বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
এইচএসসি রেজাল্ট, অতঃপর........
***
****
আজকে আমার এইচএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট
দিছে।কিন্তু রেজাল্ট করছি খারাপ।এখন ঘরে
গিয়া কী বলমু সেটাই ভাবার বিষয়।কিন্তু গরমে
আমি শেষ।আজকে রেজাল্ট দিল তাতে খারাপ
করলাম,তার উপরে আবার এত গরম।মাথা খারাপ
হইয়া যাইতাছে।
এমনিতেই আজকে বাসায় গেলে দিব মাইর।কোন
বুদ্ধিও মাথায় আসতাছে না।
তো বাসায় যাওয়ার সময় হঠাৎ একটা বুদ্ধি
মাথায় উদয় হইল।
যাই বাসায় গিয়া প্রয়োগ করে দেখি কাজে
দিতে পারে।
:
অতঃপর আমি বাসায়।
:
উফ,কী গরম।এই গরমে মানুষ এসি ছাড়া থাকে
কেমনে?
শুকায়া শুটকি হইয়া যাইতাছি।
:
-কই মি.আশরাফ খান,এত বছর এত টাকা ইনকাম
কইরা কী করলেন যে একটা ভাল এসিও লাগাইতে
পারেন না ঘরে?(আমি)
(আব্বা পত্রিকা পড়তাছিল।তা নামায়া রাইখা
বলল,)
- কী কইলি হারামজাদা?আর তুই আমার নাম ধইরা
ডাকলি কেন?(আব্বা)
-আরে মোর জ্বালা।আপনিই তো কইলেন সেদিন।
-আমি কইছি?
-হুম,কইলেন না যে পরীক্ষায় খারাপ করলে
আপনারে বাপ বইলা পরিচয় না দিতে।
-কী,তুই পরীক্ষায় খারাপ করছস?
-হুম।
-হুম, মানে হারামজাদা তুই আবার এসির খবর নেছ
যে এসি কেন লাগাই না।কই গো গেদুর মা
তোমার পোলায় কী করছে দেখো?
-আরে এমন চিল্লাইতাছো কেন?(রান্না ঘর
থেকে বাহির হইয়া বলল আমার সম্মানীয়
আম্মাজান।)
-চিল্লাই কী আর সাধে।তোমার গুণোধর পোলায়
পরীক্ষায় খারাপ করছে।আর ঘরে আইসা নবাবের
মত এসির খবরদারি করতাছে।
-কী তুই এই পরীক্ষায়ও খারাপ রেজাল্ট করছস?
-আমি কী করুম যদি স্যারেরাই নাম্বার না দেয়।
-তুমি খাতায় লিখলে তো নাম্বার দিব।
-লিখছি তো।
-হারামজাদা কী এমন লিখছস যে নাম্বার দেয়
নাই।
-তা তো মনে নাই।
-তা মনে থাকব কেমনে।সারাদিন তো আছস ওই
মোবাইল নিয়া।
দাড়াঁ তোরে দেখাইতাছি মজা।
বইলাই আম্মায় দিল ২টা চড়।আর তা দেখে
আব্বায় দিল এক লাত্থি।আমি তো এই মাইরের
চটে কুপোকাত।
:
হঠাৎ পাশের রুম থেকে দেখি ছোট কাকায়
বাহির হইল।মনে একটু শান্তি পাইলাম যে এবার
আর মাইর খাইতে হইব না।কাকায় বাচাঁয়া দিব।
কিন্তু তা আর হলো না।
:
কাকায় জিজ্ঞাস করল,যে আমারে মারতাছে
কেন?
তো আব্বায় তারে সবটা খুইলা বলল।
এই কাহিনী শুইনা তো কাকায় পুরা আগুন।
এই অবস্থা দেইখা আমি যেই পালাইতে
নিলাম,তখনই কাকায় আমারে আটকাইয়া ফেলল।
আর মাইর শুরু করল এখন ৩ জনে মিলে।
:
এমন মাইর মারলো যে আমার বাপের নামই ভুইলা
গেলাম।সাথে জ্ঞানও হারাইলাম।
:
যখন জ্ঞান ফিরলো দেখি আমি আমার রুমে।
আশেপাশে কেউ নাই।সবাই সবাইর কাজে ব্যস্ত।
আমারে মাইরা যে অজ্ঞান বানাইলো সেখানে
কারো খেয়াল নাই।
:
কী আর করুম,রেজাল্ট খারাপ করছি এখন তো এর
ফল ভোগ করতেই হইব।
:
এখন আমার পরিচয় টা দেই।আমি সিফাত।এবার
এইচএসসি দিলাম।আর বাকিটা তো উপরের
কাহিনী পইড়াই বুঝছেন।
:
আমি একটা জিনিস বুঝি না যে,এইচএসসি
রেজাল্ট খারাপ করছি এর জন্যই এত মারলো। না
জানি ফেইল করলে কী করত।
ওহ আরেকটা কথা আমাকে গৃহবন্দি করে রাখছে।
মোবাইলটাও নিয়া গেছে।
শুধু খাবার দেয়ার সময় দরজা খুলে দেয়।
কেমন অবস্থায় যে আছি তা বলে বুঝানো যাবে
না।
:
তো হঠাৎ একদিন ছোট কাকায় আমার রুমে
আসলো।চেহারা দেখে তো আমি ভয়ে শেষ।খুব
রাগি একটা লুক নিয়ে আছে।
তো বলল,
-শোন তোর সাথে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে।
-কী কথা।
-আমরা একটা ডিসিশন নিছি।
-কী ডিসিশন??
