বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
রাত ১০ টা বাজে.. বর্ষা বন্ধুর জন্মদিনে
যাওয়ার সময় রেডি হয়ে বের হচ্ছিল, পেছন
থেকে ওর মা ডাক দিয়ে বলল,
- এত রাতে বাইরে না গেলেই কি নয় বর্ষা..
- মা, তুমিও না একেবারে আনকালচার
মায়েদের মতো কথা বলো...
- মায়ের মন তো কি করব বল..! তবুও
সাবধানে যাস..
- ওকে ঠিক আছে মা, তুমি চিন্তা করোনা,
আর আমি এখন বড় হয়েছি, ভার্সিটিতে
পড়ি। ভালো- মন্দ বুঝার বয়স ও আমার
হয়েছে। এখন যাচ্ছি বায়....
বর্ষা বেড়িয়ে যায়, বন্ধুর দাওয়াতে, একটা
টেক্সিতে চেপে বসতেই, আবার ফোন
বেজে উঠে....( বি এফের কল)
- হ্যালো
- বর্ষা তুমি কোথায়...
- নীল, আমিতো ফ্রেন্ডের বার্থডেতে
যাচ্ছি, হোটেল সেরাটনে। তুমি টিউশনি
শেষ করে বাসায় চলে যেও বাবু...
- এতো রাতে তুমি হোটেলে যাচ্ছ..? আজ
না আমার সাথে দেখা করার কথা বেইলি
রোডে..! তোমার বন্ধু আমার চেয়ে বড় হয়ে
গেলো..! আমার ভালোবাসার কি কোনো
মূল্য নেই..
- এইতো শুরু করলে, আসলে তোমার মতো
কুরুচিপূর্ণ মানুষের সাথে সম্পর্ক করাটাই
আমার ভুল হয়েছে, তুমি যেমন মধ্যবিত্ত
ছেলে তোমার মানুষিকতা ও তেমন।
- বর্ষা তুমি এভাবে বলতে পারলে.. ঠিক
আছে আমায় ছেড়ে যদি সুখে থাকা যায়
থাকো, যদি কখনো ঐ সাত তলায় সুখ না
পাও তাহলে আমার গাছ তলায় এসো।
ভালো থেকো।
- হ্যা যাও যাও, যত্তসব মিডেল ক্লাস,
আমার পেছনে এখন বড় -বড় শিল্পপতির
ছেলেরা ঘোড়ে, আজ যার বার্থডে তে
যাচ্ছি, সে চাইলে তোমাকে একশ বার
কিনতে পারবে। তুমি চাওনা যে আমি হাই
সোসাইটিতে চলি। যাও ফোন রাখো..
নীল চোখ মুছে ফোন রেখে দেয়....বাসায়
গিয়ে না খেয়েই ঘুমিয়ে পরে, খুচরো কিছু
কষ্ট নিয়ে।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই খবরের কাগজ হাতে
নিয়ে চমকে যায় নীল, " শিল্পপতি ইউছুফের
জন্মদিনে ভার্সিটিতে পড়ুয়া মেয়ে বর্ষা
ধর্ষিত " (হ্যাডলাইন)
নীল ছুটে যায় বর্ষার বাসায়, বর্ষা
ঘুমোচ্ছে, সারারাত ঐ পশুগুলো এক ফোটাও
ঘুমোতে দেয়নি বর্ষাকে, রাতভর চলেছে
শারীরিক যৌন অত্যাচার।
বর্ষা চোখ মেলে তাকায়, নীল ওর মাথায়
হাত বুলাচ্ছিল তখন। কান্না জড়ো কন্ঠে
বলে উঠল,' তুমি এখানে ক্যান এসেছ নীল?
চলে যাও, আজ আমি আর সেই আমি নেই।
আমি অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম মোহে পরে।
আজ আমি ধর্ষিতা নীল..'
- নাহ বর্ষা, তুমি আজ ধর্ষিত হওনি, তুমি
ধর্ষিত হয়েছিল সেদিন ই, যেদিন তোমায়
দেখে ১৬ বছরের কিশোর প্রথম স্বপ্নদোষ
ঘটিয়েছিল তোমায় স্বপ্নে দেখে
' তুমি ধর্ষিত হয়েছিলে সেদিন ই, যেদিন
তোমার হাই সোসাইটির ড্রেসাপ দেখে
পাসের বাসার বাচ্চা ছেলেটি প্রথম
হস্তমৈথুন করে ছিল তোমায় ভেবে ভেবে...
