বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মেয়েটা আট সদস্য বিশিষ্ট কিডন্যাপার গ্রুপের
হাতে ধর্ষিত হয়েছিল। ধর্ষণ করিয়েছিলো তার আপন
কাকা।
বাবা মায়ের মৃত্যুর পর মেয়েটি তার
প্রেমিককে নিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে
চেয়েছিল। কিন্তু বিশাল সম্পত্তি হাতছাড়া হয়ে যাবে
এই ভেবে কাকা পরিকল্পনা করে তার আদরের শালীর ছেলের সাথে মেয়েটিকে বিয়ে দেবে।
কিন্তু মেয়েটি রাজি হয়নি। শুরু হয় নির্যাতন।
ভালোবাসার মানুষ টির সাথে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয় মেয়েটি। আর সেদিন বিয়ে করার উদ্দেশ্যেই মেয়েটি ঘর থেকে বের হয়েছিল। কিন্তু পৌঁছতে পারে নি।
আটজন ছেলে তাকে রাস্তা থেকে চোখের পলকে চলন্ত
মাইক্রোভ্যানে টেনে তুলে নিয়ে চলে যায়। আর মেয়েটির
কোনো খোঁজ পাওয়া যায় নি।
মেয়েটির জন্য অপেক্ষারত ছেলেটি তার ফোন বন্ধ পেয়ে বুঝতে পারে কিছু একটা বিপদ হয়েছে। ফোন করে মেয়ের মাসীকে। ওদের সমস্ত কথা জানতো মাসী। তিনি ওদের দুজনের শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন।
কোনরূপ ঝুট ঝামেলা জানাজানি করা
যাবেনা মেয়েটির নিখোঁজ হবার ব্যপারে। কারণ
মিডিয়ার মুখে পড়লে সেখানে কতটা
বাজে পরিস্থিতি হয় তা বলে বোঝানোর কিছু নেই।
তাছাড়া, ছেলের পরিবার যদি জানে মেয়ে উধাও
তাকে ফিরে পেলেও ছেলের পরিবার গ্রহণ
করবে না। সমাজতো নারীকেই দোষ দেয়।
সকল দিক চিন্তা করে মেয়েটির মাসী আর ছেলেটি
মিলে খুব সতর্কতার সাথে খোঁজ নেওয়ার কাজ শুরু
করলো।
অনেক লুকোছাপা, মিথ্যা বাহানা,
গোয়েন্দাগিরি শেষে দশ দিনের মাথায় মেয়েটির
খোঁজ মিললো। তাকে শহরে এনে হাসপাতালে ভর্তি
করা হলো। একমাস আইসিইউ সহ প্রায় দুই মাস
হাসপাতালে ভর্তি ছিল। আটজন পুরুষ মিলে অমানবিক
নির্যাতন চালিয়েছে ওর উপর। কথা ছিল ওকে
মেরে ফেলার। কিন্তু মেয়েটির সৌন্দর্য্যের জন্য ধর্ষণ
থেকে বিরত থাকতে পারেনি দুষ্কৃতি কারীরা।
.
মেয়েটি সুস্থ হবার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করে।
কারো সামনে দাঁড়াতে ভয় পেত। সারাক্ষণ
নিজেকে এক কোনে গুটিয়ে রাখতো।
ওকে
যেই ছেলেটি ভালোবাসতো সেই ছেলের
সামনে কোন ভাবেই ওকে আনা যেত না।
ছেলেটি কিন্তু মেয়েটিকে ছেড়ে যায় নি। বরং
সাইকিয়াট্রিস্ট এর কথা মত সে ওর স্বাভাবিক মানসিকতার অপেক্ষায় ছিল।
এভাবে কেটে যায় আরো দুই
মাস। ছেলেটি এই কষ্ট আর মেনে নিতে পারে
নি। কারণ সে খুব ভালো করেই জানতো
আজকের এই মেয়েটি সুস্থ অবস্থায় কতটা চঞ্চল
ছিল আর ওকে কতোটা ভালোবাসতো।
তাই এবার সে
ডাক্তারের কথা না মেনে মাসীমনি কে
জানায় ওর সাথে কথা না বলে ওকে না দেখে থাকা
আর সম্ভব নয়। যেহেতু মেয়েটি তার মাসীমনির
সাথে কথা বলতে পারে সেহেতু ওর সাথেও
পারবে।
ছেলেটা মেয়েটির সামনে গেলো, ছেলেটিকে দেখে মেয়েটা বললো "এই রিলেশন আর সম্ভব নয়। সমাজ ওকে মানবে না,
শ্বশুড় বাড়ি ওকে মানবে না, এমনকি ও নিজে তার
প্রেমিকের সাথে সহজ হতে পারবেনা"।
ছেলেটি এইসব কথা শুনে প্রকাশ্যে মেয়েটিকে চড়
মেরেছিল। বলেছিল, " আমাকে আর তোর কেনো
লাগবে? তুইতো **** পেয়েই গেছিস, তোর
তো আর কিছুর দরকার নেই।
ভালোবাসার মর্ম তুই কি
বুঝবি? আমি যে গত কয়েকটা মাস তোর আশায় ছিলাম
সেটার কি হবে? আমি কার জন্য দৌড়েছি? তুই ধর্ষিতা
এইটা তোর বলতে হবে? আমি কিছু জানিনা? আরো
অনেক কথা। শেষ কথা ছিল "তুই ধর্ষিতা হ..পাগল হ..যা
খুশি হ..তুই শুধু আমার। তুই যদি আমাকে ছেড়ে
যেতে চাস খুন করে ফেলবো তোকে।
আত্মহত্যা করতে চাস? দুজনের গায়েই আগুন ধরিয়ে
দেব আমি। তুই আমার সাথে থাকবি, আমার বউ হয়ে
থাকবি। তুই শুধু আমার হয়ে থাকবি"।
.
মাসীমণির সাথে পরামর্শ করে, ছেলের পরিবারের
কাছে ধর্ষণের ব্যাপারটা গোপন রেখে বিয়ে হয়
ওদের। ছেলেটি খুব কৌশলে তার পরিবারকে
মানিয়ে নেয়। বিয়ের পর মেয়ের কাকা ধর্ষণের
কথা ছেলের পরিবারকে জানালে উলটো তিনি
নিজেই অপমানিত হন। কারণ উনারা জানতেন এই কাকাই
মেয়েটির জীবনের একমাত্র অশান্তি। প্রমাণ জাহির
করলেও যারা মেয়েটির ধর্ষণের কথা জানতো
তারা সবাই বলেছিল "ও আবার কবে ধর্ষিত হলো?"
সবশেষে সেই কাকাকে আইনের আওতায় আনা
হলো।
মেয়েটির মনে ভয় ছিল যদি ছেলেটি
কোনদিন কোন কারণে ওকে ধর্ষণের কথা
বলে আঘাত করে। কিন্তু সেই ভুল ওর ভেঙ্গে
গেছে বিয়ের পর।
.
আজ ওদের বিয়ের তিন বছর পূর্ণ হলো।
মেয়েটি আজো হাসিমুখে বললো, ধর্ষিতা
হিসেবে আমি বিব্রতবোধ করলেও ও আমাকে
কাছে টানতে এতটুকু বিব্রত নয়।
যেখানে আমার
বলার কথা " তুমি আমাকে আগের মতো
ভালোবাসোনা, সেখানে ও বলে তুই আমাকে কম
ভালোবাসিস কেনো? আমি তোর বর না?
ভালোবাসতে কিপটেমি করবি না বউ "।।
(সংগৃহীত ও সংশোধিত)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now