বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দ্য সার্কেল (Part-1)

"সাইন্স ফিকশন" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ☠Sajib Babu⚠ (০ পয়েন্ট)

X বঙ্গ-১৩। একটি মহাকাশযান। এখানে আজ আমার তৃ্তীয় দিন। এর আগে আমার মহাকাশযানে ওঠা তো দূরের কথা, এ জিনিস আমি সামনা সামনিও কখনো দেখিনি। কোনো ধারণাও নেই বলা চলে। জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ে আমার কোনোকালে আগ্রহ ছিল কিনা তাও মনে পড়ে না। আসলে মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের এক জরুরি তলবে সাড়া দিয়েই তো এই মহাকাশযানের যাত্রী হতে হলো আমাকে। আমি একটি বেসরকারি কোম্পানির অ্যাকাউন্টস সেকশনের একজন সাধারণ কর্মচারী। আমার কাজ কোম্পানির টাকা পয়সার হিসেব রাখা এবং এই হিসেবের স্ট্যাটিসটিক্স তৈরি করা। তৈরি শেষ হলে এই রিপোর্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেয়া এবং মাস শেষে টাকার একটি চেক নেওয়া। কিন্তু গত মাসে কাজের এই রুটিনে ব্যতিক্রম হলো। সকালে অফিসে পৌঁছে নিজের ডেস্কে গিয়ে বসতেই ল্যান্ডফোনটা বেজে উঠল। ফোন ধরতেই ওপাশ থেকে ম্যানেজার বললেন এখনি তার রুমে যেতে। সুতরাং, আমি তখনই ম্যানেজারের রুমে উপস্থিত হলাম। সেখানে ম্যানেজার জানালেন, আমাকে অবিলম্বে মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। আমার জন্য পাস রেডি আছে, সেটা নিয়ে রওনা হতে হবে। আমাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ম্যানেজার বললেন, 'কোনো সমস্যা? আপনাকে তো বললাম, এখনি রওনা হতে হবে।' আমি বললাম, 'সমস্যা তো স্যার আগাগোড়াই। সেখানে কি জন্য যাচ্ছি তা কি জানতে পারি?' 'তা তো বলতে পারব না। আমাকে বলা হয়েছে আপনার জন্য একটা পাসকার্ড ইস্যু করতে। আমি তা করেছি। ...আর কিছু?' 'স্যার, জায়গাটা কোথায় বললে ভালো হতো...।' 'মেট্রোরেলে করে চলে যান সেন্ট্রাল টাউনে। সেখান থেকে সুপার ট্রেনে করে গন্তব্য স্থলে।' আমি রুম থেকে পাস নিয়ে বের হলাম। আমি কিছুতেই বুঝে উঠতে পারলাম না যে কি কারণে মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের মতো একটা জায়গা থেকে আমার নামে ডাক পড়ল! নির্দেশনা অনুযায়ী গবেষণা কেন্দ্রে পৌছলাম। সেখানে একজন লোককে কার্ডটি দেখালে তিনি আমাকে লিফটের দিকে দেখিয়ে বললেন, 'ওই যে দুটি লিফট দেখতে পাচ্ছেন, ডানের লিফটে এই কার্ড পাঞ্চ করলেই আপনাকে নিয়ে যাবে সপ্তমতলায়।' তার কথামতো সপ্তমতলায় গিয়ে কার্ড দেখালে আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো একটি রুমে। ঘরটি বিশাল। দিনের বেলাতেও লাইট জ্ব্লছে। সেখানে যার সাথে আমার কথা হলো, তার নাম মিসেস এলা। মধ্যবয়স্ক একজন মহিলা। চেহারায় গাম্ভীর্যের ছাপ রয়েছে আর তাকানোর ভঙ্গিটাও কেমন যেন অন্যরকম। আমাকে বসতে বলা হলো। বসলাম এবং ভয়ে ভয়ে বললাম, 'আমাকে কেন ডাকা হয়েছে বুঝতে পারছি না।' মহিলাটি শান্ত গলায় বললেন, 'এত ব্যস্ত হবার কিছু নেই। আসলে এখানকার প্রকল্প অনুযায়ী প্রতি এক বছর পর পর একটি বিশেষ ধরণের মহাকাশযান পাঠানো হয়। অবশ্যই বিশেষ কাজের উদ্দেশ্যে। এই বিশেষ যানগুলো হাইপার ডাইভ ক্ষমতাসম্পন্ন। হাইপার ডাইভ হচ্ছে সময় সংকোচক ডাইভ। এ সম্পর্কে মহাকাশযানেই বিস্তারিত জানতে পারবেন।' 