বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
একজন বেকারের আত্মচিৎকার।
.
সৃষ্টিকর্তাও বোবা,অন্ধ, ল্যাংড়া মানুষের
মত আমার শরিরে একটি জান দিয়ে ছেড়ে
দিয়েছেন পৃথিবীতে মজাক বানিয়ে, কথাটি
ভাবছি আর হাটছি উদ্দেশ্য গন্তব্যহীন। আমার
মত বেকার মানুষের এই পৃথিবীতে আশার কি
উদ্দেশ্য তা আমার আজও জানা হল না, আর
আমার মত বেকার নিষ্কর্মা একজন প্রাণির কোন
উদ্দেশ্য থাকতে পারেনা।
বড্ড পিপাসা পেয়েছে, হুহ,আমার মত প্রাণিদের
কেবল খাওয়াদাওয়া করার জন্যই পৃথিবীতে
পাঠানো হয়েছে, এছাড়াও আরো আছে।
প্রিয়জনের প্রশ্ন ভরা চোখ, ছেলেটা কি করবে?
কি করছে? কোন চাকরী পেয়েছে কি? আর
নিন্দুকের কটু কথা তো আছেই।
পরিবারের মানুষদের হতাশা ভরা দৃষ্টি দেখতে
আর ভাল লাগেনা, মনে হয় সব কিছু একেবারে
শেষ করে দেই।
.
রাস্তার মোড়ে একটা টঙ দোকানে গেলাম,
পকেটে হাত দিয়ে দেখি পঞ্চাশ টাকার একটা
নোট আছে, মায়ের জন্য একবেলার ওষুধ
নিতে হবে চল্লিশ টাকা, বাকি দশ টাকায়
একটা কিছু খাওয়া যায়, এক কাপ চা ও
একটি সিগারেট নিলাম। মায়ের অবস্থা
আজকাল ভাল যাচ্ছেনা, শহরে ভাল ডাক্তার
দেখাবো দেখাবো করেই যাচ্ছে, বাবার পেনশনের
টাকায় আর কত চলে?
ছোটবোনের লেখাপড়া খরচ, মায়ের চিকিৎসা
খরচ, আর উপরে আমি এক বোঝা।
চায়ে চুমুক দিতেই কণ্ঠনালী বেধ করে কলিজায়
আঘাত করতে লাগলো, এ যেন চা নয় কোন
বিশাক্ত পানীয়। অবশ্য চায়ের কোন দোষ নেই,
সকাল থেকে এপর্যন্ত পেটে কিছুই পড়েনি।
আজকাল আমার প্রায় দিনই এরকম কাটে,
সকালে ইন্টার্ভিউ, দুপরে পার্টটাইম জব খুঁজা,
রাতে আবার অন্য ইন্টার্ভিউ এর জন্য প্রস্তুতি
নেয়া।
.
ছোট বোনের বই কেনার টাকা থেকে কিছু টাকা
নিয়ে একটা প্রাইভেট কোচিং সেন্টারে পার্টটাইম
একটা চাকুরী নিয়েছিলাম তিন হাজার টাকা
বেতনে। দেড় হাজার টাকা তাদের অগ্রিম দিতে
হয়েছে কোচিং সেন্টারের মেনেজিং কমিটিকে
খুশী করার জন্য। প্রায় দুইমাস করার পর সেখান
থেকেও বিদায় করে দিলো দুইদিন হল। আসলে
এগুলা একেকটা ব্যবসা, টাকার বিনিময় আমার
মত বেকার ছেলেদের চাকুরী দেয়, পরে দুই তিন
মাস পর বলবে অকা, জনাব আমরা একজন ভাল
টিচার পেয়েছি, আপনার চেয়ে ভাল। তাই এখন
আর আপনাকে রাখতে পারছিনা, সমস্যা নাই
খালি হলে আবার ডাকবো আপনাকে, তারাও
জানে যে ছেলেটি বেকার তার আর এত সহজে
চাকুরী হয় না। তাই বেকারদের নিয়ে যে কেউ
অগ্রিম ভবিষৎবাণী করে দিতেই পারে।
.
খুব রাগ হচ্ছে কোচিং সেন্টারের ওই হারামীদের
উপর। এলাকার বড় ভাই,বা রাজনৈতিক নেতারা
মিলে খুলে এসব, একদিকে ছাত্রছাত্রীদের ঠকায়
অন্যদিকে আমার মত বেকারদের। কে কি বলবে? টিভিতে বিজ্ঞাপন, লিফলেট বিলি করে বিজ্ঞাপন,
আর তাদের কাছে ছাত্র ছাত্রীরও অভাব নাই,
ব্যবসা সবই ব্যবসা।
শিক্ষাও আজকাল ব্যবসা,আর চাকুরী সেটা তো আকাশের চাঁদ।
.
হাটতে হাটতে কখন শিউলিদের বাড়ির কাছে
চলে এলাম, বুঝতেই পারলাম না। আজকাল
তাকে আমি এড়িয়ে চলি, তার ধারেকাছে যাইনা।
অথচ দুই বছরেরও অধিক সময় সম্পর্ক ছিল
আমাদের, হবে হবে করে কোন চাকুরীও হয়না,
এদিকে আমাদের প্রেমেরও বয়স বাড়ছে। পর
পর এগারোটি ইন্টার্ভিউ দেয়ার পরও কোন
চাকরী হয়নি। কি করবো? দুই বছরে তার দুইটা জন্মদিনে একটা গিফটও দিতে পারিনি, নিজেকে নিজের কাছেই ছোট মনে হতো। তখনই বুঝে
গেছি মধ্যবিত্ত পরিবারের বেকার ছেলেদের প্রেম বিলাসিতা মানায় না, এটা যত এড়িয়ে চলা যায়
ততই ভাল।
.
দুইদিন আগে এদিকেই যাচ্ছিলাম, পিছন থেকে
কেউ একজন ডাকছে।
কেমন আছো?
পিছনে তাকিয়ে দেখি শিউলি তাদের বাড়ির
গেইটে দাঁড়িয়ে আছে। আমি স্তম্ভিত হয়ে উত্তর
দিলাম, ভালই আছি, সে একটা মুচকি হাসি
দিয়ে বললো তা তো দেখতেই পারছি, আজ না
ইন্টার্ভিউ ছিল? কিছু হয়েছে?
নিরবতাই আমার ভাষা, সে যা বুঝার বুঝে নিলো।
আচ্ছা চলি বলে আমি আপন গতিতে হাটতে শুরু
করলাম। হুহ, বেকারের ভাষা সবাই বুঝে, তারা যে সমাজে অভিশপ্ত প্রাণী তা সবাই জানে, বোবাদের
মত কথা না বললেও সবাই বুঝতে পারে যে সে
বেকার।চার দিক থেকে যেন চিৎকার করে কেউ
বলে যায় তুই বেকার,তুই অভিশপ্ত।
তাইতো বলি বোবা, অন্ধ, প্রতিবন্ধীদের মত আমার
বুক পকেটেও একটা জান দিয়ে উপহাস করছেন
স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাও।
.
একজন বেকারের অাত্মচিৎকার।
লিখা : Al-Amin Ahmed
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now