বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একজন অভ্র এবং জনৈক পিতা (পর্ব-৬)
আবুল ফাতাহ
.
ছয়
ঘুম থেকে ধড়মড় করে উঠলাম।মনে পড়ে গেছে আজ জরুরি একটা কাজ করতে হবে।হাতমুখ ধুয়ে রান্নাঘরে বসেই মা'র পাশে বসেই নাস্তা করলাম।আমি কখনো গ্রামে থাকিনি,তবে রান্নাঘরে চুলার পাশে বসে নাস্তা করার মধ্যে গ্রাম গ্রাম ব্যাপারটাই প্রকট হয়ে ওঠে,যদিও আমাদের চুলাটা গ্যাসের।
কিছুক্ষণের মধ্যেই মতিঝিলগামী চুড়ান্ত লোকাল গাড়িতে গিয়ে বসে পড়লাম। আশা করা যায় দুপুরের আগে পৌঁছে যাব!
কাল আফরীনের সাথে কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ করেই মাথার মধ্যে একটা আলো দেখতে পেয়েছি।একটার সাথে আরেকটা যে ওতপ্রোতভাবে জড়িত,এমন না ব্যাপারটা।আড্ডা দিতে গেলে ব্যাপারটা ভাল বোঝা যায়।যে আড্ডা আদার ব্যাপারীকে নিয়ে শুরু হয় সেই আড্ডা শেষ হয় জাহাজে গিয়ে!সামান্য সূত্র ধরেই চিন্তা ভাবনার গতিপথ অনেকটা পরিবর্তন হয়ে যায়।এই ব্যাপারটাও তেমনই বলা চলে।
অনন্তকাল পর যেন জহির সাহেবের গার্মেন্টসের সামনে এসে দাঁড়ালাম।আজ শুধু গার্ডই দাঁড়িয়ে আছে গেটে।বদরুলকে দেখা যাচ্ছে না।আমি গার্ডের সামনে গিয়ে একটা হাসি দিলাম।গতকালই সে শুনেছিল আমি ওদের বড় সাহেবের কাছ থেকে এসেছি।প্রথম দেখাতেই চিনতে পারল।
‘ভাল আছেন স্যার?’
‘হুম,বদরুল ভাই কোথায়?’
‘ভিত্রে।’
‘আমি ভিতরে যাব একটু।’
‘যান,স্যার।বড় স্যার ম্যানেজার স্যাররে ফোনে বইলা দিছে আপনের কথা।’
‘ধন্যবাদ,’ বলে আমি ভিতরে ঢুকে পড়লাম। কয়েক পা এগিয়ে বললাম,‘আমিই যে সেই লোক সেটা কিভাবে বুঝলেন?’
গার্ড ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল আমার দিকে।সে কোনো জবাব দেয়ার আগেই আমি সিঁড়ির দিকে এগোলাম।মানুষকে বিভ্রান্ত করবার আনন্দ তুলনাহীন!
বিল্ডিংটা ছয়তলা।প্রথমতলা মার্কেট।এটাও জহির সাহেবেরই।গার্মেন্টসে ঢোকার প্রবেশ পথ ভবনের পেছন দিকে।দোতলায় কর্পোরেট অফিস।এখানে গার্মেন্টসের কর্মকর্তারা বসেন।বাকি চারতলার পুরোটাই গার্মেন্টস।আমার জানামতে এটাই জহির সাহেবের একমাত্র ব্যবসা নয়,তবে সবচাইতে পুরনো।
সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় চলে এলাম।গন্তব্য,পিয়ন-বেয়ারাদের কামরা।চাইলে ম্যানেজারের সাথেই কথা বলা যেত,কিন্তু আমি চাচ্ছি সরাসরি বদরুলের সাথে কথা বলতে।আশে পাশে অনেকেই ফিরে ফিরে তাকাচ্ছে আমার দিকে।কর্মী বাদে গার্মেন্টসে সাধারনত যারা আসে তারা মূলত বায়ার।দামী দামী জামা কাপড় পরা।মাঝে মধ্যে বিদেশীরাও।আমার মত বাউন্ডুলে টাইপের মানুষ দেখলে অবাক হওয়াই স্বাভাবিক।
খুঁজে পেতে পিয়নদের জন্য বরাদ্দ কামরাটা চোখে পড়ল।ক্ষুদে একটা রুম।ভেতরে উঁকি দিতেই দেখলাম বদরুল কতগুলো খাম নিয়ে বসে বসে কী যেন করছে।আমি খুক করে কাশি দিলাম।বদরুল মহা বিরক্তি নিয়ে মুখ তুলল।আমাকে দেখে বিরক্তি কিছুটা দুর হল,পুরোপুরি না।সেদিনের পান সংক্রান্ত অপমান বোধহয় ভুলতে পারেনি।
‘বদরুল ভাই পান খাবেন?’ আমি একগাল হেসে জিজ্ঞেস করলাম।
মুহুর্তে জন্য বদরুলের মুখে একটা ছায়া পড়েই মিলিয়ে গেল।তবে এবার আর ভুল করল না,‘জে,খামু।’
‘আচ্ছা খাওয়াব।তার আগে বলেন,আপনি কেমন আছেন?’
