বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একজন অভ্র এবং জনৈক পিতা (পর্ব-২)
আবুল ফাতাহ
.
জহির সাহেব এবার অবশ্য বেশি বিরতি নিলেন না।বলতে শুরু করলেন,‘তুমি ঠিকই বলেছ,ছোটবেলা থেকেই আমি “সব পাওয়াদের” দলে।কিছু চাইবার আগেই বাবা সেটা নিয়ে বসে থাকতেন।বললে বিশ্বাস করবে,বারো বছর বয়সে আমার নিজের গাড়ি ছিল?’
‘জী,করব,কারন আমার নিজেরও ছিল।’
জহির সাহেব অবিশ্বাসে চোখ বড় বড় করে আমার দিকে তাকাতেই মুচকি হেসে বললাম,‘খেলনা গাড়ি,স্যার!’
জহির সাহেব যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচলেন।ভদ্রলোক আসলেই নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীকে সহ্য করতে পারেন না,এইমাত্র নিশ্চিত হলাম।
‘খেলনা গাড়ি আমাকে কখনই আকর্ষন করেনি।আদিখ্যেতা মনে হত।’ জহির সাহেব বলতে লাগলেন,‘আমার কাছে আকর্ষনীয় ছিল নিষিদ্ধ সব বস্তু।জানো,আমি কত বছর বয়সে ড্রিংক করেছিলাম?’
‘জানি না।’
‘এগারো বছর বয়সে।’ কথাটা বলেই জহির সাহেব এমন ভঙ্গিতে আমার দিকে তাকালেন,যেন তিনি এইমাত্র অতি মহৎ কোনো কাজের বর্ননা দিয়েছেন।আমি চুপ করে রইলাম।
‘তো যাই হোক,কথাগুলো বললাম যেন তুমি আমার আমার সম্পর্কে একটা ধারণা পাও।’
‘সেটা আমি ইতোমধ্যেই পেয়ে গেছি।’
‘হুম,তাও ঠিক।ও আচ্ছা,আরেকটা কথা বলতে ভুলে গিয়েছি।আমার মা ছোটবেলাতেই মারা যান।আমাকে জন্ম দিতে গিয়ে।জন্মের পরই মাকে হারানোর কষ্টের সাথে কোনো কিছুরই তুলনা হয় না।’একটু বিরতি দিয়ে বললেন,‘জন্মের পর মারা যাওয়া আর আর জন্ম দিতে গিয়ে মারা যাবার মধ্যে একটা সুক্ষ্ম পার্থক্য আছে,সেটা কি কখনো লক্ষ্য করেছ?’
‘জী করেছি।মা’র মৃত্যু দিবস আর জন্মদিন একই দিনে হওয়ায় একজন মানুষ কখনই আনন্দ নিয়ে তার জন্মদিন পালন করতে পারবে না।’
‘হুম,আমিও জীবনে কোনোদিন জন্মদিন পালন করিনি।বলা ভাল,করতে পারিনি।আমার না দেখা মা’টাকে খুব ভালবাসতাম আমি। আমার জন্মদিন,আইমিন মা’র মৃত্যু দিবসে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তাম।মা নিজেও খুব নামাজী ছিলেন।’
‘এখনো কাজটা করেন?’
‘এখন প্রতিদিনই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি আমি।তো যা বলছিলাম,আমি মানুষটা ছোটবেলা থেকেই শাসনহীন বড় হয়েছি।তবে মজার ব্যাপার হল পড়াশোনার প্রতি আমার অনেক আগ্রহ ছিল।সব সময় ক্লাসে ফার্স্ট হতাম।আমাকে কখনো পড়তে বসতে বলেনি কেউ। অবশ্য বলার মত ছিলই বা কে?
একসময় আমি পড়াশোনা শেষ করে বাবার বিশাল গার্মেন্টস ব্যবসা দেখা শোনা শুরু করলাম।বাবা অবসরে গেলেন।ব্যবসা ভাল বুঝতাম বলে সব দায়িত্ব আমার উপরেই ছেড়ে দিলেন।পূর্ণ স্বাধীনতা পেতেই একেবারে উচ্ছনে চলে গেলাম আমি।অফিসটাকে ক্যাসিনো বানিয়ে ফেলেছিলাম আরকি।জুয়ার আসর বসাতাম “বন্ধু”দের নিয়ে।সেই সাথে সারারাত রঙ্গিন পানির আসর তো চলতই। একদিনের ঘটনা।’ বলেই চুপ হয়ে গেলেন ভদ্রলোক।খানিক বাদে খুক করে কেশে বললেন,‘দেখো বাবা,তুমি আমার ছেলের বয়সী,কথাগুলো তোমাকে কিভাবে...।’
আমি বললাম,‘স্যার,আপনি চাইলে রেখে ঢেকেও বলতে পারেন।’
তিনি খানিক ভেবে বললেন,‘নাহ,কথাগুলো তোমার শোনা প্রয়োজন।ঠিক কী পরিস্থিতিতে ইয়াসমিনের সাথে আমার পরিচয় হয় সেটা জানার প্রয়োজন আছে।’
‘তাহলে বলুন।’
‘একদিন রাতেরবেলা।’শুরু করলেন তিনি।‘সেদিন আমরা চারজন ছিলাম।পেটে কিছু পড়তেই নেশা চড়ে গেল।এমন সময় এক বন্ধু জামান বলল,দোস্ত একটা মেয়ে টেয়ের ব্যবস্থা করা যায় না?’
