বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
স্কুলে পড়ার সময় খেয়াল করতাম ক্লাসে কিছু "একই" টাইপের ছেলে আছে। এদের বাবারা মূলত শিল্পপতি কিংবা ভয়ানক রকমের বড় ব্যবসায়ী। তাদের ইউনিফর্ম আমাদের ইউনিফর্ম এক হলেও কিভাবে যেন আলাদা। কাপড়, শার্টের স্টাইল অন্যরম। তারা সবাই যার যার গাড়ি দিয়ে স্কুলে আসতো এবং স্কুলের সামনে জ্যাম লাগিয়ে দিত। টিফিন পিরিয়ডে আমরা যখন বাসা থেকে আনা ভাত, মাছ মাখিয়ে খেতাম তারা তখন এমন সব বিজাতীয় খাবার খেতো, চিনতামই না! দু একজন এক্সেপশনাল বাদ দিলে তাদের রোল থাকতো ক্লাশের শেষের দিকের বিশের ভেতর। যতই উপরের ক্লাসে উঠতে থাকলাম তাদের ঠাটবাট আরো বাড়তে লাগলো- হাতে আধুনিক মডেলের মোবাইল, বাপের গাড়িতে কি কি জানি করেছে- ভ্রুম ভ্রুম শব্দ করে তারা নিজেরাই গাড়ি চালানো শুরু করেছে ড্রাইভারকে পেছনে পাঠিয়ে! ক্লাস টেনের শেষের দিকে আমরা যখন একেকটা পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে মাথা চুলকে উত্তর মেলাতাম- তারা তখন পাশে মেয়ে বসিয়ে ভ্রুম ভ্রুম শব্দে পুরো এলাকা সচকিত করে গাড়ির রেস খেলতো- আমরা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতাম!
.
তাদের সাথে আমাদের মানে নিন্ম-মধ্য মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির ছেলেগুলোর মৌলিক পার্থক্য ছিলো- তারা কিছুই কেয়ার করতো না, আর আমরা হুদামুদা টেনশনেই মরতাম!
.
তারা স্কুলে পড়ার সময় রেজাল্ট নিয়ে কখনই মাথা ঘামায় নি- আমরা রেজাল্টের দিন জ্বর বাঁধিয়ে ফেলতাম ... তারা ক্লাসে রোল কত হলো সেটা নিয়ে কখনও ভাবে নি- আমরা রোল দশের বাইরে গেলে লজ্জায় মাথা দেখাতে পারতাম না ... এত কেয়ারলেস, পড়াশুনার প্রতি এত অবহেলার পরো তারা কোথাও কিন্তু আটকায়নাই, "সবার জন্য A+" কর্মসূচীর আওতায় সবাই সোনা এপ্লাস বা নরমাল এপ্লাস নিয়াই বের হইসে ... কলেজেও মজা করসে ... তারপর আমরা যখন সারাদেশ ঘুইরা ঘুইরা এডমিশন পরীক্ষা দিয়া দিয়া নিজের ও বাপ মায়ের জীবন শেষ করতেসিলাম তখন তারা অলরেডি একসেমিস্টার শেষ করে ফেলসে কোন নাম করা প্রাইভেট ভার্সিটিতে ... আর এখনও যখন নিজেরে শিক্ষানবিশ ছাত্রই মনে হয়, হোস্টেলের খাটে শুয়ে পড়াশুনা শেষ করে জব লাইফে ঢুকাটা দুরের কোন স্বপ্ন মনে হয়, তারা অলরেডি পড়াশুনা শেষ করে সংসার লাইফ শুরু করছে- কি স্মুথ ফাস্ট হ্যাপি কালারফুল লাইফ!
.
তো কি বুঝা গেলো? পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা পয়সাওয়ালা ফ্যামিলিতে জন্ম নিলে আপনি "ডোন্ট কেয়ার" ভাব নিয়েও সারা জীবন ধিপধাপ করে সবার আগে চলে যেতে পারবেন ... আর মিডলক্লাসরা সারাটা জীবন হুদাই কিসের জন্য কে জানে পিনিকের মত সব কিছু নিয়ে বেশি বেশি কেয়ার দেখাইয়াইয়া, মানুষ কি ভাববে এই টেনশনে হা হুতাশ করতে করতে শেষমেস দেখে যে সবই লবডংকা- তারা লুজার সাইডেই আছে, পিছাইয়াই আছে। যারা বলে টাকা পয়সা কোন ব্যাপার না কিংবা জীবনে সুখী হতে টাকা পয়সা কোন প্রয়োজন নাই- তারা নিজেরাও জানে তারা কত বড় ভন্ড!
[] মোঃ আসিফ উর রহমান []
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now