‘হে হে,মাশআল্লাহ,খারাপ না।’
‘হুম,আপনার নিশ্চয়ই প্রতিদিনই ডিউটি থাকে?’
‘কী যে কন স্যার।আমারে ছাড়া স্যাররা তো চলতেই পারে না।উঠতে বদরুল,বইতেও বদরুল!’
‘উঠতে বদরুল, বইতেও বদরুল-সেইরকম অবস্থা দেখা যাচ্ছে!’
‘স্যার,পানডা কখন খাওয়াইবেন?’
‘এখনই।আচ্ছা বদরুল ভাই,আপনি কি ছুটির দিনও ডিউটি করেন?’
‘না না,সেইটা করমু কেন?’
‘হুম,তা তো ঠিকই।আচ্ছা আপনার কাছে চিঠিটা যেন কবে এসেছিল বলেছিলেন?’
‘এইতো,এই সোমবারের আগের সোমবার।’
‘শিওর?’
‘একশবার শিউর।’
‘ও আচ্ছা।দাঁড়ান,’বলে আমি পকেট থেকে আমার মোবাইলটা বের করে ক্যালেন্ডার দেখালাম বদরুলকে।‘ক্যালেন্ডার দেখতে পারেন তো,তাইনা?’
‘জে।’ কেমন মিনমিনে গলায় বলল বদরুল।বুঝতে পারছে,চারপাশ থেকে জাল গুটিয়ে আসছে।
‘দেখুন তো,গত সোমবার কয় তারিখ ছিল?’
‘ “ষুলো” তারিখ।’ ঢোক গিলল বদরুল।
‘আরে তাইতো,ষোল তারিখ!ষোলই ডিসেম্বর।বিজয় দিবস।এতদিন জানতাম দেশের সব প্রতিষ্ঠান ওইদিন বন্ধ থাকে,এখন জানলাম এই গার্মেন্টস খোলা থাকে।’
বদরুল আরেকটা ঢোক গিলল।
‘মিথ্যেটা কেন বললেন বদরুল ভাই?’
‘স্যার,আমারে মাফ কইরা দেন।আমার কুনো দুষ নাই।’
‘মাফের প্রশ্ন পরে।আগে বলুন মিথ্যেটা কেন বললেন?’
‘বড় স্যার কইতে কইছিল।’
‘বড় স্যার মানে জহির সাহেব?’
প্রবল বেগে মাথা ঝাঁকাল বদরুল।
আমি পুরোপুরি বিভ্রান্ত হয়ে পড়লাম।জহির সাহেব এ কথা কেন বলতে যাবেন?‘কখন বলতে বলেছিল?’
‘আপনে কাইল যখন আইলেন তার ইকটু আগে ম্যানেজার স্যারের ফোনে আমারে চাইছিল বড় স্যার।তারপর কইল,আমারে যদি কেউ কুনো চিঠির কথা জিগায় তাইলে যেন আমি কই চিঠিটা দশ বারোদিন আগে আমারে এক ব্যাডা দিয়া গেছে।আমারে কুনো তারিখ তুরিখ কিছু কয় নাই বড় স্যার,এইজন্য আপনেরে বানায়ে বানায়ে একটা তারিখ কইছি।’
বুঝতে পারলাম,আমার সৌভাগ্য বদরুলকে দিয়ে এমন একটা তারিখ বলিয়েছে যে তারিখে কোনো চিঠি তার কাছে আসার কথা না।
‘তারমানে,আপনি যে কাল বলেছিলেন চিঠিটা যে দিয়ে গেছে সে গাড়ি নিয়ে এসেছে-সেটা মিথ্যে?’
‘জে।’
এইমাত্র জটিল একটা জট খুলল।তবে সত্যি বলতে পুরো ব্যাপারটা আরো ভজকট পাকিয়ে গেছে।একেবারে ব্যাড়াছ্যাড়া অবস্থা।
‘বদরুল ভাই,আপনার কাছে মূলত চিঠিটা কবে এসেছিল?’