‘ “মেয়ে-টেয়ে” নিশ্চয়ই বলেনি?’ মাঝপথে থামিয়ে দিয়ে বললাম।
‘বুঝলাম না ঠিক।’
‘নিশ্চয়ই আরো অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করেছিল আপনার বন্ধু।’
‘হুম,কুৎসিত ভাষা ব্যবহার করেছিল জামান।সেটা বলতে চাচ্ছি না।’
‘আমিও শুনতে চাচ্ছি না।’
জহির সাহেব বলতে শুরু করলেন,‘আমাদের গার্মেন্টসে সারারাত ওভারটাইম করত অনেকে।এদের মধ্যে অনেক মেয়েও থাকত বলাই বাহুল্য।হঠাৎ ভাবলাম,বাইরে থেকে না এনে এদের দিয়েই কাজ চালানো গেলেই তো ভাল।’
‘একেবারে ফ্রেশ মাল!’
জহির সাহেবের চোখদুটো ছোট ছোট হয়ে গেল।‘তুমি কি আমাকে অপমান করছ?’
‘জী না।আমি আপনাদের ওই সময়কার মানসিকতাটা ধরতে চাইছি।’
জহির সাহেব কিছু না বলে শুরু করলেন,‘হুম,স্বীকার করছি ওই সময় আমাদের মানসিকতা এমনই নোংরা ছিল।নেশার ঘোরে সব খুইয়ে বসেছিলাম বিবেকের।ম্যানেজারকে ডেকে বললাম,একটা সুন্দর দেখে মেয়েকে নিয়ে আসতে।টাকা পয়সা দিয়ে যেন আগেই ম্যানেজ করে নেয়।পরে ক্যাচাল করবে তা হবে না।
একটু পর ম্যানেজার এসে বলল,স্যার,একটা বড়ই সুন্দরী মেয়ে আছে কিন্তু টাকা পয়সা দিয়ে একে কাত করা যাবে না।অগ্নিকন্যা টাইপ!
বললাম,নিয়ে আসো,পছন্দ হলে দেখা যাবে।
ম্যানেজার একটু পর ইয়াসমিনকে নিয়ে এল।আমি ইয়াসমিনকে দেখেই নেশার ঘোরেও ধাক্কা মত খেলাম।এত রুপ!
আমি নির্বাক হয়ে কতক্ষন তাকিয়ে ছিলাম ওর দিকে,জানি না।যখন সংবিত ফিরে পাই তখন দেখতে পেলাম, আমার তিন বন্ধু মেয়েটার উপর চড়াও হয়েছে।দুজন আমার বিশাল সেক্রেটারিয়েট টেবিলের উপর ওকে শুইয়ে দু হাত চেপে ধরেছে। আরেকজন পা।সস্তার সালোয়ার কামিজ এলোমেলো।ওড়নাটা কোথায় যেন।
আমি ইয়াসমিনের দিকে তাকাতেই দেখি ভয়ে থর থর করে কাঁপছে মেয়েটা।কী যেন বলতে চাইছে,একজন মুখ চেপে ধরায় জান্তব গোঙ্গানি বের হচ্ছে শুধু।রেশমের মত চুলগুলো এলোমেলো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে, কাঁধে,কপালে,গলায়।চোখে তীব্র আতঙ্ক।’ বলতে বলতে থেমে গেলেন জহির সাহেব।যেন স্পষ্টই তাঁর চোখের সামনে এক অসহায় তরুণীর ভয়ার্ত মুখে প্রতিচ্ছবি কুয়াশার মত ভেসে বেড়াচ্ছে। যেন এই মুহুর্তে সে চোখের আকুতিগুলোও পড়তে পারছেন তিনি।
‘ইয়াসমিনের চোখে তখন জল টলমল করছিল পদ্মদিঘীর মত।’ বলতে লাগলেন জহির সাহেব।‘এমন সময় জামান আমার দিকে তাকিয়ে ফ্যাঁচফ্যাঁচ করে হেসে অশ্লীল ভঙ্গিতে কোমর দোলাতে দোলাতে বলল,শুরু কর দোস্ত!
