বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
-তুই এতো বেয়াদব কেন?
-তুই চাইলেই আদব হয়ে যাব।
নীলা আজও বলল
না কিছুই।
আমি আসলে নীলার মুখ থেকে কিছু একটা শোনার
ইচ্ছা করছিলাম। ইচ্ছেটা আজ না গত কিছুদিন
ধরে করে যাচ্ছি। আমি চাইলেই
বলে দিতে পারি আমি তোকে ভালোবাসি, তোকে চাই
অজানা সন্ধ্যায় হাতের মুঠিতে। কিন্তু
বলতে পারছি না।আসলে বলা যাচ্ছে না।
মাঝে মাঝে ভাবি কি হয় যদি বলে দিই
তোকে ভালোবাসি,অন্ধকার ঘরের কিছুটা আলগা আলোয়
তোকে চাই।
আমি জানি নীলা থমকে যাবে,চোখমুখ
কালো করে অদ্ভুত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাবে।
মুখে কিছুই বলতে পারবে না।
বলতে পারবে না তোকে ভালোবাসিনা অথবা
এটা হতে পারে না।
আবার নীলার ফোন “দোস্ত কাল তুই ফ্রি আছিস?
-আমিতো সারাজীবন তোর জন্য ফ্রি আছি।
-ফাজলামো না সত্যি করে বল আছিস?
-হুমম
-ওকে বিকালে তোকে নিয়ে কিছু বই কিনতে হবে।
-ওকে।
আর যাই হোক বৈকালিক
রিকশা ভ্রমনটাতো হবে, যতটুকু ছোঁয়াছুঁয়িতে পাপ
নেই ততটুকু ছোঁয়াতো পাবো অথবা নীলার সতেজ
শ্যাম্পুকৃত চুলের ঘ্রাণ। এসবে আমার
অনুভূতি যাযাবরের মত ঘুরতে থাকে। রিকশায় নীলার
হাতের সাথে আমার হাত একটু লেগে গেল।ওর হাতের
ছোঁয়ায় আমার শহরে তখন রিকশাটাই কেবল চলছিল।
বাকি সবকিছু থেমে গেছে। থেমে গেছে বড়বড়
বিলবোর্ড,চৌরাস্তা,গ্রাম
থেকে আসা পথচারী।
আমি সিগারেট ধরালাম।
এই জিনিস ধরালে সব মেয়েই ফুঁসলে উঠে।
এটা হতে পারে প্রিয়জনকে ক্ষতির হাত
থেকে রক্ষা করা অথবা নিতান্তই মেয়ে সুলভ
ষ্টাইলিশ আচরন। কারন যেটাই হোক না কেন
নীলা যখন আমার মুখ থেকে টেনে সিগারেট
ফেলে দেয় আমার বেশ ভালো লাগে।
প্রত্যেক ছেলেরই
এমন ভালো লাগা উচিত।
বেশ ক’দিন দেখা হয়
না আমাদের। ইচ্ছা করেই বলি না চল
দেখা করি অথবা অভিমান আছে বলেই বলি না।
সেও বলে না।
নীলা আমাকে ভালোবাসে কিনা? অথবা আমাকে চায়
কিনা এ প্রশ্ন একেবারে অযৌক্তিক। ভালোবাসলেও
আমার কাছে আসার কোন উপায় নেই তার।
কতটা ভালোবাসলে নিজের প্রেমিককে ছেড়ে আমার
কাছে আসবে? হুমম নীলার প্রেম দীর্ঘ দিনের।
আমি কিছুটা থমকে আছি,
নীলা এবং নীলাকেন্দ্রিক সকল ভাবনা একান্তই
আমার করে চুপসে গেছি। কিছুদিন হল নীলা বোধহয়
আগের আমাকে মিস করা শুরু করেছে। দিন
যেতে থাকে,মাঝে মাঝে দেখা হয়,রিকশা ভ্রমণ হয়।
আমি বুঝতে পারি নীলা পুরানো আমাকে মিস করা শুরু
করেছে। এটা ভাল লক্ষন। আমি আবার সুযোগ
নিয়ে ফেললাম। জিজ্ঞেস করলাম “তোর প্রেমিকের
খবর কি? আছে কেমন?
-আর প্রেমিক?
বুঝলাম অবস্থা বেশী ভাল। সুযোগ সন্ধানী তরুন-
তরুনীরা সদা তার প্রেমিক প্রেমিকার সম্পর্কের
দুঃসময় বর্ণনা করে।
নীলা সেটা করছে কিনা বুঝলাম না। তবে বুঝলাম
আমার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
শীত ঝাপটে পড়েছে,চাদরে মোড়া নীলা আজও আরও
বেশী সুন্দরী। “আচ্ছা নীলা আমি যদি একবার তোর
হাত ধরি,তুই কি মাইন্ড করবি? ধর সামনের মোড়
পর্যন্ত তোর হাত ধরে যাবো? নীলা উত্তর দিল না।
তবে হাতটা যে একটু বাড়িয়ে দিল তা বুঝলাম।
নীলার হাত আমার মুঠোবন্দী।
তবে সত্যি বলতে কি এই সন্ধ্যায় আমার ভিতর
থেকে নীলার হাত ধরার কোন বায়না ছিল না। সুযোগ
নেয়ার একটি উপায় বোধহয় হাতধরা। হঠাৎ
আমি অনুভব করলাম, আমার বুকে নীলার জন্য
এখনো আগের মতোই আছে সবকিছু। নীলার হাত ধরেতেই
আমার বুক কাঁপছে, কান ভনভন করছে। নিতান্তই
সুখে মরে যাবার ইচ্ছাই হচ্ছে । আমি নীলার হাত
চাইলেও ছারতে পারব না। কোনোদিন না।
-অস্পর্শী মীম
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now