বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
ছোট গল্পঃ দৌড়
.
দোতলার এই ঘর থেকে বাইরের আওয়াজ ভালই পাওয়া যায় বলে বাইরে রাস্তায় কিছু একটা নিয়ে হট্টগোল শুনতে পাচ্ছি। আমি খুব কষ্টে একটু একটু করে জানালার কাছে গিয়ে নিচে রাস্তার দিকে তাকালাম। বুঝতে পারলাম, আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় তিলকপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী দৌড় প্রতিযোগিতা উপলক্ষে গ্রামের ছেলেমেয়েরা শ্লোগান দিচ্ছে আর মিছিল করে বেড়াচ্ছে। বুকটা কেমন যেন ভারী হয়ে উঠল। জানালার কাছে থেকে আস্তে আস্তে সরে এসে বিছানায় বসলাম।
.
গতবছর ঠিক এরকমই এক সময়ে প্রতিযোগিতার দুইশো মিটার ইভেন্টে টানা তৃতীয়বারের মত হ্যাট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয়ে রেকর্ড করতে পেরেছিলাম। ট্রফি হাতে দৌড়ে গিয়ে বাবা মা’র পায়ে যখন সালাম করলাম তখন বাবা মাথায় হাত রেখে বলেছিল, আমার বিশ্বাস তুই একদিন উসাইন বোল্ট এর মত হবি। মাও গালে আলতো করে চুমু খেয়ে কানে কানে বলেছিল, আমি জানি তুই পারবিই। আমরা সবাই তোর সাথে আছি। তুই শুধু প্র্যাক্টিস চালিয়ে যা।
সবাই আমাকে নিয়ে কত লাফালাফি আর আনন্দ করেছিল। বাবা নিজ হাতে গ্রামের প্রত্যেক ঘরে ঘরে মিষ্টি বিতরন করেছিলেন আর আমার জন্য সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করেছিলেন।
সেদিন বাবা মা সহ সবার ভালবাসা আমাকে আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। উসাইন বোল্টের মত হওয়ার সাহস জুগিয়েছিল।
হঠাৎ আলমারিতে সাজিয়ে রাখা তিনটি ট্রফির দিকে তাকিয়ে চোখ দুটো কেমন যেন ছলছল করে উঠল। বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারলাম না। ট্রফি তিনটিতে লেখা আছে ‘দুইশো মিটার ইভেন্টে চ্যাম্পিয়ন’। ট্রফি গুলোতে যখন ধুলা জমে মা খুব যত্নে ধুলা পরিষ্কার করেন আর খুব গোপনে আচল টেনে নিয়ে চোখ মুছেন। আমি অবশ্য সেই গোপনীয়তা ধরে ফেলি, মা বুঝতে পারেন না। টিভির পর্দায় উসাইন বোল্টকে দেখালে বাবাও এখন তড়িঘড়ি করে চ্যানেল বদলিয়ে দেন।
.
আলমারি থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে আকাশের দিকে তাকালাম। এই ঘরের জানালা দিয়ে অনেখানি আকাশ দেখা যায়। মনে হয় জানালা দিয়ে হাত বাড়ালেই সাদা তুলোর মত মেঘ গুলোকে মুঠোবন্দি করা যাবে আর বিশাল ওই আকাশটাকে ছোঁয়া যাবে। সত্যি সত্যিই তো একদিন আকাশটাকে ছুঁতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আজ আকাশ ছোঁয়ার ইচ্ছা কিংবা শক্তি কোনটাই আর অবশিষ্ট নেই। মেঘ গুলোর সাথে আমার দারুণ মিল। জানালার ওপাশে ওরা কেমন নিঃসঙ্গ ভাবে আকাশে ভেসে বেড়ায় আর জানালার এপাশে আমিও প্রতিনিয়ত নিঃসঙ্গতায় ডুবি। মেঘ গুলোকে আমি প্রতিদিন দেখি হয়তো মেঘ গুলোও আমাকে দেখে কিন্তু কেউ কাউকে ধরতে পারি না, স্পর্শও করতে পারি না।
.
অবশ্য কিভাবেই বা কাউকে স্পর্শ করার জন্য সামনে এগিয়ে যাবো তার উপায় তো আমার জানা নেই। হঠাৎ করেই যে জীবন ক্র্যাচ আর হুইল চেয়ারের দুই হাতলের মাঝে বন্দি হয়ে গেছে, হঠাৎ করেই যে জীবন ভবিষ্যতের দৌড়ে হেরে বসে আছে সে জীবন কি কখনো আকাশ ছুঁতে পারে কিংবা সে জীবন কি কখনো উসাইন বোল্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখতে পারে?
এই প্রশ্নের উত্তরের বিনিময়ে ফিরে আসে একরাশ শূন্যতা। আমি না হয় সেই শূন্যতাকেই এখন আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now