বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
হযরত আনাস ইবনে মালিক রা. হতে বর্ণিত, নবী করীমসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,স্বপ্নে আমি জান্নাতে প্রবেশ করলাম। হঠাৎ কারোনড়াচড়ার শব্দ শুনতে পেলাম। আমি ফেরেশতাদেরকেজিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? তারা বললেন, ইনি হলেনরুমাইছা বিনতে মিলহান, আনাস ইবনে মালিকের আম্মা।-সহীহ মুসলিম, হাদীস : ২৪৫৬; মুসনাদে আহমদ, হাদীস :১১৯৫৫; তবাকাতে ইবনে সাদ ৮/৪২৯; মুসনাদে তয়ালিসী,হাদীস : ১৭১৫হযরত জাবের রা. হতে বর্ণিত হাদীসে নবী করীমসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,আমি স্বপ্নে দেখলাম জান্নাতে প্রবেশ করেছি। হঠাৎদেখি আমার সামনে আবু তলহার স্ত্রী রুমাইছা।-সহীহবুখারী, হাদীস : ৩৬৭৯; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১৫০০২;সহীহ ইবনে হিববান, হাদীস : ৭০৮৪; সুনানে নাসায়ী কুবরা,হাদীস : ৮১২৪হযরত রুমাইছা বিনতে মিলহান আনসারিয়া রা.-এর উপনামহল উম্মে সুলাইম। এ নামেই তিনি অধিক প্রসিদ্ধ।তিনি অনেক গুণ ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারিনী ছিলেন।ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী সাহাবীদের মধ্যে তিনিওএকজন। প্রথমে মালেক ইবনে নযরের সাথে তার বিবাহহয়েছিল। সেই ঘরেই হযরত আনাস রা. জন্মগ্রহণ করেন।তার ইসলাম গ্রহণে ক্রুদ্ধ হয়ে স্বামী মালেক ইবনে নযরদেশত্যাগ করে সিরিয়ায় চলে যায় এবং সেখানেই তারমৃত্যু হয়। পরবর্তীতে তিনি হযরত আবু তালহা রা.-এর সাথেবিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।হযরত উম্মে সুলাইমের দ্বিতীয় বিবাহ (হযরত আবু তালহারসাথে) সম্পর্কে হযরত আনাস রা. বর্ণনা করেন, ইসলামগ্রহণের পূর্বে হযরত আবু তালহা উম্মে সুলাইমকেবিবাহের প্রস্তাব দেন। প্রতি উত্তরে উম্মে সুলাইম রা.বলেন, আপনি কি জানেন, আপনি যে উপাস্যের পূজাকরেন তা জমি থেকে উৎপন্ন? (মাটি, গাছ ও খড়কুটা দিয়েতৈরি) তিনি বললেন, হ্যাঁ। উম্মে সুলাইম রা. বলেন, গাছ-গাছালির পূজা করতে আপনার কি লজ্জা করে না? আমিইসলাম গ্রহণ করেছি। আপনি যদি আমার ধর্মের অনুসরণকরেন তবেই আমি আপনাকে বিবাহ করব। আপনার ইসলামগ্রহণ করাটাই আমার মোহর। আমি এছাড়া আর কোনোমোহর চাই না। তিনি বললেন, ঠিক আছে। আমি ভেবেদেখি। তারপর তিনি ফিরে এসে বললেন, আমিও আপনারধর্মের অনুসারী। কালিমা পড়ে তিনি মুসলমান হয়েগেলেন এবং উম্মে সুলাইমকে বিবাহ করেন।-সুনানেনাসায়ী, হাদীস : ৩৩৪০; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক,হাদীস : ১০৪১৭হযরত আনাস রা. যখন দশ বছর বয়সে উপনীত হলেন, তারআম্মা হযরত উম্মে সুলাইম তাকে নিয়ে রাসূলের দরবারেআগমন করলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এই আমারছেলে আনাস, আজ থেকে আপনার খেদমত করবে। তখনথেকেই আনাস রা. নিয়মিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খেদমত করেছেন। হযরত আনাসরা. বলেন, আল্লাহ তাআলা আমার আম্মাকে উত্তমবিনিময় দান করুন। তিনি আমাকে উত্তমভাবে লালন-পালন করেছেন।