বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এক সমুদ্দুর ভালোবাসা

"সত্য ঘটনা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান R.H (dangeor-virus) (০ পয়েন্ট)

X এই লেখাটি তাঁদের জন্য যাঁদের জন্য আমার হৃদয়ে রাখা আছে এক সমুদ্দুর ভালোবাসা। হালকা শীতের রাত। মিনিয়াপলিস গ্রে হাউন্ড স্টপে বসে আছি। সঙ্গে কোনো গরম কাপড় নেই। পাতলা একটা বাংলাদেশ লেখা টিশার্ট আর ফেইডেড জিনস পরনে। সঙ্গে আছে লাল কালো ব্যাগ। ব্যাগে কয়েক দিনের জন্য জামাকাপড় ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস। বাস রাত ১২টায়। কিন্তু নিজের বোকামির জন্য বাস মিস হয়ে গেল। পরবর্তী বাস পরদিন দুপুর ১২টায়। অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো গত্যন্তর দেখতে পাচ্ছি না তখন। বেশ কিছুক্ষণ স্টপে বসে থাকার পর উবারে অন্য স্টপে গেলাম। উবার ড্রাইভার মোহাম্মদের সঙ্গে যেতে যেতে কথা হচ্ছিল নানা বিষয় নিয়ে। আমি মুসলিম শুনে সে খুশি। বলল, তুমি মুসলিম, তুমি আমার বোনের মতোই। অন্য স্টপেও কিছু পাওয়া গেল না। অগত্যা আগের স্টপেই ফিরে যাচ্ছি। ও বলা হয়নি, আমার গন্তব্য আইওয়া বন্ধুর বাসায়। তো ফেরার পথে মোহাম্মদকে বললাম কীভাবে বাস মিস করেছি আর রাতে অপেক্ষা করতে হবে। সে বেশ সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করল। তারপর বলল, চল তোমাকে কোনো রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাই। আমি তোমার থেকে কোনো পয়সা রাখব না। আমি রাজি হলাম না। আগে টিকিটটা করে ফেলতে হবে কালকের। স্টেশনে এসেই প্রচণ্ড ঠান্ডা। একজনকে জিজ্ঞেস করলাম তোমাদের কাছে ব্ল্যাঙ্কেট জাতীয় কিছু হবে কিনা। তিনি বললেন, নেই। তবে পাশেই এক ককেশীয় তরুণী বলল, যদি কিছু মনে না কর আমার থেকে নিতে পার, আই হ্যাভ এক্সট্রা। কিছু মনে করার তো প্রশ্নই নেই। রীতিমতো ঠান্ডায় কাঁপছি। ভেতরের তাপমাত্রা অনেক কমিয়ে রাখা। ব্যাগ মাথার নিচে দিয়ে কালো রডের লম্বা বেঞ্চিতে সটান হয়ে শুয়ে পড়লাম। মনে হলো অনেকক্ষণ কিছু খাইনি। খিদেয় পেট চোঁ চোঁ করছে। উঠে বসে পিৎজা অর্ডার করব ভাবলাম। সব চেইন শপগুলো বন্ধ। একটা লোকাল শপ খোলা। প্রায় ২০ মিনিট খুঁজে দুটি পিৎজা অর্ডার করলাম। বলল, ৪০ মিনিট সময় লাগবে। ভাবলাম এই ফাঁকে ভেন্ডিং মেশিন থেকে কিছু একটা নিয়ে নেই। গিয়ে কার্ড পাঞ্চ করলাম, কিন্তু কোনো খাবার বের হয়ে এল না। খামাখাই আমার থেকে ৪ ডলার কেটে নিল। কী আর করা। ফাউন্টেন থেকে পানি নিয়ে খেলাম। আজকের দিনটাই খারাপ। একের পর এক অঘটন ঘটে যাচ্ছে। প্রায় ঘণ্টাখানিক পর উবার ড্রাইভার মোহাম্মদ আবার এসে হাজির। সে জিজ্ঞেস করছে তোমাকে কোনো খাবার কিনে দিয়ে যাব কিনা। আমি বললাম, না লাগবে না। আমি পিৎজা অর্ডার করেছি। বলল, বেশ আমার ফোন নম্বরটা রাখো। কোনো প্রয়োজন হলে ফোন করবে আর আমি কাল সকাল ৮টায় আসব তোমার সঙ্গে দেখা করতে। ভালো থেকো। এ রকমটা সচরাচর দেখা যায় না। যা হোক, পরদিন ভোরে সে কিন্তু ঠিকই এল। এসেই আমাকে নিয়ে পারকিন্স ফ্যামিলি রেস্টুরেন্ট নামে এক খাবার দোকানে নিয়ে গিয়ে ব্রেকফাস্ট করাল। আমরা দুজনের কেউই রোজা রাখিনি। আমার পক্ষে পিৎজা খেয়ে রোজা রাখা সম্ভব ছিল না। আর মোহাম্মদ বলল, ডোন্ট কিপ ফাস্ট আই জাস্ট সে আলহামদুলিল্লাহ! অবাক করার মতোই ব্যাপার। আমাকে সে ৬০ ডলার দিয়ে বলল, এটা রাখো তোমার রমজানের গিফট। ঈদি মনে করেই না হয় রাখ। অন্তত বাস ভাড়ার পয়সা দিতে পারবে। আমি কিছুতেই নিতে চাচ্ছিলাম না এমন অপরিচিতজনের থেকে টাকাটা। অগত্যা বাধ্য হয়ে নিতেই হলো। আমাকে বাস স্টপে নামিয়ে বিদায় নিল লোকটা। বাসের আরও দুই ঘণ্টা বাকি। রেজিকে ধন্যবাদ জানিয়ে তার ব্ল্যাঙ্কেট ফেরত দিলাম। ঘণ্টা দুই পর বাসে চেপে সেরকম একটা ঘুম দিলাম। আহ শান্তি! এ রকম আরেকজন মানুষ আছেন আনিস স্যার। যদিও কোনোভাবেই তিনি ঠিক আমার স্যার না। তারপরও আমি তাকে স্যার বলেই ডাকি। তিনি পেশায় যদিও ব্রডকাস্টার জার্নালিস্ট, নেশায় পুরোদস্তুর কবি। কবিতা লেখাটা তাঁর জন্য নেশার পর্যায়ে চলে গেছে, ঠিক আমার জন্য যেমনটা গল্প লেখা। আমাদের মধ্যে মনে অনেক মিল। আমরা ঠিক একজন আরেকজনের মনের কথা বুঝতে পারি। এত মাইলের পর মাইল দূরত্বও আমাদের দূরে ঠেলতে পারেনি। কথা হয় মুঠোফোনে কিংবা কাচের দেয়ালের ওপার থেকে রোজই। এই ভালোবাসার মানুষেরা প্রচণ্ড ভালো থাকুক। কোনো দুঃখবোধ এদের স্পর্শ না করুক। দুঃখ জাগানিয়া পাখিরা এদের মনে কোনো বিষাদের জন্ম না দিক, তবেই আমি ভালো থাকব। বেঁচে থাকুক অনন্তকাল তাদের পদধূলিতে মুখরিত হোক আমাদের স্বপ্নের পৃথিবী। (১৫ জুন ২০১৭। ফারগো, সময়: দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিট)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২০৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ এক সমুদ্দুর ভালোবাসা

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now