বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একটি গোধূলী বিকেল

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান সাদ আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X ইস্পাহানী বাংলো!! পোড়ো বাড়িই বলা চলে.. অনেক যুগ আগে এখানে প্রানের স্পন্দন ছিল.. বড় বড় সাহেবেরা এখানে থাকত.. কত চাকর বাকর ছিল.. অনেক জংলা, তার ভিতরে মাথা উচু করে আছে ঘরটা... প্রায় ৫০ গজ জংলা পথ পারি দিয়ে বাংলো টা.. বাংলোটার চারপাশেই ঝোপঝাড় আর গাছ পালা.. এক সময়ের জৌলুশপূর্ণ বাড়ির এখন ভগ্ন দশা.. যেখান থেকে আমি হেটে ঢুকলাম সেখান থেকেই বর্ষার সময় মাছ ধরি আর গরম কালে ক্রিকেট খেলি... বাতাসের গুনগুন গান, গাছের পাতার সনসন শব্দ আর পাখির কিচির মিচির.. অনেক বেশিই ভালো লাগে.. আমার মন খারাপ থাকলে আর ফিফ্রেসমেন্ট এর জন্য গরম এর সময় প্রায় এখানে আসি.. একটা পুরাতন ইটের বেরি আছে সেখানে বসে বাচ্চা দের খেলা দেখি আর প্রকৃতিকে উপভোগ করি... বাংলোর পিছন দিকটা ইক্টু বেশিই জংলা.. অইখানে বাংলোর দোতলা বিল্ডিং.. সব ধসে ধসে পরছে.. কিন্তু একটা ঘর এখনো একটু ভালো আছে.. এক লোক থাকে ওখানে.. বাংলোর পিছনে একটা পুকুর আর আছে ছোট কুড়ে ঘর.. ঘরের পাসেই মাটির উপর একটা ব্রিটিশ আমলের সিমেন্টের নৌকা.. কুড়ে ঘরটাতে বসতে অনেক ভালো লাগে.. একাকিত্ব কে অনুভব করা যায়.. আমি জানি আমি অনেক বেশিই আত্বক্রন্দিক.. সব সময় নিজের ভিতরেই গুটিয়ে থাকি.. তাই বোধহয় এখানে এসে একাকি বসে থাকি নিষঙ্গ পথচারির মত... আহা!! কি শিতল বাতাস!! হা আমি একলা পথিক... কিন্তু আমি কি ক্লান্ত?? ভাবি মাঝে মাঝে!! অনেক সময়ই মনে হয় আমি ক্লান্ত, বিদ্ধস্থ, নিষঙ্গ!! কই নাতো?? আই আম ফাইন.. একাকিত্ব, নিষঙ্গতাই আমার সঙি.. এইতো আছি!! বেশ তো আছি.. নাইবা কেউ নিক আমার খবর, তাতে কি আসে যায়?? আমার জন্য কারর ভাবতে হবে না. আমি এমনই... গান গাইতে ইচ্ছা করছে.. পারফেক্ট সময়... আশেপাশে কেউ নেই বেসুরো গলা শোনার মত.. ধুরর সুনলেই বা কি??? আজো উদসি শুন্য মনে ভাবি আমি জীবনের কত কথা হারিয়ে গেছ সকল আশা আছে আমার সুধু নিরব ব্যাথা আজ নিরাশার আধারেতে সুখ গুলো ঢেকে গেছে কেন কস্টের সীমা নাই.. বাহ!! পুকুরে একটা সুন্দর ফুল ও ফুটেছে!! অনেক সুন্দর.. কিন্তু ফুলটাও আমার মতই.. নিষঙ্গ!!! এখানে আসলে একটা অনুভুতি হয় আমার... আমার মত ছেলেরা দুনিয়ায় বেশিদিন বাচে না!! এরা অবাঞ্ছিত!! এরা অচেনা!!! এরা পরবাসি!! কেন এই অনুভুতি হয়??? জানিনা!! তবে এটা সত্য যে আমি হাটতে শিখিনি.. সমাজের সাথে.. যুগের সাথে সাথে.. তাতেই বা কি?? দুটো যুগ তো পার হয়ে গেলাম.. আর কতটা বাকি আছে সেটা তো আর আমি বলতে পারব না... জানো?? আমি কাউকে আপন করতে গেলে সে আমাকে পর করে দেয়?? এক্সাম্পল লাগবে?? এইতো কদিন আগে বেষ্ট ফ্রেন্ড চলে গেলো কোন কারন ছাড়াই... তবে আমার নিষঙ্গতা আমাকে ছেড়ে চলে যায়নি... আচ্ছা সাদ তুই কি চাস?? কই কিছুনাতো !! আমি যেমন ছিলাম তেমনই আছি... পরিপাটি!! কিন্তু অপ্রাসঙ্গিক!! হা হা হা হা.... ... যাই হোক উঠতে হবে.. জীবন তো আর থমকে নেই!!... হাটতে শুরু করলাম... দূর থেকে আজানের সুমধুর আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে... গাছের ফাক দিয়ে সুর্যের হলদে রোস্মী আর লাল লাল আভা... গোধুলীলগ্ন!! একটা সর্গীয় পরিবেশ... আবার কাল আসতে হবে এখানে...


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একটি গোধূলী বিকেল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now