বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দুটো বোতল, দুটো চিপসের প্যাকেট
-নিলয়
.
একটা কামরাঙ্গা মরিচ আর পাঁচটি কাচা মরিচ। চানাচুরে মরিচের পরিমাণটা অস্বাভাবিক রকমের বেশি। আরেফিন এর চোখ আর নাক দিয়ে পানি বের হচ্ছে, কিন্তু ওর মুখে তৃপ্তির হাসি। লোভকাতুর আমি, সকালে বাথরুমে কষ্ট পাওয়ার ভয়ে নিজেকে সামলে নিচ্ছি বারবার।কিন্তু আরেফিন এর ফাপর এর কারনে, মামাকে বললাম আরেকটা ঝাল করে বানাতে...............
আমার পাশে এখন দুইটা পানির বোতল। একটা পুরো খালি আরেকটা থেকে দুই চুমুক পরিমান পানি খাওয়া হয়েছে।আরেফিন এর দিকে তাকালাম, তার মুখে এখন আনন্দের হাসি। কারণ আমার নাক লাল হয়ে গেছে। নাকের জল, চোখের জল কোনটাই তখনো থামেনি।
সন্ধ্যা সাতটা। খামারবাড়ি, জাতীয় সংসদ এর সামনে, দুই জন আলুজ খাচ্ছি, আর এক ভাইয়ার ছবি আঁকা দেখছি। আকাআকির বেপারে আমার জ্ঞান শুন্য থেকেও কম, নেগেটিভ বললেও ভুল হবে না। আমার মাথায় ঢুকল না, কেন প্রথমেই চোখ আঁকতে হবে। সে যাই হোক, প্রতি ছবি দুইশত টাকা হিসেবে, হাত খরচটা খারাপ উঠার কথা না। উপহার হিসেবে বেশির ভাগ মেয়ে সেটা পছন্দ করবে।
আর্টিস্ট ভাইয়া যে মেয়েটির ছবি আঁকছে, তার চোখদুটি আসলেই সুন্দর। অপলক তাকিয়ে রইলাম, ইচ্ছে করে ডুবে যাই, মণি নামের কালো সাগরটিতে।
হঠাৎ একটা ছয়-সাত বছরের ছেলে এসে বলল, ভাই বোতলটা নেইগা?? আমি কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে, খালি বোতল দুটি তার দিকে এগিয়ে ধরলাম। সে চলে যাচ্ছিলো, আরেফিন তাকে ডাক দিল।
আরেফিন জিজ্ঞাসা করল, কিরে চিপস খাবি? সে মাথা নাড়াল, খাবে। আরেফিন তার চিপস এর প্যাকেট এগিয়ে দিল, তার দেখাদেখি, আমিও।দুই প্যাকেট চিপস হাতে নিয়ে সে দৌড়ে সবার আড়ালে চলে গেল। হয়ত সে কাওকে ভাগ দিতে চাচ্ছে না।
রাত তখন দশটা বাজে। হলুদ ল্যাম্পপোস্ট এর নিচে, সেজেগুজে এক আপু দাড়িয়ে আছে, তার রাতের বিসনেস শুরু, আপুর পাশে দুটি রিকশা। দেখে যা বুঝলাম, আপুটার সাথে রিকশাওয়ালার আগে থেকেই ডিল ওকে করা। একটু এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ালাম আমি। আমার দিকে একবার তাকিয়ে চোখ ঘুরিয়ে নিল। আমি তাকিয়েই রইলাম। সে তার চুল ঠিক কড়ছে, আঙ্গুল দিয়ে চুল পেচাচ্ছে।
পেছন থেকে আরেফিন ডাক দিল, অনি এদিকে দেখ, একটা এক্সিডেন্ট হয়েছে।
দুজনই ছুটে গেলাম। যা দেখলাম, দুই সেকেন্ড আগেও দুজন কল্পনা করিনি, এমন কিছু হতে পারে। একটা ছোট বাচ্চা, ছয়-সাত বছরের হবে, প্রাইভেট কার এর নিচে পরেছে। মাথাটা থেতলে গেছে, রক্তের সাথে মিশে গেছে ব্রেইন। তার পাশে ছড়িয়ে আছে অনেকগুলো খালি বোতল। আমাদের চিনতে আর বাকি রইল না। আরেফিন এর দিকে তাকালাম, সে অপলক তাকিয়ে আছে। আমি পেছনে সরে আসলাম, আর সহ্য হল না।
একটা সিগারেট এর দোকানে দাড়িয়ে আছি। প্রচণ্ড বৃষ্টি পড়ছে। এত সুন্দর প্রকৃতির এ কেমন নিয়ম? খুন করে প্রমাণটুকুও সে রাখবে না। খুনি প্রকৃতি, খুনি তার সজ্জিত ছলচাতুরি, বানানো নিয়ম.......
আরেফিন দুটো গোল্ডলিফ ধরিয়ে একটা আমাকে দিল।
আমি বললাম, চল ভিজে ভিজে খাই।
দুজন হাঁটছি নিঃশব্দে। মাঝে মাঝে এক দুটি লোকাল বাস ছুটে যাচ্ছে। হাতে আধ ভেজা সিগারেট, মুখে শুকনো ধোয়া। হঠাৎ আমার চোখ ঝাপসা হয়ে এল। চোখ মুছে সিগারেট এ টান দিয়ে সামনে তাকালাম।
ছেলেটা দাঁড়িয়ে আছে, এক হাতে দুটো বোতল, আরেক হাতে দুটো চিপস এর প্যাকেট। তার সারা শরীর রক্তে মাখা। বৃষ্টির পানিতেও সে রক্ত যাচ্ছে না, কলঙ্কের মত লেগে আছে গায়ে, রক্তের কলঙ্ক। আমি অবাক চোখে, তার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।
সে আমায় জিজ্ঞাসা করল, ভাই খালি বোতল আছে?
নিজের অজান্তেই মনে মনে বললাম, “নেই” .....................
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now