বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একজন অভ্র এবং জনৈক পিতা (পর্ব-৪)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X একজন অভ্র এবং জনৈক পিতা (পর্ব-৪) আবুল ফাতাহ . দুই জহির সাহেবের বাড়ি থেকে বেরিয়েছি মিনিট দশেক হবে।তার অফিসের ঠিকানা নিয়েছি।মতিঝিলে।সকালে না খেয়েই বেরিয়েছি।এখন বাজে সকাল দশটা।এদিক ওদিক হতে পারে।আমার মোবাইলের টাইম নষ্ট।দেখাচ্ছে তিনটা বিয়াল্লিশ পি এম! কখন,কিভাবে নষ্ট হল মনে পড়ছে না।ব্যাটারি না খুললে টাইম নষ্ট হবার কথা না।আমি মোবাইল কেনার পর হাতে গুনে ছবার ব্যাটারি খুলেছি বলে এই মুহুর্তে মনে পড়ছে।তাহলে কে খুলল? ছোটবোন টুম্পা আমার মোবাইল নিয়ে গেমস খেলে বটে কিন্তু গেমস খেলতে তো ব্যাটারি খুলতে হয় না।তাহলে? ভাবতে হবে।এখন একমাত্র ভাবনা পেটে কিছু দেয়া।ভেবেছিলাম জহির সাহেব বোধহয় নাস্তা পানি কিছু দিতে বলবেন।তবে আবেগে একেবারে আপ্লুত হয়ে পড়ায় সম্ভবত বিস্মৃত হয়েছেন।অতি মাত্রার আবেগও কখনো কখনো ক্ষতিকর! আমি একটা হোটেলে ঢুকে দুটো সিঙ্গারা আর এক কাপ চা নিয়ে বসলাম।শুধু খাওয়াই যে উদ্দেশ্য তা নয়।গোটা ব্যাপারটা নিয়ে খানিক ভাবতে হবে।কোনো ধরনের সূত্র ছাড়াই এই বিশাল জনাকীর্ণ শহরে একা একটা মেয়েকে খুঁজে বের করা অসম্ভব।আর সেই অসম্ভব কাজটাই আমি অতি আগ্রহের সাথে নিয়েছি।তবে একেবারে অযৌক্তিকভাবে কাজটা করতে চেয়েছি তা না।একটা সম্ভবনা মাথায় উঁকি ঝুঁকি মারছে।ইয়াসমিন ম্যাডাম চিঠিতে নাম ঠিকানা লিখতে চাননি,সেটা অবশ্যই দূরদর্শীতার পরিচয়।কিন্তু তিনি যেহেতু বুঝতে পেরেছিলেন তার সময় শেষ হয়ে আসছে সেহেতু অন্য কোনো না কোনো ভাবে তিনি তার মেয়ের হদিস পাবার একটা সূত্র রেখে গেছেন।জীবনটা গোয়েন্দা গল্প না।নয়ত এই মুহুর্তে আমি চা না খেয়ে চিঠিতে অদৃশ্য কালিতে লেখা ঠিকানা খুঁজে বের করবার চেষ্টা করতাম! খুবই সরল কোন একটা উপায় অবলম্বন করেছেন ভদ্রমহিলা।কিন্তু গরল পৃথিবীতে সরলই গরলে পরিণত হয়।মানুষ আজকাল বিশ্বাসই করতে চায় না সরল পথেও কিছু হতে পারে।বদরুলের সাথে কথা বলে সেই সরল সূত্রটাই খুঁজে বের করবার চেষ্টা চালাতে হবে। আমি সিঙারার শেষ টুকরোটা পেটে চালান করে সুরুত করে শেষ চুমুক দিলাম চায়ের কাপে। *** জহির সাহেবের বিশাল গার্মেন্টস।ছ’তলা।নীচের গেটে বসে দুজন মানুষ ঝিমুচ্ছে।একজন গার্ড আরেকজন পিয়নের পোশাক পরা।