' তুমি ধর্ষিত হয়েছিল সেদিন, যেদিন মা,
বাবা, ভাই সকলের বারণ সত্যেও বারংবার
ছুটে চলেছিলে মরীচিকার পিছে....
' তুমি ধর্ষিত হয়েছিল সেদিন, যেদিন
ভালোবাসার নামে তোমার নামধারী বয়
ফ্রেন্ড তোমার ঠোট, গলায়, বুকে চুমু
বসিয়েছিল।
' রিক্সার হুক ফেলে যে হাত তোমার বুকের
সীমা অতিক্রম করেছিল, তুমি ধর্ষিত
হয়েছিলে সেদিন।
নারীদের একটা বিশেষ ক্ষমতা দিয়ে
আল্লাহ তৈরী করেছে, জানো সেটা কি...?
সেটা হচ্ছে বোঝার ক্ষমতা, একটা মেয়ে
দেখেই বলতে পারে, কোন ছেলেটা কোন
দৃষ্টিতে তোমার দিকে তাকাচ্ছে,
মেয়েরা বুঝতে পারে, দশ গজ পেছনে থাকা
ছেলেটা তোমার সুডৌল কমরে চোখ বুলিয়ে
অর্গাজমের পূর্ণ স্বাদ নিচ্ছে, আর তোমার
পিছু হাটছে।
তুমি কি বোঝনি, যেই ছেলেটা মা-বাবা
ফেমিলি ছেড়ে হোটেলে শুধু বন্ধুবান্ধব
নিয়ে নিজের বার্থডে সেলিব্রেট করে
তার কি উদ্দেশ্য থাকতে পারে...? তুমিনা
এখন বড় হয়েছ..?
তোমার ভাই রাস্তায় কোনো ছেলের
সাথে তোমায় দেখলে বকাবকি করে,
তোমার মা তোমায় ফোনে কথা বলতে
দেখে রাগারাগি করে। বাবা তোমায়
শাসন করে...
ক্যান করে জানো..? তোমায় সাবধান
রাখার জন্য, নিরাপদ রাখার জন্য। তারা
কেউই ধর্ষকের পক্ষে নয়। ওরা তোমার
পক্ষে।
ধর্ষণের জন্য তোমাকে দোষ দেয়া মানেই
তারা ধর্ষকের পক্ষে নয়, তারা তোমার
পক্ষেই।
ধর্ষিতা তুমি অনেক আগেই হয়েছিলে...আজ
শুধু ভাইরাল হয়েছে এই আরকি.....
তুমি ধর্ষিতা নও, ধর্ষিতা ছিল আট বছরের
ওই বাচ্চা মেয়েটি"আয়েশা"
যে কিনা এর কিছুই বুঝত না.....কিন্ত তুমি
তো সব বুঝতে, তাহলে কেন জেনে বুঝে
বাঘের খাচায় হরিণি সেজে গিয়েছিলে..?
তুমি যখন ছোট বেলায় হাটি হাটি পা-পা
করে ঘর থেকে সামান্য বাইরে পা
বাড়াতে, তখন তোমার আম্মু বলে উঠত,'
আম্মু, ওখানে যায়না, ওখানে বিল্লি
আছে, চলে এসো আম্মু। ' তোমাকে সাবধান
করটাই কি অন্যায়..?
জগতের কেউ তোমায় খারাপ বলেনা,
তোমাকে শালিন পোশাকে চলতে বলা,
ভালো বন্ধুর সাথে মিশতে বলা মানেই
তোমার স্বাধীনতা হরন করা নয়, তোমাকে
শুধু সাবধানতা টুকু মেনে চলার অনুরোধ
মাত্র।
বর্ষা তখনো কাঁদছিল....
নীল বর্ষাকে বললো যে না বুঝে ভুল করে
ক্ষমা তার জন্য আর যে বুঝে ভুল তার জন্য ক্ষমা
হতে পারে না ।তোমার জীবন নষ্টের জন্য
তুমিই দায়ী।তোমার নষ্ট জীবনের সাথী আমি
আর হতে চাই না ।
(লেখার ধরন টা হয়তো খারাপ কিন্তু বোঝার
অনেক কিছু আছে। দয়াকরে কেউ খারাপ ভাবে
নিবেন না )
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now