আমি আবার ইয়াসমিনের দিকে তাকালাম।এবার মেয়েটার চোখেমুখে ভীতি সরে গিয়ে অবিশ্বাস জায়গা করে নিল।যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না আমি এমন কোনো কাজ করতে পারি।
জানো অভ্র,আমি এখনো মাঝে মধ্যে ধন্দে পড়ে যাই,সেদিন ওর চেহারায় আসলেই অবিশ্বাস ভর করেছিল? ইয়াসমিন কি সত্যিই বিশ্বাস করত,এমন কাজ আমি কিছুতেই করতে পারি না?নাকি ভুল দেখেছিলাম আমি?’
জবাব নেই আমার কাছে।
‘সেই দৃষ্টি দেখার সাথে সাথে আমার কী হল বলতে পারব না,নেশা আচমকা কেটে গেল।গর্জে উঠে ওদের বললাম,এক্ষুনি তোরা আমার অফিস ছেড়ে বেরিয়ে যা।আর কোনোদিন যেন না দেখি আমার আশেপাশে।
শুনে জামান খ্যাক খ্যাক করে হেসে খুবই কুৎসিত একটা কথা বলল।
মাথায় ঝা করে রক্ত চড়ে গেল।একটা ফুলদানি ছিল হাতের কাছে, ধাই করে মেরে বসলাম জামানের মাথায়।বেরিয়ে যা শুয়োরের দল,গর্জে উঠলাম।
ফিনকি দিয়ে রক্ত চুইয়ে পড়ছে জামানের।একজন প্রতিবাদ করতে চাইছিল বোধহয়,আমার রণমূর্তি দেখে ভয় পেয়ে গেল।কিছু না বলেই আহত জামানকে নিয়ে পালিয়ে গেল সুরসুর করে।আমার ক্ষমতা ওরা ভাল করেই জানে।
ওরা পিঠটান দিতেই তাকালাম ইয়াসমিনের দিকে।মেঝে থেকে ওড়না কুড়িয়ে নিয়ে বাড়িয়ে ধরলাম ওর দিকে।খুব ইচ্ছে করছিল অসহায় মেয়েটার গায়ে ওড়নাটা জড়িয়ে দিতে।
দু’চোখ ভরা জল নিয়ে আমার দিকে তাকাল ইয়াসমিন।ফুঁপিয়ে চলেছে একটানা।কাজল দিয়েছিল চোখে,কাজল ধোয়া পানি শুভ্র গালটাকে ইষৎ কৃষ্ণতার ছোঁয়া দিয়ে গেছে।’ থামলেন জহির সাহেব।
আমি অবাক নয়নে তাকিয়ে আছি আধবুড়ো একজন মানুষের চোখের দিকে।
কী আশ্চর্য!
কী আশ্চর্য!!
আমি তাঁর চোখে অসীম ভালবাসার এক সমুদ্র দেখতে পাচ্ছি!
কার জন্য এই ভালবাসা?
বেশ কিছুটা সময় নিলেন এবার জহির সাহেব।চোখের দৃষ্টি ছাড়িয়ে যাচ্ছে কংক্রিটের দেয়াল,ওপাশের দিগন্তও।চেহারায় হঠাৎ করেই একটা আভা ফুটে উঠেছে। উজ্জল আভাটায় কী যেন একটা মিশে আছে,ধরতে পারছি না।
‘তারপর কী হল স্যার?’ আমি ভদ্রলোককে পৃথিবীতে ফিরে আসবার আহবান জানালাম।
জহির সাহেব সংবিত ফিরে পেতেই সামান্য কেঁপে উঠলেন।গলা খাকারি দিলেন অস্বস্তি কাটাতে। বললেন,‘ইয়াসমিনকে বললাম বাসায় চলে যেতে।হাতে কিছু টাকা দিতে গিয়েও দিলাম না।দরিদ্র মানুষের আত্মসম্মানবোধ খুবই তীক্ষ্ম হয়।এদের আত্মসম্মানে আঘাত করলে এরা সবচাইতে আহত হয়।টাকাটাও হয়ত ইয়াসমিনকে আহত করবে,এজন্য দিলাম না।ইয়াসমিন নীরবে রুম ছেড়ে বেরিয়ে গেল।