হযরত আনাস রা. বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মে সুলাইম ও কিছু আনসারীমহিলাকে যুদ্ধে নিয়ে যেতেন যুদ্ধাহতদের সেবা-শুশ্রূষাও পানি পান করাতে।হুনাইনের যুদ্ধে তিনি খঞ্জর হাতে নিয়ে রণাঙ্গনেরদিকে এগিয়ে গেলেন। আবু তালহা রা. বলেন, ইয়ারাসূলাল্লাহ! এই যে উম্মে সুলাইম, তার হাতে খঞ্জর!উম্মে সুলাইম বললেন, কোনো মুশরিক আমার নিকটবর্তীহওয়ার চেষ্টা করলে আমি এটা দিয়ে তার নাড়িভুঁড়ি বেরকরে ফেলব।হাদীস, ইতিহাস ও জীবনীগ্রন্থগুলোতে তার বীরত্ব,সাহসিকতা, ধার্মিকতা, প্রজ্ঞা ও বুদ্ধিমত্তার অনেকঘটনা বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি মুসিবতের সময়ধৈর্য্যশীলতা ও বুদ্ধিমত্তার যে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকরেছেন ইতিহাসের পাতায় তার নজির খুঁজে পাওয়াসত্যিই কঠিন।ইমাম বুখারী রাহ. তার বিখ্যাত হাদীসগ্রন্থ সহীহবুখারীতে তার এই ঘটনার শিরোনাম করেছেন এভাবে-‘মুসিবতের সময় যিনি তার মর্মবেদনা প্রকাশ করেন না।’তার সেই ঘটনার বিবরণ এরূপ-হযরত আবু তালহার সাথে উম্মে সুলাইমের বিবাহ হওয়ারপর তাদের খুব সুন্দর ফুটফুটে একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণকরে। তার নাম রাখা হয় উমাইর। তার ছোট একটি পাখিওছিল, যার সাথে সে খেলত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহুআলাইহি ওয়াসাল্লাম মাঝেমধ্যে সেই শিশুটির সাথেকৌতুক করতেন এবং বলতেন, হে উমাইর! তোমার বুলবুলিরকী খবর!’আবু তালহা রা. তাকে অত্যাধিক ভালবাসতেন। একদিনছেলেটি অসুস্থ হয়ে পড়ল। আবু তালহা রা. এ নিয়ে খুবচিন্তিত হয়ে পড়লেন। এমনকি অস্থির হয়ে পড়লেন। তারঅভ্যাস ছিল, প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় তিনি রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে আসাযাওয়া করতেন। এক বিকেলে তিনি ঘর থেকে বের হলেন।ইত্যবসরে তার অসুস্থ ছেলে মৃত্যুবরণ করল। এ দিকে উম্মেসুলাইম রা. মৃত্যুর পর ছেলেকে গোসল করালেন, কাফনপরালেন, সুগন্ধি মেখে দিলেন। কাপড়-চোপড় দিয়েভালোভাবে ঢেকে দিয়ে ঘরের এক কোণে সুন্দরভাবেশুইয়ে রাখলেন। আর হযরত আনাস রা.কে পাঠিয়ে হযরতআবু তালহাকে ডেকে পাঠালেন এবং তাকে বলে দিলেনআবু তালহাকে যেন পুত্রের মৃত্যুসংবাদ না জানায়।আবু তালহা রা. সেদিন রোযা রেখেছিলেন। উম্মেসুলাইম রা. তার জন্য খানা তৈরি করলেন। আবু তালহা রা.ঘরে ফিরেই সন্তানের কথা জিজ্ঞেস করলেন। উম্মেসুলাইম বললেন, সে এখন আগের চেয়ে শান্ত। ক্লান্তস্বামীকে তৎক্ষণাৎ পুত্রের মৃত্যুসংবাদ জানালেন না।