বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

দিদৃক্ষা-পর্ব ৬/শেষ পর্ব

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Hossain (০ পয়েন্ট)

X দরজা খুলে দেখি সত্যিই শায়লা এসে দাঁড়িয়ে আছে। আমি কিছু বলার আগেই শায়লা প্রশ্ন করলো, - আজ দরজা লাগিয়ে শুয়েছেন, তার মানে আপনি এখন মোটামুটি সুস্থ। তাই না? - জ্বি, আলহামদুলিল্লাহ। আপনাদের দোয়ায় এখন সুস্থ। কিন্তু আপনি যখন অনুমান করেই ফেলেছেন আমি সুস্থ, তখন আর খামখা এতো কষ্ট করে দেখতে এলেন কেন? - আমার চিন্তা ছাড়ুন তো। আপনার কি মনে হয় আমি সারারাত আপনাদের মতো নাক ডেকে ঘুমাই? -আমি যে নাক ডাকি সেটা আপনাকে কে বললো? কাউকে বলতে হবে কেন? ছিলাম তো দুইরাত আপনার সঙ্গেই। - ওহ আচ্ছা? তো সারারাত না ঘুমিয়ে কি করেন আপনি? - আকাশের তারা গুনি। তা আজকে ভেতরে আসতে বলবেন না? নাকি দরজার বাইরেই দাঁড় করিয়ে রাখবেন? - ভেতরে আসতে চাইলে আসতে পারেন। কিন্তু...! - কিন্তু কি? - কিন্তু আপনার সিকিউরিটি দিতে পারবো না। নিজ দায়িত্বে নিজেকে রক্ষা করবেন। শায়লা অট্টহেসে বলল, - আপনার নিজের সিকিউরিটি আছে তো মসাই? - আপনি তো দেখি ভারী ডেঞ্জারাস একটা মেয়ে! - জানি আমি জানি, হি হি হি। কিন্তু কেউ যদি বুঝতে পারে, ভাবতে পারছেন কি হবে? - কিন্তু টিন্তু কিছু নেই। পুরুষ মানুষ হয়ে এতো ভয় পান কেন বলুন তো? কথাটা বলেই, হুর-হুর করে ঘরে ঢুকে পরলো শায়লা। শায়লা চিলেকোঠায় ঢুকতেই দরজাটা লক করে দিলাম। শায়লা ঘরের মেইন লাইট অফ করে ড্রিম লাইটটা জ্বালিয়ে দিয়ে বিছানার পাশে হেলান দিয়ে বসলো। তারপর আচমকা জিজ্ঞেস করলো, - কফি খাওয়াতে পারবেন? আমি বললাম, এতো রাতে কফি খাবেন? - হুম! ব্যবস্থা আছে? - হ্যা আছে। তাহলে একটু ওয়েট করেন।শায়লা উঠে এসে বলল, - আপনি গিয়ে শুয়ে পড়ুন, আমি বানাচ্ছি। - আরে না না, তা কি করে হয়? আপনি আমার মেহমান। তার উপর আপনি আমার জন্য এ কয়দিন অনেক কষ্ট করেছেন। একজন অপরিচিত মানুষ হিসেবে এতোটা যত্ন কখনোই আশা করিনি। হঠাৎ শায়লা আমাকে থামিয়ে দিয়ে বললো, - আপনি অপরিচিত নন, বরং আপনি আমার কাছে বহুপরিচিত একজন মানুষ। আপনাকে ক্ষনে ক্ষনে চিনেছি। প্রতিটি নিশ্বাসে চিনেছি। আপনার দেহের সাথে আমার কোনো পরিচয় নেই। তবে আপনার মস্তিষ্কের সাথে আমার বহুকালের পরিচয়। আপনি সবে অসুস্থতা কাটিয়েছেন। সুতরাং এখন শুয়ে রেস্ট নিন। চাইলে ঘুমাতেও পারেন। আপনি ঘুমালে আমি চলে যাবো। কফিটা আমি নিজেই বানিয়ে নিচ্ছি। দেয়ালের কোনায় ওয়াটার হিটার দেখিয়ে দিয়ে বললাম, আমার জন্যও তাহলে এক কাপ বানাবেন। শায়লা মুচকি হেসে বললো, - আপনি ঘুমাবেন না? কাল আপনার অফিস আছে না? - আছে, কিন্তু আজ আমি ঘুমাবো না। - শায়লা আমার কথা শুনে মুচকি হাসলো। . ঘড়িতে এখন ঠিক ১২ টা। অর্থাৎ মধ্যরজনী। আমি বিছানায় আধাশোয়া হয়ে