বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

"একটি ডাইরির গল্প" ১ম পর্ব

"রহস্য" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান আর.এচ জাহেদ হাসান (০ পয়েন্ট)

X সবুজবাগ থানার এস,আই আরিফ আহামেদের দিন গুলো খুব ব্যাস্তময় ভাবে কাটছে। ইদানীং অনেক অপরাধ বেড়ে গেছে এই বাসাবো এলাকায়। আজ সকালে থানায় এসে কেবল মাত্র বসেছে এর মধ্যে কিছু এলাকাবাসী এসে খবর দেয় যে এক বাসায় আত্মহত্যা করেছে কোন ব্যক্তি। আরিফ আহামেদ ঠিকানা লেখে নিয়ে দুইজন কনেস্টাবল নিয়ে বেড়িয়ে পরল। থানা থেকে বাসাটা বিশ মিনিটের পথ। পাটোয়ারি গলির শেষ মাথায় বাসাটা। বাসার নম্বর ১২৩-ডি/২। নিচে গিয়ে মানুষের জটলা চোখে পড়ে আরিফের। ঘটনাটা ঘটেছে বাসার চারতলায়। লাশটা একজন বিশ-বাইশ বছর বয়সী যুবকের। ছেলেটার আত্মহত্যার ধরনটা একটু অন্যরকম। মানুষ আত্মহত্যা করে হাতের রগ কেটে। কিন্তু এই ব্যক্তি দুই পায়ের রগ কেটে আত্মহত্যা করেছে। বেলা এগারোটার দিকে লাশটাকে পোস্টমর্টেমে পাঠানো হয়। বাসাটা দুই রুমের। ছেলেটা একাই থাকতো। আরিফ আহামেদ ছেলেটার রুমের চারিদিকে তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। যদি কোন সুইসাইড নোট বা এমন কোন তথ্য যা থেকে ছেলেটার আত্মহত্যার কারন যানা যায়। এমন সময় তার চোখ গিয়ে পড়ল খাটের নিচে এক কোণায়। একটা মোটা কালো ডাইরি। তার মনে হলো ছেলেটা মৃত্যুর আগে এটাই পড়ছিল। তার মনে হচ্ছিল ডাইরিটার মধ্যে নিশ্চয়ই কোন রহস্য আছে। ……… আরিফ আহামেদ কোন এক অজানা কারনে ডাইরিটাকে নিজের বাসায় নিয়ে আসেন। আরিফ আহামেদ একাই থাকেন। বাবা-মা থাকেন গ্রামের বাড়ী টাংগাইলের কালিহাতিতে। রাতের খাওয়া দাওয়া শেষ করে শুতে যাবেন এমন সময় তার চোখ গেল সেই কালো ডাইরিটার দিকে। কোন এক অজানা আকর্ষণে ডাইরিটা হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করলেন। ……… "আমি শাহীন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারু ও কারুকলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। আমার বাড়ি বরিশালের পিরোজপুর উপজেলার দীর্ঘা গ্রামে। বাবা গ্রামের মোড়ল। আমার বড় তিন বোন আছে। আমিই সবার ছোট। বাড়ি থেকেই ম্যাট্রিক পর্যন্ত লেখাপড়া করি। এরপর কলেজে উঠে ঢাকায় চলে আসি। " প্রথম পাতায় শুধু এটুকুই লেখা। এথেকে ছেলেটার পরিচয় জানা গেল। আসিফ দ্বিতীয় পাতায় চলে গেল। সেখানে বড় বড় করে লেখা, "আমি এবং ও" ……… "আমি এবং ও" তখন আমি ক্লাস থ্রিতে পরি। আমি তখন গ্রামে থাকতাম। আমরা প্রতিদিন বিকালে নদীর পাড়ে খেলতাম। সেসব দিন গুলো আজও চোখের সামনে ভাসে। একদিন বিকালে আমার খেলতে যেতে একটু দেরি হয়ে গেছিল। আমি যখন মাঠে গেলাম তখন একটা নতুন মুখকে দেখতে পেলাম। আমি তাসিনকে জিজ্ঞেস করলাম, -' ও কেরে?' তাসিন বলল, -'ও হচ্ছে তন্নির ফুপাত বোন। নাম ঋতু। বরিশাল শহরে থাকত। এখন থেকে এখানে থাকবে।' ঋতু তখন ক্লাস টুতে পড়ত। আমার চেয়ে