বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এখন প্রায় মধ্য রাত।

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X এখন প্রায় মধ্য রাত।মাথায় কে যেন হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।আর কান্না করছে।বুঝলাম আম্মু। কিছুদিন ধরে সবাই আমার সাথে এই রকমই ব্যাবহার করছে।আব্বু আগে কারণে অকারণে বকা দিত।ওনিও ইদানীং আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে পারছে না।ছোট বোন,যাকে কিনা হালকা করে চুল টানলে সারা ঘর আমাকে মারার জন্য দৌড়াত,তাকে এখন শতবার চুল টানলেও কিছু করে না।হালকা করে হেসে আমার দিকে তাকিয়ে দৌড়ে অন্য ঘরে চলে যায়। আর বড় বোনের কথা কি আর বলব,গতদিন শ্বাশুর বাড়ি থেকে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে সে কি কান্না।তাদের আচরণ দেখে আমার মনে এক অজানা ভয় ডুকে গেল।বুঝতে পারছি আমার বড় কোন রোগ হয়েছে। কিছুদিন আগে,হঠাৎ প্রচন্ড মাথা ব্যাথার কারণে অজ্ঞান হয়ে যায়।ওই দিন,হাসপাতালে নিয়ে গেলে কিছু টেস্ট দেয়।তার পর টেস্ট গুলো করিয়ে বাসায় চলে আসি।এর কিছুদিন পর থেকে সবার আচরণে এমন পরিবর্তন।আম্মুকে জিজ্ঞাস করলে কিছু না বলে মুখে আচল দিয়ে কাদতে থাকে।আমি বুঝতে পারছি,হয়ত আমার ওপারে যাওয়ার টিকেট বিধাতা কন্ফারম করে ফেলেছে। তাও নিজেকে শক্ত রেেখছি।ইচ্ছে করছে চিৎকার করে কান্না করতে।-কিন্তু পারছি না। এক সপ্তাহ ধরে কলেজ যায়নি।তাই গতকাল আমার বেস্ট ফ্রেন্ড রাহাত এসেছিল খোজ নিতে।আসার পর হয়ত আম্মু সব বেলছে।আমি রুমে হাটছিলাম,রাহাতকে দেখি দরজার পাশে দাড়িয়ে আছে।চোখ রক্তবর্ণ।কেমন আছে জিজ্ঞাসা করতেই দৌড়ে আমাকে জড়িয়ে ধরল।আর ছোট বাচ্চার মত কান্না শুরু করল।আমার নিজের চোখ থেকে পানি বের না করার জন্য মনের সাথে অনেক যুদ্ধ করছি।-কিন্তু শেষমেষ আর পারলাম না।তাও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য রাহাতকে বললাম, -কিরে,রাতে কি আন্টি খাবার দেয় নায় নাকি?!নাকি মারছে?!. এই কথা বলার পর রাহাত আমাকে আরো আকড়ে ধরে কাঁদতে লাগল। আমি রাহাতকে হাসানোর জন্যে বললাম, -দোস্ত,তোর তো খুশি হবার কথা,দেশের জনসংখ্যা কি পরিমাণে কমবে চিন্তা করতে পারতেছস্?!! রাহাত আমাকে ছেড়ে আমার দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে দৌড়ে বের হয়ে গেল।রাহাত যাওয়ার পর বারান্দায় গিয়ে অনেক্ষন কাঁদলাম।কাদঁলে মন হালকা হয়।আমার মনে আরো বড় ধরনের আঘাত আসবে জেনে,কান্না করে মনকে হালকা করে নিলাম সেদিনের জন্য। এই কয়েকদিন আমার আত্বীয় সজ্বন প্রায় সবাই আমাকে দেখার জন্য বাসায় আসা শুরু করল।নিজেকে এখন সেলেব্রিটি মনে হয়।কেউ এসে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়।কেউবা এসে গল্প করে সময় কাটায়।