‘আমার কাছে তো বড় স্যারের কুনো চিঠি আসে নাই।আমি কামে জয়েনই করছি দুইমাস হইব।এই দুইমাসে অফিসের চিঠি ছাড়া আর কুনো চিঠি আসে নাই আমার কাছে।’
এবার আরো ধন্দে পড়ে গেলাম আমি।তারমানে চিঠিটা কি বানোয়াট?জহির সাহেবের কোনো মেয়ে আদৌও নেই?নতুবা এই চিঠি জহির সাহেব পেলেন কোথায়?জহির সাহেবের ভাষ্য অনুযায়ী তাদের বাসার ঠিকানা ইয়াসমিন ম্যাডাম জানত না।তবে আরেকটা সম্ভবনা উঁকিঝুঁকি মেরে যাচ্ছে।আমি জিজ্ঞেস করলাম,‘আচ্ছা,আপনার আগে এখানে কে কাজ করত?’
‘আমি তো দেখি নাই,শুনছি এক বুইড়া ব্যাডা।বয়স হইয়া গেছিল তাই কাম ছাইড়া দিছে।’
হতে পারে আগের পিয়নের কাছে এসেছিল চিঠিটা।বললাম,‘আপনার কাছে আগের পিয়নের ঠিকানা আছে?’
‘নাহ,ম্যানেজার সাহেব কইতে পারব।’
‘আচ্ছা,আমি ম্যানেজার সাহেবের সাথে কথা বলছি।’কয়েক পা এগিয়ে গেলাম ইচ্ছে করেই।এরপর ফিরে এসে বদরুলের হাতে কয়েকটা খিলি পান ধরিয়ে দিলাম।
অপ্রত্যাশিত প্রাপ্তির আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল লোকটার মুখ।
***
ম্যানেজার সাহেবের কামরায় মৃদু টোকা দিতেই ভেসে এল,‘কাম ইন।’
আমাকে ঢুকতে দেখেই ভ্রু জোড়া কাছাকাছি এনে জিজ্ঞেস করলেন,‘আপনাকে তো ঠিক...’
‘আমার নাম অভ্র।’ ছোট্ট করে জবাব দিলাম।
‘ওহ,আসুন আসুন,আপনার কথা কাল বলেছিলেন স্যার।আপনাকে সব ধরনের সাহায্য করতে নির্দেশ দিয়েছেন।’
ভদ্রলোক বেশ অমায়িক।ঠোঁটের হাসিটা অকৃত্রিম।আমি চেয়ার টেনে তার সামনে বসে পড়লাম।‘একটা সাহায্য আমার আসলেই প্রয়োজন হয়ে পড়েছে,’বললাম।
‘হ্যাঁ হ্যাঁ, বলুন।তার আগে চা দিতে বলি?’
‘বলতে পারেন।’
ম্যানেজার সাহেব বেল টিপে বেয়ারাকে চায়ের অর্ডার দিয়ে আমার দিকে ফিরে তাকালেন।‘আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি?’
‘আচ্ছা,আপনাদের বর্তমান পিয়ন বদরুল তো নতুন এসেছে চাকরিতে,তাইনা?’
‘হুম,তা বলা যায়।দু’মাস হবে।’
‘এর আগে কে ছিল তার জায়গায়?’
‘লোকমান মিয়া নামে একজন।অনেক বয়স হয়েছিল,কাজ ছেড়ে দিয়েছে।’
‘আচ্ছা,উনার ঠিকানা নিশ্চয়ই আছে আপনাদের কাছে?’
‘হুম,নিশ্চয়ই।’
‘ঠিকানাটা আমার প্রয়োজন।’
এরকম একজন অমায়িক মানুষের আচরণ কিভাবে বেমালুম পাল্টে যেতে পারে না দেখলে বিশ্বাস করা মুশকিল।ম্যানেজার সাহেব মুখ শক্ত করে বললেন,‘সরি স্যার,ঠিকানাটা আমাদের কাছে নেই বোধহয়।’
আমি হো হো করে হেসে উঠতেই ভদ্রলোক ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন।‘ম্যানেজার সাহেব,আপনি অভিনয়ে বড্ড কাঁচা,হা হা হা। সরাসরিই বললেই হত,জহির সাহেবের নিষেধ আছে ঠিকানা দেয়ায়।’
ঢিলটা একেবারে জায়গামত লেগেছে।আচমকা নিষ্প্রভ হয়ে গেলেন ম্যানেজার সাহেব।
আমি অবশ্য আন্দাজ করেছিলাম,জহির সাহেবই নিষেধ করেছেন লোকমান মিয়ার ঠিকানা আমাকে না দিতে।বুঝতে পারছি,জহির সাহেব কিছু একটা লুকাতে চাইছেন আমার কাছ থেকে।সেটা যে কী ,সে সম্পর্কেও পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই।তবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন,সেটা বুঝতে পারছি।
ম্যানেজার সাহেবের সাথে যুদ্ধ বাঁধিয়ে লাভ নেই।তিনি লোকমান মিয়ার ঠিকানা আমাকে দেবেন না।আমি সরাসরি জহির সাহেবের সাথে কথা বলাটাই শ্রেয় মনে করলাম।ফোন দিলাম তাঁকে।
‘হ্যালো।’ দুবার রিং হতেই রিসিভ করলেন জহির সাহেব।
‘স্যার,আমি অভ্র।’
‘হ্যাঁ,হ্যা,চিনতে পেরেছি।কোনো সমস্যা?’
