বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একজন লেখিকা আর আমি

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Merina Afrin Mou (০ পয়েন্ট)

X অামি গল্প লেখা শুরু করছি এখন প্রায় এক বছর অাট মাস হলো। এর অাগে অামি ছিলাম ভালো একজন পাঠক । সব সময় গল্প পড়তাম। গল্প পড়তে অনেক ভালো লাগতো। তখন অামি ভালো ভালো লেখক লেখিকা কে ফ্রেন্ড লিষ্টে এড করে তাদের গল্প গুলো পড়তাম। একদিন একজন লেখিকার অাইডি পেলাম। অামি তার অাইডি থেকে দুইটা গল্প পড়লাম। গল্প গুলো খুব ভালোই লাগলো। তাই তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠালাম। রিকোয়েস্ট করার পর সে একসেপ্ট না করে এক ঘন্টা পর অামাকে এস এম এস করে বলে..... --- = হ্যালো কে অাপনি? ( লেখিকা) :- কেনো পরিচয় না দিলে কি রিকোয়েস্ট একসেপ্ট করেন না? ( অামি) = জ্বি না, অাপনি কি দেখেন নাই অামার অাইডিতে মাত্র ১৩ জন ফ্রেন্ড? সবাই অামার পরিচিত। :- অাচ্ছা রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করেন, তারপর পরিচয় দিচ্ছি। = অামি অাপনাকে চিনি না, কি ভাবে রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করি? :- অারে অাপনি অামাকে চিনেন না, কিন্তু অাপনি তো অামার চেনা জানা। . অাসলে কথাটা মিথ্যে বলছিলাম. অামি ওকে চিনি না, জানি না, ফাজলামি করে মিথ্যে বলে দেই। . = কি করে চিনেন অামায়, [ লেখিকা ] :- অাপনার বাসার পাশে তো অামার বাসা , ( অামি) = ও অাচ্ছা তাহলে অাপনি, :- হ্যাঁ অামি, = অাপনার নাম তো সুমন, কিন্তু এখানে দেখছি জাভেদ দেওয়া। :- অামার ডাক নাম সুমন, কিন্তু জাভেদ নামটা স্কুলে কলেজে দেওয়া, তাই অাইডিতে জাভেদ নামটাই দিলাম। = অাচ্ছা অাপনি এসব কি শুরু করলেন? :- কি শুরু করলাম অামি? = এইযে সাকিল কে দিয়ে ফুল অার চকলেট পাঠালেন। ওকে দিয়ে বললেন, অামাকে নাকি ভালোবাসেন। অাবার অামার মোবাইল নাম্বার চাইলেন। এখন অাবার অামার ফেসবুক অাইডির খোঁজ নিলেন। অাচ্ছা অামার অাইডির খোঁজ পেলেন কি করে? :- ভালোবাসার জন্য মানুষ কতো কিছু করে, অার অামি একটা ফেসবুক অাইডির খোঁজ নিতে পারবো না? = অাবার শুরু করলেন অাপনাকে অাগে বললাম, অাপনাকে ভালোবাসা অামার পক্ষে সম্ভব না। :- কেনো সম্ভব না, কি কারনে? = কোনো কারন নাই , এমনি ভালো লাগে না। --- এইদিন এই পযন্ত চ্যাট হয় অামাদের তার সাথে চ্যাট করে অামি বুঝতে পারি, তাদের বাসার পাশে সুমন নামে কোনো ছেলে থাকে, যে সুমন তাকে ভালোবাসে। অার সে তার প্রেমে সাড়া দেয় না। তখনি অামার মাথায় একটা দুষ্ট বুদ্ধি এলো। অামি ভাবলাম সে যখন ভাবছে অামি সুমন তাহলে অামিও অামার পরিচয় না দিয়ে সুৃমনের নামে দুষ্টামি করি কিছুদিন , পরে যখন জানতে পারবে অামি সুমন না তখন অামার অাসল পরিচয় দিবো। যেমন ভাবা তেমনি কাজ পরেরদিন থেকে প্রতিদিন চ্যাট হতে থাকলো অামাদের। ----- অামি