বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দীপ্ত সকাল থেকে খুব অস্থির হয়ে আছে
,বাসায় মা কে কি বলবে না বলবে তা
নিয়ে ভীষন চিন্তায় আছে । আজ ১৩
তারিখ ,আজই পহেলা বৈশাখের গেট
টুগেদার এর জন্যে ৩০০০ টাকা দিতে হবে
। তা না হলে ১৪ তারিখের কনসার্ট এ
যাওয়া হবে না । ভার্সিটির সব বন্ধুরা এক
সাথে অনেকদিন ধরে আলোচনা করে এই
প্রোগ্রাম ঠিক করেছে সবাই । এখন শুধু
টাকা দিয়ে টিকেট নেবার পালা।
নিজের টিউশনির কিছু টাকা অবশ্য
জমানো আছে কিন্তু আরও হাজারখানেক
টাকা হাতে থাকলেই ভাল হবে ।
এ জন্যে আজ সকাল থেকেই দীপ্ত মায়ের
পায়ে পায়ে ঘুরছে , এটা ওটা এগিয়ে
দিচ্ছে । এমনিতেও যে করে না তা না
কিন্তু আজকের ব্যাপারটা যে একটু আলাদা
তা মা ও ভালই বুঝতে পারছেন । কিন্তু
অনেক জিজ্ঞেস করেও কিছু জানতে
পারেন নি ,তাই এখন চুপচাপ অপেক্ষা
করছেন কখন ছেলে কিছু বলে তার জন্যে ।
দীপ্তের মা মনিরা বেগম খুব ভাল করেই
জানেন উনার ছেলে কতটা বিবেচক ,
কতটা বুঝে চলে । তবুও মায়ের মন সব সময়
এক অচেনা চিন্তায় ঘিরে থাকে
ছেলেকে নিয়ে । কখন কোন বিপদের
মাঝে পড়ে এই আশংকায় তটস্থ থাকেন ।
কারন , এই এক ছেলে নিয়েই তাদের
স্বামী স্ত্রীর সংসার । তাই ছেলেকে
ঘিরেই তাদের সব চিন্তা ভাবনা ,স্বপ্ন ।
ছোট্ট একটা মাঝারী মানের চাকরি করে
ঢাকা শহরে থেকে ছেলেকে ভাল
ভার্সিটিতে পড়ানো যে কত কঠিন তা
মধ্যবিত্ত সংসারের চেহারা একটু খুটিয়ে
দেখলেই বোঝা যায় ।
হঠাত করেই মনিরা বেগম দীপ্ত কে
জিজ্ঞেস করে উঠলেন ," দীপ্ত বাবা ,
তোর কাছে কি কিছু টাকা হবে ?"
দীপ্ত চমকে উঠলো মনে মনে কারন মা
কখনো টাকা চান না তার কাছে , ও
তাড়াতাড়ি বলল , " আছে মা অল্প কিছু ,
কেন কি লাগবে বলো ? "
মনিরা বেগম বললেন ," কয়দিন ধরে
আমাদের দুজনের ঔষধগুলো শেষ হয়ে
গেছে , তাই রে বাবা । জানিস ই তো গত
মাসে তোর বাবার মামা মারা যাওয়ার
কারণে কিছু টাকা ধার করা লেগেছিল ।
তাই এমাসে আর তোর বাবা নিজের জন্য
ঔষধ কিনেনি । আমিও আর কিছু বলিনি
কিন্তু কাল থেকে তোর বাবার বুকটা
ব্যথা করছে । একারনে বলছিলাম যদি
পারিস তাহলে ঔষধগুলো কিনে আনিস ।"
মায়ের কথাগুলো শুনতে শুনতে অজান্তেই
দীপ্তের চোখ ছলছল করে উঠলো , বেশি
কিছু না বলে মাকে ও বলল ," প্রেসক্রিপশন
দুটা দাও । "
মনিরা বেগম চুপচাপ গিয়ে প্রেসক্রিপশন
দুটা ছেলেকে এনে দিলেন ।দীপ্তও আর
কিছু না বলে ফার্মেসিতে চলে গেলো ।
কিছুক্ষন পর এসে মায়ের হাতে
ঔষধ,প্রেসক্রিপশন সব দিয়ে আবার বের
হয়ে গেল বাসা থেকে দীপ্ত । একটা
রিকশা নিয়ে ঘুরতে শুরু করলো এলোমেলো
। ঘুরতে ঘুরতে এক সময় রমনা পার্কের
কাছে এলে দীপ্ত রিকশা থেকে নেমে
পার্কের ভিতরের দিকে হাঁটতে শুরু
করলো । হাঁটতে হাঁটতে একটা বেঞ্চ
পেয়ে তা তে বসে পড়ে বাবা , মায়ের
কথা ভাবতে লাগলো । ভাবতে লাগলো
এত দিনের না বলা কষ্টগুলোর কথা ,যা
ওকে ভাল রাখতে গিয়ে ওর মা বাবা কে
করতে হয়েছে । যার খবর কোনদিন ওর কাছ
পর্যন্ত পৌছাতে দেন নি ওর মা-বাবা ।
এমন সময় ওর মোবাইলে ওর বন্ধু ইমরান এর
কল আসলো ,কিছুক্ষন মোবাইলের দিকে
তাকিয়ে থেকে ও কলটা রিসিভ করলো , "
হ্যা , বল । "
ইমরান বলল , " কি রে , কনসার্ট এর টাকা
জমা দিয়েছিস ?"
