন কি যেন কথা বলল । তারপর ফোন রেখে বলল -আমাকে এখন যেতে হবে ! -এখনই ! সবে তো এলাম ! -আপনি সবে এসেছেন কিন্তু আমি অনেকক্ষন এসেছি ! আমার কাজ আছে ! আসি ভাল থাকবেন ! -আরে চলে যাচ্ছো ? -হুম ! -একটা সমস্যা হয়ে গেছে ? -কি সমস্যা ? -আমি মানি ব্যাগ আনতে ভুলে গেছি ! আর প্রচুর খিদেও পেয়েছে । তুমি দয়া করে খাবারের অর্ডার টা দিয়ে বিলটা দিয়ে যাও ! বিয়ের পরে তো আর বিল দিবে আগে একবার দিয়ে নাও ! তানজিনা আমার এই কথা শুনে এতো অবাক হল যে খানিকট ক্ষন রাগ করতে ভুলে গেল ! আমি ভেবেছিলাম ও প্রথমিক ধাক্কা টা সামলে নিয়ে ব্যাগ নিয়ে উঠে চলে যাবে ! কিন্তু আমাকে খানিক টা অবাক করে দিয়ে ওয়েটার কে ডাকলো হাতের ইশারায় ! তারপর খাবারের অর্ডার দিল । সাথে সাথে বিলের কাগজ টাও আনতে বলল ! -ঠিক আছে ? -হুম ! একদম ঠিক আছে ? -এখন আমি যাই ? -একা একা খাবো ? -আপাতত একা একাইখান ! ঠিক আছে ! খাবার আসার আগেই তানজিনা উঠে চলে গেল ! আমি চুপচাপ বসে রইলাম ! বুঝতেই পারছি বাসায় গেলে বাপের কাছে ঝাড়ি শুনতে হবে ! মেয়ে নিশ্চই বাসায় নিয়ে আমার নামে খুব ভাল কিছু একটা বলবে না ! আর সেই খবর আমার বাসায় পৌছাতে খুব বেশি দেরি হবে না ! যাক গে ! খাবার চলে এসেছে । এতো চিন্তা করার কোন দরকার নেই । আগে পেট কে শান্ত করে নেই ! ------- -আপনি ? আজকে দিনের ভিতর তানজিনা কে এই নিয়ে ২য়বার অবাক হতে দেখলাম । ঘন্টা চারেক আগে একবার রেস্টুরেন্টের ঝকঝকে আলোতে আমার দিকে অবাক হয়েছিল । আর এখন ল্যাম পোস্টের আলোতে অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে । -হুম ! -বাসায় যান নি ? -তোমাকে বলেছিলাম না যে মানি ব্যাগ আনি নি । বাসায় কিভাবে যাবো তাই ভাবছিলাম ! ভাবলাম আসেপাশে তোমার অফিস আছে । কিছুক্ষন অপেক্ষা করে তোমার সাথে যাই ! তানজিনা আমার দিকে তাকিয়ে রইলো কিছুটা সময় ! কি বলবে মনে হচ্ছে ভেবে পাচ্ছে না ! আমি ডান পকেট থেকে একটা দুমড়ানো গোলাপ ফুল বের করে ওর দিকে বাড়িয়ে দিলাম ! বললাম -ঐ সময় তোমাকে দেওয়ার জন্য এনেছিলাম ! দিতে ভুলে গেছিলাম ! তারপর বাঁ পকেট থেকে ছোট্ট একটা চকলেটের প্যাকেটও বের করলাম ! -এটাও এনেছিলাম ! -তখন ? -হুম ! -সত্যি ? -আসলে সত্যি না ! আমি এগুলো কিনেছি তুমি চলে যাওয়ার পরে ! জানি আমার প্রতি প্রথম ইম্পেশন টা তোমার ভাল হয় নি ! আমাকে কি আরেক টা সুযোগ দেওয়া যায় ? তানজিনা কিছু সময় চুপ করে থেকে বলল -এতোক্ষন আপনি কোথায় ছিলেন ? -এই তো আশে পাশেই ! -আশেপাশে ? -মানে ঐ সামনের ফাস্ট ফুডের দোকান টা তে ! আমি তানজিনার অফিসের ঠিক সামনের দোকান টা হাত দিয়ে দেখালাম ! -এই চার ঘন্টা বসেছিলেন ? -হুম ! ভাবছিলাম আবার যখন দেখা হবে তখন কি কি বলব ! এই ভাবতে ভাবতেই সময় কেটে গেল ! -তো কি ভাবলেন ? -অনেক কয়টা প্লট ভেবে রেখেছিলাম ! কিন্তু একটাও কাজে আসছে না ! আমার দিকে কিছুটা সময় তানজিনা তাকিয়ে থেকে হাত বাড়িয়ে গোলাপ ফুল টা নিল ! তারপর চটকেল টা ! -আপনার কাছে তো টাকা ছিল না ! এগুলো কিনলেন কিভাবে ? আমি কোন উত্তর না দিয়ে হাসলাম ! তানজিনা ততক্ষনে ফুটপাত দিয়ে হাটতে শুরু করেছে । আমিও ওর পাশে পাশে হাটতে শুরু করলাম ! এক হাতে আমার গোলাপ ফুল টা অন্য হাতে চকলেটের প্যাকেট টা নিয়ে ও কি যেন ভাবছে । আমি ওর কথা বলার জন্য অপেক্ষা করতে থাকি ! মেয়েটি কি আরেকবার সুযোগ দিবে .... . অপু তানভীর..


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২৫০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ -এতো দেরি করলেন কেন ?

গল্পটির রেটিং দিনঃ-
☆ ☆ ☆ ☆ ☆

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now