বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

এ জার্নি বাই ট্রেন

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান S M Fahim Ahmed (আম্মুর রাজপুত্র) (০ পয়েন্ট)

X বেশ ধড়ফড় করে ঘুম ভাঙল আমার। ঘুম ভাঙতেই দেখলাম আমার কাছে ল্যাপটপ নেই। নতুন ল্যাপটপ। ঢাকা থেকে কিনে ট্রেনে করে বাসায় ফিরছিলাম। ঘুমাব না ঘুমাব না করেও চোখটা বুজে এসেছিল। মেজাজ বিগড়ে গেল আমার। উপরের স্ট্যান্ডে খুঁজতে থাকলাম। পেলাম না। পাশে বসে থাকা মেয়েটি বলল, - কিছু খুঁজছেন? - হ্যাঁ আমার ল্যাপটপের ব্যাগটা. .. - এই যে নিন। আপনি ঘুমানোর সময় ব্যাগটা নিচে পড়ে গিয়েছিল। - ওহ থ্যাংকু। ভয় পেয়ে গেছিলাম। - ওয়েলকাম . ব্যাগটা হাতে নিয়ে সিটে বসলাম। তখন মনে হল আমার পাশে সুন্দরী মেয়ে বসে আছে। আমার অনেকদিনের শখ ট্রেন জার্নিতে সুন্দরী মেয়ের পাশে বসে গল্প করতে করতে যাব। আজ সে আশা পূরণ হল। খুব যে আহমরি সুন্দরী সেটাও না। সিম্পলি শ্যামলা, সুন্দর। কিন্তু কেমন যেন অস্বস্তি লাগছিল কথা শুরু করতে। মেয়েটা যেন সেটা বুঝে ফেলেই বলল, . - আপনি কি অস্বস্তিবোধ করছেন? - নাতো কেন? - দেখে তো তাই মনে হচ্ছে! মেয়েদের পাশে বসে জার্নি করে অভ্যাস নেই বুঝি! - না মানে, ইয়ে মানে... - থাক আর বলা লাগবে না। নাম কি আপনার? - ফক্স! - ফক্স? শেয়াল! - না মানে ফখরুল। ক্যাম্পাসে ফক্স নামে পপুলার তো তাই। - অপরিচিত কেউ নাম জিজ্ঞেস করলে ফক্স বলেন? - জ্বি। - ইন্টারেস্টিং তো। হাহা . মেয়েটা হাসছে। হাসলে তার গালে টোল পড়ে। আর আমি কিছুই জিজ্ঞাসা করতে পারলাম না। সুন্দরী মেয়েদের সাথে কথা বলতে বেশ জড়তা কাজ করছে আমার। মেয়েটা অসম্ভব মায়াবতী। চোখে চশমা। তার রূপের বর্ণনা আমি করতে পারব না। সম্ভবত আমি তার মায়ার জালে পুঁটি মাছের মত আটকে পড়েছি। তবে মেয়েটিকে দেখে মনে হচ্ছে সে অসুস্থ। চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ। মেয়েটি বলল, - আপনি যা ভাবছেন আসলে সেটা পুরোপুরি সত্য না। - কি ভাবছি আমি? - আমাকে খুব সুন্দরী ভাবছেন। - না মানে ইয়ে আমি এটা ভাবছিলাম না। - আপনি তো ঠিকভাবে মিথ্যাও বলতে পারেন না। হাহাহা। . আমি এবার মেয়েটির দিকে তাকালাম। তার কথা শুনে মুগ্ধ হচ্ছি। সে হাসছে। তার গালে টোল পড়ছে। এবং আমি আবারও মুগ্ধ হচ্ছি। . - আচ্ছা আপনি কি অসুস্থ? কথাটা শুনে মেয়েটি চমকে উঠল। - কেন? - এমনি মনে হল। কেমন যেন ক্লান্ত ক্লান্ত ভাব। - না। আমি অসুস্থ না। - ওহ আচ্ছা। . মেয়েটি ব্যাগ থেকে খাবার বের করল। - খাবেন? ডিমের হালুয়া আর রুটি। - না। আপনি খান। - আমার মা বানিয়েছে। ডিমের হালুয়া খুব পছন্দ আমার। - ওহ আমার অবশ্য মিষ্টি জিনিস কম পছন্দ। - তাইলে অল্প খান। - না থাক। - ও বুঝেছি। আপনি আপনার মায়ের বাধ্যগত সন্তান। - মানে? - মানে আপনার মা বলেছেন ট্রেনে অপরিচিত কারো কাছে কিছু খাবে না। তাই আপনি খাচ্ছেন না। - হাহা। গুড লজিক। আসলে আমার খিদা নাই। আচ্ছা দিন একটু খেয়ে দেখি। - নিন। খাবারে কোন ভেজাল নাই। তবে আজকাল প্রেমে ব্যাপক ভেজাল। - কেন? - টাইম পাস। সবাই টাইম পাস করে। ছেলে মেয়ে উভয়েরই দোষ। আপনাকে দেখে ভাল মনে হয়। আপনি প্রেমের ধারে কাছে যান নি তাইনা? - কিভাবে বুঝলেন? - জানি না। আমার অনুমান বা বোধশক্তি ভাল। যা বলি মিলে যায়। - তাই? আরো কিছু বলুন তাইলে। - আমার মনে