বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দরজার এপাশ-ওপাশ

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়াদুল ইসলাম রূপচাঁন (০ পয়েন্ট)

X বাথরুমের দরজা আটকেই শাওয়ারের নব ঘুরিয়ে ঠান্ডা জলের স্রোতে নিজেকে ভাসালো নাহিদ।ঠান্ডা জলের মাঝে শান্তি খুঁজছে সে।সারাদিন প্রচন্ড কাজের চাপ শেষে এই জলই তার প্রশান্তি।এইসময়টুকুতে সে অনেক স্মৃতিচারণ করে।কারণ তার অবসর কোথায় এই জল ছাড়া! কয়েক বছর আগেও,যখন সে এই জলের মাঝে নিজেকে ভাসাত,তখন বাথরুমের দরজায় নক হতো।এই খটখট শব্দটা নাহিদের বিরক্তিকর লাগত না মোটেও।কারণ সেই শব্দের সাথে আরো কিছু শব্দ কানে ভেসে আসত তার,টুংটাং চুড়ির শব্দ আর রিনরিনে গলার হাসির আওয়াজ।জলে নিজেকে ভেজাতে ভেজাতেই নাহিদ বলত,তারপর?ওপাশ থেকে হাসির সাথে ভেেস আসত- - তারপর,তোমার মুন্ডু! হি হি হি হি। হাসি শুরু হলে আর থামতই নাহ।হয়ত দরজার ওপােশ হাসিরদেবী স্বয়ং দাড়িয়ে থাকতেন,এজন্যই।গায়ে সাবান ডলতে ডলতে নাহিদ বলত,-কি রান্না করলে আজ? - আজ করলাম করল্লাভাজি,ডাল আর মাংস। - বাহ,জম্পেশ খাওয়া হবে আজ। - হবে মানে সেই হবে। - এই,রোজ তুমি এই বাথরুমের দরজার সামনে দাড়িয়ে এত কথা কেন বলো? অন্যসময় ত একদম চুপ।আমার এ গোসলের সময় তোমার সব কথা পেট থেকে বের হয়ে আসে নাকি??? - হি হি হি হি হি। - এমা! হাসির কি বললাম? সত্যিই তো! অন্যসময় ত কাজে ব্যস্ত থাকো,কথা বলো না।আমার গোসলের সময়ই রাজ্যের কথা বলো। - কাররণ আছে বলেই বলি। - আমি সেই কারণ জানতে চাই।বলো। - আজ নয়,অন্যকোনদিন। - উহু,আজই। - বলব? - হুম,বলে ফেলো। - জানো,তুমি যখন হুম বলো,খুব ভালো লাগে শুনতে। - আমার আর কি ভালো লাগে? -তোমার খোচাখোচা ওই দাড়ি যখন আমার গালে আচড় কাটে,তখন খুব ভালো লাগে। - আর? - আর তোমার গেজানো ওই বা'পাশের দাঁত টা।হি হি হি। নাহিদ হেসে ফেলল। ওপাশের হাসির আওয়াজ এখন চলমান।দেবী এখনও হাসছেন।হয়ত তার টোলপড়া হাসি হাসি মুখশ্রী বড় বেশী মোহময় ও সুন্দর লাগছে।তা আরদেখা আর হলো না নাহিদের,এই ভেবে তার খুব আফসোস হচ্ছে।ওপাশের প্রিয়ংবদা হেসে বলল, - তুমি খুব ব্যস্ত থাকো সারাদিন, বাসায় আসার পরও,এটা কি জানো? - হ্যা,জানি ত। - এই গোসলেরর সময়ই তুমি একটু নিজেকে স্বস্তি দাও।আমি এটা বুঝি,এজন্যই দরজার ওপার থেকে তোমার সাথে গল্প করি।অফিসে থাকলে তো তুমি মহাব্যস্ত,বাসায় ফিরে আবার বসো অফিসের বাকি কাজ সারতে।আমি তখন গল্প করলে তোমার সময় নস্ট হবে না বলো? নাহিদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে,ওপাশের মানবী জলের আওয়াজের কারণে সেটা শুনতে পারে না,বুঝতে পারে কি না সেটা নাহিদের অজানা।সে বলে- - আজীবন তুমি আর আমি এইভাবেই দরজার এপাশ- ওপাশে থেকে গল্প করব,আচ্ছা? - আচ্ছা,আচ্ছা,আচ্ছা। -শোন,তুমি কি জানো,জলের আওয়াজের সাথে তোমার মিষ্টিগলার আওয়াজ শুনতে আমার বড় বেশি ভালো লাগে। - আমি সেটা জানি। - কিভাবে জানো? - আজ আর সেটা বলবো না।দ্রুত এসো,খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্চে তো। - হুম, আসছি।তুমি বসো,আমি আসছি। আজ প্রায় দেড়বছর হয়ে গেলো।প্রিয়ংবদা সেই নারী আজ আর নেই।রোজ এই ঠান্ডা জলে নিজেকে নাহিদ ভাসায়,কিন্তু জলের আওয়াজের সাথে সে প্রিয়তমার কন্ঠ আর শুনতে পায় না।সে আজ কোথায়? ওই দূরে,তারােদর সাথে,বিশাল আকাশে।তার ছোট কুড়েঁ ঘর ফেলে সে দূর বিশাল আকাশে সংসার বেধেঁছে।হয়ত,এই কুড়েঁঘরের মতই সেই সংসার সে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখে।কিন্তু,তার তৈরি এই কুড়েঁঘর যে আগোছালো,সেটা কি সে জানে? নাহ।জানলে ত আর সে সব ফেলে চলে যেতো না।হয়ত সে জানে না,সে কত তাকে অনুভব করে,দরজা লাগিয়ে,শাওয়ারের নব ঘুরিয়ে জলে ভাসানোর সময়,জলের আওয়াজের সাথে সাথে,মিষ্টি হাসির আওয়াজ,চুিড়র টুংটাং শব্দ শোনার আশায় থাকে।আগে বাথরুমের আয়নাতে জমানো টিপ সে ছুয়েঁ দেখত,আজ সেগুলোর সে খোজঁ করে প্রতিনিয়ত।অনেক,পরে বলব পরে বলব করে যেসব কথা জমে ছিলো,তা শোনার আশা,রোজ তাকে মুখবোঁজা কস্ট দেয়।গোলাপি নখের আচঁড়, যা প্রায় সে সকালে উঠে,নিজের পিঠে আবিষ্কার করে মুচকি হাসত,তা আজ বড়বেশি মনে পড়ে । সেই প্রিয়ংবদা কি সেসব জানে? নাহ,সে জানে না।সে ত বহুদূরে।সীমানা ছাড়িয়ে চলে গেছে,সদূরে।সে জানবে না,তার জানার কথা নয়।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দরজার এপাশ-ওপাশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now