অনেকে আড়ালে গিয়ে কান্না করে।সবাই আমাকে এতটা ভালোবাসে তা আগে আমার জানা ছিল না।নিজেকে এখন জীবিত থাকা সত্বেও মৃত মনে হয়। আজ দুপুরে খেতে ইচ্ছে করছিল না।না খেয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করছি ,তখন দেখি আমার বড় বোন খাওয়ার নিয়ে আসছে।খাব না বলা সত্বেও নিজ হাতে জোর করে খাওয়ে দিল।এমন ভালোবাসা ছেড়ে কি কেউ ওপারে যেতে চাই?? বিকেলে দিকে দেখি ,আমার কলেজের প্রায় বন্ধুরা আমাকে দেখতে আসছে।সাথে সুন্দরী বান্ধবীরাও।ওদের দেখে অবাক হলাম।কেননা ওদের সাথে তেমন কথা হত না।বান্ধবীদের মাঝে আমার মিষ্টি পরী অপূর্বাকে দেখলাম।চোখ দুটি লাল হয়ে ফোলে আছে।বুঝলাম অনেক কান্না করছে।সবাই এসে কথা বলছে কিন্তু অপূর্বা দরজার পাশে দাড়িয়ে কান্না করছে।আমি ওকে যে অনেক ভালোবাসি,তা কখনো ওকে বলা হয়নি। আমরা কলেজে কখনো ভালোভাবে কথাও বলিনি।কিন্তু আজ ও এইভাবে কেন কান্না করছে মাথায় আসছে না।কিছুক্ষণ পর সবার সাথে কথা শেষ হলে ,ও আমার কাছে আসে।ও আসার পর সবাই রুমের বাইরে চলে যায়।-এতক্ষণ পর বুঝলাম,আমি অপূর্বাকে ভালোবাসি এই কথা রাহাত সবাইকে বলে দিয়েছে।যদি ও রাহাতকে বলতে মানা করেছিলাম। অপূর্বা আমার কাছে আসার সাথে সাথে আমাকে জড়িয়ে ধরল।বুঝলাম আমার মিষ্টি পরীটা ও আমাকে অনেক ভালোবেসে ফেেলছে।আমি বল্লাম,, -আরে কি করো,কেউ দেখে ফেলবে,ছাড়!! -না ছাড়বনা।(কান্না করতে করতে)(অপূর্বা) -আরে কেউ দেখে ফেলবে তো? -দেখলে দেখুক,আমি ছাড়তে পারব না। -আরে পাগলি,আমাকে এই ভাবে জড়িয়ে ধরে মায়া বাড়াইও না।আমার ওপারে যাওয়ার টিকেট কাটা হয়ে গেছে। এই কথা শুনে অপূর্বা আমাকে আমাকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।আর ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে লাগল। আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি,কেননা জীবিত অবস্থায় কয় জনে এই ভালোবাসা দেখে যেতে পারে। ভালোবাসা কি জিনিস এতো দিন সত্যিই আমার জানা ছিলনা।আজ তা আমার কাছে একদম পরিস্কার। আব্বু,আম্মুর এই অসীম ভালোবাসা,বোনের মমতা,বন্ধুবান্ধবদের ভালোবাসা,আর আমার এই মিষ্টি পাগলিটার এই মধুর ভালোবাসা ।এইসব ছেড়ে কি আমার ঐপারে যেতে ইচ্ছে করে আর? আপনারাই বলেন?এতো তাড়াতাড়ি বিধাতা, না আসার দেশে যাওয়ার টিকেট কনফার্ম করে দিবে তা আমার কল্পনাই ও ছিল না।কিন্তু,তার অবাধ্য হওয়ার সাধ্যআমাদের কারই নেই। এখন শুধু মনে ঐ গানটিই বাঝছে,, "ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, রইবনা আর বেশি দিন তোদের মাঝারে" [] মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মোবারক []


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ এখন প্রায় মধ্য রাত।

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now