বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
আমার সামনে যে হাত পেতে দাঁড়িয়ে আছে,এই ছেলেটা আমার চেনা,খুব চেনা।
এইতো বছর তিন আগেই পরিচয়।
বাবা মায়ের সাথে এই মাঠেই ঘুরতে এসেছিলো সে। হাসিহাসি মুখ করে,পরিপাটি পোশাক পরিচ্ছদ! নানাভঙ্গিতে বাবা তার ছবি তুলছিলো। মা বাবার পাশে বছর সাতের এই ছেলেটার একটা ছবি আমিও তুলে দিয়েছিলাম সেবার।
.
আমার কাছে লাগে খুব বেশি সুখি দম্পতিরা সপ্তাহের শেষদিন বিকেলে বাইরে ঘুরাঘুরি করে,সন্ধ্যায় বাইরে ডিনার করে। এই ছেলের বাবা,মা বুঝি তেমনি ভেবেছিলাম সেদিন।
হাতের কৃষ্ণচূড়া ফুলটা এগিয়ে দিলে ছেলেটা ঠিক এই ভঙ্গিতেই হাত পেতেছিলো বছর তিন আগে।
.
ওদের বাড়িতে যাওয়া আসাটা সেই তখন থেকেই। বাড়ির কাছাকাছিই থাকতাম আমি।
খুব রূচি সম্মত,আধুনিক পরিবার তাদের। ড্রয়িং রূমে স্বামী স্ত্রীর হাসি হাসি মুখের একটা ছবি খুব বড় করে বাঁধিয়ে টাঙানো আছে। বুঝায় যায় এরা খুব সুখি।
শুনেছিলাম পাঁচ বছর প্রেমের পর নাকি তাদের বিয়ে।
.
আমি তাকিয়ে আছি ছেলেটার দিকে। মুখ কাচুমুচু করে আমার সামনে নোংরা গেঞ্জি, ছেড়া প্যান্ট পরে দাঁড়িয়ে আছে সে। হাতটা তখনো বাড়ানো আমার দিকে।
অনেক কিছুই বলতে চাচ্ছে! কিন্তু পারছে না ক্ষুধায় ওর পেটে জ্বালা করছে তা স্পষ্টই বুঝা যাচ্ছে।
অথচ এই ছেলেটার মা কতোই না বায়না করে ছেলেটাকে খাওয়াতো,তখন খাবো না খাবো না বলে কতোই না কান্না করতো।।
যে ছেলেটা দামী রেস্টুরেন্টের খাবার খেয়ে অভ্যস্থ সে কি সস্তা হোটেলের খাবার খেতে পারে?
তবুও অভ্যাস করতে হবে এটাই। কারণ সময় পাল্টিয়েছে।
.
ছেলেটির মা মাস তিন আগে আত্মহত্যা করে। স্বামীর সাথে বন্ধু পত্নীর পরকীয়া তাকে খুব যন্ত্রণাই দিচ্ছিলো। সহ্য করতে না পেরে নিজেকেই শেষ করে দিলো অবশেষে।
.
বাবার আবার বিয়ে,ঘরে সৎ মা! ছেলটার জীবনটাও শেষের পথে। বাবা ব্যস্ত পরস্ত্রীর সাথে পরকিয়াতে। ছেলেটি ঠিক মতো খেতে পারছে কি না সে খবর রাখার আর সময় আছে কার!
যে মাঠে বাবা মায়ের সাথে ঘুরতে আসতো,সে মাঠে আজ অনেকের কাছেই হাত পাততে আসে ছেলেটি।
.
ভালোবেসে বিয়ের পর কেনো সংসার টিকে না প্রশ্ন করেছিলাম একজনকে।
.
সে বলেছিলো, আকর্ষণ কমে যায় একটা সময় তাই।
.
আকর্ষণ!!!
তবে কি শুধু আকর্ষণের উপর ভিত্তি করে তাদের প্রেম,ভালোবাসা গড়ে উঠে ছিলো?
.
রূপ,যৌবন এসব কি আকৃষ্ট করার মূল ছিলো? বয়স বাড়ার সাথে সাথে যখন সব শেষের দিকে তখন কি ভালোবাসাটাও ফুড়িয়ে গেলো?
.
কলেজের বাংলা স্যার খুব বলতো, মানুষ অন্যের কাছে নিজেকে আকৃষ্ট করার জন্যেই সাজগোজ করে। যদি সেই ইচ্ছা না থাকতো তবে সেজে গুজে আয়নার সামনে বসে নিজেই নিজেকে দেখতো,বাইরে বের হতো না।
.
তবে কি আকর্ষণটাই সবকিছু?
.
একদিন যখন আমি নারী ছিলাম!
বন্ধুদের প্রশ্ন জেগেছিলো, তবে এখন কি সে পুরুষ?
.
শরৎ চন্দ্রের শেষ প্রশ্ন উপন্যাসে এই শিরোনামে একটা গল্পের সারমর্ম দেয়া ছিলো।
.
চল্লিশার্ধ এক মহিলা আয়নার সামনে নিজেকে খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছিলো। অঙ্গ,প্রতঙ্গ সবকিছুই তো ঠিক আছে। তবে কমে গেছে চেহারার লাবণ্যতা,রূপের জোলুস,মিলিয়ে গেছে সেই লাস্যময়ী হাসি! একদিন এসবের জন্যেই কয়েক শ পুরুষ তার প্রেমে পাগল হয়েছিলো।
তখন সবাইকে ফিরিয়ে দিয়েছিলো।
আর আজ সে একদম একা।
আজ তার রূপ,যৌবন হ্রাস পেয়েছে,কমেছে পুরুষকে আকৃষ্ট করার ক্ষমতা।
তাই লেখিকা লিখেছিলো,
একদিন যখন আমি নারী ছিলাম।
.
ছেলেটি তৃপ্তি নিয়ে খেয়ে চলছিলো। তাকিয়ে আছি তার দিকে। একটা সময় ওদের বাড়িতে গেলে ওর বাবা মাকে পৃথীবির সেরা সুখি দম্পতি বলেই মনে হতো।
তার বাবার আকর্ষণ কমার সাথে সাথে সম্পর্কটাও শেষ হলো।
সে আকৃষ্ট হলো অন্য নারীর রূপ,যৌবনের উপর।
.
মায়া!!
মায়া জিনিসটা খুব খারাপ।
এই শহরে অনেকের সাথেই মায়ায় জড়িয়ে গেছি।
খুব তাড়াতাড়ি এই শহরটা ছাড়তে পারলে বাঁচি।
আর পিছু ফিরে তাকাবো না.......... ......................
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now