বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ঘুম থেকে ওঠে বেশ খানিকক্ষণ বিছানায় চুপচাপ বসে থেকে হাই তুলছি। আজ বিশেষ কোনো কাজ নেই। ভাবছি সারাটি দিন বাহিরে ঘুরঘুর করে কাটাবো। কিচ্ছুটি করতে ইচ্ছে হচ্ছেনা কেনো জানি আজ। আরো কিচ্ছুক্ষণ বসে থেকে অবশেষে বিছানা ছেড়ে বেসিনে পৌছালাম।
বেসিন জিনিসটা চমকপ্রদ, তাই না? পানির কল ছেড়ে দিলেই পাইপ গড়িয়ে পানি পড়তে থাকে। ঠিক যেনো ঝরনার মতো। আবার সে পানি চলে যায় ছোট্ট একটি গর্ত দিয়ে! গর্তটি যেনো সবকিছুই গিলে ফেলতে চায়! সেই সূদুর গ্রিক সভ্যতার'ও বেসিন ছিলো। তবে আজকের মতো এতো গোছানো বা উন্নত না।
হাত বাড়িয়ে দাঁত ব্রাশ এবং পেস্ট নিলাম। দাঁত মাজতে মাজতে ভাবছি সেই আদিকালের দাঁত ব্রাশের কথা। সেকালে এজন্য ব্যবহার করা হতো গাছের ছোট বা কচি ডাল, পাখির পালক, পশুর হাড়, শজারুর কাঁটা। গাছ থেকে তৈরি সেই জিনিসের ব্যবহার এখনও আমরা দেখি মুসলমানদের মাঝে৷ যাকে বলা হয় মিসওয়াক। তেমনি দাঁত মাজতে ব্যবহৃত পেস্ট'ও পুরানো। সেই খ্রীস্টপূর্ব ৫০০০ সালের দিককার কথা। মিশরীয়রা সর্বপ্রথম এই কাজটি করে৷ তবে তা পেস্ট ছিলো না। ছিলো একপ্রকার পাউডার। একালে আসতে আসতে পেস্ট হয়ে গেছে।
চোখমুখ পরিস্কার শেষ। প্রাতঃরাশ সেরে নিয়ে, ঘর ছেড়ে বেরোলাম। চায়ের দোকানে যাবো। চা পানে।
সত্যি বলতে কি, এই – চা পান, জাপান এবং চীন সবই অতীতে একই সূত্রে গাঁথা। চৈনিক সংস্কৃতির সিংহভাগ জাপানকে প্রভাবিত করেছিলো। আবার এই চা'ও আসে চীন থেকে। তবে চায়ের সাথে ভারত উপমহাদেশকে পরিচয় করিয়ে দেয় ব্রিটিশরা। কফি'ও আসে ব্রিটিশদের কল্যাণে।
চা পান শেষে পয়সা মিটিয়ে রাস্তার এক ধার ধরে সোজা হাটতে থাকি। চারিদিকে কতো ঘরবাড়ি, উঁচু উঁচু দালান। প্রতিটি দালানের পিছে কতশত কারিগর। হরেক রকম দালান। আর ভাবি – এরাও বলে আমাদের বর্তমান সভ্যতার কথা। ঠিক যেভাবে অতীতের ভাঙা দালান, সেই দালানের গঠন আমাদের জানান দেয় সেইসব সভ্যতার গল্প।
এমন সময় হঠাৎ কেউ হেকে ওঠেন – সরেন ভাই সরেন, জায়গা দেন। তাকিয়ে দেখি, সামনে থেকে বিশাল ট্রাক আসছে। চাকার আকার আমার ৩ ভাগের একভাগ।
আহ্ চাকা। মানবজাতির ইতিহাসে আগুনের পরেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। সেই আদিম ঠেলাগাড়ী থেকে এই চাকা আজ কম্পিউটারে। ভাবতেই আশ্চর্য লাগে খুব।
মোবাইলটা হাতে নিয়ে সময় দেখলাম। মেলা বেলা হয়েছে৷ সময়। সবাই-ই জানতে চায়। ভাবি – বর্তমানে কত্তো রকমের সময় যে আছে। মনস্তাত্ত্বিক সময়, জৈবিক সময়, ভৌত সময়। অতীতেও সময় নিয়ে ভাবনা ছিলো। ঘড়ি'ও ছিলো। সৌর ঘড়ি৷ সেই সৌর ঘড়ি পরবর্তীতে হলো এনালগ ঘড়ি। পরিশেষে ডিজিটাল।
