বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একজন মোটা মানুষ
সাদরুজ্জামান নূর (তামাম)
------------------------------------
অনেকক্ষণ ধরে অভির মনটা খচখচ করছে। কাজটা
করে ফেলা দরকার।
কিন্তু মুশকিল হলো তাকে ইদানীং অনেক ভাবনা
চিন্তা করে সব করতে হচ্ছে। সে অনেক বড়
হয়ে গিয়েছে এই কথাটা তাকে সারাক্ষণ জানানো
হয়। কাজেই হুট করে কিছু করে ফেলতে
পারছে না।
অনেক চিন্তা ভাবনা করে কার্যপদ্ধতি ঠিক করতে
হবে। প্রতিটা কাজের কিছু ফলাফল আছে, সেটা
সবসময় তার ভালো নাও লাগতে পারে। আর
ফলাফলের ওপর তার তো কোন হাত নেই, হাত
আছে ফলাফলের আগে যে কাজ তার ওপর।
এখানে ঠিক কী হচ্ছে সে বুঝতে পারছে না।
অনেকক্ষন ধরে অপেক্ষা করছে তারা। আরো
কতক্ষণ থাকতে হবে সেটাও বুঝে ওঠা মুশকিল।
একটু আগে তাকে জানানো হয়েছে "এইতো
আর কিছুক্ষণ। এর মানে অবশ্যই আরো
অনেকক্ষন। সব তথ্য সত্য হয় না। ইদানিং তাই অন্য
কারো কাছ থেকে তথ্য না নিয়ে সে নিজে
নিজেই যাচাই করার চেষ্টা করে।
যেমন: "এইতো আর দুই মিনিট।" কথাটা সত্য নয়।
এর মানে হচ্ছে কমপক্ষে দশ মিনিট। আর কারো
কারো জন্য আরো বেশি। সে ঘড়ি দেখতে
জানে না, কিন্তু সময় গুনতে পারে।সে একবারে
এক দুই করে চারশো পর্যন্ত গুনে ফেলতে
পারে। পদ্ধতিটা সে নিজে নিজে আবিস্কার
করেছে, ডান হাতে এক থেকে বিশ পর্যন্ত
গোনা যায়। বিশ হয়ে গেলে বাম হাতে এক
গুনে। বিশবার বিশ হলে হয় চারশো। চারশো হয়ে
গেলে সে টান দিয়ে মাথা থেকে একটা চুল
ছিঁড়ে ফেলে, তারপর হাতে বা পকেটে
রেখে দেয়। সে অংকে ভালো, তাই কয়টা চুল
হলো গুনে সে বলে দিতে পারে কতক্ষন
সময় অপেক্ষা করছে। আজকে ছয়টা চুল হবার
পর বুকপকেটে রেখেছিলো, এখন খুঁজে
পাচ্ছে না। আবার নতুন করে গোনার উৎসাহ
পাচ্ছে না।
কাজটা করে ফেলা খুব প্রয়োজন। অভি চিন্তিত
বোধ করে।
একটু আগে রোদ উঠেছিলো। এখন তারা ছায়ায়
এসে বসেছে। আস্তে আস্তে বাতাস দিচ্ছে।
এতে তার অসস্তিটা আরো বেড়ে যাচ্ছে।
অভি আসেপাশে তাকালো। পাশে একটা মোটা
লোক এসে বসেছে। চশমা পড়া, হাতে একটা
মোবাইল ফোন, টেপাটিপি করছে। গেম
খেলছে মনে হয়। এতক্ষণ অপেক্ষা করতে
হবে জানলে সেও সময় পার করার জন্য কিছু না
কিছু নিয়ে আসতো। তার একটু একটু রাগ উঠছে,
তাকে কেউ ঠিকমতো তথ্য দেয় না কেন?
মোটা লোকটা হাসি হাসি মুখ করে তাকাচ্ছে। আচ্ছা
লোকটা কি বুঝে ফেলেছে? অভি দেখেছে
অনেক এরকম করে তাকিয়েই বুঝতে পারে।
তাদের দেখলে অভির রাগ লাগে। এই মোটা
লোকটাকে দেখেও অভির রাগ লাগছে। উনি
একটু পর পর তাকে দেখছেন আর মোবাইলে
কি যেন টেপাটিপি করছেন। অদ্ভুত লোক!
