বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

একবার গল্পটা পইড়াই দেখেন,,,না পড়লে পুরাই মিস,আমার কি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Eva Nahar Sinthi (০ পয়েন্ট)

X হ্যালো... - হ্যাঁ অর্পা বলো - বাসায় ফিরবে কখন? - এইতো একটু পরেই - হুম - কিছু বলবা? - না, ভালো ভাবে এসো . অর্পা ফোন রেখে দিলো। সে কিছু একটা মনে করিয়ে দিতে চেয়েছিল। সে বলতে চেয়েছিল, "আজকে কি একটা ইলিশ মাছ আনতে পারবে?"। ওর ইলিশ মাছ খুব পছন্দ।ইলিশ মাছ খাওয়া হয়না অনেকদিন হলো। শেষ কবে খেয়েছিলাম, মনেই নেই। আজ অফিসে আসার আগে ওকে বলেছিলাম, "বেতন টা আজ দিয়ে দিলেই তোমার জন্য একটা ইলিশ মাছ নিয়ে আসবো।" . অফিস থেকে আজ বেতন দেয়নি। মনটা খারাপ হয়ে গেল আমার। মানিব্যাগে হাত দিয়ে দেখি ২০০ টাকার মত আছে। এই টাকা দিয়ে একটা ইলিশ মাছ পাওয়া যাবে না। এক কলিগের কাছ থেকে চুপিচুপি আরো ২০০ টাকা ধার নিলাম। ভিলেন মিশা শওদাগরের মত মুখ বানিয়ে সে টাকাটা দিলেও, অন্যদিকে তাকিয়ে কেমন যেন একটা মুখভঙ্গি করে বুঝাতে চাইলেন, "এর আগেও তো টাকা ধার নিয়েছিলেন, সেগুলো ফেরত দেয়া লাগবে না?" . অর্পা দরজা খুলে আমার হাতে ইলিশ মাছটা দেখা মাত্রই খুশিতে লাল হয়ে গেল। মেয়েরা লজ্জায় লাল হয়, আমার বউটা খুশিতেও লাল হয়। [] অনেকদিন হয়ে গেছে ইলিশ খাওয়া হয় না আমাদের। খাওয়া হয় না মাংসও। ডিম আর ভর্তা ভাজি দিয়েই দিন গুলো পার হয়। হাতে কিছু টাকা আসলেও, সেগুলো সংসারের অন্যান্য কাজে শেষ হয়ে যায়। একদিন গভীর রাতে অর্পাকে বলেছিলাম, "দেখ, একদিন আমাদের সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে। তুমি না বলতেই আমি এত এত জিনিস এনে তোমার সামনে হাজির করবো। হাহাহা...দেখ তুমি।" অর্পা সেদিন কিছু বলেনি। চুপচাপ আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছিল শুধু। মেয়েটা এখনো বাচ্চা, ওকে আর এরচেয়ে কিভাবে শান্তনা দেবো আমি! . শীতল পাটি বিছিয়ে খেতে বসেছি আমরা। পাশের বাসা থেকে সুন্দর বিরিয়ানির ঘ্রাণ আবারো আসা শুরু করেছে। মৃদু ইলেশের ঘ্রাণও আসছে। সেদিকে হয়তো আমাদের ভ্রুক্ষেপ নেই। ‘হয়তো’ বললাম। কারন মাঝে মাঝে ‘হয়তো’ বলা লাগে। আমরা চুপচাপ খাচ্ছি আমাদের মত। অর্পা বললো, "এই ডাল নিবা? খেয়ে দেখ, অনেক মজা হয়েছে।" . একদিন সন্ধায় অফিস থেকে ফিরে এসে দেখি অর্পা একদম মন খারাপ করে বসে আছে। আমি কাছে গিয়ে বললাম, "কি হয়েছে অর্পা?" ও কিছু না বলেই আমাকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠলো। কি হয়েছে আমি কিছু বুঝতে পারছি না। খানিক বাদে কাঁদতে কাঁদতেই অর্পা বলে উঠলো, "আজ পাশের বাসার ভাবির হাজবেন্ড টা মারা গেছে। তার নাকি ক্যান্সার ছিল?" আমি বললাম, "কোন বাসার?" অর্পা বললো, "ওইযে যে ভাবিদের বাসা থেকে প্রতিদিন সুন্দর সুন্দর খাবারের ঘ্রাণ আসতো!" আমি কিছু বলার আগেই অর্পা আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো আমায়। ধরে ধরা গলায় বললো, "তুমি বলেছিলে না, আমাদের একদিন সব হবে? বিশ্বাস করো, আমার আর কিচ্ছু লাগবে না, কিচ্ছু না। তুমি শুধু আমার পাশে থাকবা। সব সময় আমার হাত শক্ত করে ধরে থাকবে বলো?? কোনোদিন হারিয়ে যাবে না বলো??" . আমি কি বলবো বুঝতে পারছি না। মনে মনে অর্পার প্রশ্ন গুলোর উত্তর খুঁজছি শুধু। চোখ দুটো ভিজে উঠছে আমারও। আমার এই মুহুর্তে মনে হচ্ছে, কোনো কিছু না থেকেও আমাদের সব আছে, সব। আমরাই পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ একবার গল্পটা পইড়াই দেখেন,,,না পড়লে পুরাই মিস,আমার কি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now