‘সামান্য।আপনি কি আপনার ম্যানেজার সাহেবকে বলবেন,লোকমান মিয়ার ঠিকানাটা যেন আমাকে দিয়ে দেন উনি?’
জহির সাহেব হুট করে একেবারেই নিশ্চুপ হয়ে গেলেন।কানে শুধু লাইনের মৃদু শোঁ শোঁ আওয়াজ পাচ্ছি।আওয়াজটাকে ঠিক সমুদ্রের গর্জনের সাথে তুলনা করা যেতে পারে কিনা ভাবছিলাম এমন সময় বেশ কিছুক্ষণ চুপ থাকবার পর জহির সাহেবের গলা ভেসে এল ওপাশ থেকে,‘আপনি ফোনটা ম্যানেজারকে দিন।’
আমি হাসিমুখে ফোনটা বাড়িয়ে দিলাম ম্যানেজারের দিকে।চেহারায় “কি মিয়া,কইছিলাম না” টাইপের একটা লুক ফুটিয়ে তুললাম।
ম্যানেজার সাহেব কিছুক্ষণ “জী স্যার,জী স্যার” বলে ফোনটা ফেরত দিলেন।
‘স্যার,আপনার সাথে আমি পরে কথা বলব।কয়েকটা প্রশ্নের জবাব জানাটা জরুরী।এখন রাখি,’ তাঁর উত্তরের অপেক্ষায় না থেকেই ফোন কেটে দিলাম আমি।বেশ স্থুলভাবেই অপমান করেছি জহির সাহেবকে।তার কারণও আছে।আমি যেখানে তার একমাত্র মেয়েকে খুঁজে বের করে দেবার ব্রত নিয়েছি সেখানে যেন উনি আমাকে বিভ্রান্তিতে ফেলে দেবার ব্রত নিয়েছেন।ভদ্রলোকের আচরণ খুবই রহস্যময়।সেজন্যই তাঁকে বুঝিয়ে দিলাম,গরজটা তাঁর,আমার না।’
ইতোমধ্যেই চা চলে এসেছে।ম্যানেজার সাহেব বেয়ারাকে রেকর্ড সেকশন থেকে লোকমান মিয়ার ঠিকানা নিয়ে আসবার জন্য পাঠিয়েছেন।ম্যানেজার সাহেব হঠাৎ করে চুপ মেরে গেছেন।আমিও আর তাঁকে ঘাটালাম না।চুক চুক করে চায়ে চুমুক দিতে দিতে জহির সাহেবের রহস্যময় আচরণ নিয়ে ভাবতে লাগলাম।
তিনি চিঠিটা নিয়ে রহস্য করছেন কেন?আমাকে বললেন দু’সপ্তাহ আগে এসেছে চিঠিটা।বদরুলকেও সেই একই কথা বলতে তিনি নিজেই ফোন করে নির্দেশ দিয়েছেন।যতদুর বুঝতে পারছি চিঠিটা সম্ভবত লোকমান মিয়াই রিসিভ করেছিল।অথচ তার ঠিকানা দিতেও নিষেধ করে দিয়েছেন তিনি।বদরুল যদি ভুল করে ষোলই ডিসেম্বর তারিখটা না বলত তবে আমি ব্যাপারটা কখনই জানতে পারতাম না।অন্ধকারে হাতড়ে বেড়াতাম।
কাল বিকেলে আফরীনকে জন্মদিনের কথা বলতেই মনে পড়তেই মনে পড়ে যায় আফরীনের বলা সেই কথাটা “কেন সাপ্তাহিক ছুটি ছাড়া বোধহয় আর কোনো বিশেষ ছুটি হতে পারে না?”
আচমকাই মনে পড়ে যায়,বদরুল আমাকে যে তারিখ বলেছে সে তারিখে চিঠি আসবার কথা না।বদরুল মিথ্যে বলছে।এখন খোঁজ নিয়ে দেখছি,আসলে মিথ্যেটা বলছেন জহির সাহেব,এবং সবাইকে দিয়ে বলাচ্ছেনও।মোটিভ কী? চিঠিটা কি সত্যি নাকি ভুয়া?