আমিও দীর্ঘদিন পর সেদিন রাতে বাড়ি ফিরলাম।প্রচন্ড ক্লান্তি ভর করেছিল।বাড়ি ফিরেই ফ্রিজ থেকে হুইস্কির বোতল বের করলাম।কিন্তু কী এক অজ্ঞাত আড়ষ্টতায় গ্লাসটা মুখ পর্যন্ত তুলতে পারলাম না।লালচে পানীয়টাকে ঘৃণ্য একটা বস্তু মনে হচ্ছিল।এই বস্তুটার জন্যই আজ ইয়াসমিনের সর্বনাশের চুড়ান্ত হতে যাচ্ছিল ভাবতেই রক্ত উঠে গেল মাথায়।এক ঝটকায় ছুড়ে ফেলে দিলাম গ্লাসটা।প্রচন্ড মাথা ব্যাথা নিয়ে একসময় ঘুমিয়ে পড়লাম।
পরদিন সকালে উঠে আমি উপলব্ধি করলাম,আমি অসহায় মেয়েটার প্রেমে পড়ে গেছি।’
কথাটা জহির সাহেব এমন ভাবে বললেন আমি চমকে উঠলাম।তারমানে তখন আমি ভুল পড়িনি তাঁর চোখের ভাষা।
‘ওকে আমার খুবই প্রয়োজন।’ শুরু করলেন জহির সাহেব।‘আমার ছন্নছাড়া,বেয়াড়া জীবনটাকে ইয়াসমিনই পারবে গুছিয়ে দিতে।আমি এই মেয়েটার কোলে মাথা রেখে সারাটা জীবন কাটিয়ে দিতে পারব।
সিদ্ধান্ত নেয়া হতেই অদ্ভুত এক প্রশান্তি ভর করল আমার পুরো অস্তিত্ব জুড়ে।মুহুর্তেই একটা প্রাণবন্ততা ঘিরে ফেলল ছায়ার মত।সেদিন খুব সকাল সকাল গিয়ে অফিসে হাজির হলাম।তখনও আমার মাথায় ধরেনি এমন একটা ঘটনার পর ইয়াসমিনের কাজে আর না আসার জোর সম্ভবনা আছে।আগেই বলেছি,দরিদ্রদের মধ্যে আত্মসম্মানবোধ প্রবল হয়।ব্যাতিক্রম যে নেই তা না,তবে ব্যাতিক্রম তো আর দৃষ্টান্ত হতে পারে না।
যাইহোক,ঘটলও তাই।অফিসে গিয়ে শুনি ইয়াসমিন কাজে আসেনি।অভ্র,বলতে পারবে এরপর আমি কী করলাম?’
‘খুব সহজ স্যার।আপনি ইয়াসমিনকে ডেকে আনতে লোক পাঠালেন।’
আমার কথা শুনে জহির সাহেবের মুখে যে হাসিটা ফুটল সেটাকে আলেকজান্ডারের বিশ্ব জয় কিংবা নীল আর্মস্ট্রং এর চন্দ্র জয়ের পরের হাসিটার সাথে বদলে নেয়া যাবে সহজেই।জহির সাহেব উজ্জ্বল মুখে বললেন,‘হয়নি,ঠিকানা নিয়ে আমি নিজেই গেলাম ইয়াসমিনের বাড়িতে।’
আমি চোখে মুখে প্রবল বিস্ময় ফুটিয়ে তুললাম।যেন এই মাত্র আমি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ আশ্চর্যের ব্যাপারটা দেখে ফেলেছি।তবে বিস্ময়টা যে কৃত্রিম সেটা উত্তেজিত জহির সাহেবের চোখে ধরা পড়ল না।
আমি আগেই ধরতে করতে পেরেছিলাম জহির সাহেব নিজেই গিয়েছিলেন সেই মেয়েটার বাসায়।কিন্তু জহির সাহেবের আনন্দে উজ্জ্বল মুখটা দেখার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে চাইনি।
জহির সাহেব বললেন,‘আমাকে দেখে ইয়াসমিনের মুখভঙ্গিটা কেমন হয়েছিল যদি দেখতে!’ আবার স্মৃতিচারণায় ডুবে গেলেন ভদ্রলোক।বাচ্চাদের আইসক্রিম প্রাপ্তির মত আনন্দে জ্বলজ্বল করে উঠল তাঁর চোখজোড়া।
