বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
:বাবুনি কী করো?(আমি)
:ঘোড়ার ঘাস কাটি।(নিধী)
:ডিনার করেছো।
:না।তুমি করেছো।
:না।
:এখনো করোনি কেনো।তোমাকে বলেছিনা বেশি
রাত করে খাবেনা।
:তুমিওতো এখনো খাওনি।
:আমি বেশি বেশি খেলে মোটা হয়ে যাবো তখন
তুমি আমাকে কোলে নিতে পারবে না তাই কম কম
খাই।হি হি হি হি
নিধী হাঁসছে আর আমি মুগ্ধ হয়ে শুনছি।
ও আপনাদেরতো বলাই হয়নি নিধী কে।নিধীকে
আমি ভালবাসি।নিধীও আমাকে ভালবাসে তবে
আমার থেকে বেশি।আমার মত একটা আনস্মাট
ছেলেকে কেনো ও এত ভালবাসে সেটা আমার
মাথায় আসেনা।নিধী বড়লোক বাবার একমাএ মেয়ে
আর আমি মধ্যবিও পরিবারের বড় ছেলে।আমার আর
নিধীর মধ্যে আঁকাশ পাতাল ব্যবধান।ভালবাসা
কাকে বলে নিধী আমাকে বুঝিয়ে।বড়লোক বাপের
মেয়ে হলেও ওর মধ্যে কোন অহংকার নেই।মাঝে খুব
ভয় হয় নিধীর বাবা আমাদের সম্পর্ক মেনে
নিবেতো।
:কিছু বলছো না যে।
নিধীর ডাকে বাস্তবে ফিরলাম
:বলছিতো।
:আমাকে নিয়ে চিন্তা করছো তাইনা।ভাবছো বাবা
আমাদের সম্পর্ক মেনে নিবে কীনা তাইনা।
:তুমি বুঝলে কেমন করে।
:আমার মনটাইতো তোমার কাছে।তাছাড়া যাকে
ভালবাসি তাঁর অনূভুতিগুলো যদি বুঝতেই না পারি
তবে কিসের ভালবাসা।
:হুম
:কালকে আমার সাথে দেখা করতে পারবে।
:কখন
:সকাল আটটায় আমার কোচিং এর সামনে এসো।
:আচ্ছা।
:এখন খাওয়া দাওয়া ঘুমাতে যাও।
:তুমিও।
:বাই
:বাই
ফোনটা রেখে মানিব্যাগের দিকে তাঁকালাম।
মানিব্যাগে মাএ ৫০ টাকা আছে।একন মাসের শেষ
সপ্তাহ।বাড়িতেও টাকা চাওয়া যাবেনা।বললামতো
দেখা করবো কিন্তু দেখা করতে গেলেতো টাকার
দরকার।সব ব্যাচলরদের একটাই সমস্যা মাসের প্রথমে
রাজা আর মাসের শেষে প্রজা।নাইমকে ফোন দিয়ে
দেখি কিছু টাকা পাওয়া যাই কীনা।(আমার ফ্রেন্ড)
নাইমকে ফোন দিলাম
:দোস কী করিস(আমি)
:পুকুরে সাঁতার কাটি।শালা রাত বারোটার সময়
ফোন দিয়ে বলিস কী করি।
:আমার লক্ষি দোস এভাবে কথা বলিস কেনো।তুইতো
আমার জানের দোস।তুই আমার সেরা দোস।
:থাক আর পাম দিতে হবেনা।এখন কী জন্য ফোন
করেছিস সেটা বল।
:কিছু টাকা লাগবে।
:ওই শালা তুইকী আমাকে টাকার গাছ পেয়েছিস যে
চাইলেই টাকা পাবি।
:দোস দে না।পরের মাসে টাকা পেলেই দিয়ে
দিবো।
:কত টাকা লাগবে।
:৫০০
:তোর বিকাশ নাম্বারে পাঠিয়ে দিচ্ছি।
:এই না হলে আমার দোস।
:থাক আর বলতে হবেনা ঘুমাতে দে।
যাক টাকার ব্যবস্থা হলো।এখন খেয়েদেয়ে ঘুম দিই।
২
অনেকক্ষন যাবৎ নিধীর কোচিংএর সামনে দাঁড়িয়ে
আছি কিন্তু ওর আসার কোন নাম গন্ধই নাই।আমি
শিওর মুখে দশ বস্তা আটা মেখে তাঁরপর আসবে।সব
মেয়েদের একটাই প্রবলেম মুখে আটা মাখা।আরো
কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে থাকার পর দেখলাম মহারাণী
রিক্সায় চড়ে আসছেন।নিধী আজ শাড়ী পড়ে
এসেছে।মেয়েটা জানে ওকে দেখলেই আমি ক্রাশ
খাই তাঁরপরেও কেনো যে এত সাঁজে আল্লাহই
