বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
শায়লার সাথে কথা বলতে বলতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছিলাম, মনে নেই।
শায়লা বলেছিলো আমি ঘুমিয়ে পরলেই ও চলে যাবে।
তার আগে যাবেনা।
মেয়েটা একটু একরোখা আছে বটে।
ভোর রাতে ঘুমের মধ্যে শুনতে পেলাম আমার বাবার মুখের ধ্বনি।
সে কথা বলছিলো, আমি বেঘোরে ঘুমাচ্ছিলাম। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না তাকে। মা মারা যাওয়ার পর থেকে আমার বাবাই আমার সব, তার মধ্যেই আমি আমার মাকে খুঁজে নেই।
আমি বড় হওয়ার পর যেসব কাজ আমার মা করতো, সেগুলো এখন আমার বাবাই করে।
বাবাকে একা ছেড়ে আসতে মনটা ভীষণ কাঁদে।
কিন্তু কিছুই যেন করার নেই।
.
সকাল সাতটা বাজে ঘুম ভাঙ্গলো।
চোখ মেলে দেখি সত্যি সত্যি বাবা আমার পাশে বসে আছে।
তাকে দেখে মনটা খুশিতে ভরে উঠলো। লাফিয়ে উঠে সালাম দিলাম তাকে,
- আসসালামু আলাইকুম আব্বা।
আপনি কখন আসলেন?
- ওয়ালাইকুম আসসালাম। আসছি ভোর ছয়টায়।
কি অবস্থা তোমার?
শুনলাম নাকি জ্বর টর বাধিয়ে বসে আছো?
- জ্বি না আব্বা।
জ্বর বাধিয়ে বসে থাকতে পারিনি।
সারাক্ষণ শুয়ে থাকতে হয়েছে।
- সব কথায় তোমার মশকরা করার অভ্যাসটা আর গেল না।
- সরি আব্বা।
এখন কি অবস্থা? কেমন লাগছে?
- জ্বি আব্বা। এখন খুব ভাল লাগছে।
- অফিস করতে পারবা?
- জ্বি আব্বা আলবৎ পারবো।
হঠাৎ কাউছার আঙ্কেল চিলেকোঠায় চলে আসলেন। তারা একে অপরকে দেখামাত্র দুইবন্ধু জড়াজড়ি শুরু করে দিলেন। বাবা আসাতে কাউছার আঙ্কেলকে অনেক বেশি আনন্দিত মনে হচ্ছে। কাউছার আঙ্কেল বাবার এতো ঘনিষ্ঠ বন্ধু, তা আমি আগে কখনো জানতাম না। কারন আমি আমার জীবনে কোনোদিন কাউছার আঙ্কেলকে আমাদের গ্রামে যেতে দেখিনি। এমনকি এর আগে বাবা কখনো আমাকে তার কথাও বলেনি। তবে হতে পারে ছোটবেলার বন্ধুত্ব, বড় আবেগময়।
- কাউছার আঙ্কেল আমার কপালে হাত দিয়ে বললেন,
- এখন তো গাঁ মোটামুটি ঠান্ডা আছে। সকালের ওষুধ খেয়েছো,?