একটু পর বললেন,‘তখনই ওর পারিবারিক অবস্থা সম্পর্কে সব জানতে পারি আমি।ওর বাবা মা ছোটবেলাতেই মারা যায়।বড় হয়েছে মামার কাছে।এখন গার্মেন্টসে কাজ করে পুরো টাকাটাই মামা-মামীকে দিয়ে দিতে হয়।বিনিময়ে পায় একটা মাথা গোজার ঠাঁই আর দুবেলা ঠাণ্ডা কড়কড়ে ভাত।ও চাইলে একা একা ওর বেতনের টাকা দিয়ে এর চাইতে অনেক ভাল থাকতে পারত।কিন্তু মামা-মামীর প্রতি কৃতজ্ঞতা থেকেই কষ্টটুকু সহ্য করে নিয়েছিল।তাছাড়া ওদের শ্রেনীতে একটা মেয়ের একা থাকাটা খুবই বাঁকা চোখে দেখা হয়।তখন তো আরও হত।সেই মেয়ের বিয়ের পথ অনেকটা পাকাপাকিভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।
ওহ,আমি বোধহয় মুল প্রসঙ্গ থেকে সরে গিয়েছি,তাইনা?আচ্ছা মুল কথায় আসি,চাকরিটা ছাড়লে মামা-মামীর পক্ষ থেকে বেশ বড় একটা ঝড় আসার সমূহ সম্ভবনা ছিল তাই আমি গিয়ে অনুরোধ করতেই ইয়াসমিন রাজি হয়ে যায় কাজে আসতে।তাছাড়া স্বয়ং আমার উপস্থিতিও ওকে অভিভূত করে ফেলেছিল বেশ খানিকটা।অবশ্য আমি যে ওদের ওখানে গিয়েছি সেটা আমার ড্রাইভার ছাড়া কেউ জানত না।গাড়ি ওদের বস্তি থেকে কিছুটা দূরে দাঁড় করিয়ে রেখে ড্রাইভারকে পাঠিয়েছিলাম ওকে ডেকে আনতে।যাইহোক,ইয়াসমিন পরেরদিন থেকে কাজে তো এল কিন্তু ওর কাজের ধরন পালটে গেল সম্পুর্ন।ইয়াসমিন মেট্রিক পরীক্ষা দিয়েছিল,তাই ওকে আমি আমার প্রাইভেট সেক্রেটারী বানিয়ে ফেললাম অফিসের সবার ভ্রুকুটিকে তুড়ি মেরে।যদিও কেউ প্রকাশ্যে ট্যাঁ ফো করবার সাহসও পায়নি।
ইয়াসমিন খুব গুছিয়ে কথা বলতে পারত।তাছাড়া লেখালেখিরও অভ্যাস ছিল ছোটবেলায়।কাজটার জন্য একেবারে অযোগ্য বলা যাবে না।তবে ইয়াসমিন শুধু নামেই আমার পিএস হল।ওর আসল ও একমাত্র কাজ ছিল আমাকে সঙ্গ দেয়া।সারাদিন আমার চেম্বারে বসে টুকটুক করে গল্প করতাম আমরা।কী ছিল না আমাদের আলাপের বিষয়বস্তু? সবকিছু নিয়েই গল্প হত আমাদের।মাঝে মধ্যে ইয়াসমিনকে নিয়ে বেরিয়ে পড়তাম শহর ভ্রমণে,কিংবা রেস্টুরেন্টের আলো আঁধারির উদ্দেশ্যে।
অভ্র,তোমাকে আমি বোঝাতে পারব না,ইয়াসমিনকে সেই প্রহর শেষের রাঙা আলোয় কিংবা বৈদ্যুতিক বাতির আঁধো আলোতে কেমন অদ্ভুত মায়াবী দেখাত।আটপৌরে পোশাকেই যাকে পরীর রুপে দেখা যেত সেখানে লাল একটা শিফনের শাড়িতে কেমন দেখাতে পারে?’ এটুকু বলেই থতমত খেয়ে গেলেন জহির সাহেব।
আমিও খানিক লজ্জা পেলাম।প্রায় বাবার বয়সী একজনের মুখে তাঁর প্রথম প্রেয়সীর বর্ননা শোনাটা খুব সুখকর কিছুনা!