সুমন এর নাম ধরে ওকে বুঝাতে লাগলাম। অামি তাকে অনেক ভালোবাসি। ওকে, ছাড়া অামি বাঁচবো না। মানে প্রেম ভালোবাসা নিয়ে যতো কিছু জানতাম ওকে বলে যেতাম। কিভাবে তার মনে সুমন এর জন্য ভালোবাসা জম্মানো যায় সেটাই চেষ্টা করে যেতাম। প্রায় দেড় মাস তার সাথে এভাবে চ্যাট করে যাই। তারপর অামার মনে হলো সুমন এর জন্য তার মনে ভালোবাসা জন্মা নিছে, তার কথাবার্তায় সে বুঝতে পারি। ----- দেড়মাস পর একদিন সে অামাকে বললো। অাচ্ছা অাপনি কি পাগল? অাপনি সাকিল কে কেনো পাঠালেন অামার মোবাইল নাম্বারের জন্য? অাপনি সকাল বিকাল সব সময়ই অামার সাথে চ্যাট করেন তখন নাম্বার চাইতে পারলেন না। অামি নাম্বার দিতাম, কিন্তু সাকিল কে কেনো পাঠালেন নাম্বারের জন্য? [ অামি কখনো তার নাম্বার চাইনি কারন নাম্বার নিলে কল দিতে বললে অামি কল দিলে ধরা পড়ে যাবো ] তাই অামি তখন বলি, না না অামি সাকিল কে নাম্বারের জন্য পাঠাই নাই। মনে হয় সে নিজে নিজে গেছে নাম্বারের জন্য।সে অামার বন্ধু তাই বন্ধুকে হেল্প করছে। সে তখন বলে, অাচ্ছা ঠিক অাছে অামি অার সাকিল অাপনাদের বাসার সামনে দাঁড়িয়ে অাছি। অাপনি ঘর থেকে বের হন, তাহলে সত্য মিথ্যে জানা যাবে। অার এমনি অাপনাকে অনেক কথা বলার অাছে, তাড়াতাড়ি করে ঘর থেকে বের হন। অামি বলি, অামি এখন বাসাতে নাই অনেক দূরে অাছি পরে দেখা করবো। সে বলে, অাপনি দেখি অনেক মিথ্যেবাদী,, অাপনি ঘরে বসে কার সাথে কথা বলছেন,অামি সাকিল দুইজনে অাপনার কথা শুনতে পারছি, অার অাপনি বলছেন অাপনি বাসায় নাই, এতো বড় মিথ্যে কথা কেনো বললেন? অামি তখনি বুঝতে পারি অামার খেলা শেষ, অামি এখনি ধরা পড়ে যাবো তাই অামি বলি, দেখো কিছুসময় পর তুমি একটা সত্য জানতে পারবে। সত্যটা জানার পর জানি না কেমন ছেলে মনে করবে অামায়। তবে যদি পারো মাফ করে দিও অামায় সরি সরি সরি। সে তখন বলে, মানে কি কি বলছেন এসব? --- এরপর ৩০ মিনিট পর তার এস এম এস, কে অাপনি? কেনো অাপনি অামার সাথে এমন করলেন? কাজটা অাপনি একদম ঠিক করেন নাই।এটা কোন ভালো মানুষের কাজ না।এটা কোন ভদ্র ছেলের কাজ না। এরপর অামি ওকে অনেক সরি বলি।তারপর অামার সব পরিচয় দেই, কে অামি কি করি কই থাকি সব কিছুই বলি। ---- তারপর সে অামাকে বলে, অাচ্ছা অামি এখন কাকে ভালোবাসবো অাপনাকে নাকি সুমন কে। অামি বলি , অামি তোমাকে ভালোবাসি নাই , অামিতো দুষ্টমি কর ছিলাম। তোমাকে সুমন ভালোবাসে তুমি সুমন কে ভালোবাসো। সে তখন বলে, সুমন অামাকে দুইমাস অাগে থেকে ভালোবাসতো অামি জানতাম । কিন্তু অামি ওকে ভালোবাসতাম না। অামার মনে তার জন্য ভালোবাসা বিন্দু মাত্র ছিলো না।