বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একটি অসমাপ্ত ভালোবাসা
-রাকেসুর রহমান রিংকু
Namrota Binte Shohid wants to be your friend
Confirm Not now
রাইহান, এইচ এস সি ২য় বর্ষের ছাত্র।কলেজ,প্রাইভেট এবং কোচিং শেষে সন্ধ্যায় বাসায় আসার পর ফেসবুক অন করে প্রথমেই নম্রতা নামক মেয়েটির ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট চোখে পড়ে রাইহানের।অনেকটা খুশি মনেই ফ্রেন্ড রিকুয়েস্টটি কনফার্ম করল সে।
নাযনিন রহমান, রাইহানের ফেসবুকিও আপু।ফেসবুকিও আপু বললে ভুল হয়, তাদের ২ জনের সম্পর্কটা ঠিক আপন ভাইবোনের মত। নম্রতা ছিল নাযনিন আপুর প্রতিবেশি।আপুর মুখেই তার কথা শুনেছিল রাইহান।বেশ নম্র,ভদ্র এবং সুশীল মেয়ে হিসেবেই নম্রতাকে জানত সে।আপুর মুখে শুনার পর থেকেই তার ইচ্ছে ছিল মেয়েটির সাথে পরিচিত হওয়ার কিন্তু নম্রতার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট না থাকাই তা আর হয়ে উঠেছিল না। এস এস সি পরীক্ষা পাস করার পর সবেমাত্র কলেজে ভর্তি হয়েছে নম্রতা। প্রতিবেশি হওয়ায় নানযিন আপুর কাছে নম্রতা প্রায়ই রাইহানের কথা শুনত। ফেসবুকে পরিচয় সত্ত্বেও যে তাদের ভাইবোনের সম্পর্কের বাধন এতটা বাস্তব এবং গভীর হতে পারে তা নম্রতা কল্পনাও করতে পারত না।পরিচিত না হয়েও আপুর মুখে রাইহানের বিভিন্ন সুনামের কথা শুনে সেও কেমন জানি আকৃষ্ট হয়ে পরে তার ওপর।
ফেসবুকে অ্যাড হওয়া সত্ত্বেও প্রথম দিকে লাইক-কমেন্টের মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিল তাদের বন্ধুত্ব। কিন্তু লাইক-কমেন্টে আর কত দিন? কিছুদিনের মাঝে ইনবক্স এ তাদের কথা শুরু হয় এবং এটা-সেটা কথা দিয়ে খুব দ্রুতই ভরে উঠতে থাকে তাদের ইনবক্সটি। নম্রতা রাইহানকে ‘রাইহান ভাইয়া’ বলেই ডাকত, আর রাইহানও নম্রতা কে ছোট বোন হিসেবেই ভাবত। এভাবেই চলছিল তাদের দিনকাল। কিছুদিনের মাঝে তাদের বন্ধুত্ব এতটায় গভীর হয়ে যায় যে ‘যেখানে নম্রতা সেখানে রাইহান আর যেখানে রাইহান সেখানেই নম্রতা’ এমন অবস্থা ধারন করে বসে।
হয়ত তারা শুরুর দিকে একে অপরকে ভাইবোনের দৃষ্টিতেই চিন্তা করত।কিন্তু সমবয়সী আগেবপ্রবন একটি ছেলে ও মেয়ে কি এত সহজেই পারে তাদের সহজাত প্রবৃত্তি কে দূরে সরিয়ে রাখতে?