জানে।রিক্সাটা আমার সামনে দাঁড় করিয়ে ওঠতে
বললো।আমি রিক্সায় ওঠে বসার সাথেই আমার
কাঁধে মাথা রাখলো নিধী।নিধীর সাথে রিক্সায়
চড়লে ও আমার কাঁধে মাথা রাখবেই।রিক্সাটা
একটা পার্কের সামনে এসে থামলো।রিক্সা থেকে
নেমে মানিব্যাগ বের করে যেই রিক্সাওয়ালাকে
ভাড়া দিতে যাবো তখনি নিধী আমার হাত থেকে
মানিব্যাগটা নিয়ে নিলো।আর টাকাটা ও নিজের
কাছ থেকেই দিলো।নিধীর এটা অভ্যাস। ওর সাথে
ঘুরতে আসলে আমাকে কোন খরচ করতে দেয়না।
আমি আর নিধী গিয়ে একটা বেন্চে বসলাম।
:আচ্ছা নিধী আজ কত তাঁরিখ।(আমি)
:১২ তারিখ। কেনো।(নিধী)
:আজকের দিনটার কথা তোমার মনে নেই।
নিধী অনেকক্ষণ ভেবে বললো আজকের দিনে
আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিলো তাইনা।
:হুম।তোমার হাতটা দেখি।
নিধী ওর হাতটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো।আমি
পকেট থেকে রিংটা বের করে নিধীর হাতে পড়িয়ে
দিলাম। নিধী আমার দিকে রাগি লুক নিয়ে
তাঁকিয়ে বললো
:রিং বানাতে কে বলেছে।আর এতগুলো টাকা
কোথা থেকে পেলে।
আমি ব্যাপারটা ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য বললাম বাঁদাম
খাবে।
:আমার কথাটা ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে না।
টাকা গুলো কোথা পেলে বলো।(নিধী)
আমি নিধীর কাছে কখনো কিছু লুকায় না তাই
সবকিছু বললাম
:আজ ১ মাস ধরে জমিয়েছি আর ৫০০ টাকা নাইমের
কাছ থেকে নিয়েছি।
আমার কথাশুনার পর দেখলাম নিধীর চোখ দিয়ে
পানি পড়ছে।ও আমাকে জরিয়ে ধরে বলতে লাগলো
:আমাকে এত ভালবাসো তুমি(নিধী)
:তোমার থেকে কম(আমি)
:কে বলেছে তুমি আমার থেকে কম ভালবাসো।তুমি
বেশি ভালবাসো।
আমি আর কিছু না বলে নিধীকে শক্ত করে জরিয়ে
ধরলাম।
৩
সারদিন অনেক জায়গায় নিধীকে নিয়ে ঘুরলাম।এখন
দুজন রিক্সায় চড়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছি। নিধী
আমার কাঁধে মাথা রেখে বসে আছে।ওর চুলগুলো
উড়ে এসে আমার মুখে পড়ছে আর আমি বারবার
সেটা সরিয়ে ওর কানে গুজে দিচ্ছি।রিক্সাটা
নিধীর বাসার সামনে এসে থামলো।নিধী আমার
মানিব্যাগ আমার হাতে দিয়ে রিক্সা থেকে নেমে
গেটের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।আমি যতসময় এখান
থেকে ওর দৃষ্টির বাইরে না যাবো ততক্ষণ আমার
দিকে এভাবে তাঁকিয়ে থাকবে।আমি রিক্সা
ওয়ালাকে বললাম যেতে।কিছুদুর যাওয়ার পরে পিছন
ফিরে তাঁকালাম দেখলাম নিধী এখনো আমার দিকে
তাঁকিয়ে আছে।আমি আমার মেসের সামনে এসে
রিক্সা থেকে নামলাম।মানিব্যাগটা বের করে
রিক্সা ওয়ালাকে টাকা দিতে গিয়ে দেখলাম
মানিব্যাগের ভিতর ৪ টা ৫০০ টাকার নোট।আমি
জানি টাকাগুলো নিধী রেখেছে।কারণ প্রতিবারই
দেখা করতে গেলে ও এমন করে।মেয়েটা আমাকে
যে কতটা ভালবাসে তা আমি কোনদিনও পরিমাপ
করতে পারবো না।অনেক ভালবাসি তোমাকে নিধী।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now