-তোরে বিয়া দিমু।
-কী?(খুব অবাক হয়ে)
-হুমম।সব কিছু ফাইনাল করা আছে।সামনের
সপ্তাহে তোর আশরাফ কাকার মেয়ের সাথে
বিয়া।
-আমি তো রাজি না।
-তোর মতামতের কোন দাম নাই।
-কেন দাম নাই?এখানে আমার জীবন মরনের
প্রশ্ন।
-এহ ওনার আবার জীবন।হারামজাদা রেজাল্ট
খারাপ করার সময় মনে ছিল না।এখন আমরা যেই
ডিসিশন নিছি সেটাই ফাইনাল।
আমাকে আর কোন কথা বলতে না দিয়ে চলে
গেল।
:
আমার তো মাথায় হাত।মেয়েরা খারাপ
রেজাল্ট করলে বিয়া দেয় বাপ মা তা আমার
জানা ছিল।
কিন্তু ছেলেদের যে বিয়ে দেয় সেইটা জানা
ছিল না।
আর যার মেয়ের সাথে আমার বিয়ে তার নাম
আজকেই প্রথম শুনলাম।
:
তো এর জন্য গেলাম মায়ের কাছে যে দেখি
কোন মতে বিয়া আটকাতে পারি কিনা।
কিন্তু সেখানেও একি কাহিনী।
সে কেন কেউই নাকি এই বিয়ের বিপরীতে নাই।
সবাই পক্ষে।
আর তার থেকে তো আরো খারাপ সংবাদ
শুনলাম।
মেয়ের নাম দীনা।আর আমার থেকে নাকি চার
বছরের বড়।কী কপাল আমার।আর মেয়েও নাকি
বিয়েতে রাজি।
:
তো যা বুঝলাম যে এই বিয়া আমার করতেই হইব।
:
তো যথারীতি আমার বিয়েটা ঘরোয়া ভাবেই
সম্পন্ন হলো।কোন বড় অনুষ্ঠান হয় নাই।আমাদের
দুই পরিবার কিছু আত্মীয়স্বজন আর আমার কিছু
বন্ধু দাওয়াত দেয়া হল।
:
হাতি পানিতে পড়লে যে চামচিকাও লাত্থি
মারে তা আমার বন্ধুদের দেখেই বুঝে গেলাম।
হারামিগুলা কই আমারে একটু সাহস দিব।আমার
বিপদে পাশে দাড়াঁইবো, তা না।তারা আছে
মজায়।আর এদিকে আমি টেনশনে পুরা শেষ।
:
বন্ধুরা জোর করে আমারে বাসরঘরে পাঠায়া
দিল।
আমি দরজা লাগিয়ে দেখি যে আমার সদ্য বিয়া
করা বউ খাটের উপর বিরাট ঘোমটা দিয়া বইসা
আছে।
আমার জানামতে বাসরঘরে স্বামি প্রবেশ করলে
বৌ পা ধরে সালাম করে।
কিন্তু আমার বেলায় তা কিছুই হলো না।
আমি গিয়া খাটে বসলাম।দেখি বউ আমার
ঘোমটার ভিতরেই মিটিমিটি হাসতাছে।
এ দেখে আমি বললাম,
-কী ব্যাপার আপনি হাসতাছে কেন?
-তুমি খুব কিউট আর এত ফর্সা কেন?
-তা তো জানি না।তা তে কী?
-মনে হইতাছে তোমার গালে একটা টোকা
দিলেই রক্ত বাহির হইব।
-ওহ।
-আমার ভাগ্য কত ভাল।তোমার মত কিউট একটা
বর আমার কপালে জুটছে।
-কিন্তু আমার ভাগ্য খারাপ।
-কেন?
-কারণ আপনার মত একটা বয়স্ক মহিলা আমার মত
একটা কিউট পোলার ভাগ্যে জুটছে।
-ঠাস।
-কী হইলো,চড় মারলেন কেন?
-(ঘোমটা খুলল।চেহারা দেইখা তো আমি মাইয়ার
উপর ক্রাশ খাইলাম।)এখন চল পড়তে বসবি।
-মানে?
-মানে তোর না কিছুদিন পর ভার্সিটি ভর্তি
পরীক্ষা।
আমি আসার সময় সাথে করে বই নিয়া আসছি।
ওইগুলা এখন থেকে পড়বি।
-মানে কী?আমি তো আপনার সাথে ফাজলামো
করছিলাম।আপনি কত কিউট।আর আজকে না
আমাদের বাসর রাত এই দিনে বরকে কেউ তুই তুই
করে বলে?(একটু পাম দেয়ার চেষ্টা করলাম।
কিন্তু কিছুই হইল না।)
-ফাজলামোর খেতা পুড়ি।তুই আমার বয়সে ছোট
তাই তুই করেই বলব।
আর তুই ভার্সিটিতে চান্স পাইলে সেদিন
আমাদের বাসর রাত হবে তার আগে না।
রেজাল্ট খারাপ করছে আবার বড় বড় কথা বলে।
লজ্জা নাই।
-আহ এটা কোন কথা হলো?
-হুম চল এখন থেকে আমি তোকে পড়াবো।
বলেই টেনে হিচঁড়ে আমাকে পড়ার টেবিলে
নিয়ে গেল।
কী আর করার হাজার চেষ্টা করেও কিছু বুঝানো
গেল না।
আমার পড়তে বসতেই হলো তার কাছে।
বাসর রাতেও লেখাপড়া এটাই মনে হয় আমার
ভাগ্যে লেখা ছিল।
:
দোয়া কইরেন সবাই যেন যেকোনো একটা
ভার্সিটিতে সুযোগ পাই।কারণ তাইলেই আমি
আমার বউর সাথে বাসর করতে পারব।
:
ধন্যবাদ। ????�☺
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now