বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাত দুটো বাজে। আজ
বিয়ের কাজ ছিলো
অজয়ের। সে একজন
গাড়িচালক। আজ-ই তার
শেষ কাজ ছিলো তার।
কারণ এখন বেশ কয়েক
দিন তার কাজ নেই।
অবশ্য অজয়ের কাজের
অভাব নেই। ছ-চাকা,
আট-চাকা এইসব গাড়ি
তার কাছে কোনো
ব্যাপার না। আর এখন
কাজ সব জায়গাই
ছড়িয়ে আছে..খালি চোখ
দিয়ে খুঁজে নিতে হবে।
চারিদিক স্তব্ধ,
ওইদূরে কুকুর কাঁদার
আওয়াজ শোনা যায়।
আকাশের চাঁদ তখন
সবচেয়ে উজ্জ্বল।
পাশেই বাঁশবাগান আর
একটু এগিয়ে গেলে শাল
গাছ। ওখান থেকে
কিছুটা দূরে অজয়ের
বাড়ি। বাঁশ বাগানের
সামনে কয়েক-টা বাড়ি
আছে। তারমধ্য ঘোষ
বাবুর বাড়িতা
একেবারে আলাদা।
ঘোষ বাবু একেবারে
অত্যাচারী লোক
ছিলেন। সে ভালো
ব্যাবহার দ্বারা সুদে
টাকা ধার দিতো।
তারপর চামারের
সমতুল্য ব্যাবহার
দ্বারা সুদে-আসলে
টাকা শোধ করে নিতো।
ঘোষ বাবু গত পরশু মারা
গিয়েছে। আজ ওনার
বাড়ির সামনে দিয়ে
যেতে ভয় লাগছে। তাই
অজয় ঠিক করলো। নিতাই
মণ্ডল অরফে নিতাই-এর
বাড়ির সামনে দিয়ে
যাবে। রাস্তার পাশেই
নিতাই মণ্ডলের বাড়ির
পাঁচিল। নিতাই এই
কয়েকদিন হলো বিয়ে
করেছে। এইরকম-ই
সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে
যেই নিতাই এর বাড়ির
সামনে গেলো তখন এক
অজানা ভয়ের স্রোত
অজয় এর গায়ের মধ্যে
দিয়ে চলে গেলো।
নিতাই দের বাড়ির
টাইম কল-টা একেবারে
পাঁচিলের দিকে।
সাধারণত বাড়ির কেউ
জল নিতে আসলে
পাঁচিলের সামনে আসতে
হয়। আর পাঁচিল-টা
রাস্তার দিকে। অজয়
রাস্তা বরাবর হেঁটে
যাচ্ছে। এমন সময় অজয়
বুঝতে পারে কেউ যেন
তার উপর নজর রাখছে।
তো অজয় যখন নিতাই এর
বাড়ির সামনে সামনের
দিকে এলো তখন অজয়
তার চোখের কোণ থেকে
দেখতে পায় কে যেন
পাঁচিলে হাত রেখে
অজয়ের দিকে তাকিয়ে
আছে।
অজয় যেই ওইদিকে
তাকালো ওমনি অজয়ের
সারা শরীর এর মধ্যে
দিয়ে শীতল স্রোত বয়ে
গেলো। অজয় দেখলো যে
একটা রোগা, লিকলিকে
শরীর ও মাংস হীন মুখ
মণ্ডলী তার দিকে
তাকিয়ে আছে। যার চোখ
ছিলো হলুদ। এটা ঠিক
চোখ বললে ভুল হবে।
দুটো ছোটো গর্তের
মধ্যে হলুদ টুনি লাইট
লিখে দিলে যেমন হবে
ঠিক সেইরকম। অজয় ওই
দেখে এক চিৎকারে
বাড়ি দৌঁড় দেয়।
ওইদিনের থেকেই
অজয়ের সাথে নানান
ধরণের ভৌতিক
কার্যকালাপ হতে
থাকলো। অজয় কখনো
কখনো শুনতে পেতো কে
যেন গভীর রাতে তার
ঘরের দরজার সামনের
বারান্দা-টা দিয়ে
হেঁটে বেড়াচ্ছে। কিন্তু
অজয় দরজা খুলে কাউকে
দেখতে পেতোনা। শুধু কি
তাই ঘরের টালির
মধ্যে কে যেন ইট,পাথর
ছুঁড়ে মারতো। কিন্তু
আশ্চর্যজনক ভাবে
অজয়ের বাড়ির
বাকীদের কেউই এইরকম
ভৌতিক অভিজ্ঞতার
সম্মুখীন হয়নি।
ধীরেধীরে অজয়
মানসিক দিক থেকে
ভেঙে পড়ে। তার মধ্যে
ভয়ের জোয়ার বয়ে যায়।
সে যেন এক মরুভূমির
ক্লান্ত পথিক। যাকে
কিনা বালুঝড় তাড়া
করে বেড়াচ্ছে।
এমনি একদিন অজয়
দুপুরে ঘরের বারান্দায়
বসে ছিলো। অন্যদিনের
চেয়ে আজ তার মন-টা
একটু খারাপ তারপর....