শায়লাকে দেখছি। শুধু প্রথম বার নয়, দ্বিতীয়বার তৃতীয়বার বার বার দেখতে ইচ্ছে করছে ওকে। শায়লা আমার ঘরের উল্টো পাশের একটা জানালা খুলে দিয়েছে। সেখান দিয়ে জ্যোৎস্না ঝরে পরছে। শায়লা দুকাপ কফি বানিয়ে আমার গা ঘেসে বসলো। কেন এমন করছে ও, বলতে পারিনা। আমি শুধু নির্বাক চোখে তাকিয়ে আছি ওর দিকে। যদিও এটা ঠিক হচ্ছে না। শায়লা কফির কাপটা আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, - কফিটা হাতে নেবেন, নাকি ওভাবেই তাকিয়ে থাকবেন আমার দিকে? শায়লার কথা শুনে হচকচিয়ে উঠলাম। কফিতে চুমুক দিতে দিতে শায়লা বললো, চলুন না আজ একটু চাঁদ দেখতে দেখতে কফি খাই। কোন কথা না বাড়িয়ে দুজন সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলে ছাদে চলে গেলাম। শায়লা হঠাৎ থেমে গিয়ে বললো, - চোখ বন্ধ করুন। - কেন? - আহা করুন না। আমি চোখ বন্ধ করলাম। শায়লা আচমকা আমার হাত ধরে ছাদের উল্টো দিকের কোনাটায় নিয়ে আসলো, - এবার চোখ খুলুন। আমি চোখ মেলে শায়লার দিকে চেয়ে রইলাম। - শায়লা অট্টহেসে বলল, আরে বোকা আমার দিকে কি দেখছেন? ঐ গাছগুলোর উপর দিয়ে আকাশের দিকে তাকান। শায়লার কথা মতো আকাশের দিকে তাকালাম, - সুপারি গাছের উপর দিয়ে, চকচকে থালার মতো একটা চাঁদ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। ক্ষনে ক্ষনে কিছু কালো মেঘ এসে জ্যোৎস্না গিলে খাচ্ছে। কিছুক্ষন অবশ হয়ে তাকিয়ে রইলাম আকাশের দিকে, শায়লা কি মনে করে আবার আমার হাত ধরলো। আরো একটু কাছাকাছি এসে বলল, দেখেছেন কত সুন্দর এই রাত? অন্তরের কবি তখন মনে মনে বলছে, এতোটা সুন্দর হতো না কখনো এই রাত, যদি না তুমি থাকতে পাশে, অথবা তোমার হাত। . শায়লা? - জ্বি বলুন? যদি আমি অনন্তকাল আপনাকে এভাবেই কাছে পেতে চাই, তবে সেই চাওয়াটা কি আমার ভুল হবে? - শায়লা আমার প্রশ্নের জবাব দিলো না। আমার হাতটা ছেড়ে দিয়ে মুখোমুখি চলে আসলো। ক্রমশ কাছে আসতে লাগলো। অনেক কাছে। ওর নিশ্বাসের উষ্ণ বাতাস আমার বুকের পাজর ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করতে লাগলো। কফির কাপটা আচমকাই হাত থেকে পরে ভেঙ্গে গেল। শায়লা আরো কাছে চলে এসেছে। ওর চোখদুটো বন্ধ। গোলাপি ঠোটদুটো আকাশের দিকে কেমন এলিয়ে রেখেছে। দেহের প্রতিটি রক্তবিন্দু পাগলের মতো ছোটাছুটি শুরু করেছে আমার। স্নায়ুতন্ত্রে আগুন লেগে গেছে। শুধু চাইলেই বৃষ্টি ঝরে পরবে দুজনের দেহে। ফুটে যাবে শত শত বসন্তের ফুল। কিন্তু এবসন্ত আরো মধুর হওয়া চাই। নিবিড়ভাবে ডাক দিলাম ওকে, - শায়লা? ও কোনো কথা বলতে পারলো না। আমি জানি ওর মধ্যে এখন কি হচ্ছে। ওর কপালে আলতো করে একটা চুমু দিয়ে বললাম, - আমি কখনো কোনো মেয়ের এতোটা কাছে আসিনি শায়লা। তুমিই প্রথম নারী যে আমার দৃষ্টিকে বশ করে ফেলেছ। - শায়লা এবার চোখ মেলে তাকালো। আমি চোখ নামিয়ে বলতে