এখন এতোদিন চ্যাট করার পরে অামার মনে তার প্রতি ভালোবাসা জম্মায়। অামি ভালোবেসে ফেলি অনেক ভালোবাসি। কিন্তু অামি যার সাথে এতোদিন চ্যাট করছিলাম সে হলেন অাপনি। তারমানে অামার মনে যে ভালোবাসা সেটা শুধু অাপনার জন্য, কিন্তু সুমন এর জন্য না । তারপর অামি ওকে অনেক বুঝাতে লাগলাম কিন্তু সে কিছুতেই বুঝতেই চায় না তার একই কথা সে অামাকে ভালোবাসে। এখন অামি ওকে ভালোবাসার জন্য। অামি ওকে বার বার বলি তার সাথে অামি সম্পর্ক করতে পারবো না। তখন সে বলে, কি কারনে অাপনি অামার সাথে সম্পর্ক করতে চান না সেটা বলেন । অামাকে কি অাপনার ভালো লাগে না নাকি অামাকে পছন্দ হয়না। ---- তখন অামি ওকে বুঝাতে লাগলাম। দেখো তুমি অনেক ভালো, অার তুমি দেখতে অনেক সুন্দর যে ছেলে তোমায় দেখবে সেই পছন্দ করবে তোমায়। কিন্তু অামার সমস্যা হলো অন্য টা। অামি এক প্রেমে বিশ্বাসী। অামার জন্ম হয়েছে একবার, মৃত্যু হবে একবার, অার প্রেম বা বিয়ে করলে করবো একবার। অাধুনিক লুতুপুতু প্রেম অামার পছন্দ না। মন চাইলো সম্পর্ক করলাম, মন চাইলো ভেঙে দিলাম, এমন প্রেম অামার চাইনা । সে তখন বলে, দেখেন অামিও এক প্রেমে বিশ্বাসী। অাপনার কথার সাথে অামার পুরো মিল অাছে। অাপনি চাইলেই সব সম্ভব। অাপনি চাইলেই এক হতে পারবো অামরা। অামি তখন বলি, দেখো, একটু বুঝতে চেষ্টা করো। তুমি অামার চেয়ে বয়সে দুই বছরের বড়। তারচেয়ে বড় কথা, তুমি একদিন অামাকে বলছিলে, তোমার বিয়ের জন্য বাবা মা ছেলে দেখছে। তার মানে কিছুদিন পরে তোমাকে বিয়ে দিয়ে দিবে। অার অামি বিয়ে করবো অারো ছয় সাত বছর পর। তাহলে অামরা এখন সম্পর্ক করলে কি হবে সম্পর্কের শেষ একটু ভেবে দেখো। সম্পর্ক করে অামরা দুইজন কখনো এক হতে পারবো না। অাচ্ছা , তুমি কি পারবে অামার জন্য, এতো বছর অপেক্ষা করতে? তোমার বাবা মা কি তোমাকে বিয়ে না দিয়ে এতো বছর ধরে ঘরে বসিয়ে রাখবে? শুধু শুধু সম্পর্ক করে তুমিও কষ্ট পাবে, অামিও কষ্ট পাবো। দুইজনকে চোখের জল ফেলতে হবে। যে সম্পর্কের ভবিষ্যত অাগে থেকে অন্ধকার সেই সম্পর্ক না করাই ভালো মনে করি। --- তখন সে বলে, বাবা মা এতো বছর ঘরে বসিয়ে রাখবে না, তা ঠিক। তবে অাপনি চাইলে দুই বছর পর্যন্ত অাপনার জন্য অপেক্ষা করতে পারি। নয়তো এক কাজ করেন। অাপনি প্রবাস থেকে দেশে চলে অাসেন, অামরা দুইজনে বিয়ে করে নিই, তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবে। তখন অামি বলি, সেটা কোন দিনও সম্ভব না। সে বলে, কেনো? অামি বলি, অনেক কারন অাছে তাই। সে বলে, কি কারন? অামাকে সব বলতে হবে। কেনো অামার সাথে সম্পর্ক করতে অাপনি রাজি না। তখন অামি ওকে বললাম , অামার সম্পর্কে তুমি কিছু জানো না, সব কিছু যখন জানবে তখন হয়তো তোমার এই ভালোবাসাও থাকবে না। দেখো অামি মধবিত্ত গরিব ঘরের বড় ছেলে। অামরা ৫ ভাই বোন, বাবা রাজমিস্ত্রিরর কাজ করেন। মধবিত্ত বড় ছেলেদের জীবন কেমন হয় অামারচেয়ে ভালো জানো তুমি। তুমি একজন লেখিকা। জানারই কথা। অামার বাবা মা অনেক কষ্ট করে অামাকে প্রবাসে পাঠালেন। অামার ওপর পরিবারের সবার অনেক স্বপ্ন। অার অামি কি করে তাদের স্বপ্ন গুলো ভেঙে দিতে