বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এমা এলিন্সের ভালোবাসা

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X যে মেয়েটা সাত সকালে এসির নীচে বিছানার উপর নিজেকে এলিয়ে দিয়ে শান্তির ঘুম ঘুমাতো, আজকাল সকালে সে মেয়েটা রান্নাঘরে গরম আগুনে রুটি স্যাঁকা দেয়। আপনার কিংবা আপনার পরিবারের লোকদের জন্য গরমে ঘেমে নাস্তা বানায়। আর আগুনে পুড়ে চামড়া কালো হয়ে যাওয়ায় তার প্রতি আপনার ভালোবাসা উবে যাচ্ছে। মন চলে যাচ্ছে আরেক ললানার নিকট! মেয়েটা আপনাকে গানিতিক হারে ভালোবেসে জ্যামিতিক হারে কষ্ট করে। অথচ কখনও কি রান্নাঘরে গিয়ে সে মেয়েটার কপালের ঘাম মুছে দিয়েছেন? নাহ্, দেননি। কেনো দেবেন? আপনি তো তার উপরের আবরনটা ভালোবাসেন, ভেতরটা না কিংবা নিজের ভেতরটা দিয়েও না। . যে মেয়েটা লেটুস পাতা কিংবা পুদিনা পাতা চিনতো না, সে মেয়েটা আজ ধনিয়া পাতা কুচি করতে শিখে গেছে। মাছের গন্ধে যে মেয়েটা বমি করতো, সে মেয়েটা এখন মাছ কাটা শিখে গেছে। হয়তো মাছ কাটার সময় একদিন আপনি সেখানে দাড়ালেন, আর সে মনটা কাটাকাটির দিকে না দিয়ে আপনার দিকে মনোনিবেশ করালো। মাছের সাথে হাতও কেটে গেলো। রক্ত পড়তে থাকলো ফোটা ফোটা। আপনি দেখে বললেন,বাহ্ মাছটাতো একেবারেই তাজা! কি লাল তাজা রক্ত! তখন কি মেয়েটার ঠোঁটের কোনো ফুটে উঠা মুচকি হাঁসিটা দেখেছেন? যে হাঁসিটা ভেবেছিলো যে আপনি হয়তো এখুনি বলবেন,"কিভাবে কাজ করো? দেখি তো কতটুকু কেটেছে? বোকা মেয়ে কোথাকার! " অথচ আপনি জানতেই পারেন নি যে, মেয়েটি হাত কেটে বসে আছে। আপনি বোঝেন নি, বুঝতে চান না। কিন্ত মেয়েটি মনে মনে আপনাকে উদ্দেশ্য করে ঠিকই বলেছে, "তোমার ভালোবাসায় নিজের রক্তকে মাছের রক্তও বানাতে রাজি প্রিয়" . যে মেয়েটা নিজের জামাকাপড় ওয়াশিং মেশিনে দিতো কিংবা বুয়াকে দিয়ে পরিষ্কার করাতো, আজ সে মেয়েটা আপনার ঘামে ভেজা গন্ধযুক্ত শার্টটা খুলে নিয়ে ধূয়ে দেয় নিজ হাতে। হয়তো ওয়াশরুমে তাকালে দেখতে পেতেন, সাবান মাখা শার্টটা কতটা আপন করে নিজের গালে চেপে ধরে আছে। একটু গন্ধ,একটু স্পর্শ,একটু ভালোবাসার সুখের পরিপূর্ণতার অপেক্ষা। আর আপনার ড্রেস পরিষ্কার করার জন্য সাবানের স্পর্শে তার কোমল হাত যখন রুক্ষ হতে থাকে,তখনই আপনার মন খুঁজে বেড়ায় আরেক জোড়া কোমল হাত। আর মেয়েটার প্রতি দিন দিন উগরে দেন নিজের অপাশবিকতা কিংবা অমানবিকতা গুলো। কিন্ত আপনি কি আদৌ কখনো বলেছেন? তোমার হাতটা তো দিন দিন রুক্ষ হয়ে যাচ্ছে, চলো ক্রীম কিনে দেই। নাহ্, বলেন নি। ভালোবাসার অর্থ আপনার অজানা! . যে মেয়েটার পিৎজা বা বার্গার ছাড়া সপ্তাহ যেতো না, আইসক্রিম আর চকোলেট যার নিত্যদিন এর খাবার ছিলো, সে মেয়েটা আজ এসব ছেড়ে দিয়েছে। কিভাবে আপনার দুটো টাকা কম