হুমায়ূন আহমেদ একটি কথা বলেছিলেন,
“একটি ছেলে ও মেয়ে যতই ভালো বন্ধু হোক না কেন, একটা সময় তারা একে অপরের প্রেমে পড়বেই।”
নম্রতা ও রাইহানও পারেনি কথাটিকে ভুল প্রমান করতে।অচিরেই তারা একে অন্যের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে।ব্যাপারটি দুজনই বুঝতে পেরেছিল কিন্তু কেউ কাউকে বলতে পারত না।
কথায় আছে, “মেয়েদের বুক ফাটে তবুও মুখ ফাটে না।”
নম্রতাও এর ব্যাতিক্রম ছিল না।হয়ত তার দ্বারা তার মনের কথা বলা কখনও সম্ভব ছিল না।রাইহান ব্যাপারটি বুঝতে পেরে সে নিজেই সিদ্ধান্ত নেই নম্রতা কে প্রপোজ করার।সময় বুঝে করলও প্রপোজ একদিন।প্রপোজ করার ২-১ দিন আগেই নম্রতা বুঝতে পেরেছিল তবুও সে ছিল অনেক দ্বিধাগ্রস্থ।সে রাইহানকে না বলে নি তবে হ্যাঁ’ও বলতে পারেনি।অথচ আগের মতই কথা বলতো যেন কিছুই হয়নি।মূলত তার প্রয়োজন ছিল কিছুটা সময়ের সবকিছু ভালো ভাবে বুঝে উঠার জন্য।
নম্রতার এই নিঃস্তব্ধতা রাইহানের মনেও কিছুটা সংশয়ের সৃষ্টি করে।তবে সে হাল ছাড়ে না।অপেক্ষা করতে থাকে।তিনটি মাস পরে নম্রতা হঠাত করেই একদিন তার প্রপোজালকে স্বীকৃতি জানায়।
শুরু হল দুই কিশোর-কিশোরীর অকৃত্রিম ভালোবাসার এক নতুন জীবন।প্রথম দিকে ভালই কাটছিল দিনকাল।নম্রতার পারিবারিক সীমাবদ্ধতার কারনে তাদের না হত দেখা করা বা না হত খুব বেশি ফোনালাপ।তবে যেটুকু সময় পেত একে অন্যকে দেওয়ার চেষ্টা করত এবং সেটুকুতেই তারা খুশি ছিল।
তাদের সুখ বেশিদিন স্থায়ী হল না।প্রকৃতির খারাপ নজর পড়েছিল তাদের এই সম্পর্কটির ওপর।এইচ এস সি পরীক্ষা শেষে ভর্তি পরীক্ষার জন্য কোচিং করার উদ্দেশে পরিবার-স্বজন ছেড়ে ঢাকার পথে রউনা দেয় রাইহান।সব সমস্যার শুরু মূলত এখান থেকেই।
একে অপরের থেকে দূরত্ব এবং ফেসবুক থেকে সৃষ্ট ভুল বুঝাবুঝি যে একদিন তাদের এই সম্পর্কের বাঁধনকে যে তিলে তিলে ছিন্ন করে দিবে তা হয়ত রাইহান বা নম্রতা কেউই কল্পনা করেছিল না।ঢাকায় এসে এক আত্মীয়ের বাসায় উঠার পর পরই মানসিক ভাবে অনেক দুর্বল হয়ে পড়ে রাইহান।সেখানে প্রায়ই তাকে তার পরিবার নিয়ে কটূক্তি শোনা লাগতো এবং সহ্য করতে হত আরো নানা ধরনের মানসিক অত্যাচার।এছাড়া ভর্তিযুদ্ধ নামক অভিশাপটি ছিল মানসিক অত্যাচারের ওপর একটি রুপ।সব মিলে অনেকটা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল রাইহানের জীবন।
অন্যদিকে নম্রতাও ব্যাস্ত ছিল তার এইচ এস সি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য।আগে খুব যে সময় দিত তা না তবে এখন বাস্ততার কারনে নম্রতা রাইহানকে আরই সময় দিতে পারত না।অধিকাংশ সময়েই এমন হত যে, যখন রাইহান ফ্রি থাকত, তখন নম্রতা থাকত না, আবার যখন নম্রতা ফ্রি তখন রাইহান ব্যাস্ত।নম্রতা ব্যাপারগুলো সহজ ভাবে নিলেও মানসিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়া রাইহান এর পক্ষে তা ততটা সহজভাবে নেওয়া সম্ভব হত না। নম্রতাকে মেসেজ দিয়ে ঘন্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করত সে,তবুও নম্রতার খোঁজ পেত না।