হয় আপনি ভাল বউ পাবেন। - হেহে। . ট্রেন চলছে নিজের গতিতে। আমরা গল্পগুজব করতে করতে যাচ্ছি। সময় খুব তাড়াতাড়ি চলে যায়। মেয়েটিও নেমে যাবে পরের স্টেশনে। - আমি পরের স্টেশনে নেমে যাচ্ছি। খুব ভাল একটা জার্নি করলাম আপনার সাথে। - আমাদের কি আর দেখা হবে না? - উহু হবে না। - কেন? - আপনাকে একটা কথা মিথ্যা বলেছি। - কি? - আমি আসলেই অসুস্থ। ব্রেন ক্যান্সার। জীবনের মেয়াদ খুব বেশিদিন নাই। . আমি চমকে উঠলাম। এই হাস্য উজ্জ্বল মেয়েটি নাকি মারা যাবে। এমনভাবে কথাগুলো বলল, যেন ক্যানসার হওয়া খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। আমি বললাম, - আপনার কিছু মনে হচ্ছে না? - না। আমার অনুভূতি শূণ্য। জীবন নিয়ে আমার কোন অনুভূতি নেই। - বাঁচার কোন উপায় নেই? - হাহা। আমার জীবনে একটা মিরাকেল দরকার। একটা মিরাকেল শুধু। মেয়েটির চোখে পানি। লুকিয়ে সে পানি মুছে নিল। - এটাই কি আমাদের শেষ দেখা? মেয়েটি জানালার বাইরে তাকিয়ে বলল, হ্যাঁ। . পরের স্টেশনে ট্রেন থামল। মেয়েটি ব্যাগ নিয়ে ট্রেন থেকে নামল। আমাকে বলল, - আসি তাহলে। - ভাল থাকবেন। - আপনিও ভাল থাকবেন। - আমাদের আর দেখা হবে না? - যদি বেঁচে থাকি তবে একদিন না একদিন হয়তো দেখা হতেই পারে। আর আমার কথা মিথ্যা হয়না। মেয়েটি হেসে আমাকে বিদায় দেয়। সে চলে যাচ্ছে। হাওয়ায় মিলিয়ে যাওয়া পর্যন্ত আমি মেয়েটির যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম। . ট্রেন চলছে। আমি সিটে উদাস হয়ে বসে আছি। ক্ষণিকের এই পরিচয়ে আমি মেয়েটির প্রেমে পড়ে গেছি। অথচ মেয়েটির নামটাই জানা হয়নি। ব্যাগ থেকে ডায়রী আর কলম বের করলাম। "হারিয়ে যেতে ইচ্ছা করছে দুজনে। কুয়াশার দেয়ালে তোমার ঝাপসা চশমার কাঁচে, এঁকো না আমার জলছবি ৷ অনুভূতিহীন জীবনে অনুভূতি শূণ্য হয়েই থেকো। আমিও নাহয় অনুভূতি শূণ্য হয়ে লুকিয়ে রাখবো তোমায় অনন্তকাল.... আমার ধুলোমাখা ডায়েরির ভাজে৷" মনে মনে চাইলাম আমার লাইফে আরেকটা মিরাকেল ঘটুক। আমি আরেকবার মেয়েটির সাথে দেখা করতে চাই। . (৫ বছর পর) আম্মু আমার বিয়ে ঠিক করে ফেলসেন। এক মাস পর বিয়ে। মেয়েটির নাম সিনথিয়া। আজকে সিনথিয়ার সাথে দেখা করতে যাব। আমার লাইফে মিরাকেল ঘটতে যাচ্ছে। এভাবে যে ঘটবে ভাবিনি। মা আমার টেবিলে ছবি রেখে বলল, "তোর বউ হিসেবে আমার এই মেয়েটি পছন্দ। সিনথিয়া নাম। তোর পছন্দ হয় কিনা জানাস।" ছবি দেখে আমি চমকালাম। ট্রেনে দেখা সেই মেয়েটি সিনথিয়া। মা তো জানে না যে আমি মেয়েটির উপর আগে থেকেই প্রেমে পড়ে আছি। . আমি মেয়েটির সামনে বসে আছি। মেয়েটি আগের চেয়ে রূপবতী হয়েছে। চেহারায় সেই ক্লান্তির ছাপ নেই। বললাম, - আরেকবার দেখা হয়ে গেল তাহলে। - খুব অবাক হচ্ছি। - অবাক হওয়ার কিছু নাই। আপনি বলেছিলেন বেঁচে থাকলে আবার দেখা হবে। আর আপনার কথা মিথ্যা হয়না। - জানতাম না আমি আবার বেঁচে ফিরব। - আরেকটা কথাও বলেছিলেন! - কি? - আমি খুব ভাল বউ পাব। - এহহ! এত কথা সত্যি হয় না। - তাই নাকি? . মেয়েটি হাসে। হাসলে তার গালে টোল পড়ে। আমি আরেকবার মুগ্ধ হতে শুরু করলাম।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ এ জার্নি বাই ট্রেন ইন সুইজারল্যান্ড
→ এ জার্নি বাই ট্রেন
→ জার্নি বাই ট্রেন
→ জার্নি বাই ট্রেন

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now