- জ্বি না আঙ্কেল। এখনো তো খাবার খাইনি তাই ওষুধ খেতে পারিনি।
কাউছার আঙ্কেল হঠাৎ উল্লাসিত স্বরে বললেন,
- ওহো যেটা বলতে এসেছিলাম, সিরাজ তুমি কিন্তু বন্ধু সাত দিনের আগে গ্রামে ফিরছো না। আর তুমি যতদিন আছো, ততদিন আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে বসে খাবো।
বাবা বললেন,
- না কাউছার, আমাকে কালকেই ফিরতে হবে। জানোই তো আমার বাড়ির অবস্থা।
আমি বাড়িতে নেই মানে, বাড়ি ফাকা।
কাউছার আঙ্কেল মুখ ঘুড়িয়ে বললেন,
বন্ধু তুমি এক দিনের জন্য এসে আমার মনটা খারাপ করে দিলা।
- মন খারাপ কইরো না কাউছার। অন্য কোনো একসময় লম্বা ছুটি নিয়ে আসবো তোমার বাড়িতে, কথাটা বলতে বলতে দুইবন্ধু চিলেকোঠা থেকে বেড়িয়ে গেল। একটু পর কাউছার আঙ্কেল পুনরায় ঘরের ভেতর দৌরে আসলেন। এসে আমাকে নিয়ে তার বাসার দিকে রওনা হলেন। দোতলায় গিয়ে দরজা নক করতেই রুনা দরজা খুলে দিলো। বাবাকে দেখে সালাম দিয়ে রান্না ঘরে চলে গেল রুনা। কাউছার আঙ্কেলের বাসার ভেতরটা খুব সুন্দর করে সাজানো। আমি এই প্রথমবার তার বাসায় প্রবেশ করলাম। বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে নানান রকমের সাজসজ্জা দেখেই বোঝা যাচ্ছে এসব কোনো কম বয়সী মেয়ের কাজ। আর এবাড়িতে কম বয়সী মেয়ে বলতে শুধু লিজাই আছে। আর প্রাকৃতিক ভাবেই যে বাড়িতে কন্যা সন্তান থাকে, সে বাড়িটা সুন্দর হয়। প্রকৃতি নারীদের পছন্দ করে।
এখানেও তার ব্যতিক্রম চোখে পরছে না। ডায়নিং থেকে ড্রয়িং রুমে যেতে কোনো দরজা পাস করতে হয় না। ড্রয়িংরুমের শোফার উপর একটা ফ্যামিলি ফোটো ঝুলানো। কাউছার আঙ্কেল এবং তার স্ত্রীর সেকালের ছবি, কোলে সম্ভবত লিজা। লিজাকে ছোটবেলার এই ছবিটাতে খুব কালো দেখাচ্ছে। এখন কেমন দেখা যায় বলতে পারিনা। তিনকোনায় তিনটে বেডরুম। তার একটাতে থাকে লিজা, অন্যটিতে থাকে কাউছার আঙ্কেল এবং তার স্ত্রী, এবং আরেকটা বেডরুম সম্ভত খালি থাকে, নইলে রুনা থাকে সেখানে। বাসা দেখতে দেখতে একটু পর আন্টির দেখা পেলাম। তিনিও বাবাকে সালাম দিয়ে বললেন,
- কেমন আছেন, ভাইজান?
বাবা মুচকি হেসে বললো,
- আল্লায় রাখছে ভাল। আপনারা সবাই ভাল আছেন তো ভাবী?
- জ্বি আলহামদুলিল্লাহ। আপনার বন্ধু বললো আপনি নাকি কাল সন্ধার সময় রওয়ানা হয়েছেন গ্রাম থেকে। আসতে কি সারারাতই লাগলো?
- হ্যা ভাবী। ভোর পৌনে ছয়টায় এইখানে জমেছি।
- আমি আবার রাতে কয়েকবার করে রুনাকে বললাম, দেখ একটু বেলকুনিতে গিয়ে সিরাজ ভাই আসলো কিনা।
কাউছার আঙ্কেল আবার আন্টিকে থামিয়ে দিয়ে বললেন,
- এখন কি শুধু গল্পই করবে নাকি খাবার টাবার খেতে দেবে? ছেলেটা অসুস্থ, ওর ওষুধ খেতে হবে। তাড়াতাড়ি খাবার দাও।
আন্টি বললেন,
খাবার টেবিলে রেডি করা আছে। আপনারা গিয়ে বসেন, আমি লিজাকে নিয়ে আসছি।
লিজার কথাটা শুনে একটু আনন্দিত হলাম। কেননা এবাড়িতে শুধু লিজাকেই দেখা বাদ আছে আমার। ওর সাথে দেখা হলেই সব দিদৃক্ষা শেষ।
- ডাইনিং এ আমাকে সাইডে রেখে বাবা এবং আঙ্কেল পাশাপাশি চেয়ারে বসে পরলেন। খাবার টেবিলের অপর প্রান্তের চেয়ার গুলোতে সম্ভবত আন্টিরা বসবেন। এর মধ্যে বাবা প্রশ্ন করলেন আঙ্কেলকে,
- তোমার মেয়ে তাহলে কোন ক্লাসে উঠলো কাউছার?
