বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"একটি ডাইরির গল্প" ৩য় ও শেষ পর্ব

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আর.এচ জাহেদ হাসান (০ পয়েন্ট)

X ঋতু তখন এস,এস,সি পরীক্ষার্থী। আর মাস দুয়েক আছে ওর পরীক্ষার এমন একদিনে হঠাৎ অবেলায় ওর ফোন। তখন দুপুর ১২ টা কি ১টা বাজে। সাধারনত ও ফোন দেয় বিকালে। সেদিন শরীর একটু খারাপ ললাগছিল তাই কলেজে যাইনি। ফোনটা ধরার সাথে সাথে ওপাশের ঋতুর কন্ঠটা কেমন যেন শীতল শোনা গেল। -'আই লাভ ইউ!!!' ফোন দরেই বললাম। এটা আমদের নিয়ম ছিল যে, ফোন ধরার সাথে সাথে আমরা "আই লাভ ইউ" বলব। -'শাহীন তোমার সাথে আমার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে।' -' বল। শুনি কি তোমার এতো গুরুত্বপূর্ণ কথা।' -' আই'ম সরি। আমার পক্ষে আর এই রিলেশন রাখা সম্ভব হচ্ছে না।' ঋতুর কথা শুনে আমি যেন আকাশ থেকে পরলাম। -' এসব কি বলছ ঋতু? তোমার মাথা ঠিক আছে তো? ' -'আমার মাথা ঠিকই আছে ' -' কি হয়েছে ঋতু আমাকে বল?' -'আমার পক্ষে আর সম্ভব না। আর কোন কারন জানার দরকার নেই। ভাল থেক। ' ঋতু কল কেটে দিল। আমি আবার ওকে ফোন দিলাম। কিন্তু ও এর মধ্যে মোবাইল বন্ধ করে দিয়েছে। আমি ভাবতে পারছিলাম না তখন কি করব। কিছুক্ষণ পর মাথায় এলো ওর মামাতো বোন তন্নির কথা। তখনই তন্নিকে কল দেই। তন্নি প্রথমে কিছু না বলতে চাইলেও আনেক জোরাজুরিতে পরে বলে যে, ঋতুর টেস্ট পরীক্ষার ফলাফল অনেক খারাপ হয়েছে। ঋতু মনে করে আমার সাথে সম্পর্ক রাখার কারনে ও পড়ার দিকে মনযোগ দিতে পারছে না। তাই ঋতু এখন আর সম্পর্ক রাখতে চাইছে না। শেষে তন্নি ঋতুর পরীক্ষার পর আবার ঋতু আগের মতো হয়ে যাবে বলে আসা দেয়। ……… আমি চাইনা আমার জন্য কারও সমস্যা হোক। তাই আমিও পরে আর কল দেইনি। এভাবেই চলতে থাকে। প্রথম কয়েকদিন খুব খারাপ লাগছিল। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে মোটামুটি কাটায়ে উঠলাম। কিন্তু সুযোগ এবং প্রস্তাব পাওয়া দরুনও অন্য কারও সাথে আর রিলেশনে জড়ায়নি। দেখতে দেখতে ঋতুর পরীক্ষা শেষ হয়ে গেল। কিন্তু তবুও ঋতুর কোন খবর নেই। কিছুটা অভিমান ছিল ওর উপর। আমি আর তখন ওকে ফোন দেইনি। ভাবলাম নিজেই যখন চলে গেছে নিজেই ফিরে আসুক। কিন্তু ঋতু কোন সাড়া নেই। এভাবেই পার হয়ে যাচ্ছিল দিন, তারপর মাস, তারপর বছর। ইতোমধ্যে আমি এইচ,এস,সি পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। মাঝেমধ্যে বাড়িতে যেতাম। ভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পর হলে চলে আসি। টুকটাক কিছু কাজ করি। এতেই চলে যাচ্ছে দিনকাল। ……… এখন আমি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। মাসখানেক আগে এক কাজে যাই ময়মনসিংহ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেখানে ঋতুর সাথে দেখা হয়। ওকে এই জায়গায় এভাবে দেখব ভেবেছিলাম না। ঋতুও কিছুটা হকচকিয়ে যায়। তারপর এক পার্কে বসে কিছুক্ষণ কথা বললাম। ওর কাছ থেকে জানলাম যে, ও এখন ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। সেই সুবাদেই এখানে। ঋতুর নম্বর পাল্টিয়েছে। তারপর নম্বর আদানপ্রদানের পর চলে আসলাম। ঋতুর উপরে অনেক অভিমান ছিল। কিন্তু ওকে দেখার পর তা আর ঝাড়তে পারিনি। মেয়েটা আরও সুন্দরী হয়েছে। ……… এর দুইদিন পর রাতে হঠাৎ ঋতুর ফোন আসে। বলা বাহুল্য যে ওর নম্বর নেয়া সত্যেও ওকে ফোন দেইনি। সেদিন রাতে অনেকক্ষণ কথা হল। বুঝতে পারলাম পুরনো আবেগ আবার জেগে উঠছে। এরপর থেকে নিয়মিতই আমাদের কথা বলা শুরু হয়। কিন্তু কাল রাতে হঠাৎ করে ঋতু বলল যে, ও কালকে ঢাকা আসছে। কি যেন কাজ আছে। এসে আমার সাথে দেখা করবে। আমাকে স্টেশনে যেতে বলেছে। আমি খুব খুশি হলাম। তাই ওর কথা ভেবে আমদের সব স্মৃতি লিপিবদ্ধ করলাম আজকে। ২০/১২/২০১৪" >>>


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২২৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "একটি ডাইরির গল্প" ৩য় ও শেষ পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now