অজয় দা....
ও অজয় দা....
বাড়ি আছো?
অজয় দা - কে?
আরে আমি লাল্টু গো।
অজয় - ও লাল্টু বল।
লাল্টু - যেটা বলতে
আসলাম আর কি..তোমার
তো আর দেখাসাক্ষাৎ
নেই। যাইহোক শুনেছো-
তো রতনের বাবা কাল
রাতে মারা গেছে। বডি
আজকে বিকেলে ছাড়বে।
আমি বিনোদের বাবার
সাথে কথা বলেছি। ওর
বাবাতো লরি চালায়।
আর সেমন কাউকেই তো
পেলাম না হাতের
কাছে। আর রতনের তো
আত্মীয় স্বজন তো অনেক।
ছোটোখাটো গাড়িতে
ওদের সকলের আঁটবে
এইনিয়ে জ্বালার আর
শেষ নেই।
অজয় - তুই সেই আবার
ভাট বকা শুরু করলি।
আরে বাবা আসল কথা-টা
বল না খুলে।
লাল্টু - বিনোদের বাবা
গাড়ি নিয়ে সন্ধ্যা
সাত-টায় আসবে। কারণ
ওর আগে একটা ভাড়া
আছে ওর বাবার। কিন্তু
এদিকে হসপিটাল থেকে
লাশ তাড়াতাড়ি ছেড়ে
দেবে। তাই তুমি যদি
ক্লাবের এম্বুলেন্স - টা
নিয়ে গিয়ে লাশ-টা
রতনের বাড়িতে দিয়ে
যাও তাহলে খুব ভালো
হয়। চিন্তা করোনা।
৩৫০ টাকা ভাড়ার কথা
বলেছি।
অজয় মনেমনে ভাবলো -
এমনি তেই তো বাড়িতে
বসে আছি কাজবাজ নেই।
যাই এইকাজ-টা করে
দিই।
অজয় - আচ্ছা বেশ। আমি
সন্ধ্যা সাত-টার মধ্যে
রতনের বাড়ি চলে
যাবোক্ষণ।
লাল্টু - আচ্ছা আমি
চললাম। ওই কথাই রইলো
তাহলে।
কাজের খবর পেয়ে
অজয়ের মন-টা একটু
চনমনে হয়ে উঠলো।
এতদিন বাড়ি বসা
ছেলেটা কাজ পেলো
শেষমেশ। বিকেল
পাঁচটার মধ্যে অজয়
একেবারে তৈরী হয়ে
ক্লাব থেকে এম্বুলেন্স
নিয়ে ৫.৪০ এর মধ্যে
হসপিটালে চলে গেলো।
কিন্তু ওই হসপিটালে
গিয়ে অজয় একটু
সমস্যার সম্মুখীন হয়।
অজয় ভেবেছিলো
যাওয়ামাত্র বডি পেয়ে
যাবে। কিন্তু না। সমস্ত
নিয়মকানুন সারতে
সারতে রাত প্রায় ৯.০০
টা বেজে গেলো। রতনের
বড়দা ডোমেদের দিয়ে
লাশ এম্বুলেন্স তুলে
দিলো রতনের বড়দা -
অজয় তাহলে তুই
বেড়িয়ে যা। আমি
টাকাপয়সা দিয়ে, আরও
যা ফাইফরমাশ আছে
সেগুলো মিটিয়ে
একেবারে ঘাটে চলে
যাচ্ছি। তুই তো পাড়ার
ছেলে তোর উপর
বিশ্বাস আছে যতো
জোড়ে পারিস চালিয়ে
বাড়িতে গিয়ে লাশ-টা
দয়ে আই।
অজয় - আচ্ছা।
এইবলে রতনের বড়দা
হসপিটালের ভেতরে
চলে গেলো। অজয় ও লাশ
নিয়ে চলে গেলো
রতনের বাড়ির দিকে।
ওটাই কাল হয়ে
দাঁড়ালো। গ্রামের
ফাঁকা রাস্তা।
চারিদিক অন্ধকার।
ঝিঁঝিঁর সামান্য ডাকও
অনেক দূর থেকে শোনা
যায়। অজয় প্রচণ্ড জোড়ে
লাশ নিয়ে একা একা
গাড়ি চালিয়ে নিজের
গন্তব্যর দিকে এগিয়ে
চলেছে। এমন সময় অজয়
শুনতে পারে তার
এম্বুলেন্সের পেছন
থেকে বাচ্চা কাঁদার
আওয়াজ আসছে। অজয়
প্রথম প্রথম এই
ব্যাপার-টাকে হেসে
উড়িয়ে দেয়। না এই
আওয়াজ - টা ক্রমশ
বেড়েই চলছিলো। শেষে
অজয় বাধ্য হয়ে গাড়ি
দ্বার করাই। অজয় গাড়ি
থেকে নেমে
এম্বুলেন্সের পেছনের
ডিঁকি খুলে যা দেখতে
পেলো তা বড়োই
আকস্মিক। অজয় দেখলো
যে গাড়ির মধ্যে
বাচ্চা তো দূরের কথা
যার লাশ নিয়ে সে
যাচ্ছে সেই লাশ ও
হাওয়াই উবে গেছে।
তাহলে লাশ কোথায়?
