বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
নীরা! সেই শেরপুর গ্রামের নীরা, যদিও স্থায়াীভাবে এখন ঢাকার! ৮মাস অাগে একটা ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট এসেছিল, সরাচর অামি কারো রিকুয়েষ্ট এত কম সময়ে একস্পেট করিনা, কিন্তু নীরার রিকুয়েষ্ট টা অল্প সময়ের মধ্যে করেছিলাম, শুরুটা এর ৩দিন পর থেকেই, তারপর সরাসরি ফোন, তারপর তো ইতিহাস।
.
নীরার তখন ফেইসবুক চালানোর মত নিজস্ব মোবাইল ছিল না, মায়ের মোবাইল থেকে লগইন করে আমাকে টেক্সট করত, আমিও এসএমএস পাঠিয়ে অপেক্ষা করতাম কখন ফেইসবুকে অাসবে, অার মনে মনে বলতাম ফেইসবুকে অাসবে তো?
.
অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নীরা অাসতো, অামি ফেইসবুকে না থাকলে, কল দিয়ে ফেইসবুকে অানতো, এসে অামাকে অনেক ভালবাসতো, নীরার সবচেয়ে বড় গুন সে খুব সুন্দর গান গাইতে পারে, সাজঁতে পারে, ছবি অাকঁতে পারে, অারো অনেক কিছু পারে যা একটি অার্ট সবাই পারেনা।
.
নীরার যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশী লাগতো সেটা হলো, মেয়েটা প্রতিদিন দুপুর বেলায় অামার জন্য সাঁজতো, শাড়ী পড়তো কপালে টিপ দিতো, অামি অবাক হয়ে দেখতাম এই যেন মেয়ে নয়, একটা অপ্সরী, যদিও নীরা কে অামি এখনো সরাসরি দেখিনাই, পিক তুলে দিতো অামায় এটা ছিলো ওর প্রতিদিনের রুটিন অামার জন্য।
.
নীরা ছিলো অামার জীবন, অামি ছিলাম নীরার অান্তা, অামার ভয়েজটা যেমন তার কাছে শ্লেপিং পিল মনে হতো, নীরার ভয়েজটা ও অামার কাছে সেইম মনে হতো, ঘুমানোর অাগে নীরার কোমল কণ্ঠস্বর চাই চাই
না হলে ঘুম অাসতো না দুজনেরিই।
.
এসব সেই সত্য যুগের কথাবার্তা, তারপর জল গড়াতেই থাকল, নীরার দাদুর স্বপ্ন ছিলো নাতনি টা ডাক্তার হবে,
এদিকে অামিও নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছিলাম, যাতে কিছু একটা হয়ে নীরাকে সারাজীবনের জন্য রাজরানী করে রাখতে পারি।
.
ডাক্তারি পরার জস টা মাথায় ঢুকার পর থেকে নীরা কেমন যেন হয়ে গেলো, অথচ কয়েকমাস অাগেই
ভালোই ছিল, ধীরে ধীরে একজন সায়েন্সের ছাত্রী আর অার্টসের ছাত্রের মধ্যে ‘ব্যবধানটা’ মেনে নিতে থাকলাম, সম্পর্কটা হাই-হ্যালোময় সামাজিক সম্পর্ক হয়ে গেল।
.
এক মাস খবর না নিলেও নীরা আর অভিমান করে না, অনেক দিন পর ফোন দিলে ব্যস্ততার কণ্ঠে বলে "কিছু বলবা? আমার অভিমান তীব্রতা হারাতে থাকে, একপক্ষীয় গুরুত্বহীন অভিমানটা নিজের কাছেই বড় হাস্যকর মনে হয়।
.
একদিন জিজ্ঞেস করেই বসলাম! এমন কেন হলো নীরা? সে আকারে-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দেয়, এটা বাচ্চামির বয়স না, আমরা বড় হয়ে গেছি, এখন আমাদের বড়দের মতো চলতে হবে, অামি তোমাকে সময় দিতে পারবোনা, তুমি অামাকে নিয়ে পড়ে থেকোনা, তুমি অামাকে কখনো পাবেনা, এতদিন ভুল করেছি, অামি রিলেশন রাখতে পারবোনা, অামাকে ডাক্তার হতেই হবে, তুমি চলে যাও সাথে থাকলে কষ্ট পাবা।
.
আমিও সরে আসি অলিখিত অধিকারের অনধিকার চর্চা থেকে।
আজ সেই অদেখা নীরাকে ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করছে, মাঝেমধ্যে কোনো কারণ ছাড়াই বিশেষ কোনো ব্যক্তিকে দেখতে এমন ইচ্ছে করে, বোধ হয়, খুব জটিল কোনো রোগে ধরলে এমনটা হয়, মন আলগা হয়ে যায়, একটা ছটফটানি ভাব চলে আসে, অনেকে এটাও বলেন, পৃথিবী ছাড়ার আগে পরিচিত মুখগুলো আরেকবার দেখতে ইচ্ছে করে।
.
আমার দৃঢ় বিশ্বাস, নীরা একদিন ডাক্তার হবে, নীরা অার ৪বছর পর প্র্যাকটিস শুরু করে দিবে, শুনেছি চিকিৎসকদের নাকি আবেগপ্রবণ হতে হয়না, শেরপুর গ্রামের আবেগী নীরাও কি আবেগহীন পাথর হয়ে গেছে?
.
একটা কোমল হাত আলতো করে আমার হাত চেপে ধরে অাছে এটা নিশ্চয় নীরার হাত! নীরাকে দেখার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করি, কিন্তু কে যেন ষড়যন্ত্র করে আমার চোখের ওপর কয়েক টন ওজনের বোঝা চাপিয়ে দেয়। বারবার আমি ব্যর্থ হই, চারদিকে অন্ধকার দেখি! নিকষ কালো-ঘুটঘুটে অন্ধকার।
.
কোমল হাতটা আমার হাত ছেড়ে দেয়, একটা নিরুত্তাপ কণ্ঠ কানে এসে বিঁধে "সায়েম ভাই" লাশটা দ্রুত হিমঘরে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন! আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো শুনতে থাকি, এ যে আমার নীরার কণ্ঠ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now