প্রথম প্রশ্নের উত্তর আপাতত অজানা,তবে দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর একজন দিতে পারবে আমাকে।লোকমান মিয়া।
চায়ে শেষ চুমুক দিতেই দেখতে পেলাম বেয়ারা হাতে একটা কাগজ নিয়ে ভেতরে ঢুকল।কাগজটা ম্যানেজারের হাতে দিতেই ম্যানেজার সেটা আমার দিকে বাড়িয়ে ধরলেন।
আমি হাসিমুখে সেটা হাতে নিয়ে বললাম,‘ম্যানেজার সাহেব আপনাকে আমার খুব ভাল লেগেছে।অভিনয়টা ঠিক মত করতে পারলে আরো ভাল লাগত।’
ম্যানেজার সাহেব কথা না বলে আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
সাত
লোকমান মিয়ার বাড়িটা খুব কাছেই কমলাপুর বস্তিতে।হাঁটা পথের দুরত্ব,হেঁটে যাওয়াই ঠিক করলাম।দুপুর হতে চলল।জহির সাহেবের অফিসে খাওয়া চা’টা অতিরিক্ত মিষ্টি ছিল,গ্লুকোজ ক্ষুধার অনুভূতি সাময়িক সময়ের জন্য নষ্ট করে ফেলেছে।আপাতত কিছু না খেলেও চলবে।
খুঁজে পেতে লোকমান মিয়ার বাড়িটা বের করে ফেললাম।এটাকে বাড়ি বলার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না।এক রুমের একটা ছাপড়া ঘর।উপরে টিনের চালা,চারপাশে বাঁশের বেড়া।দরজা জানালার কোনো বালাই নেই।বেড়ার গায়ে দুটো চার কোনা আকৃতির অংশ কেটে রাখা হয়েছে,ধারনা করলাম ওগুলোকেই জানালা বলে চালানো হয়।জানালার পাল্লা হিসেবে নীল রঙের একটা পলিথিন ঝোলানো।পলিথিনের টুকরোটা একই সাথে ব্জানালার পাল্লা এবং পর্দা হিসেবে কাজ করছে বলেই মনে হল।দরজার ব্যাপারটাও অনেকটা এমন,তবে দরজার অংশটায় সমপরিমাণ একটা বেড়া দিয়ে পাল্লা বানানো হয়েছে।আমি সেই পাল্লার সামনে দাঁড়িয়ে হাঁক ছাড়লাম,‘লোকমান মিয়া আছেন?’
‘কেডা?’ভেতর থেকে শ্লেষ্মা জড়ানো গলায় কে যেন প্রশ্ন করল।লোকমান মিয়ে হবার সম্ভবনাই বেশি।
‘আমি কি ভেতরে আসতে পারি?’
কিছুক্ষণ ইতস্তত করে কণ্ঠটা বলল,‘আসেন।’
আমি দ্বিধা না করে ঢুকে পড়লাম কামরাটার ভেতরে।
ভেতরটা প্রায়ান্ধকার।চোখে আঁধার সয়ে আসতেই দেখতে পেলাম,অভাব এখানে মুখ ব্যাদান করে আছে।বাঁশের বেড়ার গায়ে রঙ চঙে পুরনো ক্যালেন্ডার ঝুলিয়ে দৈন্যতা আড়াল করার একটা ব্যার্থ প্রয়াস চালানো হয়েছে বটে কিন্তু তাতে করে সেটা প্রকটই হয়ে উঠছে বেশি করে।
‘আফনে কে?’
প্রশ্নটা শুনে আমি বুড়ো মানুষটার দিকে তাকালাম।খোঁচা খোঁচা দাড়ি ওয়ালা এক বৃদ্ধ জ্বলজ্বলে চোখে তাকিয়ে আছেন আমার দিকে।গায়ের চামড়া হাড়ে গিয়ে লেগেছে।
‘চাচা,আমাকে আপনি চিনবেন না,আমার নাম অভ্র।আমাকে জহির সাহেব পাঠিয়েছেন।’
‘বড় স্যার?’ হঠাৎ করেই তাঁর জ্বলজ্বলে চোখে একটা আলো জ্বলে উঠল।ব্যাপারটা উপলব্ধি করে আমার মন খারাপ হয়ে গেল।বৃদ্ধ ভেবেছেন,আমি বোধহয় জহির সাহেবের পক্ষ থেকে তার খোঁজ খবর নিতে এসেছি।সাহায্য করতে এসেছি।
‘হ্যা,একটা ব্যাপার জানতে এসেছি আপনার কাছে।’ আমি তড়িঘড়ি করে বলে উঠলাম।
‘ও।’ কণ্ঠের হতাশা চাপা দিতে পারলেন না বৃদ্ধ।তার চেষ্টাও বোধহয় করেন নি।‘কী ব্যাপার?’
