বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দিনশেষে রবের খোঁজে -০১

"ইসলামিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান নাফিজ আহমেদ (০ পয়েন্ট)

X দিনশেষে রবের খোঁজে-০১ নাফিজ আহমেদ রাত তখন ১২:৩৫। সারা বাড়ি তখন পিনপতন নীরবতা বিরাজ করছে। প্রকৃতি একেবারে নিস্তব্ধ। যেন গোটা ভূমণ্ডল হারিয়ে গেছে ঘুমের অতল গহ্বরে। তবে দুটি চোখ এখনও এক হয়নি। নীল-সাদার বায়বীয় জগৎ তাকে বেঁধে রেখেছে এক কঠিন বেড়াজালে। নিরলসভাবে অবলোকন করছে মোবাইলের ভিতর ঘটে যাওয়া এক কৃত্রিমতা। এখান থেকে বেরিয়ে আসা কি সম্ভব! চলুন কিছুক্ষণের জন্য অতীতে ফিরে যাই... টঙ্গীর মুসাফির মঞ্জিলের তৃতীয় তলায় এক নম্বর ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকে রাফির পরিবার। পরিবারে আছে চারজন সদস্য—রাফি, তার পিতা আশরাফ সাহেব, মাতা ফারজানা বেগম ও বড় ভাই সাফি। রাফি ছোটবেলা থেকেই খুবই মেধাবী ছাত্র ছিল। সবসময় লেখাপড়ার প্রতিই ছিল তার প্রবল আকর্ষণ। এজন্য তার পিতা-মাতা তাকে খুবই যত্ন করত। রাফি এখন সাতাইশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। ক্লাসে তার রোল এক। এজন্য অবশ্য তার ক্লাসমেট জেনির রাফির প্রতি কিছুটা হিংসা আছে। ক্লাসে রাফি শিক্ষকদের যেকোনো প্রশ্নের খুব সহজেই উত্তর দিয়ে দিতে পারে। জেনিও তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে, কিন্তু রাফির সাথে খুব একটা পেরে ওঠে না। এজন্য অবশ্য তার যথেষ্ট ক্ষোভ আছে। রাফি এর আগে এক প্রাইভেট স্কুলে অধ্যয়ন করত। যার দরুন সে লেখাপড়ায় এতটা পারদর্শী। জেনি প্রায় সময়ই রাফির পাশে বসার চেষ্টা করত, কিন্তু রাফিকে সেটা বুঝতে দিত না। রাফিও কিছু মনে করত না। এভাবে ধীরে ধীরে সময়গুলো অতিবাহিত হতে থাকে তার আপন গতিতে। সময়ের পরিপাকে কিছু কিছু সম্পর্ক আপন হতে থাকে। রাফি ক্রমশই জেনির সাথে কথা বলতে শুরু করে। জেনি ছিল খুবই সুন্দরী। মাথায় ঘন কালো চুল। চোখের পাপড়িগুলো কোঁকড়ানো। ভ্রুগুলো জোড়া। টানটান চোখ। নাকের ছিদ্র দুটি সরু। ঠোঁট লাল গোলাপি। সব মিলিয়ে এ যেন এক রূপকথার রাজকন্যা ভুল করে পৃথিবীতে চলে এসেছে। যেকোনো ছেলে তাকে দেখে মুগ্ধ হয়ে যাবে। ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় তারা দুজন নিজেদের মধ্যে নানান বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে। এক শিশিরভেজা ভোরে জেনি একাই স্কুলে এসেছে। এখনো কেউ এসে পৌঁছায়নি। রাফিও মাত্র ক্লাসে আসল। এখন ক্লাসে ওরা দুজন ছাড়া কেউ নেই। কেমন যেন নিস্তব্ধতা নেমে এলো। রাফি লাজুক মুখ নিয়ে জেনির সম্মুখে দাঁড়ালো। রাফি বলল, — জেনি, তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে। জেনি বলল, — কী কথা? বলো। — আসলে একটা কথা তোমাকে অনেকদিন ধরে বলব বলব মনে করেও বলা হয়ে উঠছে না। — কী কথা? বলো। — এই ক্লাসে আমি যেদিন প্রথম এসেছিলাম, সেদিন থেকেই তোমার সৌন্দর্য আমাকে আকর্ষণ করেছিল। তোমাকে কেমন যেন ভালো লাগতে শুরু করেছিল। কিন্তু আমি কখনো বলার সাহস করে উঠতে পারিনি। আজ কেন যেন খুব বলতে ইচ্ছা করছে। আমি তোমাকে ভালোবাসি। জেনি তো হতভম্ব হয়ে গেল। সে কোনো উত্তর দিতে পারল না। তার কণ্ঠনালী ভেদ করে কোনো কথা বের হচ্ছে না। সে কিছু সময় নিয়ে বলল, — আসলে রাফি, এটা সম্ভব নয়। তুমি আমার ক্লাসমেটের থেকে বেশি কিছু না। আমি কখনো তোমাকে এর থেকে বেশি কিছু মনে করিনি। আর আমরা মাত্র চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি। জীবনের পথ অনেক দীর্ঘ। এখনো অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। দয়া করে মাথা থেকে এসমস্ত চিন্তা ঝেড়ে ফেলে পড়ার প্রতি মনোযোগ দাও। আমি জানি তুমি খুব মেধাবী একজন ছাত্র। এই মেধাকে কাজে লাগিয়ে ইচ্ছা করলে জীবনে অনেক কিছু করতে পারবে। জেনির উপদেশগুলো একরকম খারাপই লাগছিল। কিন্তু তারপরও কথাগুলো আসলেই সত্য। ওর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে আমার কেমন যেন লজ্জা লাগছিল। দ্রুত যেকোনো বাহানায় এখান থেকে চলে যেতে হবে। রাফি আর বেশিক্ষণ ওখানে দাঁড়াল না। ওর ভাবতেই খারাপ লাগছে—জেনি ওকে রিজেক্ট করে দিল। আরও অনেক সময় নেওয়ার দরকার ছিল। তাড়াতাড়ি করে কোনো কাজ করতে হয় না। আজকে আর ক্লাস না করে বাসায় চলে আসল রাফি। মা জিজ্ঞেস করল, — কী রে, এত দ্রুত আসলি কেন? ক্লাস ফাঁকি দিয়েছিস? — ফাঁকি দেব কেন আম্মু! এমনিই শরীরটা ভালো লাগছে না, তাই চলে আসলাম। আজকে ক্লাস করতে ভালো লাগছে না। রাফি আর কোনো কথা না বাড়িয়ে নিজের রুমে চলে গেল। একাকী জানালার পাশে বসে সবকিছু আবার ভাবতে শুরু করল। কি থেকে কি হয়ে গেল! হৃদয়ের অতলে কেন জানি জেদ তৈরি হলো। কিন্তু কেন?


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ৩১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দিনশেষে রবের খোঁজে -০১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now