এতদিন জানতাম গার্ডরা একা থাকলেই ঝিমায়,এখন দেখছি দল বেধেও ঝিমায়। আমি কাছে গিয়ে খুক করে কাশি দিলাম।একজন ধড়মড় করে জেগে উঠল।আরেকটু হলেই টুল থেকে পড়ে যেত আরকি!আরেকজনের জেগে ওঠার কায়দা দেখে আমি অভিভূত হয়ে পড়লাম। মাথার টুপি দিয়ে চোখ ঢেকে ঝিমাচ্ছিল এই লোকটা।আমার কাশির আওয়াজ শোনার সাথে সাথেই মৃদু কেঁপে উঠতে দেখলাম আমি।তবে ওই পর্যন্তই।চোখ বন্ধ অবস্থাতেই টুপিটা চোখ থেকে সরিয়ে ভাল করে মাথায় চাপাল।এরপর ধীরে ধীরে চোখ খুলে ভ্রু ট্রু কুঁচকে তাকাল আমার দিকে।আগে না দেখলে চট করে কেউ বুঝতে পারত না উনি এতক্ষণ ঘুমাচ্ছিলেন! আমি একটা হাসি দিয়ে বললাম,‘কেমন আছেন বদরুল ভাই?’ পিয়নের পোশাক দেখেই অর্ধেকটা আন্দাজ করে নিয়েছিলাম,বাকি অর্ধেকটা,কেন যেন মনে হচ্ছিল এই ধুরন্দর লোকটাই বদরুল হবে।বয়স আন্দাজ ত্রিশ।এই বয়সেই পান খাবার বিশ্রী অভ্যেস বানিয়ে ফেলেছে। বদরুল আরো কুঁচকে ফেলল ভ্রু জোড়া।‘কারে চান?আপনের পরিচয়?’ ‘আমার নাম অভ্র।আপনার কাছে এসেছি আমি।’ ‘আমার কাছে কী?’ ‘আমাকে জহির সাহেব,আইমিন আপনার বড় সাহেব পাঠিয়েছেন।একটা বিষয় জানতে চাচ্ছিলাম আপনার কাছে।’ বদরুলের চালচলন বেমালুম বদলে গেল।পান খাওয়া লালচে দাঁত বের করে হে হে করতে করতে বলল,‘আমি আপনেরে দেইখাই বুঝছিলাম আপনে বড় স্যারের লোক।’ ‘আমি তোমার বড় স্যারের লোক না।একটা কাজে এসেছি।’ সরাসরি আপনি থেকে তুমিতে নেমে এলাম।এই লোককে চোটপাট না দেখালে কাজ হবে না।ধুরন্দর লোক,বড়ই ধুরন্দর। ‘জী স্যার,কন।’ ‘এখানে না,’ বলে আমি একটু তফাতে নিয়ে এলাম বদরুলকে। ‘কন স্যার।’তফাতে এসে বলল। আমি পকেট থেকে চিঠিটা বের করে বললাম,‘এই চিঠিটা কবে এসেছে তোমার কাছে?’ প্রথমেই জবাব দিল না সে।ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে রইল চিঠিটার দিকে।দেখে মনে হতে পারে চিঠি নামক বস্তুটার সাথে তার পূর্ব পরিচয় নেই।এরপর কপালের ভাঁজ সমান করে বলল,‘এই দুই সপ্তাহ হইবো ধরেন।’ ‘ধরেন টরেন না,ঠিক ঠিক বলো।’ ‘উমম,এই সোমবারের আগের সোমবার।’ ‘চিঠিটা কে দিয়ে গিয়েছিল?’ ‘একটা লোক।’ আমি হতাশায় মাথা নাড়লাম।এই রকম মানুষ গার্ড হলে চুরি হবে না কেন দেশে?! ‘লোকটা দেখতে কেমন ছিল?’ যেন আকুল পাথারে পড়ে গেল বদরুল।আকাশ পাতাল ভাবতে লাগল।এরপর আমার দিকে তাকিয়ে হড়বড় করে চেহারার একটা বর্ননা দিয়ে গেল।বর্ননা শেষ হতেই আমি আরো হতাশ হয়ে লক্ষ্য করলাম সে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে এতক্ষণ ধরে আমার চেহারারই বর্ননা দিয়েছে! এই লোককে দিয়ে কতটা কাজ হবে বোঝা যাচ্ছে না।