বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ঘুম থেকে উঠতে ভালই দেরি হয়ে
গিয়েছিলো জনির| আজ আবার সেই হাতুরি
মার্কা মেডাম এর ক্লাস| গাজিপুর থেকে
বনানী, ভাবতেই কস্ট লাগে তার।
তারাহুরা করেই বাসে উঠলো এবং কোন
চিন্তাভাবনা না করেই বসে পরলো।
জনি আবার ক্লাসের পড়া বাসেই শেষ
করে, বাসায় তো টাইমই পায় না।
সেদিনও তার বেতিক্রম হয় নি।
হঠাত কানে একটা মেয়ে কন্ঠ এসে ধাক্কা
খেল।
-কেমন আছো? যার দিকে তাকাতেই প্রায়
দুই/আড়াই বসর আগের কথা মনে পরে
গেল। নাম অদিতি। তারা এক সাথে
প্রাইভেট পরতো। স্যারের নোটস, বই-
খাতা দেয়া নেয়া এভাবেই তাকে ভালো
লেগে গিয়েছিলো কিন্তু বেপারটা
ভালোবাসা ছিল না। জনি ভেবেছিলো
একদিন তার ফোন নাম্বার চাবে। তার
মতে নাম্বার, কথাবার্তা তারপর কিছু হলে
তো একা লাইফটাকে সর্গ বানাতে সমস্যা
নেই!
-এই,তোমার নাম্বারটা দেয়া যাবে?
-কি করবা?
-তোমাকে অনেক মিস করি,তাই মিস্কল
দিব।
-এক গাল হেসে…তোমার নাম্বারটাই
দাও,আমিই মিস্কল দিব নে।
এরপর ফোনে ভালই চলছিলো। রাত যেগে
কথা হত। একদিন জনি তাকে বলেই
ফেললো, তোমার সাথে আমি একটা
রিলেসনসিপে যেতে চাই, তুমি রাজি?
আদিতি তার মাথায় আকাশ ফাটিয়ে বলে
দিল, তার বয়ফ্রেন্ড আছে। কিন্তু সে
একজন ভালো ফ্রেন্ড হয়ে থাকতে চায়।
এরপর জনি আর একপাও আগায় নি।
প্রাইভেটেও কথা হত না তাদের।
এবার চলেন বাসে ফিরে যাই। দুই বসর
আগের কাহিনি তো আর দুই লাইনে শেষ
করা সম্ভব না। অদিতির সাথে তেমন
কথা হল না। সে একটো দূরে ছিল। বাস
থেকে নামার সময় লোকজনের ভিরে জনিই
বিদায় নিল_
–ভাল থাইকো।
-তুমি কি আগের নাম্বারটাই ব্যাবহার
করতেছো?
-হমমম…
ক্লাশের বকবকানি জনির কখনই ভাল
লাগতো না। আজ একটু বেশিই বিরক্তি
লাগছে তার। বিশেষ করে মেডামদের
বরো বেশিই বেমানান লাগেছে। তাদের
লেকচার যেন তিব্র গরমে যানযটের মাঝে
বাসে উঠা ইদূর মারেন, তেলাপোকা মারেন
আথবা পেটের দায়ে মলম বিক্রি করা
মানুষের মতো লাগে তার। মনে মনে
অদিতির উপর চরম রাগ হচ্ছে। গেলি
গেলি ফিরে কেন এলি টাইপের রাগ।
তখন কেন যেন মনে হত প্রতিটি রাত
জনিকে এড়িয়ে চলে। কিন্তু সে রাতে
অদিতির কথা তার একটুও মনে হল না।
বোধ করি অনেক্টা WARFAZE এর অবাক
ভালবাসার মতো। হঠাত করেই একটা
ফোনকল। নাম্বারের কথা বলতে গেলে
ইংরেজিতে Unknown Number বলতে যা
বুঝায় কিন্তু বাংলায় নাম্বার টা খুব
পরিচিত লাগছিল। বেপার টা আমার মতে
একটা কিছুকে অনুভব করার বিষয় এর
মতো।
অদিতির সাথে বেশ অনেক্ষন ফোনালাপ
হলো জনির। অনেক কথা, অনেক পোরান
স্ম্রিতির কথা। অদিতির ব্রেকআপ হয়ে
গেছে। ছেলেদের খুবি অবিশাস হয়
তার। অদিতির কোন কথাই ভাল
লাগছিলো না জনির। তবুও কস্টে ভরা
একটা রাত থেকে রেহাই পাবার বেরথ
চেস্টা জনির, সাথে একটা চাপা খোভ যা
জনি কাওকে বলতে চায় না। এই খোভের
বশেই কিনা জানি না, পরদিন তারা ঘুরতে
বের হল। অদিতি দুই বসর পর আজ জনি
কে চায় কিন্তু জনির ভিতরটা বুঝা যায়
না।
-‘আচ্ছা বৃষ্টি ঝরলে মনে পরে তুমার
কথা’ গান টা শোনছো ??? জনির
প্রশ্ন।
-আরে ধুর এইসব রোমান্টিক গানের বয়স
আছে বলো?