- এইবার অনার্সে।
- ওহ আচ্ছা, খুবই ভাল। মাশাল্লাহ।
বুঝলাম না, অনার্সে ওঠাতে এতো মাশাল্লাহ বলার কি আছে, তাই মনে মনে ভেবে পাচ্ছি না।
এদিকে ক্ষুদায় পেটের নাড়ি প্যাচ লাগার জো। আবার অফিসে যেতে হবে, কতো কাজ আমার। দশমিনিট পর লিজার বেডরুম থেকে আন্টি বেড়িয়ে আসলো। আন্টির পেছন পেছন আসলো লিজা। বেগুনী রঙের ছালোয়ার কামিজ পরে মাথায় ঘোমটা টেনে নিচের দিকে তাকিয়ে আছে মেয়েটি। সামনে আসতেই, বাবা বললো মামুনি মাথাটা একটু উচু করো তো দেখি।
লিজা মাথা উচু করলো।
- বাবা বললেন মাশাল্লাহ খুব সুন্দর হয়েছো।
- আন্টি লিজাকে আমার মুখোমুখি চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে নিজে পাশে বসলেন।
কিন্তু আমি ভাবছি বাবার কথা,
এই লোকটা যাই দেখছে তাতেই মাশাল্লাহ
বলছে।
- লিজা মেয়েটা শায়লার মতো এতোটা ফর্সা না। ওকে দেখে একটু কালো মনে হলো। সম্ভবত ছোটবেলায় আরো কালো ছিলো। তারপর আস্তে আস্তে এটা-ওটা ঘষতে ঘষতে গায়ের রঙ এই পর্যন্ত এসে ঠেকেছে।
- সবাই নাস্তা শুরু করে দিয়েছে। লিজা আস্তে আস্তে খাচ্ছে। ও লজ্জায় মাথা নিচু করে আছে। এখন অবধি ভুলেও আমার দিকে তাকানোর চেষ্টা করেনি। এমন সময় মাথায় একটা দুষ্ট বুদ্ধি চাপলো। মোবাইলটা পকেট থেকে বেড় করে একটা মেসেজ দিলাম,
- এই বুয়া শুনছেন? আজ কি গলদা চিংড়ি দিয়ে কচুর লতি রান্না করতে পারেননি?
- মেসেজটা সাথে সাথে লিজার মোবাইলে বেজে উঠলো। মোবাইলটা সম্ভবত সাইলেন্ট করে মেসেজ সিন করলো। কিন্তু কোনো রিয়াকশন পেলাম না।
- একটু পর খাবার টেবিলের নিচে কিছু একটা আমার পায়ে কামড় বসালো।
পোকা পোকা বলে লাফিয়ে উঠলাম। কাউছার আঙ্কেলও হচকচিয়ে বললেন,
-দেখি দেখি।
বাবা আঙ্কেলকে আবার টেনে চেয়ারে বসিয়ে দিলেন। তখনই একটা মেজেস আসলো।
"ওটা কোনো পোকা কামড়ায়নি হাদারাম। ওটা আমার পায়ের নখ ছিলো। আপনি আমাকে বুয়া বলেছেন, এজন্য আমি আপনাকে চিমটি দিয়েছি"।
রিপ্লাইতে লিখলাম,
"আমি কিন্তু কখনোই ভাবিনি, তলে তলে আপনার পা এতো বেশি চলে "
মেসেজ পেয়ে লিজা রেগে গিয়ে চোখ মুখ বাকা করে ফেলল। তাই আমি আর বেশি জ্বালাতন করলাম না।
সকালের নাস্তা শেষ করে আমরা সবাই মিলে ছাদে চলে আসলাম। আজ মনে হচ্ছে, আমি যেন এই পরিবারেই সদস্য।
.