খরচ হয় সে চিন্তায়। বাজার লিস্ট করার আগে শতবার ভাবে। দুলিটার তেল দিয়ে সাতদিনের জায়গায় দশদিন চালায়। আইসক্রীমের নেশা বাদ,পিৎজা তো স্বপ্নের ব্যাপার! সে আপনার মাইনের টাকায় সংসার আগলে রেখে নিজের স্বাদ জলাঞ্জলি দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। অথচ আপনি যখন এসে ডোরবেল বাজান আর সে দরজা খুলে দেয়, তখন কি আপনার হাতে একটা আইসক্রিম কিংবা একটা ক্যাটবেরীর প্যাকেট দেখতে পারে না? না,দেখতে পারেনি হয়তো কখনো পারবেও না। কারন, আপনি তার ইচ্ছেগুলো কখনো জানতে চাননি। কারো ইচ্ছের মূল্য আপনি দিতে জানেন না। আমি ক্যাপ্টেন ফারাবী আজ আপনাকে বলছি, ভালোবাসা আপনার জন্যে না। . যে মেয়েটা পার্লারে যেতো, নিজেকে অপ্সরা বানাতে। আজ সে মেয়েটা পার্লারের সামনে দিয়ে হেঁটে আসে। তাও আবার মাথা নীচু করে, যাতে কোনো বান্ধবী তাকে দেখে ডাক না দেয়। আর যেনো না বলতে পারে, "কিরে? একি হাল তোর? তোর হাজবেন্ড কি একটুও খেয়াল নেয়না তোর?" চুলগুলো এখন তার উসকোখুসকো, আর তার দোহাই দিয়ে আপনি তাকে ক্ষেত বলেন। অথচ চারশ মিলি একটা সানসিল্কের বতোল দিয়ে সে চারমাস কাটাচ্ছে, টেনে টুনে হয়তো আর একমাস যাবে। না গেলে শ্যাম্পুর বতোলে পানি ঢুকিয়ে একটা সপ্তাহ কাটাবে। তবুও আপনার খরচ বাড়াবে না। হেয়ার অয়েলটা কিনেছে তিনমাস আগে। তবুও সপ্তাহ খানেক ধরে সে তলের কৌটোটা উপুড় করে ধরে রাখে হাতের তালুতে। তারপর ঝাড়তে কিংবা নাড়াতে থাকে। যদি বা একটা ফোটা তেল বাড়তি পাওয়া যায়। নাহ্, পোড়ামুখীর কপালটাও পোড়া গো। সষ্ট্রা অনেক করুনা করেছে তেলের কৌটার উপর, এখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে স্বয়ং স্রষ্টাও। কেননা এখন যদি করুনা করে তবে তেলের কৌটা অলৌকিক হয়ে যাবে। শূন্য তেলের কৌটা হাতে দীর্ঘশ্বাস ফেলা মেয়েটার চোখের দিকে তাকিয়েছেন আপনি? হা হা হা,তাকান নি। কারন,আপনার mp4 মনে HD ভালোবাসা সাপোর্ট করবে না। তাছাড়া আপনার চোখজোড়া তো এখন কোমর সমান সিল্কি চুলওয়ালী খুঁজে। . আমি একটা মেয়েকে চিনি। আমার ফ্রেন্ড লিস্টেই আছে। একটা সরকারী হাইস্কুলের টিচার। তার হাজবেন্ড ব্যাংকার। তারা আলাদা থাকে পরস্পর, শুনলা তার হাজবেন্ড রাকি বিয়েও করেছে। বিচ্ছেদের কারন এইসব ক্ষুদ্র ইচ্ছে গুলোর প্রাধান্য না দেয়া। আরে ভাই,বউ চাইবেন চাকুরীজীবী, আবার বাসার কাজও বউকে দিয়ে করাবেন। তারউপর ইচ্ছেমতো মনোরঞ্জন করতেও চাইবেন! তা কি করে হয়? সে যে আপনার সংসার কর্ম করে তারপর স্কুল সামলিয়ে আপনার স্বামীধর্ম পালন করছে সেটাই তো বড় কিছু। আপনি যতক্ষন ব্যাংকে তিনি ততক্ষণ স্কুলে। বাকীটা সময় আপনি বাসায় আর তিনি বাসার কাজকর্ম সামলান। সপ্তাহে একটা ছুটির দিন উনার বাইরে খেতে কিংবা ঘুরতে ইচ্ছে করতে পারে। কিন্ত