সামলে নিয়ে আবার বলতে শুরু করলেন জহির সাহেব,‘যাইহোক,ইয়াসমিন হয়ত ভেবেছিল গোটা ব্যাপারটা খেয়ালী কর্তার উদ্ভট এক খেয়াল,কিংবা সেদিন রাতে ওর প্রতি অন্যায়ের কিঞ্চিত ক্ষতিপূরণ।মাঝে মধ্যে যে আপত্তি জানায়নি তা নয়।বেশ কয়েকবারই লোকলজ্জার অজুহাত তুলেছিল,কিন্তু এটাও সে জানত “লোক”কে লজ্জা করবার মত মানুষ আমি ছিলাম না।তাছাড়া ভদ্রতাজনক একটা দুরত্ব বজায় রেখে চলতাম আমি।সবচাইতে বড় কথা,“লম্পট” বসের পরিবর্তনগুলো উপলব্ধি করতে পারছিল ও ভালমতই।ওর সাথে দেখা হবার পর থেকে আজ পর্যন্ত মদ ছুঁয়েও দেখিনি আমি।হয়ত এই ব্যাপারগুলোই আমার প্রতি ওর বিশ্বাসকে জাগিয়ে তুলেছিল অনেক উঁচুতে।কিন্তু ইয়াসমিন ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেনি তার বস আসলে তার প্রেমে গলা পর্যন্ত ডুবে আছে!নাকি বুঝেছিল? জানা হয়নি।
এরপর একদিন রাতের বেলা অফিস ছুটি হবার পর আমি ইয়াসমিনকে জানালাম আমার সেই সেদিনের অনুভূতি,বাড়ি ফেরার পরের অনুশোচনা,সকালের সেই সংকল্প,ভালবাসার টুকরো কথাগুলো।সরাসরিই বললাম আমি ওকে বিয়ে করতে চাই।
এরপরের কয়েকটা মুহুর্ত সারাটা জীবন অনেক অনেক রঙিন হয়ে থাকবে আমার জন্য।এই ক’টা মুহুর্ত’র কথা ভেবেই হাজার বছর কাটিয়ে দেয়া যায়।
ইয়াসমিন আমার ডাকে সব কিছু একপাশে রেখে সাড়া দিল।সে রাতেই আমি আমার এক পরিচিত কাজীকে ডেকে অফিসেই বিয়ে করে ফেললাম ইয়াসমিনকে।সেরাতেই...’ বলতে শুরু করেও বেশ দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস ফেলে থেমে গেলেন জহির সাহেব।এই একটা দীর্ঘশ্বাসই আমাকে বলে গেল অনেক কিছু।প্রলম্বিত এই শ্বাসেই লুকিয়ে ছিল অন্য অনেক কিছুর ছোঁয়া। শংকা,লজ্জা,ভীতি,ভালবাসা এবং সবশেষে চুড়ান্ত তৃপ্তি!
এরপর আচমকাই সে রাতের অধ্যায় বন্ধ রেখে সম্পুর্ন অন্য সুরে বলতে লাগলেন জহির সাহেব,
যাইহোক,আমাদের বিয়ের পরদিন ঘুরে বেড়ালাম সকাল থেকে সন্ধ্যা।প্ল্যান করলাম,খুব শিঘ্রই বাবাকে জানিয়ে দেব আমাদের বিয়ের ব্যাপার।আমার বিশ্বাস ছিল,আর যাইহোক,আমার কথা অন্তত ফেলতে পারবেন না তিনি।এক সময় না এক সময় ইয়াসমিনকে অবশ্যই মেনে নিতেন,এবং সেটা মন থেকেই।কিন্তু আচমকা আমার সমস্ত রঙিন কল্পনাকে এক লহমায় ধূসরতায় ডুবিয়ে হারিয়ে গেল ইয়াসমিন।চিরতরে।’
একবারে ক্লাইমেক্সে এসে গল্প আচমকা থামিয়ে দেবার মত গুন আছে জহির সাহেবের।এটা একটা গুনই।সবার থাকে না।গল্প বলতে পারা যেমন একটা শিল্প,গল্প জায়গা মত থামিয়ে দেয়া তার চাইতে বড় শিল্প।আমি দম বন্ধ করে অপেক্ষা করতে লাগলাম।এক পর্যায়ে প্রবল অস্বস্তি নিয়ে প্রশ্ন করলাম।‘উনি কি স্যার,মারা গিয়েছেন?’
কথা না বলে সম্মতিসূচক মাথা নাড়লেন জহির সাহেব।
আমি আরো অস্বস্তির মধ্যে পড়ে গেলাম।যদিও আমার আপাতত কোনো প্রেয়সী নেই এরপরও জহির সাহেবের মানসিক অবস্থা বুঝতে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হতে হল না।কৌতুহল চাপতে না পেরে জিজ্ঞেস করলাম,‘স্যার উনি কিভাবে মারা গেলেন?’
‘জানি না।’
এবার আমি ধন্দে পড়ে গেলাম।হঠাৎ করেই মনে হচ্ছে আমি বুঝি আকুল পাথারে এসে পড়েছি।এই জায়গায় এসে মনে হচ্ছে আমি এতক্ষন ধরে জহির সাহেবের কাহিনির মাথামুন্ডু কিছুই বুঝতে পারিনি।ভদ্রলোক যাকে এতটা ভালবাসতেন তার মৃত্যু কিভাবে হল সে খবর তিনি রাখবেন না?নাকি পুরো ব্যাপারটাই ছিল ইয়াসমিনকে বাগে এনে ভোগ করবার একটা কূটকৌশল মাত্র?তাহলে জহির সাহেবের চোখেমুখে যে ভালবাসার ছাপ দেখেছি একটু আগে,সেটা মিথ্যে?