আমাকে আর অফিসে যেতে দিলো না আঙ্কেল। সারাদিন সবাই মিলে গল্পগুজব করে পার করলাম। দিনের শেষে বাবা বললেন তিনি আজ রাতেই গ্রামে ফিরে যাবেন।
আমি অনেক ভাবে বলেও তাকে ধরে রাখতে পারলাম না। শুধু চলে যাওয়ার পথে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলেন তিনি। অতঃপর কানের কাছে মুখ এনে বললেন,
- বাবা, আমি কখনোই ঢাকা আসতাম না।শুধুমাত্র তোমার অসুস্থতার কথা শুইনা নিজেকে আর ধইরা রাখতে পারি নাই। বাবা রে, তোরে ছাড়া বুকটা কেমন জানি শুন্য শুন্য লাগে আব্বা। এই কথাটা বলতে গিয়ে তিনবার আটকে গেল বাবা। তারপর দুমিনিট কোনো কথা নেই মুখে, শুধু বুকে জড়িয়ে রাখলো আমায়।
তারপর আর কোনো কথাই বললো না। বাবাকে গাড়িতে তুলে দিয়ে বাসায় এসে শুয়ে পরলাম। বাবা চলে যাওয়াতে খুব কষ্ট হচ্ছে। কান্না পাওয়ার মতো কষ্ট। আর দুই একদিন থাকলে বোধহয় খুব বেশি সমস্যা হতো না।
.
রাতের খাবার খেয়ে শুয়ে পরলাম। আজ সারাদিন এতো ভাল কাটলো কিন্তু রাতটা এসে নিজেকে বড় একা একা লাগছে। বড় নিঃসঙ্গ। গত কয়েকদিন আমি অসুস্থ ছিলাম বলে শায়লা সারারাত আমার পাশে থাকতো। আজ তো আমি সুস্থ আজও কি শায়লা আসবে?
আর যদিও বা আসে, ও কি সারারাত আমার পাশে থাকবে?
রাত এগারোটার দিকে বাবার নম্বর থেকে কল আসলো। ঘুমিয়ে পরেছিলাম, রিং বাজতেই ঘুম ভেঙ্গে গেল।
ফোন রিসিভ করে সালাম দিলাম,
- আব্বা কতো দূর গেলেন? গাড়িতে কোনো সমস্যা হয়নি তো?
- না কোনো সমস্যা হয়নি। তোমাকে আমি একটা কথা জিজ্ঞেস করার জন্য ফোন করছিলাম। তুমি কি ঘুমিয়ে পরছিলা?
- জ্বি না আব্বা। আপনি বলেন কি কথা বলবেন।
- বাবা, লিজা মেয়েটাকে তোমার কাছে কেমন লাগে?
- আব্বা, ভালই তো লাগে। এখনো তো খারাপ ব্যবহার করেনাই কেউ।
- আসলে তোমাকে সহজ করে বলি,
তোমার কাউছার আঙ্কেল তোমার সাথে লিজার বিয়ে দিতে চায়।
- আব্বা এসব কথা আপনি আমাকে আগে বলেননি কেন?
- ইচ্ছা করেই বলিনাই।
- আচ্ছা আব্বা এসব নিয়ে আমরা পরে কথা বলবো। আপনি দেখে শুনে যাইয়েন। আর টেনশন নিবেন না কোনো।
রাখি আব্বা, আসসালামু আলাইকুম।
.
লিজার কথাটা আপতত না ভেবে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম। কিন্তু ঘুম আসছে না। বার বার লিজার কথাই মাথায় ঘুরছে। আমাকে পছন্দ করলো কে? লিজা নাকি কাউছার আঙ্কেল? যেই করুক, কিন্তু আমাকে কেন পছন্দ করবে? আমরা তো তাদের মতো এতো ধনী না। তাহলে কেন, কি দেখে? বাবার সাথে এ বিষয়ে কাল বিস্তারিত কথা বলতে হবে।
এসব ভাবতে ভাবতেই রাত সাড়ে এগারোটা বেজে গেল।
ঠিক এমন সময়,
দরজায় কেউ একজন আস্তে আস্তে নক করলো।
কে হতে পারে এতো রাতে?
শায়লা নয়তো?
.
#চলবে...??
যারা গল্পটা পরেছেন ভালো লাগলে
ছোট্ট করে হলেও কমেন্ট করবেন বলে
আশা রাখি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now