আরো বেশ কিছুক্ষণ হেটে বসলাম এক টঙ্গের দোকানে। আবারো চা পানে। দুপুরের খাবার খাবো না আজ। চা পান করতে করতে তাকিয়ে আছি এই ব্যাস্ত রাস্তায়। কতো রকম মানুষের আনাগোনা। পরনে রকমারি পোশাক। পোশাক জিনিসটা'ও চমকপ্রদ। নানান দেশের, সভ্যতার নানান পোশাক। শুধু পোশাক-আশাকের উপরেই বইপত্র পাওয়া যায়। পোশাকরা'ও সভ্যতার হয়ে কথা বলে। মনে এলো – শেষ বার কোনো এল বইতে পড়েছিলাম, এক প্রাচীন জাতী তাদের উৎসবে বিশেষ পোশাক পড়তো। সেই পোশাকে ছিলো সপ্তর্ষির ৭টি তারা।
আরো কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে দেখতে পেলাম এক রমণীকে। প্রচুর সেজেছে। দেখেই মাথায় কসমেটিকস এর কথা এলো। মনে পড়লো, গ্রিক শব্দ কসমসের কথা। ক্যাওস মানে বিশৃঙ্খলা। এর বিপরীতে কসমস, মানে শৃঙ্খলা। এই শব্দ ব্যাবহার হয় মহাবিশ্বকে বোঝাতে৷ মহাবিশ্বের সাথে সম্বন্ধীয় কিছু বোঝাতে। এই কসমস থেকেই কসমেটিকস। ভাবি – কিভাবে সুদূর অতীতের পৃথিবীর অন্য প্রান্তের, অন্য এক সভ্যতার একটি শব্দ ইংরেজিতে প্রবেশ করে তা বাংলাদেশও প্রচলিত হয়ে গেলো।
পয়সা মিটিয়ে বাড়ির দিকে হাটা দিলাম। সন্ধ্যা নেমেছে। চারিদিকে বাতি জ্বালানো হচ্ছে। অন্ধকার বুঝি কেউই পছন্দ করে না। সেই আদিকাল থেকেই আমাদের পূর্বপুরুষরাও ভয় পেতো অন্ধকারকে। বাল্ব জ্বলে দেখে মনে পড়ে এডিসনের কথা। টমাস আলভা এডিসন। ভাবি – কেমন খুশি হয়েছিলেন তিনি যখন নিজের বানানো আবিষ্কার থেকে আলো জ্বলছিল। নিশ্চয়ই যেকোনো আবিষ্কারের জন্য সবচেয়ে আনন্দময় মুহূর্ত। আচ্ছা, তিনি তো শত আবিষ্কারের জনক। প্রতিটি আবিষ্কারেইকি একই অনুভূতি ছিলো? – আমি জানি না।
ঘরে ঢুকেই পাখা চালিয়ে দেই। আদিতে সবাই এতো সহজ এতো বাতাস পেতো না। রাজা-বাদশাদের সিংহাসনে বসা ছবি দেখলেই দেখা যায় দু'পাশে ইয়া বড়ো বড়ো দুটো হাতপাখা। বর্তমানেও আমরা দেখি ছোট হাতপাখা৷ আগেও অবশ্য এসব ছোট হাতপাখা ছিলো। এদেশে বিশেষ করে গ্রামবাংলা সহ শহরের অধিকাংশ পরিবারেও এই হাতপাখার দেখা মেলে। এই যে দেয়ালের সাথে লাগানো যে পাখা, সহজে বলা যায় দেয়াল-পাখা এখন ব্যবহার করি আমরা, তা আবিষ্কার করে ফিলিপ ডিয়েল। তবে বৈদ্যুতিক পাখার জনক এস.এস. হুইলার। পরে আসে দেয়াল-পাখা।
রাত বেশি হয়নি। তবে সারাদিন হেটে খুবই ক্লান্ত। তাড়াতাড়ি ঘুমুতে যাবো আজ।
রাহমান হাসান,
৩০/১/২০২১,
চট্রগ্রাম
……………………………………………………
লেখাটি লেখার খাতিরে লেখা। কোন বিশেষ কারণ নেই। এমনিতেই ইচ্ছে হলো, তাই লেখলাম। তথ্যসূত্র দিচ্ছিনা কারণ গুগল করতে হয়নি আসলে। তার উপরে সিরিয়াস কিছু নেই এখানে। যেসব বলেছি সবই প্রায় জানা কথা সবার। আমি এগুলো বহু আগে নানান জাগায় পড়েছি তাই ঘাটতে হয়নি এখন কিছু। তবে আপনি নতুন কিছু এখান থেকে শিখলে জানাবেন। আর কিছু ভুল বলে থাকলেও জানাবেন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now