শুরু করলাম, শায়লা তুমি যা চাইছো, তা আমিও চাই। কিন্তু এভাবে নয়। আমি আমার জীবনে কোনো মেয়ের দিকে দ্বিতীয়বার তাকানোর সাহস দেখাইনি। কিন্তু তোমার এতো কাছাকাছি কখনো চলে আসবো তা আমি স্বপ্নেও কখনো ভাবতে পারিনি। আমি চাইলেই তোমার সাথে রাত জাগতে পারি, চাইলেই চাঁদ দেখতে পারি, চাইলেই হাত ধরতে পারি। কিন্তু এই সবকিছুই আমি বৈধভাবে করতে চাই শায়লা। আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই। তুমি কি আমার বৈধ রাতের সঙ্গি হবে শায়লা? - শায়লার চোখ বেয়ে অঝর ধারায় অশ্রু ঝরে পরছে। অশ্রু ঢাকতে আমার বুকের মধ্যে লুটিয়ে পরলো প্রেমে সিক্ত হওয়া মেয়েটি। মনে হচ্ছে বহুকালের জমানো আবেগ আজ চোখের কোন বেয়ে গড়িয়ে পরছে। আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম ওকে। আজ প্রকৃতি অলস ভঙ্গিতে চেয়ে আছে আমাদের দিকে। চকচকে থালার মতো চাঁদটা লজ্জা পেয়ে সুপারি গাছের পাতার আড়ালে চলে গেছে। সুপারি গাছের পাতা নড়ছে। পুরো চিলেকোঠা জুড়ে আজ জ্যোৎস্নার রমরমা বাজার। . ভোর হল। গায়ে লেগে থাকলো নতুন নতুন প্রেম। সকালের নাস্তা খেয়ে, অফিসের জন্য বেড়িয়ে গেলাম। গেটের সামনে সিকিউরিটি ইউনিফর্ম পরে দাঁড়িয়ে আছেন, জামিল ভাই। তার সামনে গিয়ে সালাম দিলাম, - আসসালামু আলাইকুম জামিল ভাই। - ওয়ালাইকুম আসসালাম ভাইজান। - জামিল ভাই আপনার স্ত্রী কেমন আছে এখন? - জ্বি ভাই, আল্লাহর রহমতে এখন একটু সুস্থ আছে। - আলহামদুলিল্লাহ। একদিন ভাবীকে নিয়ে আসবেন জামিল ভাই। কেমন? - জ্বি ভাইজান অবশ্যই আনমু। - ঠিকাছে থাকেন তাহলে, অফিসে যাচ্ছি। - আচ্ছা ভাইজান, আসসালামু আলাইকুম। - বাসে উঠে মনে হল, বাবাকে একটা ফোন করা দরকার। ফোন বেড় করে বাবার নম্বর ডায়াল করবো, তার আগে বাবাই ফোন করেছেন। রিসিভ করে সালাম দিলাম, - আসসালামু আলাইকুম আব্বা। - ওয়ালাইকুম আসসালাম। - আব্বা কখন পৌছেছেন? - ভোরে। - যেতে কোনো সমস্যা হয়নি তো আব্বা? - না বাবা,। তুমি এখন কোথায়? - আমি তো বাসের মধ্যে, অফিসে যাচ্ছি। - ওহ আচ্ছা ঠিকাছে যাও। পরে কথা বলবো। বাবা ফোন কেটে দিলেন। সারাদিনে আর কোনো কল আসলো না। শায়লার নম্বর থেকেও কোনো ফোন আসলো না। ওর নম্বরে কয়েকবার নিজেই ট্রাই করেছি। কিন্তু বারবারই আনরিচেবল দেখাচ্ছে। দিন গড়িয়ে সন্ধ্যা নেমে এলো। অফিস করে বাসায় ফিরে আসলাম। রুনা নাস্তা দিয়ে গেল। প্রতিদিন যা যা হচ্ছিলো, আজও তাই হল। কিন্তু প্রদিতিনের চেয়ে আজকের দিনটার মধ্যে বিশেষ একটা শুন্যতার ছায়া আছে। সেই শুন্যতা শায়লাকে ঘিরে। আমি প্রেমে পরেছি, সেটা আর বুঝতে বাকি নেই। রাত বাড়তে লাগলো, সাথে শুন্যতাও। আজ শায়লা নেই। কেন নেই? . তারপরের দিনও একই ভাবে, অফিস আর চিলেকোঠায় দিন পার হয়ে গেল। রাত এলো কিন্তু শায়লা এলো না। এভাবেই প্রতিটি দিন কাটতে লাগলো। তিনদিনের মাথায় কাউছার