বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এক দুঃখী মায়ের গল্প

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X সময়টা ছিল দুপুর ১২.২০ নিজের রুমে বসে ফেসবুক চালাচ্ছিলাম।ঠিক সেই সময় বাহির থেকে একটা আওয়াজ আমার কানের ভেসে আসছিল।আওয়াজটা ছিল এরকম দুইডা ভিক্ষা দিবেন মা। দুইদিন ধরে কিছু খাই না। যদি ভিক্ষা দিতেন তাহলে পেটটা ভরে খেতে পারতাম। আম্মু বাসায় না থাকার কারনে আমাকে রুম থেকে বাহির হতে হল। রুম থেকে বাহির হয়ে যা দেখলাম তা দেখার জন্য আমি নিজেও প্রস্তুত ছিলাম না।একজন বৃদ্দ মহিলা যার বয়স আনুমানিক ৬৫-৭০ হবে। হাতে একটা লাঠি যার উপর ভর করে দাড়িয়ে আছেন। চোখে একটা ভাংগা চশমা। আমি সেই বৃদ্দ মহিলা সামনে যাবার পর মহিলাটি বললেন বাবা আমাকে কিছু ভিক্ষা দিবা দুই দিন ধরে কিছু খাই নাই। খিদায় পেট জলে যাচ্ছে। আমি তাকে বসিয়ে রেখে বাসায় সামান্য কিছু খাবার ছিল তাকে এনে দিলাম ওনি তা খেতে থাকলেন আর আমি ভাবতে লাগলাম হায়রে দুনিয়া যার কিনা এই বয়সে নাতি-নাতনিদের নিয়ে একটু আনন্দ করার কথা, নামাজ কালাম পড়ার কথা আর সে কিনা আজ এই বয়সে ভিক্ষা করছে। দুঃখিত ভিক্ষা বলে সেই মহিলাকে ছোট করা হচ্ছে বলতে হবে পেটের দায়ে অন্যের কাছে হাত পাততে হচ্ছে। কি দুনিয়ায় বাস করছি আমরা? এইসব ভাবতে ভাবতে মহিলার কথায় আমার ঘোর ফিরল। আল্লাহ তুমাকে বাচিঁয়ে রাখুক বাবা। -আচ্ছা আপনি এই বয়সে কেন মানুষের কাছে হাত পাতচ্ছেন ? আপনারত এই বয়সে এইসব করার কথা না। আপনারত এই বয়সে নামাজ কালাম পরবেন। আপনার কি ছেলে মেয়ে নেই যারা আপনার দেখা শুনা করবে। -মহিলা একটা দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে বললেন। কি আর বলব বাবা। সোনার সংসার ছিল আমার। কিন্তু এখন কিছুই নেই। -কেন কি হয়েছে? জানতে পারি আমি? -শুনতে যখন চাইছ তাহলে শুন। দুইটা ছেলের জননী আল্লাহ তা’য়ালা আমাকে করেছেন। কোন কন্যা সন্তান ছিল না আমার। আমার স্বামী ছিলেন সরকারী চাকুরীজীবী। মাস শেষে ভাল টাকা আয় ছিল তার। তার একটাই স্বপ্ন ছিল যে তার সন্তান অনেক বড় হবে। দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে সাথে আমাদেরও। আমার ছেল দুটোও ছিল সোনার টুকরা। অনেক মেধার অধিকারি।পড়ালেখ ায় সব-সময় ভাল করত। তাদের মেধা দেখে আমার স্বামীরও আগ্রহ কয়েক গুন বেড়ে যায় তাদের পড়ালেখা করাতে। কিন্তু আমার স্বামীর কপালে মনে হয় ছেলদের আয় করা টাকা খাবার ভাগ্য হয়নি। তার আগেই তিনি মারা যায়। পরে আস্তে আস্তে দুই ছেলেই তাদের পড়ালেখা শেষ করে চাকরিতে জয়েন করে। ভালই কাটছিল আমাদের সেই দিন গুলা। ছেলে দুইটা আমাকে খুব ভালবাসত। বড় ছেলেটাকে দেখে বিয়ে দিলাম। ভেবেছিলাম আল্লাহ হয়ত আমাকে মেয়ে দেননি এইবার মনে হয় আমি আমার ছেলের বউকে মেয়ের মত আদর করতে পারব। কিন্তু যা ভাবছিলাম হল তার উল্টা। বড় ছেলেটার আস্তে আস্তে পরির্বতন লক্ষ্য করতে লাগলাম। আগের মত এখন আর সংসারে টাকা দেন না। আগের থেকে অনেক কম দেয়। কিছু দিন পর নানান অজুহাত দেখিয়ে বাসা থেকে চলে গেল। পরে থাকলাম ছোট ছেলের কাছে। ভেবেছেলাম সে হয়ত আমাকে ছেড়ে চলে যাবে না। কিন্তু আমার ভাবা সবগুলা ধরনাই ছিল ভুল। সে আমাকে বাসা থেকে বের করে দিল। তার কারন হচ্ছে আমি কি তুমার একা সন্তান নাকি। আমি কেন একা তুমার দায়িত্ব নিতে যাব? আমার কি একা মা নাকি? কি আর করব কেউ যদি না রাখতে চায় তাহলে কি আর জোর করে থাকা যায়? তাই বাসা থেকে বের হয়ে এসেছি। আর যাইনি। না খেয়ে মরে যাব কিন্তু তাদের কাছে আর ফেরত যাব না। অনেক জায়গায় গিয়েছি একটা চাকরীর জন্য কিন্তু কেউ একটা চাকরী দেয়নি কারন এ বয়সে কে আমাকে চাকরী দেবে? তাই বাধ্য হয়ে ভিক্ষার পথ বেছে নিয়েছি কারন সবাই বুঝলেও পেট ত আর বুঝবে না। -কথা গুলা শেষ হতে মহিলাটির চোখ থেকে অঝর ধারায় পানি ঝরতে থাকল। কত কষ্ট জড়িয়ে আছে না জানি এই পানির ভিতর? আমার কাছে সামান্য কিছু টাকা ছিল যা অতি সামান্য তার হাতে গুজে দিলাম। পরে তার যাবার পথটা আমি চেয়ে থাকলাম। আর মনে মনে ঘৃনা দিতে থাকলাম সেই ছেলেদের যারা তাদের মাকে এমন কষ্ট দেয়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১২১৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ এক দুঃখী মায়ের গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now