জহির সাহেব আমার চিন্তাধারা বুঝতে পেরেই হয়ত খেই ধরলেন।সাথে সাথেই কিছু প্রশ্নের জবাব এবং নতুন কিছু প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়াল।বললেন,‘আমি পরদিন অফিসে গেলাম সকাল সকাল।ইয়াসমিনের সাথে কথা হয়েছে,আজ সেও তাড়াতাড়ি অফিসে আসবে।এরপর আমরা দুজন মিলে কক্সবাজার যাব বেড়াতে।’
‘হানিমুনে যেমন হয়!’
‘সরি?’
‘সমরেশ মজুমদারের একটা উপন্যাসের নাম।’
‘ও তাই বলো!আমি আবার... তো,কথা ছিল ইয়াসমিন ওর মামাকে বলে আসবে অফিসের কাজে ও কয়েকদিন বাড়ি ফিরতে পারবে না।ইয়াসমিন আমার পিএস হবার পর থেকে মোটা অংকের বেতন দিতাম ওকে।টাকা পেয়ে ওর মামা-মামীও ওকে তোয়াজ করতে শুরু করেছিল।সুতরাং কয়েকদিন বাড়ি না গেলেও কিছু বলার মত সাহস হারিয়ে ফেলেছিল মামা-মামী।
আমি ব্যাগ ট্যাগ গুছিয়ে অফিসে চলে এলাম।মনটা একেবারে পালকের মত হালকা মনে হচ্ছিল।আমরা ঠিক করেছিলাম বাসে যাব।চাইলে প্লেনেও যাওয়া যেত অবশ্য,কিন্তু দীর্ঘ পথ ইয়াসমিনের গা ঘেসে বসে থাকতে পারব,এই ব্যাপারটাই আমাকে শিহরিত করে তুলছিল।প্লেনে সেই শিহরণ কোথায়?
আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম ইয়াসমিনের জন্য।সকাল গড়িয়ে দুপুর হল,ইয়াসমিন এল না।আস্তে আস্তে সময় গড়াচ্ছে সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বুকের ধুকপুকানি বাড়ল।কুডাক ডাকতে লাগল মন।আশংকায় আমার বুক শুকিয়ে যাচ্ছিল ক্রমশই।কেবলই মনে হতে লাগল ইয়াসমিন বোধহয় আসার পথে এক্সিডেন্ট করেছে।নয়ত এইদিনটাতে দেরী করার কোনো কারণই থাকতে পারে না।একসময় আর অপেক্ষা করা সম্ভব হল না আমার পক্ষে।গাড়ি নিয়ে বের হয়ে গেলাম।
ওর বাড়িতে পৌছে আমি স্রেফ হতভম্ব। ওদের বাড়ি সম্পুর্ণ খালি।আদৌ কেউ বাস করত ভাবতেও বেগ পেতে হচ্ছিল।দম বন্ধ হয়ে গেল আমার।আশেপাশে উদভ্রান্তের মত খোঁজ নিলাম।সবাই যেন আমার কথাতেই জানতে পারল ইয়াসমিনের পুরো পরিবারের উধাও হয়ে যাবার খবর।কারো কাছেই কোনো হদিস পেলাম না ওর।বেমালুম গায়েব হয়ে গেছে ইয়াসমিন।’
‘একজন জলজ্যান্ত মানুষ পরিবার সহ কিভাবে হারিয়ে যায়?’ কন্ঠের বিস্ময়টুকু চাপা দেবার চেষ্টা করলাম না।
আমার প্রশ্ন বোধহয় জহির সাহেব শুনতে পাননি কিংবা জবাব এখনই দেবার ইচ্ছে নেই।বলতে লাগলেন,‘এরপর আমার মাথায় কুৎসিত একটা চিন্তা খেলে গেল।বিয়ের দিন আমি ইয়াসমিনকে হাজার বিশেক টাকা দিয়েছিলাম ভাল একটা বাসা ভাড়া এবং আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র কেনার জন্য।জানতাম ইয়াসমিনরা মোটামুটি মানের বড়লোক হলেও আমার বাবা এই বিয়ে খুশি মনে মেনে নিতেন না,অন্তত প্রাথমিক পর্যায়ে,সেখানে ওরা তো হতদরিদ্র।তাই কিছু টাকা দিয়েছিলাম,যেন আর যাইহোক,“বস্তির মানুষ” তকমাটা লাগাতে না পারেন বাবা।তখন বিশ হাজার টাকা মানে অনেক কিছু।আমার হঠাৎ করেই মনে হতে লাগল দরিদ্র ইয়াসমিন এত টাকার লোভ সামলাতে পারেনি।টাকা নিয়ে পরিবার সমেত পালিয়ে গেছে।এক পর্যায়ে এই চিন্তাটাই গেড়ে বসল মাথায়।
আমি পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে গেলাম মানসিকতায়।উদভ্রান্তের মত জীবন যাপন করতে লাগলাম।অফিসে গেলাম না,খেলাম না।ঘুমালেই দুঃস্বপ্ন দেখে জেগে উঠতাম।বিচ্ছিরি সব দুঃস্বপ্ন। একবার দেখলাম,ইয়াসমিন একগাদা নোংরা আঁশটে পাঁচশ টাকার নোট উন্মাদিনীর মত কচকচিয়ে খাচ্ছে।মুখ বেয়ে লালা গড়াচ্ছে।
সারাটা দিন ঘরে বসে কাটাতে লাগলাম।শুধু একটা কাজ করতাম।প্রতিদিন লোক মারফত খবর নিতাম ইয়াসমিনের।কিন্তু দুর্জ্ঞেয় এক রহস্যের মতই অজানাই রয়ে গেল ইয়াসমিনের অন্তর্ধান রহস্য।
ক’দিন পর কে জানে,আয়নায় নিজেকে দেখে চমকে উঠলাম।এ কী হাল হয়েছে আমার!