‘আচ্ছা,বদরুল ভাই,লোকটা কেমন জামা কাপড় পড়ে এসেছিল সেটা কি মনে আছে?’ ‘মনে থাকব না কেন?অবশ্যিই মনে আছে।চেহারা কেমন আছিল সেইটা কী সোন্দর কইয়া দিলাম আর জামা কাপড়ের কথা কইতে পারমু না?প্যান্ট আর কোট পইরা আইছিল ব্যাডাটা।’ আমি চমকে গেলাম।বলে কী এই লোক? সুটেট বুটেট একজন লোক কিভাবে চিঠিটা দেয়?জহির সাহেবের স্ত্রী কন্যা,যতদুর বুঝতে পারছি,বস্তিতে থাকেন,তাদের কাউকে দিয়েই পাঠাবার কথা চিঠিটা।সে কিভাবে কোট প্যান্ট পরা হয়? অবশ্য আজকাল অনেক রিকশাওয়ালাকেও কোট পড়তে দেখা যায়।ফুটপাত থেকে কেনা সেকেন্ড হ্যান্ড মাল।আমি নিশ্চিত হতে প্রশ্ন করলাম,‘আচ্ছা কোট প্যান্ট বলতে কেমন কোট প্যান্ট?মানে লোকটাকে দেখে কি বড়লোক মনে হচ্ছিল নাকি গরীব?’ ‘গরীব বড়লোক তো জানিনা,তয় গাড়ি নিয়া আইছিল।প্রাইভেট কার।’ ‘তারমানে গাড়ি চালায় সে?ড্রাইভার?’ ‘নাহ,’ পিচিক করে পানের পিক ফেলে ফের বলল,‘গাড়ির মালিক।পিছনের সিট থিকা নামতে দেখছিলাম।’ এবার আমি পুরোপুরি হতভম্ব হয়ে গেলাম।ইয়াসমিন ম্যাডামের পত্র বাহক গাড়ি হাকিয়ে চিঠি ডেলিভারি দিতে এসেছিল ভাবতেই কেমন মাথা ঝিম ঝিম করতে লাগল।তাও আবার নিজের গাড়ি নাকি! ‘আচ্ছা,তোমাকে চিঠিটা দিয়ে আর কিছু বলেছিল সে?মানে কোনো ঠিকানা কিংবা জায়গার নাম?’ ‘উঁহু...পিচিক...আইসা চিঠিটা দিয়া বড় সাহেবরে দিতে কইল ...পিচিক...তারপর চইলা গেল...পিচিক।’ বদরুলকে ঘন ঘন পানের পিক ফেলতে দেখে মনে হল সে আর চিঠি বিষয়ক আলোচনায় আগ্রহী না।তবে এই ধুরন্দর লোকটার কাছ থেকে আর কিছু জানা যাবে বলেও মনে হচ্ছে না।এই ধরনের লোক লাভ ছাড়া রা পর্যন্ত কাটে না। ‘বদরুল ভাই পান খাবেন?’আমি প্রসঙ্গ,সম্বোধন দুটোই পাল্টালাম। ‘না না,স্যার,কী দরকার?’ বিনয়ে একেবারে গলে গেল বদরুল।তবে হাত কচলানো দেখেই বুঝলাম এই মুহূর্তে একটা পান পেলে বদরুল আমার জন্য জান হাজির করে ফেলবে। ‘আচ্ছা,ঠিক আছে,খাবেন না যখন কী আর করা,’ বলেই আমি হাঁটা দিলাম। হাঁটতে হাটতেই পেছন ফিরে দেখি বেকুবের মত আমার দিকে তাকিয়ে আছে বদরুল। তিন বিকেল গড়িয়েছে।ডিসেম্বরের ঠান্ডা হাওয়া ভেসে বেড়াচ্ছে সব খানে।বাসা থেকে যখন বেরিয়েছি তখন ঠান্ডা কমে এসেছিল। আসলে গত দুদিন ধরেই ঠান্ডাটা কম।তবে আগত রাত্রিতে বোধহয় সেটা পুষিয়ে নেবে প্রকৃতি। এখনই বেশ শীত শীত অনুভূত হচ্ছে।