ঘরের লোকদেরকেও নিষেধ করে রেখেছিলেন। তিনিছাড়া অন্য কেউ যেন এ সংবাদ তাকে না জানায়। হযরতআবু তালহা রা. তার কথা শুনে ভেবেছিলেন ছেলে তাঁরসুস্থ হয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে। তাই তিনিও নিশ্চিন্তমনে রাতের খাবার খেলেন এবং বিশ্রাম নিলেন। এমনকিভোরে গোসলও করলেন।হযরত আবু তালহা রা. বের হওয়ার আগে উম্মে সুলাইম রা.তাকে বললেন, বলুন কেউ যদি কারো কাছে কোনো কিছুগচ্ছিত রাখে অতপর তার কাছে তা ফেরত চায় তবে তারকি অধিকার আছে তা ফেরত না দিয়ে নিজের কাছেআটকে রাখার? আবু তালহা রা. বললেন, না তার এঅধিকার নেই। হযরত উম্মে সুলাইম এবার শান্ত কণ্ঠেবললেন, আপনার পুত্রের ব্যাপারে সবর করুন। আল্লাহতাআলা তাকে আমাদের কাছে গচ্ছিত রেখেছিলেনতারপর তিনি ফিরিয়ে নিয়েছেন। আবু তালহা রা. এতেরাগান্বিত হলেন এবং রাতের আচরণে অসন্তুষ্ট হয়েরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এরনিকট স্ত্রীর নামে অভিযোগ করলেন। রাসূলুল্লাহসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের ঘটনা শুনেবিমুগ্ধ হলেন এবং দুআ করলেন-‘আল্লাহ তোমাদের এরাতে বরকত দান করুন।’ তারপর আল্লাহ তাআলাতাদেরকে আবদুল্লাহ নামে আরেকটি পুত্র সন্তান দানকরলেন। সেই আবদুল্লাহ ইবনে আবু তালহাকে পরবর্তীতেআল্লাহ তাআলা সাত পুত্র দান করলেন, যাদেরপ্রত্যেকেই কুরআনের আলেম হয়েছেন।-সহীহ বুখারী,হাদীস : ১৩০১; মুসনাদে আহমদ, হাদীস : ১২০৮; ফাতহুল বারী৩/২০১; তবাকাতে ইবনে সাদ ৮/৪৩১-৩২আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী রাহ. এই হাদীসেরঅনেক ফাওয়ায়েদ উল্লেখ করেছেন। প্রথমে তিনি উম্মেসুলাইমের বৈশিষ্ট্য ও মহত্ব বর্ণনা করেছেন যে, তিনিউক্ত ঘটনার মাধ্যমে তার প্রজ্ঞা, বুদ্ধিমত্তা, সহিষ্ণুতাও নেক গুণাবলির পরিচয় দিয়েছেন।প্রথমে স্বামীকে পুত্রের মৃত্যু সংবাদ না জানিয়ে তাকেনিশ্চিন্তে রাত্রিযাপনের সুযোগ দিয়েছেন। সন্তানেরমৃত্যুকে গচ্ছিত বস্ত্তর ফেরৎ নেয়ার সাথে উদাহরণ দিয়েশোকার্ত স্বামীকে যেমন সান্ত্বনা দিয়েছেন তেমনিআল্লাহর ফয়সালাকে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেওয়ারশিক্ষা দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা যখন তার উদ্দেশ্য ওনিয়তের সততা সম্পর্কে জানলেন তার মর্যাদা বৃদ্ধিকরলেন এবং তিনি আল্লাহর রাসূলের বরকতের দুআ লাভকরলেন। এক্ষেত্রে শিক্ষণীয় বিষয় হল আল্লাহ তাআলারফয়সালাকে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেওয়া। বিপদ-আপদেধৈর্য্য ধারণ করা এবং আল্লাহর কাছে উত্তম বিনিময়প্রত্যাশা করা। প্রয়োজনের ক্ষেত্রে দ্ব্যর্থবোধক বাক্যব্যবহার করা। স্বামীর সন্তুষ্টির জন্য সাজসজ্জা গ্রহণকরা ইত্যাদি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now