বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
খুবাইব ইবনে আদী (রাঃ) একজন আত্মমর্যাদাশীল মুসলিম
খুবাইব ইবনে আদী (রাঃ) কে হত্যার উদ্দেশ্যে হাতকড়া
পরিয়ে উকবা ইবনে হারেসের গৃহে বন্দী করা হয়।
‘মাওহাব’ নামক এক ব্যক্তিকে পাহারায় বসানো হয়।
উকবার স্ত্রী আহারের সময় তাঁর হাতকড়াটি খুলে দিত।
কয়েকমাস তারা খুবাইবকে (রাঃ) বন্দী করে রাখে।
পবিত্র হারাম মাসগুলি অতিবাহিত হওয়ার পর তাঁকে
হত্যার তোড়জোড় শুরু করে দেয়। খুবাইব (রাঃ) তাঁকে
হত্যা করা হবে একথা বুঝতে পেরে পাহাড়ায় নিযুক্ত
‘মাওহাবের’ নিকট তিনটি অনুরোধ করেন।
১. তাকে মিষ্টি পানি পান করাবে।
২. তাদের দেব-দেবীর নামে জবেহকৃত জীবের গোশত
খেতে দেবে না।
৩. হত্যার পূর্বে যেন তাঁকে অবহিত করা হয়।
শেষের অনুরোধটি তিনি উকবার স্ত্রীকেও করেন। হত্যার
সিন্ধান্ত হলে সে তাঁকে অবহিত করে। তিনি পাক-সাফ
হওয়ার জন্য তার নিকট থেকে একটি ক্ষুর চেয়ে নেন।
খুবাইব (রাঃ) যখন ক্ষৌরকার্য করছেন তখন, ‘উকবার একটি
শিশু সন্তান খেলতে খেলতে তাঁর নিকট চলে যায়। তিনি
শিশুটিকে আদর করে কোলে তুলে নেন। কিছুক্ষণ পরে
যাকে শূলী কাষ্ঠে চড়ানো হবে এমন বন্দীর হাতে
ধারালো ক্ষুর এবং তার কোলে নিজের সন্তান- এ দৃশ্য
দেখে শিশুর মায়ের অন্তর কেঁপে উঠে। তার মানসিক
অবস্থা দেখে খুবাইব (রাঃ) বললেন, তোমার ধারণা, এই
শিশুকে হত্যা করে আমি রক্তের বদলা নিব। এমন কাজ
আমি কক্ষনো করবো না। এমন চরিত্র আমাদের নয়। তারপর
তিনি একটু রসিকতা করে বলেন, আল্লাহ এখন আমাকে
তোমাদের উপর বিজয়ী করেছেন। শিশুটির মা বললো,
তোমার কাছে আমি এমন আশা করিনি। একথার পর খুবাইব
(রাঃ) ক্ষুরটি মহিলার সামনে ছুড়ে ফেলে দিয়ে বললেন,
এই নাও, একটু মশকরা করলাম। এই মহিলা পরবর্তীতে
মুসলিম হয়েছিলেন।
মক্কার পৌত্তলিক শক্তি খুবাইবের (রাঃ) হত্যার
বিষয়টি খুব গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে। হারাম শরীফের
অদূরে ‘তাইঈম’ নামক স্থানে একটি গাছে শূলী কাঠ
ঝোলানো হয়। ঢোল-শুহরত করে মক্কার নারী-পুরুষ, শিশু-
যুবক-বৃদ্ধ নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষের সমাবেশ হয়।
ব্যপারটি ছিল তাদের নিকট এক মস্তবড় আনন্দ ও
তামাশার।
লোকেরা যখন তাঁকে উকবার গৃহ থেকে নেওয়ার জন্য
এলো, তিনি তাদেরকে অনুরোধ করলেন, তোমরা একটু সময়
দাও, আমি সংক্ষিপ্ত দুই রাকা’য়াত নামায আদায় করে
নিই। নামাজ দীর্ঘ করলে তোমরা বলবে, আমি মরণ ভয়ে
দীর্ঘ করছি। সংক্ষিপ্ত দুই রাকা’য়াত নামাজ শেষ করে
তিনি বধ্যভূমির দিকে রওনা দিলেন। তিনি মৃত্যুর দিকে
চলছেন, আর তাঁর মুখ থেকে উচ্চারিত হচ্ছে;
-হে আল্লাহ! তাদের সংখ্যা তুমি গুণে রাখ, এক এক করে
তাদেরকে হত্যা কর এবং তাদের কাউকে তুমি ছেড়ে
দিওনা।
তান’ঈমের সেই গাছের নীচে যখন পৌঁছলেন তখন তাঁর
মুখে একটি কবিতার আবৃত্তি শোনা গেল, যার দুটি
শ্লোকের অর্থ নিম্নরূপঃ
১. আমি যদি মুসলমান অবস্থায় নিহত হই তাহলে আমার
মৃতদেহ কোন পার্শ্বে পড়ে থাকবে সে ব্যাপারে আমার
কোন পরওয়া নেই।
২. এ যা কিছু হচ্ছে, সবই আল্লাহর পবিত্র সত্তার প্রেমের
পথে। তিনি ইচ্ছা করলে আমার খন্ড-বিখন্ড দেহের
উপরেও করুণা বর্ষণ করতে পারেন।
শূলী কাঠে ঝোলানোর পূর্বে তিনি এই দু’আও করেনঃ ‘হে
আল্লাহ! আমরা আপনার রাসূলের বাণী পৌঁছে দিয়েছি।
আপনি আমাদের সংবাদ আপনার রাসূলকে পৌছে দিন।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now