হাতে বেশি সময় নেই। একটা কিছু প্ল্যান করা
দরকার। কারো সাহায্য চাইতে ইচ্ছে করছে না।
নিজে নিজে কী করা যায় তাই ভাবতে হবে।
আচ্ছা উঠে দৌঁড় দিলে কেমন হয়? এক দৌঁড়ে ঐ
বড় বিল্ডিংটার আড়ালে চলে যাবে, কেউ খুঁজে
পাবার আগেই আবার ফেরত চলে আসবে। কেউ
ধরতে পারবে না।
নাহ। অনেক লোক বসে আছে এর মধ্যে
কেউ একজন দৌঁড় দিলে সবাই তাকাবে। উদ্দেশ্যটা
সফল হবে না।
আচ্ছা লোকটা এতো মোটা কেন? নিশ্চয়ই
অনেক খায়। অভির খাওয়া দাওয়া একদম ভালো লাগে
না। কিন্তু সে দেখেছে অনেকেই খাওয়া দাওয়া
পচন্দ করে। তারা সাধারনত মোটা হয়। আচ্ছা মোটা
লোকেরা খাওয়া এতো পছন্দ করে কেন?
লোকটারর পাশে একটা পানির বোতল। অভি
এতক্ষণ লক্ষ করেনি। উনি বোতলটা হাতে নিতেই
অভির নজরে পড়লো। লোকটা পানি খাবে।
এই সেরেছে! পানির কথা সে মনে করতে
গেলো কেন? এখন বিপদ, সমূহ বিপদ।
অভি ঠিক করে ফেলে, আর সম্ভব না। কালকে
যে গল্পটা সে ঠিক করেছিলো, সেটা আজকে
কাজে আসবে। যে নিচু পাঁচিলটাতে তারা
বসেছিলো সে তার ওপর দাঁড়িয়ে যায়। তারপর
উল্টো ঘুরে প্যান্টের চেইন নামিয়ে ছড়ছর
করে ছেড়ে দেয়। মোটা লোকটা কৌতুহলী
হয়ে তাকিয়ে আছে। থাকুক, কিছু করার নেই।
...................
মাহফুজ সাহেব তাঁর সাড়ে চার বছরের পুত্রের
দিকে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছেন:
"কী করলা তুমি এইটা, আব্বু?"
অভি হাসি হাসি মুখ করে বললো: "আব্বু জানো
হইসে কী? একটু আগে একটা স্পেসশিপ
আসছিলো। আমাকে বলসে যদি এখনি পিপি না করি
তাইলে আমাকে মারবে।"
মাহফুজ সাহেব উৎকন্ঠা বোধ করলেন। তার পুত্র
অতি বুদ্ধিমান। হঠাৎ করে একটা কুকর্ম করে সাথে
সাথে বানিয়ে বানিয়ে একটা গল্প বলে দেয়।
মনোযোগ অন্যদিকে নিয়ে যাবার প্রচেষ্টা।
এখন আধুনিক যুগ। আগের মত কষে চড় দেয়া যায়
না।
বুয়েট ক্যান্টিনের সামনে নিচু পাঁচিলটাতে তারা বসে
ছিলো। দেড় ঘন্টার মধ্য এক ঘন্টা পার হয়েছে।
আরো আধা ঘন্টা।
মাহফুজ চিন্তিত বোধ করেন। এই ছেলে কি বড়
হয়ে রাজনীতিবিদ হবে নাকি!
................................
পাশের মোটা লোকটা মুঠোফোনে লেখা
নোটটা সেভ করে হাসি হাসি মুখ করে উঠে
পড়লেন। তার স্ত্রীর পরীক্ষা শেষ হতে
দেরী আছে। এবার একটু হাঁটাহাঁটি করা দরকার।
ছাত্রজীবনে প্রায়ই বুয়েটে আসতেন। একটু
স্মৃতিচারণ করা যাক।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now