আমি পকেট থেকে চিঠিটা বের করে বললাম,‘চাচা,দেখুন তো এই চিঠিটা চিনতে পারেন কিনা?’
‘লোকমান মিয়া এক নজর দেখেই বলে উঠলেন,‘পারমু না কেন,এক লোক আমার হাতে চিঠিটা দিয়া বড় সাহেবরে দিতে কইছিল।’
‘চিঠিটা কি আপনি নিজেই দিয়েছিলেন তাঁর হাতে?’
‘না না,তারে কই পামু।ম্যানেজার সাহেবের হাতে দিছিলাম।ম্যানেজার সাহেব বড় স্যারের হাতে দিছিল।বড় স্যার তো এখন আর অফিসে আসে না।’
‘হুম তা জানি।আচ্ছা,চিঠিটা কতদিন আগে এসেছিল আপনার কাছে?’যদিও উত্তরটা আমি ইতোমধ্যে জেনে ফেলেছি এরপরও নিশ্চিত হতে চাইলাম।
‘এই ধরেন দুইমাস।এর কয়দিন পরই তো কাম ছাইড়া দিলাম।আর কুলাইতাছিল না শইলে।’
‘আচ্ছা,চাচা,চিঠিটা আপনাকে কে দিয়ে গিয়েছিল?’
‘সেইটা তো বাবা কইতে পারুম না।আগে দেখি নাই কোনোদিন।’
‘সেটা বুঝতে পারছি।আমি জানতে চাচ্ছিলাম,কী ধরনের জামা কাপড় পরা ছিল সে?’
‘কেমন আর পরব।আমাগো গার্মেন্টসের পোলাপানরা যেই কাপড় পরে আরকি।ঐ পোলাও মনে হয় গার্মেন্টেসেই কাম করে।এতদিন গার্মেন্টসের পিয়ন আছিলাম,গার্মেন্টসের পোলা মাইয়া দেখলেই ঠিক পাই।’
বদরুলের পাকানো আরো একটা জট খুলে গেল এইমাত্র।এটাই স্বাভাবিক।ইয়াসমিন ম্যাডামের পত্রবাহক কখনই গাড়ি হাঁকিয়ে আসবে না।বদরুল নিশ্চয়ই ভেবেছিল জহির সাহেব যে চিঠির কথা স্বয়ং তাকে ফোন করে বলেছে সেটার বাহককে অতি অবশ্যই গাড়ি চালিয়ে আসতে হবে!
এবার সবচাইতে গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন,‘চাচা,আপনাকে যে লোক চিঠিটা দিয়ে গিয়েছিল সে কি আপনাকে কোনো ঠিকানা দিয়েছিল?’
‘কিসের ঠিকানা?’
‘আসলে ঠিক ঠিকানা না।ধরুন,কোনো জায়গার নাম-টাম বলেছিল?’
‘উমম,’ ভাবতে লাগলেন বৃদ্ধ।আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে গেল উত্তেজনায়।এটাই এখন আমার সামনে একমাত্র সূত্র।এই বৃদ্ধের কাছে কোনো ঠিকানা না থাকলে আমি আকুল দরিয়ায় পড়ে যাব।
‘কী জানি একটা বস্তির নাম কইছিল,মনে তো পড়তাছে না।’
আমার বুকের মধ্যে চিলিক দিয়ে উঠল।‘চাচা,মনে করার চেষ্টা করুন প্লিজ।ব্যাপারটা খুবই জরুরী।’
‘সেইটা তো করতাছিই,মনে পড়তাছে না তো।’
আমি অনেক কষ্টে উত্তেজনা চাপা দিয়ে বললাম,‘চাচা,ছেলেটা কোন কথার ভিত্তিতে জায়গাটার নাম বলেছিল আপনাকে?’
‘কইছিল,কেউ জিগাইলে যেন কই।’
‘বলেছিলেন কাউকে?’
‘কেউ তো জিগায় নাই।’
‘হুম,তাইতো।’
জহির সাহেব বোধহয় কল্পনাও করতে পারেননি,ইয়াসমিন ম্যাডাম পত্রবাহকের কাছেই ঠিকানা বলে দিয়েছিলেন।লোকমান মিয়া নিজের হাতে জহির সাহেবকে চিঠিটা দিলে হয়ত কথায় কথায় বলতে পারতেন,কিন্তু ম্যানেজার মারফত চিঠিটা হস্তান্তর হওয়ায় ব্যাপারটা চাপা পড়ে গেছে।তার উপর লোকমান মিয়া অবসরে চলে যাওয়াতে একেবারেই আড়ালে চলে গেছে অতি সাধারণ কিন্তু অতি গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যাপারটা।এখন তো লোকমান মিয়া ভুলতেই বসেছেন ঠিকানাটা।
আমি মরিয়া হয়ে বললাম,‘চাচা,মনে করুন,ছেলেটা ঠিক কিসের নাম বলেছিল।বাড়ি,এলাকা,নাকি জেলার নাম?’ যদিও জানি শেষেরটার সম্ভবনা একেবারেই নেই।
‘একখান জায়গার নাম।’
‘চাচা,আপনার সাথে কে কে থাকে?’