পারি। অামি যেদিন অামার ওপর থাকা সব দায়িত্ব পালন করতে পারবো, সেদিনের পর থেকে নিজের বিয়ে নিয়ে চিন্তা ভাবনা করবো, এর অাগে না। অার বলছিলে দেশে যাওয়ার কথা। অামি প্রবাসে এলাম কয়েক বছর হলো মাত্র, এখন দেশে যাওয়া অামার পক্ষে সম্ভব না। ---- অারো অনেক কথা বললাম, কিন্তু তাকে বুঝাতে পারলাম না। তার একই কথা, সে অামাকে ভালোবাসে, অামাকেই ভালোবাসবে। সুমন কে ভালোবাসা তার পক্ষে সম্ভব না। তাই অামি ওকে বললাম, ওকে, ঠিক অাছে । অামি প্রবাস থেকে দেশে চলে যাবো, দেশে গিয়ে তোমাকে বিয়ে করবো। সারাজীবন তোমাকে ভালোবাসবো। তোমার হয়ে থাকবো সারা জীবন। তুমি যা বলো অামি তাই করবো। কিন্তু তুমি কি অামার ওপরের দায়িত্ব গুলো নিজের ওপর নিতে পারবে ? বেশি কিছু না, একটা ঘর করা, দুই বোনদের ভালো কোনো পরিবারে বিয়ে দেওয়া, এই দুইটা দায়িত্ব নিতে পারলেই, অামি তোমাকে বিয়ে করতে রাজি। সে তখন বলে, এটা কি করে সম্ভব? এটা কোনদিনও সম্ভব না। তখন অামি বলি, এটা যেমন তোমার পক্ষে সম্ভব না, তেমনি তোমাকে ভালোবাসা বা তোমাকে বিয়ে করাও অামার পক্ষে কোনদিন সম্ভব না। অামি অামার জীবনের চেয়ে অামার পরিবারের সবাইকে বেশি ভালোবাসি। তাদের সুখের জন্য নিজের জীবন টাও হাসতে হাসতে দিয়ে দিতে রাজি । কেউ যদি অামার পরিবারের সবাইকে সুখে রাখতে পারে তাহলে অামি অামার জীবন টা তার নামে লিখে দিতেও পারবো। সেই অামি কি করে তাদের মনে কষ্ট দিতে পারি,,, তাদের স্বপ্ন গুলো ভেঙে দিতে পারি,,,,, তা অামি কোনদিন পারবো না কোনদিনেও না। ---- তারপর সে বললো, এইসব অাপনার বাহানা অামার থেকে দূরে সরে যাওয়ার জন্য। তবে অাপনি অামার সাথে যা করছেন তা একদম ঠিক করেন নাই। ভালোবাসা নিয়ে ফাজলামি করা ঠিক না অাপনি অামার ভালোবাসার কেনো মুল্য দিলেন না, মনে রাখবেন একদিন অাপনার জীবনেও এমন হবে। অামি যেমন ভালোবাসা পেলাম না, অাপনিও কোনোদিন কারো ভালোবাসা পাবেন না। অামি বলি, অভিশাপ দিচ্ছো নাকি? সে বলে, যদি তাই মনে করেন তাহলে তাই,। অাসলে অাপনি কেনো ভালোবাসেন না অামাকে, অামি জানি। অাসলে অামিতো একটা---- অামিতো অনেক ছেলের সাথে বিছানায় ---- এর পরের লেখা গুলো লেখার মতো না, অনেক নোংরা নোংরা কথা সব। সে নিজেকে নিজে খারাপ মেয়ে বলছে।একজন লেখিকার মুখের ভাষা এমন খারাপ হতে পারে, তা অামি কখনো কল্পনাও করি নাই। তারপর এসব কথা বলে সে ব্লক করে দেয় অামায়। তখন অামি অন্য অাইডি দিয়ে তাকে এসএম এস করে বুঝানোর চেষ্টা করি, কিন্তু সে তখন বলে। অাজকের পর থেকে অামাকে ফেসবুকে পাবেন না, তারপর অাইডি ডিএকটিভ করে দেয়। অামি তার ফোন নাম্বার নেইনি তাই অার যোগাযোগ করতে পারি নাই।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১০০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একজন লেখিকা আর আমি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now