লোকটি কখনো তাকে নিয়ে বাইরে বেরুয় নি। কোনোদিন জিজ্ঞেস পর্যন্ত করেনি, তোমার কি কিছু লাগবে? অথবা কখনো একটা লিপস্টিক কিংবা একপাতা টিপ নয়তো একগুচ্ছ কাঁচের চুড়ি কিনে এনে বলেনি, নাও এটা তোমার জন্য। যেখানে ক্ষুদ্র ইচ্ছেগুলো বৃহৎ পূর্নাঙ্গ রূপ দেয়, আর আপনি পদতলে সে ক্ষুদ্র ইচ্ছে গুলো প্রতিনিয়ত পিষে যাচ্ছেন, আর মেয়েটাকে বোরিং আখ্যা দিয়ে আপনি এড়িয়ে যাচ্ছেন যেখানে, সেখানে আলাদা হওয়া স্বাভাবিক। তবে অস্বাভাবিক হলো যে, ওই মেয়েটা আজও আপনাকে ভালোবেসে যাচ্ছে। . এমা এলিন্স নামে এক কানাডিয়ান মহিলার সাথে আমার খুব ভালো সম্পর্ক। মায়ের মতোন একেবারে। আমি হতভাগা কয়েকবার উনার হাতে পোড়া টার্কির মাংস খেয়েছি। এয়ারপোর্টে চলে আসতো পোড়া টার্কি পাখি নিয়ে, এসেই বলতো, "হ্যাল্লো খ্যাপ্টেইন ফারা....." আমি কথাটা শুনেই হাঁসতাম। সে যাই হোক,ভদ্রমহিলা টরেন্টোর সেন্ট স্যারেস ইউনিভার্সিটির টিচার। প্রথম দেখা হয় সানফ্রানসিসকো এয়ারপোর্টে আমার বিমানের ভেতর। তিনি সানফ্রানসিসকো হতে নিউ ইয়র্কে যাবেন। ককপিটে ঢুকার আগে নজর গেলো সিটে বসা এই ভদ্র মহিলার দিকে। দিনটা ছিলো ১৬ ডিসেম্বার ২০১৫। আর এই কানাডিয়ান লাল সবুজে বানানো একটি টিশার্ট পরে আছেন। আমি তো অবাক! জানতে চাইলাম তার কাছে। তিনি টিশার্টটা কেনো পরেছেন? তিনি যা বললেন তাতে আমার চোখ ছানাবড়া! বাংলাদেশের জয়পুরহাট সদর উপজেলার একটা ছেলে একসময় টরেন্টো ইউনিভার্সিটিতে পড়তো। এই কানাডিয়ান ভদ্র মহিলা তার ক্লাসমেট এবং গার্লফ্রেন্ড ছিলেন। চারবৎসর রিলেশন করার পর ছেলেটি দেশে আসে। আর বিয়ে করে তার উপজেলার এক মেয়েকে এবং আবার ফিরে যায় টেরেন্টো। এমা এলিন্স সব জানতে পারে,আর কন্ট্যাক্ট করে ছেলেটির সাথে। কিন্ত ছেলেটি পুরোদমে এরিয়ে যেতে লাগলো। তাতে কি? এমা এলিন্স আজও ধরে রেখেছেন তার ভালোবাসা। আর সে লোকটাকে ভালোবেসে তিনি বাংলাদেশের বিজয়ের দিনে একজন কানাডিয়ান হয়ে পরেছেন লাল সবুজের বানানো টিশার্ট! তখন নিজেকে এমা এলিন্সের কাছে খুব ছোটো মনে হয়েছিলো। কারন,আমি ক্যাপ্টেন ফারাবীর গায়ে তখন সাদা শার্ট আর সোনালী ফিতায় মোড়ানো কাঁধ। বুকের বামপাশে লিখা "AL FARABEE. AMERICAN AIRLINES" নিজের গায়ে তখন বাংলার চাপ ছিলো না। তো সে ভদ্রলোকের নাম আব্দুস সালাম, বর্তমানে টরেন্টো ভার্সিটির প্রান রসায়নের সহকারী অধ্যাপক। হতে পারেন তিনি বড় জ্ঞানী, তবে এমা এলিন্সের ভালোবাসার কাছে তার সব পুঁথিগত বিদ্যা তুচ্ছ! ভালোবাসা সবার উর্দ্ধে, আর তার জন্য মনের যোগ্যতা লাগে। বিদ্যার নয়। . বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার একটা মেয়ে, নাম সুমনা হক। ইনিও আমার লিস্টে আছেন। ভালোবেসে বিয়ে করেছে আমেরিকার নিউ জার্সি প্রবাসী জাহিদ জুবায়ের