দীপ্তের উত্তর , " না । আমি যাব না রে ।"
ইমরান অবাক হয়ে বলল , " কেন রে ? তুই না
খুব খুশি ছিলি এই কনসার্ট এর জন্যে , কত
কিছু বলছিলি গত এক সপ্তাহ ধরে । এখন
আবার কি হল ? টাকার সমস্যা ? "
দীপ্ত একটু বিরক্ত হয়ে উত্তর দিল , " না
রে , তেমন কিছু না । এমনি যাব না , আচ্ছা
রাখি রে , পরে কথা হবে । "
এটা শুনে ইমরান একটু হতভম্ব হয়ে
মোবাইলের কলটা কেটে দিল ।আর
ভাবতে লাগলো , কি এমন হল যে দীপ্তের
মত এত শান্ত একটা ছেলে এমন আচরণ করছে
।
কলটা কেটে যাওয়ার পর দীপ্ত হঠাত
দেখে একটা ছোট্ট ছেলে ওর দিকে
এগিয়ে আসছে । ছেলেটিকে দেখেই
বোঝা যাচ্ছিল যে ও টোকাই , তাই দীপ্ত
কিছুটা বিরক্ত হয়ে উঠল । এসব
নাছোড়বান্দা টোকাইগুলো নিজের কথা
মানানোর জন্য যা ঝুলাঝুলি করে তা খুবই
বিরক্তিকর । তাই দীপ্ত মোবাইলটা
হাতে নিয়ে ব্যস্ততার ভান করতে
লাগলো ।
ছেলেটি সামনে এসে দীপ্ত কে বলল , "
ভাইয়া ২০ টা টাকা দেন না , ভাত খাব ।"
দীপ্ত মোবাইলের দিকে তাকিয়ে দেখে
প্রায় ৩.৩০ টা বাজে , এখনো এই পিচ্চির
খাওয়া হয়নি শুনে ও মনে মনে খুব অবাক
হয়ে জানতে চাইলো , " কি রে এত দেরী
হল এখনো খাসনি কেন ? তোর মা বাবা
কই ?"
পিচ্চিটা বিরক্ত হয়ে বলে উঠলো ," টাকা
দিলে দেন নাইলে যাই গা ,এত কথার কি
কাম? দিবেন? "
দীপ্তের এবার একটু কৌতূহল হল তাই পকেট
থেকে টাকা বের করে হাতে নিয়ে বলল ,
" আচ্ছা এই নে টাকা , কিন্তু আগে বল তোর
মা বাবা কই ?"
পিচ্চিটা টাকাটা হাতে নিয়ে বলল , "
বাপ গেছে গা আমাগো রাইখা আর মার
আজকে ৩ দিন ধইরা জ্বর । হেল্লাইগা
সকাল থেইকা দুই জনেই না খাওয়া , আর
থাকতে না পাইরা এখন ভিক্ষা করতে
নামছি । মায় জানলে আমারে মাইরা
ফালাইবো । "
আবার অবাক হয়ে দীপ্ত জানতে চাইল , "
কেন প্রতিদিন কি ভিক্ষা করিস না ?"
পিচ্চিটা বলে উঠলো , " মাথা খারাপ !
তাইলে মা জানে মাইরা ফালাইবো না !
কত কষ্ট কইরা মা মাইনষের বাসায় কাম
করে আমারে পড়ানের জন্যে , আর আমি
বুঝি ভিক্ষা করুম ? "
এ কথা শুনে দীপ্তের চোখে মায়ের মুখটা
ভেসে উঠলো , নিজের অস্বস্তি ঢাকার
জন্য ছেলেটাকে জিজ্ঞেস করলো , "
তোর নাম কি রে ?"
পিচ্চিটা বলে উঠলো , " আমার নাম মিনার
হোসেন । সবাই মিনার নামেই ডাকে । "
একথা বলে একটু লাজুক হাসি দিল মিনার ,
আর তা দেখে দীপ্তের মনে হল যেন একটা
নিষ্পাপ ফুল হেসে উঠলো ।
দীপ্ত গা ঝাড়া দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলল
," চল মিনার , তোর বাসায় যাব । আমিও
এখনো খাই নাই ,আজ একসাথে খাব আমরা ।
হেঁটে যাওয়া যাবে তোর বাসায় না
রিকশা লাগবে ?"
মিনার খুব অবিশ্বাস নিয়ে দীপ্তের
দিকে তাকিয়ে বলল, " সত্যই যাবেন ভাই ?
না মশকরা করেন আমার লগে ? "
দীপ্ত হেসে উঠে বলল , " আরে চল চল ,
খিদায় পেট ব্যাথা করছে ।" একথা বলে
নিজের চোখের পানি আড়াল করে নিল
তাড়াতাড়ি ।
তারপর পকেটের বাকী টাকা থেকে ৩
জনের জন্য খাবার আর মিনার এর মায়ের
জন্যে ঔষধ কিনে ওকে নিয়ে ওদের
বাসার দিকে হাঁটা ধরল । আর মনে মনে
ভাবতে থাকলো ,"এবারের মত তৃপ্ত নববর্ষ
হয়তো আর কখনো আসবে না আমার জীবনে,
এত সুন্দর করে নিজের অবস্থান হয়ত
জানিনি কখনো । "
এবার উপর দিকে তাকিয়ে মনে মনেই
বলে উঠলো , "হে আল্লাহ , আমি যেন
জীবনে একজন মানুষের জন্যেও কিছু করতে
পারি এমন তৌফিক আমাকে দান করো ।
আর সেটা যেন কোন উপলক্ষ্য ধরে না হয় ।
.
তাহমিনা জাহান
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now