বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
উইলিয়াম ম্যাকেন্জী তার টেবিলে আঙুল দিয়ে ঠোকা দিতে দিতে বলল,
“ব্লগের লেখাটা পড়েছ?”
লিডিয়া মাথা নাড়ল, বলল, “পড়েছি । এনিম্যানকে নিয়ে যত লেখাবের হয় তার সব কিছু সিস্টেম পাঠানো হয় । আমাদের সুপার কম্পিউটারক্র্যাগনন সেটা বিশ্বেষণ করে রিপোর্ট পাঠায় |”
“আমি জানি ।”
উইলিয়াম ম্যাকেন্জী বলল, “যখন গুরুত্যপূর্ণ কিছু হয়সেটা আমাকেও জানানো হয় । এটা আমাকে জানানো হয়েছে, আমি ব্লগটাপড়েছি । ব্লগটা লিখেছে পনেরো বছরের একটা মেয়ে । নাম তিষাআহমেদ!"
লিডিয়া মাথা নাড়ল, “মেয়েটার সব খোজ খবর নেয়া হয়েছে ।”
“এখন কী করবে?”
“সবচেয়ে সহজ সমাধান হচ্ছে মেয়েটাকে মেরে ফেলা। কিস্তু-”
“কিন্তু কী?”
“এই মেয়েটা সাধারণ একটা মেয়ে না । তার এলাকায় সে ছোটখাটোসেলিব্রেটি । সাসকুয়ানহুদের উপরে বরফের আস্তরণ ভেঙ্গে নিচে পড়ে গিয়েঅক্সিজেন ছাড়া সাতাইশ মিনিট ছিল | মেয়েটা বেচে গেছে, ব্রেনের কোনোক্ষতি হয়নি । লোকাল নিউজে তাকে অনেকবার দেখিয়েছে । ন্যাশনালনিউজেও এসেছে । স্কুলে সে অসম্ভব পপুলার |”
লিডিয়া বলল, “এখন তাকে হুট করে মেরে ফেলা যাবে না। খুবসাবধানে মারতে হবে যেন কেউ কোনো রকম সন্দেহ করতে না পারে |”
উইলিয়াম ম্যাকেন্জী কোনো কথা না বলে লিডিয়ার দিকে স্থির দৃষ্টিতেতাকিয়ে রইল, হঠাৎ করে লিডিয়া এক ধরনের আতঙ্ক অনুভব করে । সে শুকনো গলায় বলল, “এরকম কিছু হতে পারে আমরা কখনো ভাবিনি।”
উইলিয়াম ম্যাকেন্জি এবারেও কোনো কথা বলল না, লিডিয়া বলল,
“আমরা ব্যাপারটা সামলে নেব । এই মেয়েটা যে কথা লিখেছে তারবিপরীতে অসংখ্য ব্লগ লেখা হচ্ছে । আমরা মোটামুটিভাবে সবাইকে বুঝিয়েদেব লেখাটি সত্যি নয় ।”
উইলিয়াম ম্যাকেন্জী এবারেও কোনো কথা বলল না। যতক্ষণ পর্যস্তসে কোনো কথা বলছে না ততক্ষণ লিডিয়া স্বস্তি পাচ্ছে না । সে এক ধরনেরঅনুনয়ের স্বরে বলল, “আমার উপর বিশ্বাস রাখো বিল । আমি ব্যাপারটাসামলে নেব ।”
লিডিয়া, এই মেয়েটি যে কথা লিখেছে যদি পৃথিবীর মানুষ সেটা বিশ্বাসকরতে শুরু করে তাহলে আমাদের এই পুরো প্রজেক্ট চোখের সামনে ধবংসহয়ে যাবে?কতো বিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট তুমি সেটা জান?”
“যে কোনো অবস্থায় আমি সবার আগে দুটো বিষয় দেখি | সবচেয়েভালো কী হতে পারে আর সবচেয়ে খারাপ কী হতে পারে । এই টিনএজমেয়েটির ব্লগ পড়ে আমি দুটো বিষয়ই ভেবে দেখেছি । সবচেয়ে ভালো হচ্ছেমেয়েটিকে কোনো ঝামেলা ছাড়া মেরে ফেলা । আর সবচেয়ে খারাপ কীজান?”
লিডিয়া নিচু গলায় বলল, “জানি ।”
“না, জান না। তুমিও জান না আমিও জানি না। আমাদের সেইক্ষমতা নেই । কারণ আমরা হচ্ছি সাইকোপ্যাথ । সাধারণ মানুষের মাঝে যে
পুরোপুরি অর্থহীন একটা ব্যাপার আছে যেটাকে তারা মায়া-মমতা বলে, গ্নেহবলে, ভালোবাসা বলে আমাদের মাঝে সেটা নেই । তাই এই বিষয়গুলোকীভাবে কাজ করে, আমরা সেটা বুঝতে পারি না। আমরা সেটা অনুমান করা চেষ্ট করি, কিন্তু আমাদের অনুমান ভুল হতে পারে।
লিডিয়া আস্তে আস্তে বলল, “আমাদের সুপার কম্পিউটার ক্র্যাগননেসব তথ্য দিয়ে আমরা নিখুঁতভাবে মানুষের মন বিশ্বেষণ করতে পারি।"
“করে কী দেখেছ?”
লিডিয় মাথা নিচু করে বলল, “খুব ভালো ফল দেখিনি । পৃথিবীরমানুষ বেশির ভাগই নির্বোধ । যুক্তি থেকে তারা আবেগের উপর নির্ভর করেবেশী । তাই যত সুন্দর যুক্তিই দেখানো হোক মানুষ এই নির্বোধ মেয়েটির-"
তুমি কেমন করে জান মেয়েটি নির্বোধ?”