তবে একটা কথা ঠিক, অনেক চেষ্টা করেও ওই সময়টায় মদ ছুঁতে পারিনি।মনে হত দরজার ফাঁকে দাঁড়িয়ে ভ্রুকুটি করছে ইয়াসমিন।
পরদিন থেকে অফিসে যেতে লাগলাম। ডুবে গেলাম কাজে।আরো এক সপ্তাহ পর আমি ভুলে গেলাম ইয়াসমিনকে।’
‘ভুলে গেলেন?’
জহির সাহেব আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।আমি উত্তর পেয়ে গেলাম।
‘আমার এই অবস্থা বাবার নজরে পড়লেও তিনি মাথা ঘামাননি আমাকে নিয়ে।কখনো ঘামাতেন না।মাথা না ঘামালেও পৃথিবীতে একটা মানুষকেই আমি ভয় পেতাম।আমার চরিত্রের বেয়াড়া স্বভাবটাও পেয়েছি বাবার কাছ থেকেই।ভয় না পেয়ে উপায় আছে!
বাবা ইয়াসমিন হারিয়ে যাবার দু সপ্তাহ পর বললেন, তার এক বন্ধুর মেয়ে আছে খুব সুন্দরী।আমি দেখব কিনা।
এরকম কথাবার্তা বহু আগে থেকেই বলে আসছিলেন বাবা,আমি আমল দেইনি।এবার দিলাম।ভাল মতই দিলাম।এতই ভাল মত দিলাম,মেয়ে না দেখেই বিয়েতে রাজী হয়ে গেলাম।বিয়ে হয়ে যায় আমার আর শাহনাজের।বাবা ভুল বলেননি।সত্যিই রূপবতী ছিল শাহনাজ।
বলতে গেলে ইয়াসমিনের প্রতি রাগ,অভিমান,ক্ষোভ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া।বলতে বাধা নেই,ওকে আমি ঘৃণাও করতে শুরু করেছিলাম।'
‘এখন করেন না?’ জিজ্ঞেস করলাম আমি।
‘উঁহু।’
‘স্যার একটা কথা জিজ্ঞেস করি?’
‘শিওর।’
‘স্যার,আপনার বাবাই কি ইয়াসমিন ম্যাডামকে মেরে ফেলেছিলেন?’
‘কী বললে? বাবা ইয়াসমিনকে মেরে ফেলেছে?’ চুড়ান্ত বিস্ময় নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললেন জহির সাহেব।
আমি অস্বস্তি নিয়ে তাকিয়ে রইলাম তার দিকে।খেই পাচ্ছি না কোনো।আমতা আমতা করে বললাম,‘বাংলা সিনেমায় যেমন দেখা যায় আরকি!’
হো হো করে হেসে উঠলেন জহির সাহেব।‘না,না,আমার বাবা ওকে মারেননি।ইয়াসমিনের অন্তর্ধান রহস্য তার চাইতেও অনেক বেশি জটিল,অনেক বেশি কুটিল।’
আমি নড়ে চড়ে বসলাম।
.
(পরের পর্ব আগামীকাল সন্ধ্যায় প্রকাশিত হবে)
.
এই মেলায় অভ্র সিরিজের নতুন বই 'অভ্রত্ব' প্রকাশিত হয়েছে রোদেলা প্রকাশনী থেকে। স্টল নাম্বার : ২১৩-১৫। সবাইকে পড়ে দেখার আমন্ত্রণ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now