নম্রতার একটি অভ্যাস ছিল। পড়াশুনা ও কাজের ফাঁকে ২-৩ মিনিট সময় পেলে তখন সে ফেসবুকিং করত।সময়টা সে রাইহানকে দিত না কেননা সে জানত এই ২-৩ মিনিটে আর যায় হোক না কেন ভালোবাসার মানুষটির সাথে মন খুলে কথা বলা যায় না।সে একদম ফ্রি হয়ে তবেই কথা বলতো যেন মন খুলে অনেকক্ষন কথা বলা যায়।
রাইহান সবই জানতো এবং বুঝত কিন্তু তার একাকিত্তে ভরা মানসিক ভারসাম্যহীন মনটাকে এটা হাজার চেষ্টা করেও পারেনি বোঝাতে। আত্মীয়ের বাসায় অমানবিক মানসিক অত্যাচার এবং পড়াশোনার চাপ যতটা না তার মানসিকতাকে পরিবর্তন করে তার চেয়ে তার মানসিক চিন্তাধারাকে বেশি বিকৃত করে।
রাইহানের কাছে অযথাই মনে হতে থাকে নম্রতা তাকে অবহেলা করছে, সময় পেয়েও তাকে দিচ্ছি না বরং ফেসবুকিং করে যাচ্ছে। তার এই ধরনের চিন্তা ভাবনা নম্রতাকে অনেক কষ্ট দিত।প্রথম দিকে নম্রতা রাইহানকে বুঝানোর চেষ্টা করেছিল কিন্তু একসময় সে নিজেই রেগে যায় রাইহানের ওপর। শুরু হয় ঝগড়া, বন্ধ হয়ে যায় তাদের মাঝে সকল যোগাযোগ।
তবে ভালোবাসার কাছে এই ছোট্ট অভিমান খুব সহজেই হার মানতে বাধ্য হয়।কিছুদিন পর রাইহান ক্ষমা চাইলে নম্রতা তাকে মাফ করে দেয় । কিন্তু, মানসিক সমস্যাগুলো রাইহানের পিছু ছাড়তে নারাজ।সবকিছু বোঝার পরও সে তার মানসিকভাবে অবচেতন মনকে কোনভাবেই সামলাতে পারে না।তার আর নম্রতার ভুলবুঝাবুঝি যেন শেষ হতেই চায়না।অনেক কষ্টের মাঝে দিন কাতে অভিমানি দুই কিশোর-কিশোরীর।
দেখতে দেখতেই নম্রতার এইচ এস সি পরীক্ষা ও রাইহানের ভর্তি পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে আসে।যে সময়ে এই দুই জন বই হাতে পড়াশুনা করার কথা সেসময় রাতের পর রাত তারা পার করেছে অশ্রু বিসর্জনের বিনিময়ে।
‘অভাগা যেখানে যায়, সাগর শুকিয়ে যায়’-প্রবাদটি আবারো তার সত্যতার প্রমান দিল।না পাওয়া হল রাইহানের কোন সরকারি ইউনিভার্সিটিতে চান্স বা নম্রতার না করা হল এইচ এস সি তে একটা ভালো রেযাল্ট।
‘If you get chance in admission exam you’re everything, but if you don’t,you’re absolutely nothing’- এটাই যেন আমাদের দেশের বর্তমান প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।রাইহান খুব যে খারাপ পরীক্ষা দিয়েছিল না নয়।আসন ফাকা থাকা সত্ত্বেও ভর্তি হতে পারে নি শুধু মাত্র তথাকথিত মামা চাচা দের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক আসন বরাদ্দ থাকার জন্য।আবার IUT এর মত জায়গাতেও চান্স পেয়েও সে ভর্তি হতে পারেনি বাবার আর্থিক অবস্থার কারনে।একসময় যে বাবা-মা এর মধ্যমণি ছিল রাইহান, চান্স না পাওয়ায় সেই রাইহানই হয়ে উঠে তাদের অবহেলার পাত্র। সব মিলিয়ে তার জীবন হয়ে উঠেছিল অসহনীয়, ইংরেজিতে যাকে বলে ‘Living Hell’