আঙ্কেল নিজে এসে বললেন, বাবা তোমার জন্য একটা চিঠি এসেছে। - কে পাঠিয়েছে আঙ্কেল? - কে পাঠিয়েছে তা আমি দেখিনি বাবা। অন্যের চিঠি দেখা উচিৎ নয়। - ঠিকাছে আঙ্কেল, চিঠিটা দিয়ে যান আমি পরে পড়ে নিবো। কাউছার আঙ্কেল চিঠিটা আমার হাতে দিয়ে নিচে চলে গেলেন। আমি সাথে সাথে খামটা ছিঁড়ে ফেললাম। লেখা আছে, প্রিয় নবীন, আমার ভালবাসা এবং বন্ধুত্ব নিও। তোমাকে তুমি করে ডাকতে পারিনি সেদিন। তাই আজ ডাকছি। তুমি কেমন আছো? আমাকে নিশ্চই মিস করছো? আমিও তোমাকে এই তিন দিনে অনেক মিস করেছি জানো? কিন্তু তোমার কাছে যেতে পারিনি। কারন, আমাকে তরিক আটকে রেখেছে। ও আমাকে কখনোই তোমার কাছে যেতে দিবে না। তরিক আর এই পৃথিবীতে নেই। কিন্তু ওর ভালবাসাটা তো আছে। আমাকে ঘিরেই ওর ভালবাসা বেচে আছে। আমি ওকে ছাড়া আর কাউকে ভালবাসতে পারবো না নবীন। তোমাকেও না । তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও প্লিজ । তোমাকে ভালবাসার ভাগ্য আমার নেই নবীন। আমি সেই ভাগ্য নিয়ে আমি জন্মাইনি। আমি দেশের বাইরে যাচ্ছি। আর কোনদিন হয়তো এদেশে ফিরবো না। সারাজীবন তোমাকে দেখার ইচ্ছা বুকে নিয়ে বেচে থাকবো। বেচে থাকবো প্রেমাসক্ত বাসরের দিদৃক্ষা নিয়ে। ভাল থেকো, ভাল রেখো... ইতি তোমার জ্বরের বন্ধু শায়লা সামান্য একটা চিঠিই মানুষের জীবনকে বেগতিক করে দিতে পারে। করতে পারে পাগলের মতো উদগ্রীব। তা জানতে সময় বেশি লাগলো না। শায়লার চিঠি বুকে নিয়ে, দিনরাত কেটে যায়। কিন্তু ও আর আসেনা। একদিন নিচতলায় গিয়ে খোঁজ নিলাম। বললো, নতুন ভারাটিয়া এসেছে। আগে যারা ছিলো তারা কদিন আগেই বাসা ছেড়ে চলে গেছে। কথাটা শুনে মনটা একেবারে ভেঙ্গে পরলো। রাতে আর এখন ঘুম হয়না। খাওয়া দাওয়াও একসময় ছেড়ে দিলাম। একদিন শরিরটা আবারও ভেঙ্গে পরলো। আবারো অসুস্থ হয়ে পরলাম। গ্রাম থেকে বাবা ছুটে এলেন। পাক্কা একমাস আমার পাশে থেকে সুস্থ করলেন আমাকে। তারপর একদিন হুট করে বাবা বললেন, - আমি তোমারে না জানায়া একটা কাজ করে ফেলছি বাবা। - কি কাজ করছেন আব্বা? - আমি লিজার সাথে তোমার বিয়ে ঠিক করে ফেলছি বাবা। - ওহ। - বাবা তুমি কি রাজি না? নাকি অন্য কাউরে পছন্দ করো? কি হলো কথা বলো না কেন বাজান? - আব্বা আমি রাজি। - আলহামদুলিল্লাহ। চিলেকোঠার আড়ালে দাঁড়িয়ে ছিলেন কাউছার আঙ্কেলসহ পরিবারের সবাই। সবাই একসঙ্গে হুল্লোর করে বলল, - আলহামদুলিল্লাহ। বাবা কাউছার আঙ্কেলকে ডাক দিয়ে বললেন, - দেখছো বন্ধু, আমি বলছিলাম না, আমার ছেলে আমার কথার বাইরে একচুল এগুবে না। কাউছার আঙ্কেল ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বললেন, এই না হলে আমাদের ছেলে? - দুই সপ্তাহের মধ্যে বিয়ের সমস্ত আয়োজন করা হল। কাউছার আঙ্কেলের বাগান বাড়িতেই বিয়ের জন্য প্যান্ডেল, সাজানো হল, সারা বাড়ি লাইটিং করা হল। বিয়ের আগে লিজা কাকে যেন