এক ক্লাস নিচে। ঋতুর মামা বাড়ি ছিল আমাদের গ্রামে। ঋতুরা কেন তার মামা বাড়িতে চলে এসেছিল তখন আমি বুঝিনি। পড়ে বড় হলে জানতে পারলাম যে, ঋতুর মা-বাবার মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছিল। ঋতু আমার খুব ভাল বন্ধু ছিল। আমরা একসাথে গোল্লাছুট খেলতাম, নদীতে গোসল করতাম, ঘুড়ি উড়াতাম…আরও কত কিযে করতাম তার ইয়াত্তা নেই। আমি আর ও একসাথে বড় হতে থাকি। ওর সাথে থাকতে থাকতে কখন যে ওকে নিজের মনে জায়গা দিয়ে ফেলেছি তা আমি নিজেও জানতাম না। আমি যখন ক্লাস এইটে পড়ি তখন আমি বিষয়টা বোঝতে পারি। কারন কোন এক অলৌকিক কারনে ঋতুর মা-বাবার মধ্যে পুণরায় সম্পর্ক ঠিক হয়ে যায়। ফলে ওরা আবার বরিশালে চলে যাবে। তন্নির কাছ থেকে যখন শুনলাম যে, ঋতুরা আবার বরিশালে চলে যাবে তখন থেকে মনের মধ্যে শুধু খচ খচ করছিল। সেদিন রাতে একফোঁটাও ঘুম হলোনা। তখন আমি নিজের মনে মনে চিন্তা করলাম যে,'আমি কি ওকে ভালবাসি?' আমার অবচেতন মন আমার কথায় সায় দিল। ঠিক করলাম তার পরদিন ঋতুকে আমার মনের কথা বলে দেব। যা হয় কপালে। তারপর দিন ছিল রবিবার। আমি আর ও দুইজনই দীর্ঘা স্কুলে পড়তাম। সেদিন স্কুলে যাওয়ার পথে ওকে দেখতে পেলাম। আজ একাই আছে ঋতু। আমি আর ও পাশাপাশি হেটে যাচ্ছিলাম। বুকে অনেক সাহস নিয়ে আমি ওর সাথে কথা বলতে শুরু করলাম। -' কিরে লবন তোরা নাকি আবার বরিশাল চলে যাচ্ছিস?' ঋতুকে আমি লবন ডাকতাম। লবন বললে ও খুব ক্ষেপে যেত। সেদিনও যথারীতি ও ক্ষেপে গিয়ে আমার পিঠে ধুম করে একটা আধা কেজি ওজনের ঘুষি পড়ল আমার পিঠে। তারপর মুখে ভেংচি কেটে বলল, -' হ্যা, আমরা বরিশালে চলে যাচ্ছি। ' -'কবে যাচ্ছিস? ' -'সামের মাসে তো দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা, তাই পরীক্ষা শেষ করে টিসি নিয়ে চলে যাব।' মনে মনে হিসাব করলাম যে আর দেড় মাসের মতো আছে ঋতু। বুক ভরে একটা গভীর শ্বাস নিয়ে ঋতুকে বললাম, -'তোকে একটা কথা বলি?' -' বল।' আমার তখন আত্মা ধুক ধুক করছে। তারপর বললাম, -'ঋতু যখন আমি শুনলাম তুই চলে যাবি, মনের মধ্যে কেমন যেন লাগছিল। মনে হলো কি যেন হারিয়ে যাচ্ছে আমার কাছ থেকে। আমার মনে হয় আমি তোর মাঝে হারিয়ে গেছি। ঋতু আমি তোকে ভালবাসি। তুই কি আমার হবি?' একনাগাড়ে কথা গুলো বললাম। ঋতুর দিকে চেয়ে দেখি ওর চোখ ছানাবড়া হয়ে গেছে। এর মধ্যে আমরা স্কুলের কাছাকাছি এসে পড়েছি। ঋতু কিছু বলল না। চুপ করে ও চলে গেল। সেদিন টিফিনের সময় ঋতুকে ডাক দিলাম। ও আসলো না। ছুটির পরে ও তন্নির সাথে তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে গেল। ............চলবে.............


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২১৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ "একটি ডাইরির গল্প" ২য় পর্ব
→ "একটি ডাইরির গল্প" ১ম পর্ব
→ "একটি ডাইরির গল্প" ৩য় ও শেষ পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now