ওপর দিকে এইচ এস সি এর রেজাল্ট খারাপ করাই নম্রতাও অনেক ভেঙ্গে গেছিলো।তাকেও পড়তে হয় পরিবার-স্বজনদের কটূক্তির তোপের মুখে।পারিবারিক সমস্যা,নিজস্ব হতাশা এবং রাইহানের কাছে পাওয়া অযথা বাজে ব্যবহার তাকেও মানসিক দিক দিয়ে অনেক পরিবর্তন করে ফেলে।একদা মোমের মত মনের অধিকারী মেয়েটি,অচিরেই পাথরের মত এক শক্ত মনের মেয়েতে পরিবর্তিত হয়ে উঠে।
“বাস্তবতা এতোটায় কঠিন যে, মাঝে মাঝে এই কঠোর বাস্তবতার সামনে, মনের গভীরে জমে থাকা বিন্দু বিন্দু ভালোবাসাও অসহায় হয়ে উঠে”
ঠিক এমনই একটি কঠোর বাস্তবতা নম্রতার পথে বাধা হয়ে দাড়ায় । একটি নয় দুইটি নয়, অনেক গুলো সুযোগ সে দিয়েছিল রাইহান কে। কিন্তু রাইহান তা কাজে লাগাতে পারেনি। পারবেও বা কিভাবে?২০ বছরের একটা কিশোরের কাছে সব কিছু সামলানো কি এতোটায় সোজা? রাইহান বাজে ব্যাবহার করেছে, অপমানও করেছে নম্রতাকে, তার মাঝে কাজ করেছে সন্দেহ নামক অভিশাপের কালো ছায়াটিও। তবে সে যে কোনটায় ইচ্ছাকৃত করেনি, পরিস্থিতি এবং বাস্তবতার শিকার হয়েই করেছে, এটি নম্রতা কে সে বোঝাতে পারেনি। হয়ত বুঝাতে পারত কিন্তু তার নিজের ব্যবহারই নম্রতাকে এমন এক নম্রতায় রুপান্তরিত করেছে যার মনে রাইহানের প্রতি ভালবাসা থাকলেও ছিল না কোন ভরসা বা বিশ্বাস।
আর বিশ্বাস থাকবেই বা কেন? সেও তো একজন রক্ত-মাংশের মানুষ।সহ্যের একটা সীমা তার মাঝেও আছে।বিশ্বাস করে সুযোগ দেওয়ার পরও সেটা কাজে লাগাতে না পারলে একজনের ওপর ভরসা করার জায়গাটুকু স্বাভাবিক ভাবেই লোপ পাওয়া উচিত।রাইহানকে যে সে আর ভালবাসে না এমন না।ভালোবাসার মানুষটাকে এত সহজেই ভুলা যায় না।রাইহান-নম্রতা ভালোবাসার সম্পর্কটি আজ হয়ত আর নাই,তবে নম্রতার মনে এখনও রয়েছে রাইহান নামক ছেলেটির জন্য অকৃত্রিম ভালবাসা।
ব্রেকাপের আগে রাইহান নম্রতার কাছে শেষ একটা সুযোগ ছেয়েছিল, চেয়েছিল কিছু সময়।রাইহান তার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে, করেছে তাকে অপমান, তবুও নম্রতা কে সে মনে প্রানে ভালবাসত।পরিস্থিতির সাপেক্ষে নম্রতার প্রতি তার মনে সন্দেহ জাগলেও, অন্তত তার প্রতি নম্রতার ভালোবাসার বাপারে তার বিন্দুমাত্র সন্দেহ ছিল না।আর ঠিক এজন্যই সে নম্রতার কাছে কিছু সময় চেয়েছিল যেন নিজের সমস্যা গুলো ঠিক করে, মানসিক অবস্থার পরিবর্তন করে পুনরায় নম্রতার কাছে ফিরে আসতে পারে।কিন্তু তার আর শেষ সুযোগ পাওয়া হলনা নম্রতার কাছে...