বলেছিলো, আমাদের বাসরটা হবে চিলেকোঠায়। তাই লিজার কথা মতো অর্গানাইজাররা আমার চিলেকোঠার ঘরটাতেই বাসর সাজালো। পুরো ছাদটা ফুল দিয়ে সাজানো হল, লিজা যেখানেই পা ফেলবে সেখানেই থাকবে ফুল। কাউছার আঙ্কেলের একমাত্র মেয়ে বলে কথা। রাত ১০ টার সময় বিয়ে সম্পন্ন হল। বাবা এবং তার বন্ধু বাড়ির পেছনের বাগানে বিদেশি পানীয় নিয়ে বসেছে। লিজাকে নিয়ে বাসরঘরে রাখতে গেছেন মা। রুনাও তার সাথে আছে। আমি দাঁড়িয়ে আছি জালিম ভাই এবং তার স্ত্রীর সাথে। - জামিল ভাই বললো, - ভাইজান আপনি বিয়েটা না করলে কিন্তু আপনার ভাবিরে আরো ১০ বছর পর নিয়া আসতাম। - হা হা হা হা। . রাত সাড়ে দশটার সময় সেই বহু প্রতিক্ষিত ক্ষন এলো। সবাই একে একে ছাদ থেকে নেমে গেল। সবার শেষে গেল লিজার মা। উনি যাবার সময় ছাদের গেটটা ওপাশ থেকে লাগিয়ে গেলেন। আমি পাথরের ন্যায় চিলেকোঠার সামনে দাঁড়িয়ে রইলাম। ঘরটা বাহির থেকে খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। সবাই চলে যাবার পর ছাদের পরিবেশ ঠান্ডা হয়ে গেল। আমি একপা দুপা করে বিবাহবাসরে প্রবেশ করলাম। নানান রঙের বাহারি ফুলের আয়োজনে মোড়ানো হয়েছে বাসর। মাঝখানে ছোট একটা গোলাপি আলো টিপ টিপ করে জ্বলছে। সেই আলোর নিচে ঘোমটা টেনে বসে আছে আমার নববধূ লিজা। মাথার টোপর খুলে ফুলের দরজা ভেদ করে বধূর কাছে গিয়ে বসলাম। উনার ঘোমটা তুলে দিয়ে মূর্তির মতো কিছুক্ষন তাকিয়ে রইলাম। তাই দেখে মিসেস নবীন ফিক ফিক করে হেসে ফেলল। -তার হাসি দেখে একটু মশকরা করে যেই বলেছি, - বুয়া একগ্লাস দুধ হবে? আর কতদূর যাবো, অমনি গলা টিপে ধরলো আমার। - রাত প্রায় তিনটা । দুজন দুজনার মধ্যে ঘুমিয়ে পরেছি। তার কিছুক্ষন পরই স্বপ্নে শায়লার কন্ঠ শুনতে পেলাম। চিলেকোঠার জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাচ্চা মেয়েদের মতো কাঁদছে শায়লা। কিছুক্ষন কান্নাকাটি করে বলল, - নবীন তুমি কি জানো? তোমার শশুর, জনাব কাউছার আহমেদ তিনি কি করেছেন? তিনি আমাকে এই বাড়ির পেছনের বাগানটাতে পার্মানেন্টলি থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আমি এখন থেকে সারাবাড়ী ঘুরে বেড়াবো। শায়লার কথা শুনে ঘুম থেকে লাফিয়ে উঠলাম। আমার সাথে লিজাও লাফিয়ে উঠলো। ও আতঙ্কিত হয়ে বলল, - এই কি হয়েছে তোমার? কোনো খারাপ স্বপ্ন দেখেছো? - না। লিজা পানির গ্লাসটা আমার হাতে দিয়ে বলল, খেয়ে নাও। আমি পানি খেয়ে আবার ঘুমিয়ে পরলাম, - কিন্তু আবারো শায়লাকে নিয়েই স্বপ্ন এলো, চিলেকোঠার বাইরে থেকে শায়লা ডাকছে, - এই নবীন? এতো ঘুমাও কেন? বাইরে এসো। দেখে যাও আকাশে কতো বড় চাঁদ। ******#সমাপ্ত****** ভালো লাগলে কমেন্ট করবেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ দিদৃক্ষা-পর্ব ৬/শেষ পর্ব

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now