কে। বিয়ের পর কয়েকমাস ভালো, তারপর সুমনা শারিরীক আর মানসিক চাপের শিকার। অথচ আট বৎসরের প্রেম ছিলো তাদের। আমার সাথে দেখা সাউথ ক্যারোলিনাতে। প্রথম দেখাতেই খুলে বলেছিলো জীবনের গল্প। কিভাবে প্রতিটি স্বপ্ন, ইচ্ছে আর ভালোবাসাকে গলাটিপে হত্যা করেছিলো এই জাহিদ জুবায়ের। মনের অজান্তেই কেঁদেছিলাম সেদিন আমি। ককপিটে বসেও কেঁদেছিলাম, কি করে এতটা অমানুষ হতে পারে একেকটা মানুষ! বুঝে আসে না। অতঃপর একদিন আমি নিজে তাকে ভর্তি করিয়ে দিয়েছি সেখানকার একটা সেকেন্ডারি স্কুলে। আজ সে হাই স্কুল লেভেলে পড়ে। প্রতি সপ্তাহে ফোন দিয়ে কান্না আর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে। তবে আজও জাহিদ জুবায়ের তার মনে লালিত হচ্ছে। অথচ এই তিন বৎসর আজো জাহিদ জুবায়ের তার খোঁজ নেয় না। কিন্ত সুমনা হক?! আজো ভালোবেসে যাচ্ছে পরম বিশ্বাস আর অগাধ প্রেমে। . এরকম আরো অনেকেই আছে, আনাচে কানাচে। আসলে কি জানেন? একটা মেয়ে কি চায়? সেটা আপনি একটু খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন। তাদের না বলা কথা গুলো ভেসে ওঠে তাদের ওই সাম্যবাদী দু চোখে। তাদের ওই দু চোখে তাকান, বুঝুন, বুঝে একটু ভাবুন, ফিল করুন নিজের চোখ বন্ধ করে। ব্যাস,মেয়েটার মনটা বুঝতে সর্বোচ্চ এক মিনিট লাগবে আপনার। সে চায়, আপনি তাকে এতটা ভালোবাসুন যে, যতটা কেউ আজও বাসে নি। তার ইচ্ছে গুলো জানুন, যথাসাধ্য চেষ্টা করুন পূরন করার। যদি পারেন, তাহলে শুধু ভালোবাসা না, পরস্পরের প্রতি পরস্পরে শ্রদ্ধা, সম্মান,বিশ্বাস বহিগুন বেড়ে যাবে। মেয়েদের মন তুলোর চেয়ে নরম, হালকা আঘাতেই কষ্ট পায় আর একটু ইগনোরেই অভিমান করে বসে। কি করবেন বলুন? ওরা যে বাবার রাজকন্যা! যদি পারেন, তবে ওই রাজকন্যার মায়াবী চোখে একবার পলক ফেলুন। ঝরতে থাকা মায়াবী চোখের অভিমানী জলের উৎসটা খুঁজুন। যদি খুঁজে বের করে হাঁসি ফোটাতে পারেন, তবে আমি ক্যাপ্টেন ফারাবীর পক্ষ হতে আপনাকে হাজার লাল সালাম। কেননা আপনিই প্রকৃত প্রেমিক আর যোগ্য ভালোবাসার প্রতীক। প্রতিটা মেয়ে বাবার কাছে রাজকন্যা, কিন্ত স্বামীর বাড়িত রাজবধূ হয় না। তবে হবে, রাজবধূ হতে আপনার মনে রাজ্যটাই যথেষ্ট। টাকা নয়, তাই তার মন বুঝুন, ভালোবাসুন বিশ্বাস আর শ্রদ্ধার সাথে। ভালোবাসার সব রং আপনাআপনিই ধরা দেবে আপনার কাছে। বেঁচে থাকুক প্রতিটি কষ্টবিলাসী নষ্ট হৃদয়ের রাজকন্যা। ভালো থাকুক ভালোবাসা। সুখে থাকুক সুখ স্বপ্নেরা। প্রতিটি ভালোবাসা যেনো পূর্ণতার আরেকটা রূপ হয়ে উঠে। শুভকামনা সকলকে। . টিকে থাকুক ভালোবাসা . লিখাঃ Al Farabee (captain farabee) Chief Pilot,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ এমা এলিন্সের ভালোবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now