মাসখানেক পার হল,রাইহান ইউনিভার্সিটিতে চান্স পাওয়ার পর অনেক কষ্ট করল, নিজের সমস্যা ও মানসিকতা কে পরিবর্তন করে নম্রতা কে ফিরে পাওয়ার আশায় পুনরায় তার কাছে একটা শেষ সুযোগের জন্য হাত পাতলো...কিন্তু নিজের ভুল গুলো বুঝতে বেশীই দেরি করে ফেললো রাইহান।নম্রতা কোন ভাবেই মানতে পারছিল না, যাকে সে এত ভালবাসত বা যে ছেলেটি তাকে ভালবাসত সে কিভাবে পারলো তার আত্মমর্যাদাতে আঘাত হানতে।
“আমিই কেন?কেন সবসময় আমাকেই সব সহ্য করা লাগবে?
আমি চায়না তোমাকে আর তোমার এই সম্পর্কে.২ বছর আগে অনেক বড় একটা একটা ভুল করেছিলাম,সেই ভুলের কারনেই আজ অনেক পস্তিয়েছি ,অনেক কষ্ট পেয়েছি।
প্লীজ, আর না...দয়া করে আর যোগাযোগ কর না আমার সাথে।
তোমার সব ভুলের মাশুল আমি আমার ওপরই নিলাম, আর নিজের ভুলগুলো যদি সত্যিই বুঝে থাক, তাহলে ভবিষ্যতে তোমার জীবনে কোন মেয়ে আসলে তাকে ভালো রেখ,এভাবে আর কষ্ট দিও না।
আমি আর চায়না এসকল সম্পর্কের মাঝে আসতে।প্লীজ এসব আর বলিও না আমাকে।
আল্লাহ হাফিয”
এভাবেই কাঁদতে কাঁদতে নম্রতা রাইহানকে ব্যাক্ত করেছিল তার শেষ কথাগুলি...কথাগুলো শোনার পর রাইহান নিজেও অনেকটা ভেঙ্গে পরে।নিজেই নিজেকে ঘৃণা করতে থাকে।২ টি বছর পর অবশেষে সে জখন নিজের ভুল বুঝতে পারে তখন সে আর পিছুপা হতে পারেনা... সে জানতো নম্রতা এখনও তাকে ভালবাসে...আর এই ভালোবাসার একটুখানি আকর্ষণই হয়ত ভবিষ্যতে তাদের পুনরায় একত্রিত করবে...
সময় গড়তে থাকে তার নিজ গতিতেই কিন্তু নম্রতা আর ফিরে আসে না।রাইহানও বুঝল তার নিজের ভুলগুলিই তার ভালোবাসার মানুষটিকে তার থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দিয়েছে.....
তবুও সে পুনরায় হাত পাতে নম্রতার কাছে... সম্পর্কটি ফিরে পাবার জন্য নয়,নম্রতার কাছে ভুলের জন্য ক্ষমা পাবার জন্য।
সময়ের সাথে সাথে নম্রতা এগিয়ে গেছে তার জীবনে অনেক দূরে...শিখেছে রাইহানকে ছাড়া দিন কাটাতে।হয়ত আগের মত সে রাইহানকে আর ভালবাসে না কিন্তু ভালবাসা যে একদমই শুন্যের কোটায় তা তো নয়।এটি ভেবেই রাইহান বার বার ক্ষমা পাবার আশায় হাট পেতেছিল নম্রতার কাছে কিন্তু প্রতিবারই তাকে ফিরতে হয় খালি হাতে...