লিডিয়া বলল, “নির্বোধ না হলে শুধুমাত্র একটা ঘটনা দেখে কেউএরকম একটা সিদ্ধান্তে পৌছায় না ।”
উইলিয়াম ম্যাকেন্জি বলল, “কিন্তু তার সিদ্ধান্তটিতে সত্যতা আছে।এনিম্যানের হাসিটি সত্যিকারের হাসি নয় ।”
“ঘটনাক্রমে সঠিক । যাই হোক এখন সেটা আমাদের দেখাতে হবে ।আমি যেটা বলছিলাম--সাধারণ মানুষ এই মেয়েটির কথা কোনো যুক্তিছাড়াই বিশ্বাস করতে চাইবে । সামাজিক নেটওয়ার্ক দিয়ে সেটা যদি ছড়িয়ে পড়ে তাহলে সেটা আমাদের জন্যে বড় বিপদ হয়ে যাবে। কাজেই আমরাখুব মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য করছি কতো মানুষ এই মেয়েটার ব্লগ পড়ছে । যদিদেখি সংখ্যাটা হঠাৎ করে বেড়ে যাচ্ছে আমরা কিছু একটা করব।”
“ওকে মেরে ফেলতে হবে । আগে হোক পরে হোক, ওকে মরতেহবে।"
উইলিয়াম ম্যাকেন্জী এক ধরনের মুগ্ধ বিস্ময় নিয়ে লিডিয়ার দিকেতাকিয়ে রইল । এতো সহজে একজন মানুষকে মেরে ফেলার কথা কী আরকেউ বলতে পারবে?
লিডিয়া বলল, “আমাদের একটা বড় সুবিধা আছে।”
“কী?”
“এনিম্যান নিজে কোনো তথ্য দিতে পারবে না। তার কোনো ভাষানেই । হাসি ছাড়া আর কোনো শব্দ করতে পারে না । কেউ তাকে কখনোকোনো প্রশ্ন করে উত্তর বের করতে পারবে না।”
উইলিয়াম ম্যাকেন্জী মাথা নাড়ল, সেটা সত্যি । যখন পোষা প্রাণীহিসেবে কেউ এনিম্যানকে নিয়ে যায় তখন তার বয়স কতো থাকে?”
“জৈবিক বয়স খুবই কম, মাত্র এক বছর । কিন্তু মানসিক বয়স বেশি।ছয় থেকে সাত।"
“এতো বেশী কেন?”
“এনিম্যান নিজে যদি তার দৈনন্দিন কাজ করতে না পারে তাহলেসাধারণ মানুষ এটাকে পুষতে চাইবে না। সেজন্যে তার মানসিক বয়স একটুবাড়িয়ে দিতে হয়েছে ।”
“যদি এটা মানুষ হতো তাহলে তার সাথে এই বয়সে কথা বলাযেতো?”
লিডিয়া মাথা নাড়ল, “হ্যা তাহলে কথা বলা যেতো । কারণ এনিম্যানআসলে মানুষ । আমরা কেউই জানতে দেই না কিন্তু আসলে এটি মানব
শিশু।”
“তাহলে তাকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করতো, তোমার মনে কি দুঃখআছে? সে কী উত্তর দিতো?”
“ছয় সাত বছরের বাচ্চার মতো কিছু একটা উত্তর দিতো । কিন্তু এখনদেবে না। কারণ এখন তার কোনো ভাষা নেই । কিছু জিজ্ঞেস করলে খিলখিল করে হাসবে | একেবারে খাটি অকৃত্রিম হাসি।”
উইলিয়াম ম্যাকেন্জি কিছুক্ষণ লিডিয়ার দিকে তাকিয়ে রইল তারপরবলল, “ঠিক আছে, আমি তোমাকে এক মাস সময় দিচ্ছি । এক মাস পরেতুমি এখানে এসে আমাকে বলবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের মাঝে চলে এসেছে।”
“বলব।”
“যদি সবকিছু নিয়ন্ত্রণের মাঝে চলে না আসে তাহলে তোমার আসারপ্রয়োজন নেই । তুমি নিশ্চয়ই জান তখন আমাকে কী করতে হবে।”
লিডিয়া ভেতরে ভেতরে শিউরে উঠল কিন্তু বাইরে প্রকাশ করল না।মাথা নেড়ে বলল, “আমি জানি ।”
“যাও |”
সাহায্য পাব তো?”
“পাবে । যতজন মার্ডারার দরকার পাবে । পুলিশ বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আমি কিনে রেখেছি । যেটা আমার নিয়ন্ত্রণে নাই সেটা হচ্ছেঅপদার্থ পাবলিক আর তাদের মাতলামো করার জায়গা-
যেটাকে তোমরাবল সাইবার ওয়ার্ল্ড । ইন্টারনেট । সারা পৃথিবীর ইন্টারনেট আমি বন্ধ করে দিতে পারব না।"
“ঠিক আছে । শুভ রাত্রি ।”
“শুভ রাত্রি |”
লিডিয়া ঘর থেকে বের হওয়ার সময় ভাবল, কী অর্থহীন একটাকথা--শুভ রাত্রি । একজনের শুভ রাত্রির জন্যে কাউকে না কাউকে কোথাওনা কোথাও অশুভ রাত্রি পেতে হয়! ভয়ঙ্কর নিরানন্দ রাত্রি পেতে হয়।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now