'আচ্ছা ম্যাডাম, আমাকে এসব কেন বলছেন?' 'বলছি কারণ, আপনিও ওই যানের একজন যাত্রী।' 'মানে!' 'মানে... বড় ধরণের অভিযানগুলোতে আমরা নিয়মিত ক্রুদের সাথে অনিয়মিত কাউকে ঢুকিয়ে দেই। খুবই সাধারণ কাউকে, যার কোনোরকম কারিগরি জ্ঞান নেই। কারণ, অনেক ধরণের সমস্যার ক্ষেত্রে সাধারণের দেয়া সমাধানই গ্রহণযোগ্য হয়। আপনি ছাড়াও আরো দশজন ক্রু রয়েছে।' 'ফিরে আসব কবে?' 'আসবেন, বেশি দেরি হবে না। তবে আমাদের মহাকাশযান আরো পাঁচদিন পরে যাত্রা শুরু করবে। এ কয়দিন আপনি এখানে থাকবেন।' বলেই উঠে দাড়ালেন। আমাকে সেখানকার এক কোয়ার্টারে থাকতে দেয়া হলো। খাবার দাবার নিয়মিত ঘরে এসে দিয়ে যেত। তবে থাকতে হতো বন্দীদের মতো। বাহিরে পাহাড়াদারদের দেখলে নিজেকে কেমন জেল হাজতের আসামীর মতো মনে হতো। দেখতে দেখতে শেষ হয়ে গেল পাঁচদিন। ষষ্ঠদিন আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো ল্যাবরেটরিতে। সেখানে ল্যাবের একজন আমার শরীরে ইনজেকশন দিল। এরপর রেডিয়েশন চেম্বারে কিছুক্ষণ বসিয়ে রেখে আমাকে জীবাণুমুক্ত করা হলো। সেদিন আবার দেখা হলো মিসেস এলার সাথে। একয়দিন তার সাথে আর দেখা হয়নি। আমি জানতে চাইলাম, 'আমরা যাচ্ছি কোথায়?' 'আপাতত মহাকাশযানে উঠছেন। আর বাকিটা সেখানেই জানতে পারবেন। আপনার যাত্রা শুভ হোক।' এরকম যাত্রাকে কিভাবে শুভ বলা যায় আমার মাথায় ঢুকল না। আর এত মানুষের মধ্যে আমিই কেন? আরো অবাক হচ্ছি এই ভেবে যে, এই যাত্রার জন্য এরা আমার অনুমতি নেয়ারও কোনো প্রয়োজন বোধ করছে না। মহাকাশযানে প্রবেশের প্রথম দিন আমার কারো সাথেই পরিচয় হয়নি। এত ঝামেলার মধ্যে নিজেকে বেশ ক্লান্ত মনে হচ্ছিল এবং মাথাও যন্ত্রনা করছিল খুব। তাই আমাকে নিজের রুমে পৌছে দেয়ার পর সেখানে বিছানা দেখে আর কিছু না বুঝেই শুয়ে পড়লাম, ঘুমিয়েও পড়লাম সাথে সাথে। কিন্তু হঠাৎ কোনো কারণে ঘুম ভেঙ্গে গেল। কোথায় যেন একটু গুঞ্জন হচ্ছে। ইঞ্জিনের শব্দ হয়তো। মহাকাশযানটা মৃদু কাঁপছেও। একটু পরেই বুঝলাম যানটি উপরে উঠতে শুরু করেছে। অদৃশ্য একটা শক্তি যেন আমাকে বিছানার সাথে চেপে ধরেছে, নড়তেও পারছিনা। আবার মনে হচ্ছে মুখের চামড়া নিচের দিকে ঝুলে পড়ছে। এ সময় একটি যান্ত্রিক কন্ঠে কে যেন বলে উঠল, 'মহাকাশযান বঙ্গ-১৩ তে আপনাকে স্বাগতম।' (চলবে)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দ্য সার্কেল (Part-1)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now