বাংলাদেশি ব্যান্ড Miles এর একটা গানের
লিরিক ছিল এইরকম…
জদি ভালবাসো, বেধে রেখো না,
মুক্ত করে দাও, প্রতিদান চেয়ো না।
ফিরে আসলে বুঝবে তখনি,
না আসলে ছিলো না তুমার কখনি||
নন্দিনীও কি তাই আবার সম্পর্ক নতুন
করে রাখতে চায় কিনা বোঝা যায় না।
কবি সাহিত্তিকরাই যেখানে ব্যার্থ হয়ে
মেয়েদের ছলনাময়ী বলে আক্ষায়িত
করেছে আর জনি তো সেখানে বনানি
এলাকার প্রাইভেট ভারসিটি কথিত একটা
সাটার ওয়ালা মিস্টির দোকানের
খদ্দের। নন্দিনী জনির বর্ত্মান
গার্লফ্রেন্ড। যার সাথে ঠিক ১৫দিন
আগে ব্রেকআপ হয়ে গেছিলো একটা
ঝগরার কারনে। জনি বোঝে যে নন্দিনী
তাকে সত্যিই ভালবাসে। জনিও তার
(নন্দিনী) ব্যাপারে অনেক সিরিয়াস কিন্তু
সে তার বহিপ্রকাশ কখনই করতে চায়
না। অদিতির সাথেও কথা হয় খুব কম।
সে নন্দিনী কে নিয়েই থাকতে চায়।
জনি একটু একটু করে অদিতিকে avoid
করতে থাকে কিন্তু অদিতি তা একদমই
বুঝতে পারে না। জনি তার(অদিতির)
পুরানো বয়ফ্রেন্ড কে মনে করিয়া দিতে
চায় আর অদিতির একি কথা, ছেলে মানুষ
এমন কেন?
-শোন, আমি কাল উত্তরা আসবো তূমিও
আসবা প্লিজ, তারপর এক সাথে গাজিপূর
যাবো (নন্দিনী)।
-আচ্ছা আসব।
ক্লাশ শেষ করে জনি চলে যায় উত্তরা।
অনেকদিন পর নন্দিনীর সাথে দেখা।
ব্যাপারটা বাংলা ছিনেমার মতো করে না
ভাব্লে বোঝা যায় না, তারা বারবার একে
অপরের দিকে তাকাচ্ছিলো কিন্তু সেরকম
কোন কথা হচ্ছিল না। BFC থেকে বের
হয়ে তারা বাসে উঠে পরলো। নন্দিনীর
অনেক মন খারাপ জনির পাশে বসা হল
না। জনির সিট পেয়েছে কিন্তু অনেক
দূরে। নন্দিনী তাই খুদে বার্তা পাঠালো,
‘তোমার পাশের লোকটাকে আমার সিটে
আস্তে রাযি করাও’।
নন্দিনী এখন অনেক খুশি পাশাপাশী বসতে
পেরে। জ়নির অনেক পছন্দ তার হাত
ধরে বসাটা। হমমম তাই জনিও অনেক
খুশি। রাস্তার পাসে গরু দেখে নন্দিনীর
মজা করে বলা, অই এতগুলা তুমি কেন?
মাঠে কি করো? জনিও ভালভাবে দেখে
নিচ্ছে ওগুলা গরু নাকি গাভি!
জনির মুঠোফোনে একটা খুদে বার্তা
এসেছে কিন্তু সে নন্দিনীর এই ভালবাসাটা
মিস করতে চাচ্ছিলো না। নিজে পচে যে
ভালবাসাটা সে অনুভব করে তা নন্দিনীকে
পচিয়ে সে পাবে না। বাস থেকে নেমে
জনি বার্তা পরে। ‘আসলে সব ছেলেরা
এমনিই হয়’। তার আর বুঝতে বাকি
থাকে না যে অদিতির ভিতরে আজ জনি
নামের একটা বৃষ্টি হচ্ছে। তার নাক
কান গরম হয়ে আসলেও নন্দিনী কে সে
কিছুই বুঝতে দিল না। সে কিছুটা ভয়
পেলেও মনে মনে অনেক খুশি হল কারন সে
সত্যি বাধাহিনভাবে নন্দিনী কে
ভালবাসতে চায়।
নন্দিনী কে অনেক দেখতে ইচ্ছা হচ্ছে।
আজ তার পরিক্ষা শেষ হল এবং জনি জানে
আজ সে বাসায় আসবে। নন্দিনীর অনুমতি
চেয়েও পাওয়া গেল না কিন্তু তার অবস্থান
জেনে নিয়ে জনি ক্লাস শেষ করে আর
বাসায় ফিরলো না। চলে গেল নন্দিনীর
বাস যেখানে থামে সেই স্টপেজে। জনি
তাকে না জানিয়ে শুধো একবার দেখেই চলে
যাবে। অনেক অপেক্ষার পর নন্দিনী
বাস থেকে নামলো এবং রাস্তার পাশ দিয়ে
হাটা শুরু করলো। জনি রিক্সা নিলো
নিজের বাসায় যাবার জন্য, তো রিক্সা
যখন নন্দিনীর পাশ দিয়ে যাচ্ছে, সে আর
চুপ থাকতে পারলো না। না হয় একটা
বকাই খাবে অথবা কানে ধরে উঠবস করে
নিবে, বেপার না। ডাক দিয়ে বসলো সে
‘নন্দিনী’। নন্দিনী বুঝতে পারলো
তাকে জনিই ডেকেছে। প্রসান্তি ভরা
এক হাসি নিয়ে সে তাকালো কিন্তু সে
জানত না এই হাসিটাই হয়তবা তার শেষ
পিছুটানবিহিন হাসি। সরক দুরঘটনায়
মারা যাওয়া জনির লাশ পরে রইল রাস্তার
মাঝখানে। নন্দিনী হয়তো ভাব্বে জনি
কোন কাজে এসেছিলো কিন্তু সত্যিই কি
তাই???
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now