ভালোবাসা আপেক্ষিক, মনের গভীরের এক রহস্যময় ব্যপার এই ভালোবাসা।অনেকে হাজার চেষ্টা করেও ভালোবাসার মানুষটিকে কাছে পাইনা, আবার অনেকে কাছে পেয়েও ভালবাসাকে রক্ষা করতে পারে না।আবার দূর থেকে প্রিয় মানুষটির ভালো চাওয়া,তাকে ভালো থাকতে দেখাও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।রাইহান-নম¬্রতা একসাথে আছে কিনা সেটি বড় কথা নয়।রাইহান নম্রতাকে মন থেকে ভালবাসে, এটিই সবচেয়ে বড় ব্যাপার।
রাইহান নিজের ভুলগুলির সাথে সাথে নিজের জীবনে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করে।দুই বছর আগে যে ফেইসবুকেই নম্রতার সাথে তার সম্পর্কের সূচনা হয়,সে ফেইবুকেই একটি শেষ স্ট্যাটাস দিয়ে নম্রতার জীবন থেকে বের হয়ে এসে জীবনে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা নেই রাইহান...
“ আমরা যা চায় তা সবসময় হয় না আবার যা না চায় অধিকাংশ সময়ে সেগুলোই হয়।এখানেই জীবনের বাস্তবতা।
অনেকসময় অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাস্তবতা আমাদের এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে যা আমারা কখনই নিতে চায় না। তবুও আমাদের মনে রাখা উচিত, আল্লাহ যা করেন আমাদের ভালোর জন্যই করেন।
সময় এসেছে আজ জীবন থেকে “নম্রতা বিনতে শহীদ” নামক অধ্যায়টি মুছে ফেলার।
“পাপীকে নয়,পাপকে ঘৃণা কর”- কে বা শুনেনি এই প্রবাদটির কথা?কিন্তু বর্তমান যুগে এই প্রবাদটির বাস্তবিক মর্ম বলে আদৌ কি কিছু আছে?নেই, আসলেই কোন বাস্তবিক মর্ম নেই,বইয়ের পাতাতেই এই প্রবাদটি সীমাবদ্ধ।
“মানুষ মাত্রই ভুল”- আমরা সবাই এটা জানি।আমরা এতাও জানি মানুষ ভুল থেকেই শিক্ষা লাভ করে থাকে।তারপরেও পরিস্থিতি একজন মানুষকে একই ভুল বার বার বাধ্য করে।আমিও করেছি এই ভুল। আর আমার এই ভুলই তাকে সরিয়ে দিয়েছে আমার জীবন থেকে বহু দূরে।
ভুলগুলো আমার আগে বোঝা উচিত ছিল, কিন্তু পরিস্থিতি আমাকে বাধ্য করেছে।খুব বেশীই দেরি করে ফেলেছি আমি ভুলগুলো বুঝতে,তাছাড়া আজ আমি তার ঘৃণার পাত্র হতাম না,এখনও তার ভালোবাসার মানুষটি হয়েই থাকতাম।
আমি জানি তাকে আমি আর ফিরে পাবো না, কিন্তু আমার ভুলগুলো বুঝার পর হাজার বার মাফ চেয়েও যে ক্ষমা পাবনা এটা কখনো কল্পনাও করিনি...
সময়ের সাথে সাথে হয়ত একসময় সব ব্যাথা ভুলে যাব,শিখে যাব তোমাকে ছাড়া জীবনটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে ঠিকই, তবে ক্ষমা না পাওয়ার এই ব্যাথা অনেকাল ধরে মনকে আঘাত করে যাবে...
যাওয়ার আগে শেষ একটি বারের জন্য বলতে চায়...
ভালবাসি তোমাকে নম্রতা, অনেক বেশি ভালবাসি......”
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now