আমি হাত দুটো ভালমত ঘষে পাঞ্জাবীর পকেটে ভরে ফেললাম।হাত দুটো সুরক্ষিত করা গেল আপাতত।গন্তব্য এই মুহুর্তে বাসা।এখনো খানিকটা পথ বাকি। এই পথটুকু বেশ কষ্ট দেবে মনে হচ্ছে।ঠান্ডার ক্ষেত্রে দেহের সবচাইতে স্পর্শকাতর অঙ্গ হচ্ছে কান।কান দুটোকে হাতের মত ঘষাঘষি করে গরম করতে পারলে খানিক আরাম পাওয়া যেত।যদিও সেটা উচিৎ হবে বলে মনে হচ্ছে না। চিরতরে “ঠসা” হয়ে পড়বার আশংকা আছে। আমি পাঞ্জাবীর পকেট থেকে সময় দেখবার জন্য মোবাইল বের করতে গিয়েও করলাম না।মনে পড়ে গেল,সময় নষ্ট,মোবাইলেরও,বের করলে আমারও।মাথায় পুরনো চিন্তাটাই ঘুরে ফিরে এল।ঘড়ির টাইম এমনি এমনি নষ্ট হল কেন?এইমাত্র মনে পড়ে গেছে,কিছুদিন আগেও একবার নষ্ট হয়েছিল।সাধারন কিন্তু অর্থবহ একটা রহস্য। বাসার কাছাকাছি চলে এসেছি।আমাদের মুরগীর খোপের মত বাসাটা দেখা যাচ্ছে ঝাঁকড়া আমগাছের ফাঁক ফোঁকর দিয়ে।একটা বাড়তি রুম করা খুবই জরুরী হয়ে পড়েছে।টুম্পা এখন বড় হয়েছে।আর ক'দিন পরই ওর এসএসসি পরীক্ষা।এতদিন মা বাবা’র রুমে মেঝেতে পাটি বিছিয়ে থাকত।এখন আমাদের ঘরে ঢোকার মুখে পিচ্চি যে জায়গাটা আছে সেখানে থাকে।আমরা অবশ্য জায়গাটাকে “ড্রয়িংরুম” বলি।রাতের বেলা বাথরুমে যেতে হলে মেয়েটাকে ডিঙ্গিয়ে যেতে হয়।ঘুমন্ত বোনটার নিষ্পাপ মুখটার দিকে তাকিয়ে বুকটা হু হু করে ওঠে আমার। আফরীনদের বাড়িতে চাকরিটা পাবার পর থেকে আগের সেই খাওয়া পরার সমস্যাটা দুর হয়েছে।তবে টুম্পাকে একটা বাড়তি রুম পাইয়ে দেবার মত টাকা আমার নেই।বাবার সমস্ত সঞ্চয় আগেই শেষ।পেনশনের সামান্য টাকা দিয়ে আর যাই হোক ঘর নিশ্চয়ই তোলা যায় না। আচ্ছা,জহির সাহেবের মেয়েকে খুঁজে বের করতে পারলে উনি কি আমাকে একটা ঘর তোলার টাকা দেবেন? এমনিতে না দিলেও চাইলে নিশ্চয়ই লজ্জায় পড়ে হলেও দিয়ে দেবেন। ধরা গেল,তাঁর মেয়েকে আমি খুঁজে বের করলাম।মেয়েকে তিনি বাড়িতে নিয়ে তুলেছেন। একেবারে রাজকন্যার মত করে রাখছেন।একদিন দুপুরবেলা তাঁরা খেতে বসেছেন। টেবিলে মেয়ের প্রিয় খাবার।ধরা যাক,আলু ভর্তা আর ঘি।বাবা-কন্যা সুখী সুখী চেহারায় খেতে বসেছেন।এমন সময় আমি গিয়ে দাঁড়ালাম তাদের সামনে।উপকার করা হয়ে গেলে মানুষ উপকারীর দিকে টিনের চশমা পরে তাকাবে-সেটাই নিয়ম। জহির সাহেবের ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটবে কিনা জানি না।ধরা গেল,খাটবে।তিনি আমার দিকে টিনের চশমা পরে তাকিয়ে বললেন,‘কী চাই?’ ‘স্যার,টাকা।’ ‘টাকা?কিসের টাকা?’ ‘স্যার আপনার মেয়েকে এত কষ্ট করে খুঁজে বের করলাম কিছু টাকা দিবেন না?বেশি না,লাখ খানেক হলেই হবে।’ কথাটা শুনেই জহির সাহেবের মেয়ে চোখ বড় বড় করে একবার আমার দিকে আরেকবার জহির সাহেবের দিকে তাকাতে লাগল।আর বেচারা জহির সাহেব আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।আমি সেই দৃষ্টি কল্পনা করে হো হো করে হেসে উঠলাম। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া এক পথচারী ভ্রু কুঁচকে তাকাল আমার দিকে। হু কেয়ারস! বাসায় চলে এসেছি।লোহার গেট পেরিয়ে ঢুকে পড়লাম ভেতরে।বারান্দায় দাঁড়িয়ে কড়া নাড়তেই “খুট” শব্দ করে দরজা খুলে গেল।টুম্পা খুলে দিয়েছে।খুলেই আর দাঁড়াল না।ভেতরে গিয়ে টিভির সামনে বসে পড়ল।কিছুদিন আগে পিচ্চি একটা টিভি কিনেছি।চোদ্দ ইঞ্চি রঙিন টিভি। আমি টুম্পার পাশে সোফায় গিয়ে বসে পড়লাম।মান্ধাতা আমলের সোফাটা প্রতিবাদ করে উঠল “ক্যাঁআআচ” আওয়াজ তুলে।টুম্পার সমস্ত মনোযোগ টিভির দিকে। ‘কী দেখিস রে?’আমি পা দুটো সামনে ছড়িয়ে দিয়ে প্রশ্ন করলাম। ‘কার্টুন দেখি।’ টিভির দিক থেকে নজর না সরিয়েই বলল টুম্পা। আমি তাকিয়ে দেখি কার্টুন চলছে টিভিতে।কিউট কিউট চেহারার কতগুলো নাদুস নুদুস ভেড়া আর এক ফাজিল টাইপের কুকুর নিয়ে কাহিনি।হিন্দিতে হড়বড় করে কী কী সব বলছে ঠিক বুঝতে পারছি না তবে দেখতে মজাই লাগছে।ভেড়াগুলোর চেহারাই মজার। ‘নাম কী কার্টুনের?’ ‘শন দ্যা শিপ।’ ‘তোর অনেক পছন্দের?’ ‘হুম,খুব।’ ‘আচ্ছা,দেখতে থাক।ভাই-বোন মিলে পরে দেখব আরেকদিন।’আমি উঠে দাঁড়ালাম।কয়েক পা এগিয়েছি এমন সময় পেছন থেকে টুম্পা ডাক দিল,‘ভাইয়া।’ আমি ঘুরে তাকালাম,‘কী?’ ‘থ্যাংকস।’ আমি সামান্য অবাক হলাম।থ্যাংকস পাবার মত কিছু কি করেছি? ‘থ্যাংকস কেন রে আবার?’ ‘টিভিটার জন্য।’ সামান্য চোদ্দ ইঞ্চির একটা টিভি মধ্যবিত্ত পরিবারের একটা কিশোরীকে কতটা আনন্দ দিতে পারে সেটা হয়ত বেশিরভাগ মানুষের কাছে অজানাই থেকে যায় আজীবন।আমার সৌভাগ্য আমি সেই আনন্দ দেখেছি,কিছুটা ভাগীদারও হয়েছি।মুচকি হেসে আবার ঘুরে দাঁড়াতে গিয়েও থমকে গেলাম।‘আচ্ছা, টুম্পা,তোকে একটা ব্যাপার জিজ্ঞেস করব?’ ‘করো।’ আমি কিছুক্ষন ইতস্তত করে বললাম,‘থাক,আরেকদিন বলব,’ বলে আমি আমার রুমে চলে এলাম। ক্ষুদে এই রুমটাই আমার জগত।আমার এই জগতে আমিই রাজা।তবে কোনো রাণী এলে এখানে কিভাবে থাকবে জানি না।