‘কী?’ আমার আচমকা অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্নে হকচকিয়ে গেলেন লোকমান মিয়া।
কাজটা করার পেছনে উদ্দেশ্য আছে একটা।মানুষ সাধারণত কোনো একটা বিষয় মনে করার চেষ্টা করতে থাকলে কী এক অজ্ঞাত কারনে সেটা আর মনে করতে পারে না।সে সময় তার মন অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে পারলে ভাল ফল পাওয়া যায়।এর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে কিনা আমার জানা নাই।
‘আমার সাথে তো কেউ থাকে না।’ জবাব দিলেন বৃদ্ধ।
‘কেউ থাকে না মানে?’আমি যথেষ্ঠ বিস্মিত হলাম।
‘হ,এক পোলা আছে,হে তো আলাদা থাকে।’
‘আপনার চলে কিভাবে তাহলে?’
‘আল্লাহ চালায়।’
এই কথার পর আর কোনো কথা থাকতে পারে না।তবে কৌতুহল একটা থেকেই যায়।আল্লাহ এই প্রকৃতিকে একটা সুশৃঙ্খল নিয়মের গন্ডিতে বেধে দিয়েছেন।প্রকৃতি তাঁর স্বাভাবিক নিয়মে চলে।এখানে খেতে-পরতে হলে মাধ্যম লাগে।সবাই ঘরে শুয়ে শুয়ে ‘মান্না-সালওয়া’ খেতে থাকবে এমনটা ভাবার সুযোগ নেই।প্রকৃতি অস্বাভাবিকতা সমর্থন করে না।
‘তা তো অবশ্যই।কিন্তু নিশ্চয়ই কোনো মাধ্যম আছে?’
‘পোলাই কিছু মিছু দেয় আরকি।’
‘হুম,বুঝতে পারছি।’
‘দুয়ারী পাড়া বস্তি!’
এতটাই আকস্মিকভাবে কথাটা বললেন লোকমান চাচা,এবার আমি থতমত খেয়ে গেলাম,‘কিছু বললেন?’
‘মনে পড়ছে,ওই পোলা দুয়ারী পাড়া বস্তির কথা কইছিল।’
আমি মুখ দিয়ে “আঁক” জাতীয় একটা শব্দ করেই চুপ হয়ে গেলাম।মনে মনে ক্ষীণ একটা আশা ছিল কৌশলটা কাজে দেবে,সত্যি সত্যিই দেবে-ভাবিনি!‘আপনি শিওর?’
‘হান্ডেডে হান্ডেড।’লোকমান মিয়া তার দুর্বল গলায় যতটুকু জোর দেয়া যায়,দিল।আমার উত্তেজনা তাকেও ছুঁয়ে গেছে।
মনে হচ্ছে বুকের উপর থেকে বিশাল একটা বোঝা এই বৃদ্ধ মানুষটা এক ঝটকায় ফেলে দিয়েছে।এখন দুয়ারী পাড়া বস্তির পাত্তা লাগাতে হবে।এরপর...এরপর সেখানে গিয়ে দেখা যাবে।আপাতত অন্য একটা সমস্যা দেখতে পাচ্ছি।চিঠিটা আসলে এসেছে দু’মাস আগে,কিন্তু রহস্যময় কোনো কারণে সেটা গোপন করে গেছেন জহির সাহেব।তিনি আমাকে বলেছেন চিঠিটা মাত্র দশ বারোদিন আগে এসেছে।যেহেতু চিঠিটা একমাস পুরনো সেহেতু জোর সম্ভবনা আছে জহির সাহেবের মেয়ে এখন দুয়ারী পাড়া বস্তিতে থাকে না।অন্য কোথাও থাকে।তবুও একবার যেতেই হবে আমাকে দুয়ারী পাড়া বস্তিতে।তবে একটা চিন্তা আজ সারাদিনে একমুহুর্তের জন্যও ঝেড়ে ফেলতে পারছি না।জহির সাহেব দু’মাস আগের চিঠি কেন দশ বারোদিন আগের বলে চালাতে চাইছেন? গভীর চিন্তার বিষয়।ঠান্ডা মাথা নিয়ে ভাবতে হবে।আমার মাথা এখন গরম।কিছুটা উত্তেজনায় কিছুটা এই অসুস্থকর পরিবেশের কারণে।