না গাড়িতে তো লাশ
রাখার সময় অজয়
সামনে দাঁড়িয়ে ছিলো
তাহলে লাশ কোথায়
গেলো? অজয় ব্যাপার-টা
সুবিধার না দেখে
ডিঁকি - টা নামিয়ে
ওখান থেকে গাড়ি
নিয়ে পালাবার কথা
চিন্তা করলো কিন্তু
ততক্ষণে অনেক দেরী
হয়ে গেছে। অজয় গাড়ির
ডিঁকি-টা নামানো
মাত্র দুইজন বিশ্রী
মানব অজয়ের গলা
চেপে ধরলো। তারমধ্য
একজন হলো রতনের
বাবার মতোন। আর
অন্যজনের চেহারা অজয়
কোনোদিন ভুলবেনা।
কয়েকমাস আগে অজয়
একটা বিয়েবাড়ীর
বরযাত্রী দের নিয়ে
যাওয়া ও নিয়ে আসার
একটা কাজ পেয়েছিলো।
সেই কাজ ছিলো অজয়ের
জীবনে একটা অভিশপ্ত
দিনের মতোন। ওইদিন
কাজে যাওয়ার সময়
অজয় এতো জোড়ে গাড়ি
চালাচ্ছিলো যে রাস্তা
দিয়ে একজন বয়স্ক
ভদ্রলোক পার হচ্ছিলো।
কিন্তু অজয় ধাক্কা
দিয়ে গাড়ি নিয়ে
বেড়িয়ে যায়। অজয়
চাইলেই গাড়ি দ্বার
করিয়ে ওই বৃদ্ধা মানুষ-
টিকে হসপিটালে নিয়ে
যেতে পারতো কিন্তু
অজয় সেটা করেনি।
দুইজনেই অজয়ের গলা
চেপে ধরে অজয়-কে শেষ
করে ফেললো। এদিকে
রতনের বাড়ির লোক ওই
এম্বুলেন্সের খোঁজ নিতে
শুরু করে দিয়েছে। কারণ
এতো রাত হয়ে গেলো
এম্বুলেন্স এখনো
আসছেনা। কিন্তু এতো
খোঁজাখুঁজি করার পরও
যখন গাড়িটার সন্ধান
পাওয়া গেলোনা। তখন
সবাই ঠিক করলো পরের
দিন সকালে লাশের
গাড়ি-টা খোঁজা হবে।
কিন্তু ওইদিন ও ওই
লাশের গাড়ি খুঁজে
পাইনি। না পাওয়া
গেলো অজয় কে, না
পাওয়া গেলো এম্বুলেন্স
কে, না পাওয়া গেলো
রতনের বাবা-কে।
কিন্তু দুর্ভাগ্যর বিষয়
তারা বেশকয়েকদিন ওই
লাশের গাড়ি খুঁজে
ছিলো। এবং এই কথাটা
যখন পুরো গ্রামে
ছড়িয়ে যায়। তখন বেশ
কিছু গ্রাম বাসীরা
মিলেও ওই এম্বুলেন্স
খোঁজার চেষ্টা চালিয়ে
যায়। কিন্তু তারা
সকলেই ব্যর্থ
হয়েছিলো।
ওই এম্বুলেন্সের রহস্য-
টা আজও গায়ে শিহরণ
জাগিয়ে তোলে।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now