বিশ্বযুদ্ধ লেগে যেতে পারে! পাঞ্জাবীর পকেট থেকে ফোনটা বের করতেই চারটা ব্যার্থ কলের নোটিশ দেখতে পেলাম।কী এক অজ্ঞাত কারণে অধিকাংশ সময়ই মোবাইল সাইলেন্ট করে রাখি আমি।মাঝে মধ্যেই বিপদে পড়তে হয়।একদিক থেকে খারাপও না ব্যাপারটা।সবাই আমাকে তলব করতে পারবে কিন্তু কেউ বিরক্ত করতে পারবে না।আমার যখন ইচ্ছে হবে আমি নিজেই যোগাযোগ করব। আফরীন ফোন দিয়েছিল।এই মেয়েটা কেন যেন আজকাল দুরত্ব রেখে চলছে।কথাবার্তায় অন্যরকম সূর।মাঝে মধ্যেই খুব অচেনা লাগে মেয়েটাকে পরক্ষণেই মনে হয়,কই,এই তো সেই আফরীন,প্রানবন্ত মেয়েটা। প্রেমে পড়েছে কিনা কে জানে? কার প্রেমে,সেটাও একটা প্রশ্ন বটে! আমি কল ব্যাক করলাম।রিং হচ্ছে তো হচ্ছেই রিসিভ হচ্ছে না।চতুর্থবার রিং হবার পরও যখন রিসিভ হল না,আমি সাথে সাথেই ব্যাপারটা ধরে ফেললাম।এবার রিসিভ হবে।হলও তাই।পঞ্চমবার রিং হবার সাথে সাথেই রিসিভ করা হল ফোন। ‘কেমন আছো?’ জিজ্ঞেস করলাম আমি। ‘ভাল।’ কাটা কাটা স্বরে জবাব দিল আফরীন। ‘তুমি ফোনটা হাতে নিয়ে বসেছিলে এতক্ষন, তাইনা?’ ‘আপনার কি ধারণা আমি সারাদিন ফোন হাতে নিয়ে আপনার কলের অপেক্ষা করি?’ ‘তা না,তবে তুমি প্রথমবার রিং হবার সময়ই দেখতে পেয়েছিলে,এতক্ষন ইচ্ছে করেই ধরোনি।’ ‘এমন উদ্ভট কাজ আমি কেন করতে যাব?’ ‘প্রতিশোধ।তুমি আমাকে চারবার কল করেও পাওনি তাই আমাকে পঞ্চমবার কল করা পর্যন্ত অপেক্ষা করিয়েছ।’ ‘একটু বেশিই বোঝেন আপনি।’ কথাটা এমন সুরে বলা হল,স্বীকৃতি না অস্বীকৃতি,বোঝা গেল না। ‘কাল আপনার কাজ আছে কোনো?’ বলল আফরীন। ‘কাজ তো অনেক বড় একটা সামনে আছে,কিন্তু কিভাবে শুরু করতে হবে বুঝতে পারছি না বলে কবে থেকে শুরু করব সেটাও জানি না।’ ‘আমার সাথে প্লিজ,মঙ্গল গ্রহের ভাষায় কথা বলবেন না। কাল সকালে আমাদের বাসায় আসতে পারবেন কিনা সেটা বলেন।’ ‘রহস্য করে তো তুমিই কথা বলছ।আগে বললেই হত এই কথা।যে করেই হোক যেতাম।’ ‘ওকে,থ্যাংকস।’ ঝপ করে লাইন কেটে গেল। কী উড়াধুড়া মেয়ে রে বাবা!বিড়বিড় করলাম আমি “টুট টুট” করতে থাকা ফোনের দিকে তাকিয়ে। . (পরের পর্ব আজ রাত দশটায় প্রকাশিত হবে) . এই মেলায় অভ্র সিরিজের নতুন বই 'অভ্রত্ব' প্রকাশিত হয়েছে রোদেলা প্রকাশনী থেকে। প্রথম মূদ্রণ ইতোমধ্যেই শেষ, দ্বিতীয় মূদ্রণ মেলায় পাওয়া যাচ্ছে। স্টল নাম্বার : ২১৩-১৫। অনলাইনে কিনতে আমাদের পেজে নক করুন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now