হাদীস শরীফে উপদেশ দেয়া হয়েছে,নিজের চাইতে উচ্চ শ্রেনীর মানুষের দিকে না তাকিয়ে নিজের চাইতে নিম্ন শ্রেনীর মানুষের দিকে তাকাতে।তাহলে একজন মানুষ অতি সহজেই তার জীবনের অক্ষমতা,আক্ষেপগুলো ভুলে যেতে পারে।কিন্তু আমরা সেটা করি না।আজ লোকমান মিয়ার কুটিরে এসে এই চরম সত্যভাষণ নতুন করে ভাবাল আমাকে।
আমি কার্যকারণ ছাড়া কিছু বিশ্বাস করি না।কারণ আমি বিশ্বাস করি,প্রকৃতিতে অতি নাটকীয়তার স্থান নেই।সেজন্যই যখন লোকমান মিয়ার জ্বলজ্বলে চোখজোড়ার দিকে তাকিয়ে আমার মনে হতে লাগল মানুষটা বেশিদিন বাঁচবেন না-ব্যাপারটা উড়িয়ে দিতে চাইলাম।কিন্তু ওড়াতে পারছি না।ক্রমেই ভাবনাটা জাঁকিয়ে বসছে মনের মধ্যে।একেবারেই যে ভাবনাটার পেছনে কোনো যুক্তি নেই তা না।আছে।মানুষটার গোটা অস্তিত্বে আমি এক ধরণের তৃষ্ণা দেখতে পাচ্ছি।এক ধরণের অতৃপ্তি।সারাজীবন ধরে যুদ্ধ করতে থাকা এক সৈনিকের অসহায় মৃত্যুর চাইতে করুণ আর কী হতে পারে?এই বৃদ্ধও সারা জীবন ধরে যুদ্ধ করে এসেছে খোদ জীবনের বিরুদ্ধেই।আজ ঘরের কোণে অসহায় শুয়ে চুড়ান্ত পরাজয়ের অপেক্ষায়।
‘চাচা,আপনার কি কোনো বিশেষ ইচ্ছা আছে?’ কথাটা আমি কেন বললাম ঠিক জানি না।কিন্তু আমার না বলে উপায়ও ছিল না।অদৃশ্য কেউ একজন বলিয়ে নিয়েছে যেন।
‘ইচ্ছা?কিসের ইচ্ছা বাবা?’
‘যেকোনো ইচ্ছা।’
‘একটা ইচ্ছা ছিল বাবা,কিন্তু সেইটা তুমি পুরণ করতে পারবা না।’দীর্ঘশ্বাস ফেললেন লোকমান মিয়া।
‘আমি তো পুরণ করব না,করবে আল্লাহ।’ তার মত করেই জবাব দিলাম।
লোকমান মিয়া কিছুক্ষনের জন্য চুপ মেরে গেলেন।এরপর ধীরে ধীরে বললেন,‘আমার খুব ইচ্ছা একবার নবীজির (সা.) এর রওজা পাক জিয়ারত করমু।হজ্বে যাইতে ইচ্ছা হয়,বাজান।’
‘চাচা হজ্বের মৌসুম তো এখনো অনেক দেরী।’ আমার এখনো মনে হচ্ছে বৃদ্ধের সময় শেষের পথে।
‘ওমরা করতে পারলেও মইরা শান্তি পাইতাম।ছোটকাল থিকাই আমার ইচ্ছা এইটা।’
‘আমি ব্যবস্থা করছি।’
কথাটা বোধহয় শুনতে পাননি,অথবা বিশ্বাস করতে পারেননি লোকমান মিয়া।শেষেরটা হবার সম্ভবনাই বেশি।ঝট করে মুখ তুলে বললেন,‘কী কইলা তুমি?’
‘বললাম,আপনার ওমরা হজ্বের সব ব্যবস্থা করব আমি।’ বলে আর দাঁড়ালাম না।বেরিয়ে এলাম লোকমান মিয়ার ছোট্ট কুটির থেকে।
.
(পরের পর্ব আগামীকাল সন্ধ্যায় প্রকাশিত হবে)
.
এই মেলায় অভ্র সিরিজের নতুন বই 'অভ্রত্ব' প্রকাশিত হয়েছে রোদেলা প্রকাশনী থেকে। প্রথম মূদ্রণ ইতোমধ্যেই শেষ, দ্বিতীয় মূদ্রণ মেলায় পাওয়া যাচ্ছে। স্টল নাম্বার : ২১৩-১৫। অনলাইনে কিনতে আমাদের পেজে নক করুন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now